যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল না আসলেও মধ্যস্থতা এগিয়ে যাচ্ছে: ইসলামাবাদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন। তবে পাকিস্তানের নেতারা রবিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ঘোচাতে কাজ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে তেহরান এখনও অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে এই সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ওরা যদি কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!’
ইরানের আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয় এবং ইরান এই জরুরি জলপথে চলাচল সীমিত করে রেখেছে।
সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বেড়েছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবারও থমকে যাওয়ায় রবিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট রবিবার ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২ শতাংশ বেশি। এই দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের দামের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি ছিল।
ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত তেল) রবিবার ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪৮ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ শুরুর সময় তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার।
রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন। এর মাত্র একদিন আগেই তিনি শহরটি ছেড়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
ইসলামাবাদে সর্বশেষ এই তিন ঘণ্টার সফরের আগে তিনি হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে অবস্থিত ওমানে গিয়েছিলেন। এরপর রবিবার গভীর রাতে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি, তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পরোক্ষ আলোচনা এখনও চলছে।
আরাঘচির এবারের অনাড়ম্বর সফরটি তার আগের সফরের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন ছিল। আগের সফরে তিনি পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং ওই অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে তেহরানের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা ফোনে কথা বলতে পারেন: ট্রাম্প
ফক্স নিউজ চ্যানেলে রবিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিনিধিদলকে ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে পাঠানোর চেয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তই (ফোনে কথা বলা) নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সব তুরুপের তাস আমাদের হাতে। তারা যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের কল করতে পারে।’
শনিবার তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক পাকিস্তান ত্যাগ করার পর আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে মনে হচ্ছিল। এর পরপরই ট্রাম্প জানান যে, তিনি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ন্যাটো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি এই সামরিক জোটের ওপর খুবই হতাশ। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর সদস্য দেশগুলো তার সহায়তার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে তাদের সেবা দিয়ে আসছি, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করছি; অথচ যখন আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলো তখন তাদের পাওয়া যায়নি। তাই আমাদের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার ভোরে জানিয়েছে যে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের সময় তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই তীব্র হওয়ায়, তারা তথাকথিত ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন’-এর উত্তরে হিজবুল্লাহ এবং রকেট লঞ্চার ও অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন অস্ত্রাগারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০৯
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রবিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে যে, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ৭ হাজার ৭৫৫ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে আক্রমণ করার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ১৭ এপ্রিল কার্যকর হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
রবিবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তাদের এই হামলা ‘একটি বৈধ জবাব।’
বাহিনীটি লেবাননের কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করে বলেছে, ‘তারা নিজেদের এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে যখন তারা এমন একটি জবরদখলকারী ও অবৈধ সত্তার প্রতিনিধিদের পাশে লজ্জাজনকভাবে ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সত্তা লেবাননের ভূমি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং তার জনগণকে হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন ইরান ও কাতারের শীর্ষ কূটনীতিকরা
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার দেশের সর্বশেষ উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে কাতারের শীর্ষ কূটনীতিককে অবহিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার কাতারের শীর্ষ কূটনীতিক শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য কূটনৈতিক সমন্বয়ের গুরুত্ব দুই মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আরাঘচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন।
কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক পথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আবদেলাত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা
পাকিস্তানের স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, এই সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় ট্রাম্পের দূত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনার দ্বিতীয় দফার বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, তা সঠিক পথেই রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা রাতারাতি প্রশমিত করা সম্ভব নয় এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার জন্য উভয় পক্ষের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এটি একটি সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া এবং এতে উত্থান-পতন থাকবে, যা এ ধরনের বিষয়ে স্বাভাবিক। তবে ভালো দিকটি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষই এমনভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী, যাতে নিজ দেশে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে
রবিবার দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনও চলছে।
ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরপর দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো রবিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার আরাঘচি ইসলামাবাদে ছিলেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রাখলে তার দেশ কোনো আলোচনায় বসবে না।
আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এই ফোনকলটিকে একটি আন্তরিক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার পাকিস্তানি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে তার একদিনের সফর শেষ করেছেন।
ট্রাম্প তার দূতদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর, আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় এই সফর কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
৮০ দিন আগে
শুধু তামাশা করার জন্য হলেও খার্গ দ্বীপে আবার হামলা চালাতে পারি: ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানিকেন্দ্রে শুধু তামাশা করার জন্য হলেও হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া ৩০ মিনিটের এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের দাবি, ইরান সরকার একটি চুক্তি করতে চায় এবং সেই চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি।
হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ঠিক কতদিন যুদ্ধ চলবে, এই বিষয়ে সংশয় দূর করতে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খার্গ দ্বীপের বেশিরভাগ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তামাশা করার জন্য হলেও আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।
এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা খার্গ দ্বীপের অনেক অংশ পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি। তবে একটা বিষয়ে নিশ্চয় আপনারা অবগত যে, আমি জ্বালানি পাইপলাইন বা বিদ্যুৎ লাইনের ওপর কোনো ধরনের হামলা করিনি, কারণ সেগুলো মেরামত করতে বহু বছর লেগে যেত।’
কোনো সূত্র উল্লেখ না করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা সংশয়ের মধ্যে ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, ‘আসলেও তিনি জীবিত আছেন তো?’
তিনি আরও জানান, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুতে রেখেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুই সপ্তাহ আগে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অচল হয়ে পড়েছে। এই প্রণালি দিয়ে মূলত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সারা বিশ্বে পরিবাহিত হয়।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কারণে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে আকাশ ছুঁয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শক্তভাবে ওই প্রণালিতে নজরদারি চালাব এবং আমরা মনে করি, এই তেল পরিবহনের সঙ্গে যেসব দেশের স্বার্থ জড়িত, তারাও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে।’
তবে কতদিন এই প্রক্রিয়া চলবে বা কোন কোন দেশ এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে, তা এখনও তিনি স্পষ্ট করেননি।
শনিবার অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে সমন্বয় করবে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সব দিক থেকে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করেছে। কিন্তু বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল গ্রহণ করে, তাদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরাও সাধ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে যাতে সবকিছু দ্রুত, সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। এটি সর্বদা একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হওয়া উচিত ছিল এবং বিশ্বের এই পরিস্থিতিতে তা হবে বলেও আশা করছি। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা বিশ্বকে সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং চিরস্থায়ী শান্তির দিকে ধাবিত করবে।’
তবে মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে কি না, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি আপাতত আপনাদের কিছু জানাতে চাচ্ছি না।’
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমানে সংকট নিরসনে ট্রাম্পের এই একত্রিত হওয়ার আহ্বানকে তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে পরিচালিত হামলা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ক্ষমতার প্রদর্শন এবং এর জন্য তারা আন্তর্জাতিক অনুমতির পরোয়া করে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকেও ইরান লক্ষ্যবস্তু করেছে যা অত্যন্ত বিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি বলেন, এসব দেশের ওপর হামলা পুরোপুরি অযৌক্তিক। সেই সঙ্গে ইরানের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সব সিদ্ধান্তের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবাক করা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
১২৩ দিন আগে