ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চায় সফল জাতি গঠনের প্রত্যাশা ডেপুটি স্পিকারের
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা বর্তমান জাতীয় সংসদকে বিশ্বের ইতিহাসে ‘বিরল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
১৫ দিনের বিরতি শেষে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে এদিন সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। সেই যুদ্ধে লাখো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে পেরেছি। এই পবিত্র সংসদ থেকে আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
‘আমি একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়ে “মাদার অব ডেমোক্রেসি” উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।’
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। জুলাই-আগস্টের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আমি শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আর যারা অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্বে ক্লিষ্ট কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা রক্ষায় আমি সর্বদা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে সেখানকার সংসদীয় রীতিনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।
গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। এ ক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, এ সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।
সাধারণ মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে সংসদে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনে সফলতা অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একইসঙ্গে গুম, খুন, আয়নাঘর ও ফাঁসির মঞ্চ পেরিয়ে আসা বর্তমান জাতীয় সংসদকে বিশ্বের ইতিহাসে ‘বিরল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
১৫ দিনের বিরতি শেষে এদিন বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এদিন তিনি সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে এদিন সৃষ্টিকর্তার শুকরিয়া আদায় করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমাদের জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছে ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীনতার ভিত্তি। সেই যুদ্ধে লাখো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ফলেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে পেরেছি। এই পবিত্র সংসদ থেকে আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সমগ্র জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
‘আমি একই সঙ্গে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, যিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়ে “মাদার অব ডেমোক্রেসি” উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।’
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের দ্বার উন্মুক্ত করেছে। জুলাই-আগস্টের বীর শহিদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি। আমি শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মুগ্ধসহ সব বীর শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আর যারা অন্ধত্ব ও পঙ্গুত্বে ক্লিষ্ট কষ্টকর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগের সমতা রক্ষায় আমি সর্বদা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আমি দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সুবাদে সেখানকার সংসদীয় রীতিনীতি দেখার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের গণতন্ত্র চর্চা করে আমরা একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জাতি গঠনের সফলতা অর্জন করব বলে আমি বিশ্বাস করি।
গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিরোধী দল সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং তারা গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। এ ক্ষেত্রে সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সহযোগিতামূলক মনোভাবের প্রশংসা করেন তিনি।
বর্তমান সংসদকে গতানুগতিক ধারার বাইরের এক ‘ঐতিহাসিক সংসদ’ আখ্যা দিয়ে কায়সার কামাল বলেন, এ সংসদে আমরা কেউ এসেছি ফাঁসির মঞ্চের সন্নিকটে থাকা কনডেমড সেল থেকে, কেউ এসেছি ফ্যাসিবাদী শাসনে সৃষ্ট আয়নাঘর থেকে, কেউ প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে দেড় যুগের বেশি সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে, কেউবা গুম হয়ে জীবন্ত লাশের দুঃসহ জীবন কাটিয়ে। অনেকেই এসেছেন মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারের দুঃসহ জীবন পার করে। এমন সংসদ আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আর কখনো দেখা যায়নি, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসেও বিরল।
সাধারণ মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে সংসদে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সবার সম্মিলিত চেষ্টায় একটি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ তথা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশা ব্যক্ত করেন।
৩ ঘণ্টা আগে