তেল মজুদ
অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচারকারীদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বিশেষ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির সুযোগে দেশের এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি না করে গোপনে মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, মাঠ প্রশাসন ইতোমধ্যে এ ধরনের একাধিক অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এসব কার্যক্রম এখনও উদ্বেগজনক হারে অব্যাহত রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে উচ্চমূল্যে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চোরাই বা অবৈধ মজুদদারির তথ্য প্রদানকারীদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা সম্মানী দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পুরস্কারের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন। এই আর্থিক সম্মানী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাসহ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুদদারি বন্ধে বিপিসির এ উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পত্র পাঠানো হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
সরকার আশা করছে, এ উদ্যোগের ফলে জনগণ আরও সচেতন হবে এবং অবৈধ মজুদ ও পাচারজনিত কৃত্রিম সংকট অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
১৬ দিন আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেল মজুদ রেখে বিক্রি না করায় ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেল মজুদ রেখে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি না করার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সি। অভিযানে মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জ্বালানি তেল বিক্রি না করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সি জানান, প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি তেল মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে অনিয়মে জড়িত ছিল। পাশাপাশি তারা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করেছে। এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ফিলিং স্টেশনটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯ দিন আগে
জ্বালানি তেল মজুদ করে লাভ নেই, দাম বাড়বে না: ডা. জাহেদ
জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে পেট্রোল পাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুদ করে লাভবান হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ উর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশে বলতে চাই, মজুদ করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে যেকোনো মুহূর্তে দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং এই মজুদ করে রাখার প্রবণতা তাদের জন্য লাভজনক হবে না।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটে পড়েছি, এমনকি ধনী দেশগুলোও এই চাপের মধ্যে রয়েছে।
আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কেনা ও মজুদের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব মানুষকে বোঝানো—প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা যেন না করা হয়। পাম্প পর্যায়ে কেউ কেউ মজুদ করার চেষ্টা করছেন, সরকার সেগুলো নজরে রাখছে।
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেন। বলেন, যদি একদিন সকালে সবাই ব্যাংকে গিয়ে একসঙ্গে সব টাকা তুলতে চান, তাহলে ব্যাংক ধসে পড়বে। কারণ ব্যাংক ধরে নেয়, সবাই একসঙ্গে টাকা তুলবে না। একইভাবে জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুদ ও সরবরাহ চেইন বজায় রাখে।
তিনি আরও বলেন, প্যানিক বায়িংয়ের বিষয়টি বাস্তব। আমরা যুদ্ধের খবর শুনছি, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই অনেকেই শুধু ট্যাঙ্ক ফুল করছেন না, অতিরিক্ত মজুদ করার চেষ্টাও করছেন।
ঈদের আগে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যে পরিমাণ তেল কয়েক দিন চলার কথা ছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এটা মূলত সরকারের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানুষের ভীতি ও অসচেতনতার ফল।
তবে এই আতঙ্ককে অস্বীকার না করে তিনি বলেন, বিশেষ করে বাইক রাইডারদের মতো যাদের জীবিকা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্বেগটা বাস্তব। কিন্তু সবাই মিলে সচেতন না হলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারত। আমরা এখন বেশি দামে জ্বালানি কিনছি। নতুন যে সরবরাহ আসবে, তার মূল্য আরও বেশি হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এই অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, সেই কারণে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর পথে যায়নি। আমরা মনে করি, এই পরিস্থিতিতে মানুষকে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
২১ দিন আগে