ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
জুলাই শহিদদের মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া-মাহফিলে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪’-এ শহিদদের রুহের মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে সংসদ ভবনস্থ মসজিদে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪’-এর শহিদদের রুহের মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, চিফ হুইপ ও হুইপ, সংসদ সদস্য এবং দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সফলতা এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় সৃষ্টিকর্তার কাছে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম মো. আবু রায়হান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসগ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে ইসি প্রস্তুত আছে: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, যেকোনো সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল প্রায় এক ঘণ্টা ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সিইসি বলেন, বৈঠকে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। সূর্য উঠলে জানতে পারবেন।’ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য ভোটার তালিকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, তাহমিদা আহমদ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশনকে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়।
সংসদ অধিবেশন চলাকালে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আর সংসদ অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশনকে ভোটের অন্তত সাত দিন আগে সংসদ সদস্যদের একটি সভা আহ্বান করতে হবে।
নির্বাচনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংসদ সদস্যদের তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করবেন সিইসি। সমান ভোট পড়লে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে সিইসির ঘোষণাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯ দিন আগে
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে জাতীয় সংসদে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।
আজ (শুক্রবার) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, এমপি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় বাংলাদেশ হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
২২ দিন আগে
ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা প্রত্যাশা ডেপুটি স্পিকারের
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) একটি প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা এবং সংসদীয় কার্যক্রমের উন্নয়নে গ্রহণযোগ্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।
রবিবার (১৯ জুলাই) ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের চাহিদারও পরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য আইনও সময়োপযোগীভাবে সংশোধনের প্রয়োজন হয়।
তিনি সংসদের লাইব্রেরিতে সদ্য স্নাতকদের জন্য পার্লামেন্টারি ফেলোশিপ বা ইন্টার্নশিপ কর্মসূচি চালুর বিষয়ে ইউএনডিপির প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তার মতে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নবীন গ্র্যাজুয়েটরা সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি তাদের জ্ঞান আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদের কোনো প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রকল্পের সঙ্গে যেন কাজের পুনরাবৃত্তি (ডুপ্লিকেশন) না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়নে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার জন্য ইউএনডিপির সহযোগিতা কামনা করেন।
২৮ দিন আগে
ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি: ডেপুটি স্পিকার
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ইতিহাস শুধু অতীতের ঘটনা জানার বিষয় নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি। যে জাতি নিজের ইতিহাস জানে না, সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের পথও নির্মাণ করতে পারে না।
বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ইতিহাস বিভাগের ২০তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমিও আপনাদের মতো ১৯৮৯–৯০ শিক্ষাবর্ষে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনের স্মৃতি কখনো মুছে যায় না। আজ এই মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে আমার মনে হচ্ছে, যেন আমি আবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গেছি। এখানে আমার অনেক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের সান্নিধ্য আমাকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘একদিন আমিও আপনাদের মতো এই বিভাগের করিডোরে বুকভরা স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং কিছুটা শঙ্কা নিয়ে হেঁটেছি। কিন্তু এই বিভাগ আমাকে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেয়নি; শিখিয়েছে মানুষকে বুঝতে, সমাজকে বিশ্লেষণ করতে এবং দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে। ইতিহাস বিভাগ আমার চিন্তা, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের ভিত্তি নির্মাণ করেছে।’
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এমন একটি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন, যেখানে শুধু অতীতের ঘটনা মুখস্থ করা শেখানো হয় না। ইতিহাস আমাদের শেখায় কেন একটি ঘটনা ঘটেছিল, তার সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট কী ছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতের জন্য কী শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়ের আয়না। যে জাতি তার ইতিহাসকে জানে না, সে ভবিষ্যতের পথও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নির্মাণ করতে পারে না।’
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘এই বিভাগে অধ্যয়নের মাধ্যমে আপনারা যুক্তিনির্ভর চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, গবেষণামনস্কতা এবং সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা অর্জন করবেন। এসব গুণ শুধু একজন ইতিহাসবিদ হওয়ার জন্য নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, কূটনীতি, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, উন্নয়ন এবং করপোরেট নেতৃত্বসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
৩৯ দিন আগে
ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চায় সফল জাতি গঠনের প্রত্যাশা ডেপুটি স্পিকারের
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা বর্তমান জাতীয় সংসদকে বিশ্বের ইতিহাসে ‘বিরল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
১৫ দিনের বিরতি শেষে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে এদিন সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। সেই যুদ্ধে লাখো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে পেরেছি। এই পবিত্র সংসদ থেকে আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
‘আমি একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়ে “মাদার অব ডেমোক্রেসি” উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।’
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। জুলাই-আগস্টের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আমি শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আর যারা অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্বে ক্লিষ্ট কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা রক্ষায় আমি সর্বদা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে সেখানকার সংসদীয় রীতিনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।
গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। এ ক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, এ সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।
সাধারণ মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে সংসদে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা বর্তমান জাতীয় সংসদকে বিশ্বের ইতিহাসে ‘বিরল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
১৫ দিনের বিরতি শেষে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে এদিন সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। সেই যুদ্ধে লাখো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে পেরেছি। এই পবিত্র সংসদ থেকে আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
‘আমি একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়ে “মাদার অব ডেমোক্রেসি” উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।’
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। জুলাই-আগস্টের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আমি শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আর যারা অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্বে ক্লিষ্ট কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা রক্ষায় আমি সর্বদা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে সেখানকার সংসদীয় রীতিনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।
গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। এ ক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, এ সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।
সাধারণ মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে সংসদে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করেন।
১৪০ দিন আগে