ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা
ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ধারাবাহিক কংগ্রেস শুনানিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। সেখানে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও ইরানের একটি স্কুলে প্রাণঘাতি হামলার বিষযয়ে তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি করা হবে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সন্ত্রাসী হামলার হুমকি প্রতিরোধে এফবিআইয়ের সক্ষমতা নিয়েও জিজ্ঞসাবাদের মুখে পড়তে হবে তাদের।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ মার্চ) সিনেটে শুনানি শুরু হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত হাউসে এই শুনানি চলবে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়ে বার্ষিক বৈশ্বিক হুমকি বিষয়ক এই শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি মিশিগানের একটি সিনাগগ (ইহুদি উপাসনালয়) ও ভার্জিনিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
হাউস এবং সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির সামনে এই সাক্ষ্যগ্রহণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্চের শুরুর দিকে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ১৬৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। ওই হামলার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র ওই বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে জানিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) থেকে ওই হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে কংগ্রেসে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেমস এইচ অ্যাডামসও শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের স্কুলে হামলার বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
এছাড়া প্রশাসনের ভেতরে চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ নিয়েও শুনানিতে আলোচনা হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক জো কেন্ট এই সপ্তাহে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার কেন্ট বলেন, তিনি নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারেননি। তার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে হুমকি ছিল না।
এর কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্ক ভাষায় একটি পোস্ট করেন। তিনি বলেন, ইরান হুমকি কি না, তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ট্রাম্পের। তবে তিনি এ ব্যাপারে নিজস্ব মতামত উল্লেখ করেননি। তুলসি গ্যাবার্ডের দপ্তরের অধীনেই কেন্ট কর্মরত ছিলেন। তুলসি গ্যাবার্ডও এই সপ্তাহের শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন।
শুনানিতে ইরান-সম্পর্কিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন নিয়ে ডিএনআই পরিচালক গ্যাবার্ড এবং সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। অপর একটি প্রতিবেদনে ইরান প্রথম হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল—এমন দাবির ওপর সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে