ডা. জাহেদ উর রহমান
জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমার বক্তব্যে খুব বেশি ভিন্নতা নেই: ডা. জাহেদ
জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার বক্তব্যের মধ্যে খুব বেশি ভিন্নতা নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জঙ্গিবাদের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
গত ২৮ এপ্রিল দেশে জঙ্গি রয়েছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছিলেনন, সরকার এটাকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে কোনো জঙ্গিবাদ নেই। এ নিয়ে দেশের গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে গতকাল (সোমবার) জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা উনি কীভাবে বলেছেন জানি না। হয়তো আপনাদের লেখার মধ্যেও মিস-ইন্টারপ্রেট (ভুল ব্যাখ্যা) হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যেটা ডিসিপ্লিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী বলেছে, সেটাই তো শুনতে হবে।’
এ নিয়ে আজ সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি একটা মন্তব্য করেছি (দেশের জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আছে), প্রায় একই সময়ে বা একটু পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে কোনো জঙ্গি নেই। আপনারা যদি পড়ে দেখেন, দেখবেন উনার বক্তব্য আর আমার বক্তব্যের মধ্যে খুব বেশি ভিন্নতা ছিল না; এটা হলো প্রথম কথা।’
তিনি বলেন, “আমি এভাবে বলেছি যে, জঙ্গিবাদ একটা অতিরঞ্জন ছিল আওয়ামী লীগের সময়। তারা এটা দিয়ে ক্ষমতায় থাকার ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করেছে। আবার কেউ কেউ ‘কিছুই নেই আমাদের দেশে’ এ ধরনের কথা বলে; দুটোই কিন্তু নেগেটিভ! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কিন্তু বলেছেন যে কিছু এক্সট্রিমিজমের (উগ্রবাদের) অস্তিত্ব আছে। মানে এই যে জঙ্গিবাদ, আসলে উনি শব্দটা ব্যবহার করতে চাননি, মোটামুটি আমি যা বলেছি, উনার বক্তব্যের সঙ্গে আসলে খুব বেশি ভিন্নতা নেই।
“তাই এটাকে আপনি জঙ্গিবাদ নামে বলুন অথবা উগ্রবাদ নামে বলুন, একটা লো ইনটেনসিটি (সীমিত পরিসরে) তো আছে, না হলে তো আমরা এই এলার্ট (সতর্ক) করতাম না, আনতাম না। এটা (জঙ্গিবাদ) আছে, এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচুর কার্টুন-টার্টুন হয়েছে যে আমি নাকি উনার চাইতে বেশি গোয়েন্দা তথ্য রাখি। ঠিক আছে, আমার ভালো লেগেছে দেখে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, কিন্তু রেড এলার্ট যেহেতু এখনও আছে, তার মানে, আপনাকে একটা জিনিস বুঝতে হবে যে এই ধরনের ঘটনায় সবসময় যে সব কথা সরকার প্রকাশ্যে বলবে, সেটা সবসময় হবে না। সরকার এগুলোর যে ঝুঁকি আছে, এগুলোর ব্যাপারে যে পদক্ষেপ নেওয়ার, সেগুলো নিচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা জানি। সুতরাং যখন গ্রেপ্তার বা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে যেটা সরকার মনে করবে আপনাদের জানাবে, সেটা সময়মতো জানানো হবে।
তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি, যে ঝুঁকির কথা আগে বলা হয়েছিল, সেটি নিশ্চয়ই এখন তার চাইতে অনেক কম এবং আরও কমে যাচ্ছে।
তবে এই জায়গাগুলো অনেক বেশি সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই এখন পর্যন্ত এটা (সতর্কতা) বহাল রাখা হয়েছে। তবে এটা খুব বেশিদিন থাকবে বলে আমি মনে করি না।
৪ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে: ডা. জাহেদ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম আসলে বাড়বে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আপনারা খেয়াল করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার আমরা দেখছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন যে, পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। সাম্প্রতিক অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ চলাচলে বাধা বা অবরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় ধরে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আমাদের জন্য আসলে কঠিন।
তিনি বলেন, আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না। ইতোমধ্যে বলেছি, যদি এটা চলতে থাকে তাহলে দামের কিছু সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি প্রয়োজন হতে পারে মানে এটা হবেই—এরকম কথা না। আমি আশা করি, কোনো ভুল ফটোকার্ড বানাবেন না। আবার ওই যে বলছি যে, ট্রাম্পের বিষয়ে তো আগাম কিছু বলা যায় না। যদি উনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায়, তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে ইস্টার্ন রিফাইনারির বন্ধ, তেল নাই; এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বিষয়ে যদি আমাদের জানাতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। সাধারণত এই রিফাইনারি থেকে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন।
তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে। তবে নতুন করে আরেকটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংকট হবে কি না, কারণ আমরা আমাদের পেট্রোল এবং অকটেন প্রধানত পাই আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে। রিফাইনারিতে যে সংকট আছে, তা নিয়ে আপনারাই পত্রিকায় সংবাদ করেছেন—আর এতদিনের মতো মজুদ আছে, এতদিন রিফাইনারি চালানো যাবে। সুতরাং সরকার যে কাজটা করেছে, সরকার পেট্রোল পরিশোধন এবং আমদানি যথেষ্টই করেছে। এ কারণে একদম কোনো সমস্যা যে হবে না তা না। সরবরাহ সংকট তো খানিকটা আছে আসলে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই যানবাহন বারবার তেল সংগ্রহ করছে বা প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এক পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী বলেন, আগে সারা দিনে যত তেল বিক্রি হতো, এখন তা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি, তবুও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে।
২৪ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে সরকার
অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার তদন্ত করবে কিনা জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবে। আপনারা জানেন, আমাদের দুদক এখনও পুনর্গঠিত হয়নি। পুনর্গঠিত হলে এই কাজগুলো দুদকের মাধ্যমে শুরু হবে। দুর্নীতি মানেই কে করেছে, শুধু সেই বিষয় নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, সেটিও দেখা হবে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির লাগাম টানতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কারণে সরকারের ভেতরেও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হবে।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিচ্ছে কি না জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়, সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও ৫ আগস্টের পর প্রধান সড়কেও চলাচল করছে যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগুলো খুব ফিট নয়। অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে; তবে পুনর্গঠনের কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দ্রুত বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করলেও সরকার বলছে, ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। হঠাৎ বড় পরিবর্তন আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংক খাত ঠিক করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একইসঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, যারা শুরু থেকেই ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে না, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
৩২ দিন আগে
জ্বালানি তেল মজুদ করে লাভ নেই, দাম বাড়বে না: ডা. জাহেদ
জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে পেট্রোল পাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুদ করে লাভবান হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশে বলতে চাই, মজুদ করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে যেকোনো মুহূর্তে দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং এই মজুদ করে রাখার প্রবণতা তাদের জন্য লাভজনক হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটে পড়েছি, এমনকি ধনী দেশগুলোও এই চাপের মধ্যে রয়েছে।
আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কেনা ও মজুদের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব মানুষকে বোঝানো—প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা যেন না করা হয়। পাম্প পর্যায়ে কেউ কেউ মজুদ করার চেষ্টা করছেন, সরকার সেগুলো নজরে রাখছে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, যদি একদিন সকালে সবাই ব্যাংকে গিয়ে একসঙ্গে সব টাকা তুলতে চান, তাহলে ব্যাংক ধসে পড়বে। কারণ ব্যাংক ধরে নেয়, সবাই একসঙ্গে টাকা তুলবে না। একইভাবে জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুদ ও সরবরাহ চেইন বজায় রাখে।
তিনি আরও বলেন, প্যানিক বায়িংয়ের বিষয়টি বাস্তব। আমরা যুদ্ধের খবর শুনছি, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই শুধু ট্যাঙ্ক ফুল করছেন না, অতিরিক্ত মজুদ করার চেষ্টাও করছেন।
ঈদের আগে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যে পরিমাণ তেল কয়েক দিন চলার কথা ছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এটা মূলত সরকারের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানুষের ভীতি ও অসচেতনতার ফল।
তবে এই আতঙ্ককে অস্বীকার না করে তিনি বলেন, বিশেষ করে বাইক রাইডারদের মতো যাদের জীবিকা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্বেগটা বাস্তব। কিন্তু সবাই মিলে সচেতন না হলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারত। আমরা এখন বেশি দামে জ্বালানি কিনছি। নতুন যে সরবরাহ আসবে, তার মূল্য আরও বেশি হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এই অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, সেই কারণে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর পথে যায়নি। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
৪৫ দিন আগে
মিথ্যা তথ্য প্রচার রোধে প্রকল্প নিচ্ছে সরকার: জাহেদ উর রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার রোধে একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নীতি নির্ধারণ ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটা নতুন ফেনোমেননের (প্রপঞ্চ) কথা বলি, যেটা আমার কাছে খুবই অ্যালার্মিং (আশঙ্কাজনক) মনে হয়। আমি বিশ্বাস করি, আপনি একমত হবেন। মানে প্রতিষ্ঠিত পরিচিত কোনো একটা নিউজ মিডিয়ার মতো করে একটা লোগো তৈরি করে, দূর থেকে দেখতে মনে হয় ওই মিডিয়ার লোগো, একটা ভিন্ন নাম দিয়ে কতগুলো নিউজ দেওয়া হয়, এক ধরনের স্যাটায়ার (হাস্যরস)।’
তিনি বলেন, এটা মারাত্মক রকম ডিসইনফরমেশন (অপতথ্য) ছড়াচ্ছে, আপনারা খেয়াল করেছেন আশা করি। তাই আমি মনে করি, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে, আপনারা আমাদের সঙ্গে একমত হবেন। কেউ স্যাটায়ার করতেই পারে। কিন্তু সেই স্যাটায়ারের চেহারা কোনো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের চেহারার মতো হবে না। আমার কাছে এটা একটা অপরাধ বলে মনে হয়। তাই আমরা এই ব্যাপারটায় কাজ করতে চাই, আমরা খুব দ্রুত এটাকে একটা নির্দিষ্ট আকারের মধ্যে আনব।
উপদেষ্টা বলেন, আমি অনেককে দেখেছি এগুলোকে রেফার করে কথা বলছেন, শেয়ার করছেন সচেতন মানুষ। আসলে এই ডিসইনফরমেশন মোকাবিলা করার জন্য তো কয়েকটা কাজ আছে। একটা হলো এই ডিসইনফরমেশন ডিটেক্ট (শনাক্ত) করা, সেটাকে ডিবাঙ্ক (মিথ্যা প্রমাণ করা) করা এবং ডিসেমিনেট (প্রচার) করা।’
তিনি বলেন, আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য একটা প্রকল্প তৈরি করেছি। সেটির নাম হচ্ছে ‘নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার ও স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরির মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা জোরদারকরণ’। একটা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, এটার মাধ্যমে আমরা সেটা প্রচার করব।
তিনি আরও বলেন, আর যেটা বারবার বলছি, আমরা একটা নীতিমালা এবং আইনের অধীনে ডিসইনফরমেশন মোকাবিলা করতে চাই। এর আওতায় মানুষকে সচেতন করা তো আছেই, সঙ্গে এটা বোঝাতে চাই যে এটা অন্যায় এবং অপরাধ।
৪৫ দিন আগে