ডা. জাহেদ উর রহমান
নির্ধারিত দামে এলপিজি-অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ডিসিদের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সারা দেশে নজরদারি জোরদার করেছে সরকার।
সেই সঙ্গে খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে যথেষ্ট অস্থিরতা রয়েছে। এর মধ্যেও সরকার এলপিজির দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। তবে কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ পরিস্থিতিতে খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কমিশন নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নিয়ে অনলাইনে সভা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তদারকি কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও অনেককে জরিমানা করা হয়েছে। এখন এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এলপিজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রী এলপিজি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এসব বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বাজার স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে মন্ত্রীকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে এলপিজি নিয়ে বাজারে বর্তমান সংকট কমে আসবে।
নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ থাকলে গণমাধ্যমকে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, এর পরও কোথাও যদি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া না যায়, তাহলে গণমাধ্যম জনস্বার্থে বিষয়টি তুলে ধরবে এবং সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
১২ দিন আগে
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত: তথ্য উপদেষ্টা
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরসহ আরও যাদের প্রচুর পরিচিতি ও ভাইরাল জনপ্রিয়তা রয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর তোলা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে উপদেষ্টা বলেন, সালমান মুক্তাদির প্রথমে বিএনপির লোকজন চাঁদা চেয়েছে বলে অভিযোগ করলেও পরে বলেছেন, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি। এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, এভাবে কোনো ব্যক্তি অপতথ্য ছড়ালে তা বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে সরকার সহানুভূতি রেখে কথা বলছে, কারণ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন। তবে ওই অবস্থায় তিনি যেভাবে বিষয়টি বলেছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই ওই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন এবং স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে সেভাবে ঘটেনি। শুধু সালমান মুক্তাদিরের স্থাপনা নয়, অন্যান্য স্থাপনাও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ডা. জাহেদ বলেন, কোনো রকম ভায়োলেন্সের সাফাই সরকার গাইছে না। এটি হওয়া উচিত হয়নি, এটি আটকাতে পারা উচিত ছিল। এখন অন্তত সরকারের কাজ হবে দ্রুত এ ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। আপনারা দেখছেন, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, সালমান মুক্তাদিরের ভিডিও দেখার পর তিনি চাঁদাবাজির বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারকে দায়ী করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই স্ট্যাটাস এখনও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার ফেসবুকে তো ওই স্ট্যাটাসটি এখনও রয়ে গেছে। শুধু তিনিই নন, এনসিপির অনেক সিগনেচার (বিশিষ্ট) নেতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুধু বিএনপিকে না, বিএনপি ও এই সরকারের প্রধানকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। কেউ কিন্তু সেগুলো সরায়নি।’
অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্যেও এখন অপতথ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, সালমান মুক্তাদিরদের মতো মানুষ, যাদের প্রচুর রিচ আছে, ভাইরাল ট্র্যাকশন আছে, তারা দায়িত্বশীল হবেন।’
ভবিষ্যতে অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি পরিসরের মধ্যে বিষয়গুলো নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা বলছি, জনগণকে সচেতন করা এবং এর সঙ্গে আইনি পরিমণ্ডলের মধ্যে এগুলো নিয়ে আসার সুযোগ (রয়েছে), আপনারা জানেন একটা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে, সাইবার সুরক্ষা আইন। সেই আইনটা আসলে আমরা আশা করি সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।’
১৯ দিন আগে
আলোচনার পর স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তনের সুযোগ আছে: ডা. জাহেদ
ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করলেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তা পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
ডা. জাহেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচন করবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সেটি পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্ধারিত সময়সীমা নেই। এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে একটি তারিখ ঘোষণা করেছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যই সরকারের কাছে থাকা তথ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে তারিখ দিয়েছে ওই তারিখেই নির্বাচন হবেই, আবার হবেই না, ইউ ক্যান নট সে দ্যাট। সরকারের এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সরকারের বিভিন্ন বিবেচনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য সব দিক থেকে প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন হলে সময়সূচি এগোনো বা পেছানো হতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরাসরি সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও অন্য নির্বাচনগুলো আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান উপদেষ্টা। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সেই কাঠামোর মধ্যে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী নিজস্ব এখতিয়ারে নির্বাচন আয়োজন করবে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচির ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তিনি আগে কখনও বলেননি যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একক বা একচ্ছত্র এখতিয়ার।
নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে আইন ভঙ্গ করেছে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে চাননি উপদেষ্টা। তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি জানতে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইন ভঙ্গ করেছে—এভাবেও বলতে চাই না। আমার মনে হয়, সবচেয়ে ভালো হয় আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটু ক্ল্যারিফাই করুন।’
ইসি ও সরকারের সংঘাত নেই
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি নিয়ে সরকার ও কমিশনের মধ্যে কোনো ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টিকে সংঘাত বা গ্যাপ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন করবে। নির্বাচন অবশ্যই হবে। তবে কবে হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনা করা হবে।
ডা. জাহেদ বলেন, বিষয়টিকে সংঘাতের মতো করে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে, এরকম কিছু তিনি মনে করেন না।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে না। ব্যক্তিরাই প্রার্থী হবেন।
ডা. জাহেদ জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক ছিল। সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয়েছে। এবার সে ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, ‘আগামী যে লোকাল গভর্মেন্ট ইলেকশন আছে, তাতে কোনো দল নির্বাচন করছে না। ওখানে নির্বাচন করছে ব্যক্তিরা।’
তবে বিভিন্ন দলের সমর্থিত প্রার্থী থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ইতোমধ্যে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করছে। ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, একই দল থেকে একাধিক প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। অন্য দলের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলীয় প্রতীকের বাইরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আগের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আইন পরিবর্তনের প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তন করে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার সরাসরি পরিচালনা করবে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তাও করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি কখনও এমন আইন করি যে উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সরকার পরিচালনা করবে নিজে সরাসরি, নির্বাচন কমিশনকে আমরা এই দায়িত্ব দেব না, ধরুন, এরকম যদি সিদ্ধান্ত হয়, উই ক্যান ডু দ্যাট।’
৩৩ দিন আগে
বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ঘটনা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাঁধনের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন, তারাও নিজেরা ভিডিও করে এটা প্রকাশ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া, এটার প্রসেস (প্রক্রিয়া) শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’
‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া গ্যাং’
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কী বস্তু? আওয়ামী লীগ কারা করেন? আওয়ামী লীগ কী? তারা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল কি না, এই আলাপটা আমরা কেউ কেউ করেছি, খুব করেছি। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইট ইজ এ্যা মাফিয়া গ্যাং।’
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে দেশে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যদি যা যা ঘটিয়েছেন, এরপর যদি ন্যূনতম আপনার দুঃখবোধ থাকত, আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকত, এই সহিংসতাগুলো করা হতো না। কোনোভাবেই হতো না।’
‘বাঁধনের ওপর হামলা প্রমাণ করে তিনি সঠিক পথে ছিলেন’
বাঁধনের ওপর হামলাকে তার জন্য এক ধরনের অর্জন ও সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশে বলব, এটা এক ধরনের কী বলব, তার অর্জন, সম্মান প্রাপ্তি যে, আওয়ামী লীগের হেনস্তা হওয়ার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন।’
বাঁধন ফেসবুক লাইভে নিজেকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম।’
তিনি বলেন, ‘একইভাবে আমরা অনেকেই সেরকম আছি, আমরা হামলার শিকার হতে পারি। বাট উই ডোন্ট কেয়ার। একেবারেই না।’
৪০ দিন আগে
শেখ হাসিনাকে সমর্থনকে অপরাধ গণ্য করতে আইন লাগবে: ডা. জাহেদ
শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলা বা তাকে সমর্থন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হলে এ বিষয়ে আইন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতির বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী বানানো যাবে না। আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিকদের একাংশ শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং সেই অপরাধের আওতায় নেওয়ার মতো তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হচ্ছে। কয়েকজন সাংবাদিক এরই মধ্যে এ ধরনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কোনো কিছুকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আগ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা যায় না। আইন করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগই ছিল—সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না এবং আইনের ভিত্তিতে কাজ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে আইন থাকলেও তা পরিকল্পিতভাবে খারাপ আইন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার বা ভবিষ্যতের কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গোপনে বৈঠক বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, কোনো গোপন বৈঠক হয়েছে কি না, সেটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেখার বিষয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যাহত হতে পারে—এমন কোনো তৎপরতা হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামলা বা নির্যাতনের ঘটনায় প্রচলিত আইনেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন আইন করা যেতে পারে, তবে শুধু নতুন আইন করলেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন নয়। তার মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর বিচার বিদ্যমান আইনেই অব্যাহত রাখা উচিত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংস্কৃতিক কর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত চলাকালে কারও নাম নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা করা উচিত নয়।
