জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করবে: ফরাসি রাষ্ট্রদূত
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অনুপ্রেরণাদায়ক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের উৎসাহিত করবে এবং দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। তিনি বলেন, ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অসাধারণ ভালোবাসা ও উদ্দীপনার কারণে দেশটি ধীরে ধীরে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেবে এবং একটি উচ্চমানের দল গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে ইউএনবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফ্রান্সেও মিশেল প্লাতিনি কিংবা জিনেদিন জিদানের মতো খেলোয়াড়রা পুরো একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। যেমন এমবাপ্পের বয়স ছিল মাত্র সাত বছর, যখন ২০০৬ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল। নিঃসন্দেহে সেটি তাকে স্বপ্ন দেখাতে এবং লেগে থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ফ্রান্স এ ধরনের অনুপ্রেরণাই দিতে পারে। আর আমি মনে করি, এই দেশে ফুটবলের প্রতি যে অসাধারণ ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস রয়েছে, তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এবং একটি উচ্চমানের দল গড়ে তুলবে।’
ফুটবল কীভাবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বকাপে ফরাসি জাতীয় দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফ্রান্সকে বিশ্বের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, এটি একটি ঐক্যবদ্ধ, গতিশীল, কল্পনাশক্তিসম্পন্ন ও দক্ষ ফরাসি দলের প্রতিচ্ছবি, যেখানে অসাধারণ মানের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি শক্তিশালী দলীয় চেতনা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি ফ্রান্সের মূল্যবোধেরই প্রতিফলন। আমাদের জাতীয় মূলমন্ত্রে রয়েছে—স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব। আমরা সাধারণত শেষ শব্দটি নিয়ে কম কথা বলি, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দলের মধ্যে সত্যিকারের ভ্রাতৃত্ববোধ রয়েছে। কঠিন সময়ে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।’
তিনি বলেন, অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজেকে দলের স্বার্থে নিবেদিত রেখেছেন। ‘আমি মনে করি, এটি সত্যিই একটি সুন্দর বার্তা এবং এটি আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুদের ফ্রান্স সফরে আরও উৎসাহিত করবে।’
বাংলাদেশে ফ্রান্স জাতীয় দলের অসংখ্য সমর্থকের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের সমর্থন ও আস্থার জন্য তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স সবসময় সুন্দর ফুটবল, প্রতিভা, দলীয় চেতনা এবং পারস্পরিক সংহতি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, ‘ফলাফলের বাইরেও ম্যাচটি যেন উপভোগ্য হয়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়া, ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করা এবং যাকে আমরা “ফরাসি শৈলী” বলি, তা এই দলের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের অংশ। তাই আপনাদের এই উচ্ছ্বাসের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিত, ফরাসি দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং দারুণ একটি ম্যাচ উপহার দেবে। আর অবশ্যই আমি আশা করি, “লে ব্লু” জয়ী হবে।’
বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশ ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও মন্তব্য করেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের মধ্যে খুব শক্তিশালী প্রতিযোগিতা রয়েছে, তবে সেটি কেবল খেলাধুলায়। ফ্রান্স ও স্পেন দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং প্রতিবেশী দেশ। আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনি এবং জীবন ও ফুটবল—উভয় ক্ষেত্রেই পরস্পরকে সম্মান করি।’
স্পেন দলকে অত্যন্ত শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। তাই এমন একটি দলের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে পারছি বলে আমরা খুবই রোমাঞ্চিত।’
স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খুবই সহজ। আমি আমার ফোনটি হাতে নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েলকে (গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু) ফোন করেছি। আমরা একসঙ্গে ম্যাচটি দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘ফ্রান্স স্পেনের বিপক্ষে খেলছে বলে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। এই দুই দলের ম্যাচ সবসময়ই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন হয়। আমার মনে আছে, ১৯৮৪ সালের ইউরোর ফাইনালে মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বে ফ্রান্স খুব অল্প ব্যবধানে লুইস আরকোনাদার নেতৃত্বাধীন স্পেনকে হারিয়েছিল। সেটিই ছিল আমার দেখা প্রথম ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ।’
টানা তৃতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ফ্রান্স। তবে তার আগে ১৪ জুলাই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দুই দলের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে স্পেনকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
ফ্রান্স ফাইনালে উঠলে ঢাকায় অবস্থানরত পুরো ফরাসি সম্প্রদায়কে নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ম্যাচটি দেখব না? আমি জানি, সেখানে ম্যাচ চলাকালে অসাধারণ পরিবেশ থাকে এবং দর্শকেরা দুই দলের প্রতিই দারুণ সম্মান প্রদর্শন করেন।’
১৭ দিন আগে
পুলিশ সংস্কারে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, মব নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসবাদ দমন, পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, র্যাবের সংস্কার ও পুনর্গঠন, ফরেনসিক খাতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুলিশ সংস্কারে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি। তবে এই উন্নয়ন রাতারাতি সম্ভব নয়; ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দুর্বল থাকায় মব নিয়ন্ত্রণে তারা সফল হতে পারেনি। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো মবের ঘটনা ঘটেনি। সরকার কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সভা-সমাবেশ ও গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ করতে পারবে।
র্যাবের সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। র্যাবের নাম সংশোধন এবং বিদ্যমান জনবল ও লজিস্টিকসকে কাজে লাগিয়ে আইনি পর্যালোচনার মাধ্যমে বাহিনীটিকে কার্যকরভাবে রাখা হবে।
এ সময় ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে চায় এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতোমধ্যে ফ্রান্স সহযোগিতার পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘অ্যান্টি রায়ট ট্রুপ’-এর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফ্রান্সের কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে ফ্রান্স দূতাবাসের সঙ্গে বৈঠক করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।
এছাড়া ফ্রান্স দূতাবাস থেকে আইজিপি, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করে চিঠি ইস্যু করেছে বলেও মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ফ্রান্স দূতাবাসের ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাটাচে ক্রিস্টেল ফন্টেইন এবং পলিটিক্যাল কাউন্সেলর ক্রিশ্চিয়ান বেক উপস্থিত ছিলেন।
১২২ দিন আগে