প্রধান প্রসিকিউটর কোনো সাংস্কৃতিক কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানালেও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ না হওয়া পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা ঠিক হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সেন্সেশনালিজমের (চাঞ্চল্য সৃষ্টি) জন্য যে কারও একটা নাম বলে ফেলা উচিত নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হলে গণমাধ্যম তখন বিষয়টি জানতে পারবে।’
৪৭ দিন আগে
খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে চলমান লোডশেডিং কমে আসবে: তথ্য উপদেষ্টা
দেশে চলমান লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যে লোডশেডিং হচ্ছে, তার বোঝা এবার শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, লোডশেডিং নিয়ে একটা বিস্তারিত ডেটা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। লোডশেডিং, জ্বালানি নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে। তবে আশা করছি, যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা বেশ খানিকটা কমে আসবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে।
তিনি বলেন, ঢাকায় বসবাসকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে এমন লোডশেডিং দেখছেন, যা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অতীতে ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে গ্রামাঞ্চলে বেশি লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার সংকটের বোঝা সবাইকে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একটি বড় শহরে পাওয়ারফুল মানুষরা থাকে বলে বিদ্যুৎ বেশি দেওয়া হয় তা কিন্তু না, বরং বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকে বলেই লোডশেডিং কম দেওয়া হয়। সেই কারণে নীতিগতভাবে একটা প্রবণতা আছে। কিন্তু সরকার যেহেতু এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে, তাই ঢাকায় এখন লোডশেডিং দেখছি আমরা।
তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘আনইন্টারাপ্টেড বিদ্যুৎ’ বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তখন কতটা লোডশেডিং হয়েছিল, তার তথ্যও প্রকাশ করা হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং আসলে ছিল, কত মেগাওয়াটের লোডশেডিং হয়েছে, আগামী সপ্তাহে আপনাদের সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। পাশাপাশি দেশবাসীকেও ওই তথ্য খুঁজে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লোডশেডিংয়ের বড় অংশ গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে এই সরকার সরে এসেছে। জনগণ সরকারের এই সিদ্ধান্ত বুঝবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎকেন্দ্রের আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, সঞ্চালন গ্রিডের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির একটি স্বাভাবিক প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তুলনামূলকভাবে এই চাহিদা কম ছিল বলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা মন্তব্য করেন।
চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং এড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) আওতাধীন এলাকায় প্রয়োজনীয় মাত্রায় লোডশেডিং সমন্বয় করা হচ্ছে। সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে ঢাকার বাইরে শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকশ্রেণিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের চাপ কমছে এবং সামগ্রিকভাবে লোডশেডিংয়ের বোঝা তুলনামূলকভাবে সুষমভাবে বণ্টন করা সম্ভব হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এই সংকটটা আমাদের সবাইকে ভাগ করে নিতে হবে। এই কষ্টটা যে খুব দীর্ঘ সময় হবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে নিশ্চয়ই যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের গ্রাউন্ডব্রেকিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তীরে লালদিয়া প্রকল্প এলাকায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।
সার সংকট নেই, বিতরণে সাময়িক সমস্যা ছিল
দেশে সার সংকট নেই বলেও দাবি করেছেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সারের সরবরাহে কোনো সংকট নেই, বিতরণ পর্যায়ে দুয়েকটি স্থানে সাময়িক সমস্যা হয়েছিল, যা সরকার সমাধান করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, আমি আবারও বলি, সংকট নেই। আমি গত ব্রিফিংয়েও বলেছি। বিতরণ পর্যায়ে দুয়েকটা জায়গায় সমস্যা হয়েছিল।
সারের বর্তমান মজুতের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে বর্তমানে মোট ১২ দশমিক ৮৬১ লাখ টন সার মজুত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মজুত ছিল ১২ লাখ টন। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার সার মজুত সমান বা কিছুটা বেশি রয়েছে।
সার বিতরণে যে সমস্যা হয়েছিল সেটা ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
৪৭ দিন আগে
সাকিব ভালো খেলোয়াড়, তবে মানুষ হিসেবে ‘নষ্ট ও পচে যাওয়া’: তথ্য উপদেষ্টা
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ‘নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সাকিব দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে চাইলে সরকার তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাকিব আল হাসান সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি বাংলাদেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে ওঠা মামলা মোকাবিলা করতে চান। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাকিব দেশে এলে তার নিরাপত্তাহীনতায় পড়ার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, ‘ভালো খেলোয়াড় হতে পারেন, উনি একজন নষ্ট-পচে যাওয়া মানুষ। যে মানুষ হাসিনার সঙ্গে অ্যালাইনড (সংযুক্ত) হয় এবং এখনও অ্যালাইনড থাকেন, ৫ তারিখের পরও তার বক্তব্য এসেছে।’
সাকিবের নিরাপত্তা চাওয়ার বিষয়টিকে সরকারের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘উনি কত নামী, কত সুনাম তার আছে, এসব ফালতু কথা উনি বলেন আসলে সরকারকে কিছুটা চাপে ফেলার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘উনি বাংলাদেশে আসবেন মামলা ফেস করার জন্য, আইন ফেস করার জন্য, বিচার ফেস করার জন্য। উনি এয়ারপোর্টে নামলে কি লোকজন মব করে তার কিছু করে ফেলবে? উনি কি সেটা মনে করেন? আমরা কেউ মনে করি? নো ওয়ে (কোনোভাবেই না)!’
সাকিব দেশে এলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি আসবেন এবং নিরাপত্তার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ আছে তা মোকাবিলা করবেন। আইনগত যে ব্যাপার আছে, সব যদি তিনি মেনে নিয়ে আসেন, তাতে কোনো সমস্যা আমি দেখি না।
সাকিবের বক্তব্যকে সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রোপাগান্ডা’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এই প্রত্যেকটা কথা আসলে আমাদের এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা।’
একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলেও তাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৬৮ দিন আগে
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার আদালতের রায়ের লঙ্ঘন, ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ
আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য বা নিউজ প্রচার আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।
তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তিনি আদালতেই গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বৃহস্পতির জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেব এবং তার সঙ্গে কথা বলব। কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনও আগের সরকারের প্রভাব রয়েছে—এমন দাবির জবাবে ডা. প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে প্রশাসনসহ নানা প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনও রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ১৫ বছরে বিভিন্ন স্তরে যারা উঠে এসেছেন, তাদের পরিবর্তে নতুনদের আনতে সময় লাগে।
৭৫ দিন আগে
ঢাকার বর্জ্য থেকে দিনে পাওয়া যাবে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: উপদেষ্টা জাহেদ
ঢাকা শহরের প্রতিদিনের প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসি গ্রুপের বিনিয়োগে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প থেকে ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাতুয়াইল এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি প্রকল্প নিয়ে বৈঠক করেছেন। গত রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জানানো হয়, চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কেন্দ্র থেকে টানা ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্রিফিংয়ে নগর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ‘ক্লিন কেয়ার’ নামে একটি ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। আজ (মঙ্গলবার) নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন, যা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তার নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ওই এলাকায় বর্জ্য অপসারণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নকরণ এবং মহাসড়কের দুই পাশে নিমগাছের চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৯৬ দিন আগে
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতা-কর্মীরা: উপদেষ্টা জাহেদ
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শর্ত মানলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে কি না জানতে চাইলে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো রকমের সমস্যা নেই। একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের হয়েও নির্দলীয় থাকেন তাও পারবেন। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়, এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না।
‘একজন নির্দলীয় ব্যক্তি আসলেন, কিন্তু তিনি যদি তার প্রচারণায় আওয়ামী লীগ বা তাদের দলের যা যা বলার সেগুলো বলেন, সেটা কিন্তু সমস্যা হবে। এর বাইরে নির্দলীয় ব্যক্তি নির্বাচনটা করার জন্য যে ক্রাইটেরিয়া (শর্ত) আছে, সেটা যদি তিনি পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। নিশ্চয়ই পারেন।’
যদি নির্বাচনে আসা কারও আওয়ামী লীগের দলীয় পদ-পদবি থাকে তাহলে কী হবে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংগঠনের কর্মসূচি যেহেতু নিষিদ্ধ আছে এই পোস্ট পজিশন তিনি তো আসলে ব্যবহার করছেন না, তিনি করতে পারেন না। ব্যক্তি হিসেবে কেউ যদি নির্বাচনের শর্তে যা আছে সেটা পূরণ করতে পারেন, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই।
১৩১ দিন আগে