ফকির মাহবুব আনাম
কল ড্রপ, প্যাকেজের মূল্যসহ গ্রাহকের উদ্বেগ দূর করতে মোবাইল অপারেটরদের প্রতি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর আহ্বান
কল ড্রপ, নেটওয়ার্কের মান এবং ভয়েস ও ডাটা প্যাকেজের মূল্য নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে মোবাইল অপারেটরদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকায় গ্রামীণফোন আয়োজিত ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ—ফেজ টু’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছাতে হবে। নারী, তরুণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন সমানভাবে বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে অংশ নিতে পারে এবং এর সুফল ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যে অর্থবহ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
ফকির মাহবুব আনাম দেশের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় টেলিযোগাযোগ সেবা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রায় কোনো অঞ্চল যেন পিছিয়ে না পড়ে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সহজলভ্য যোগাযোগসেবা অপরিহার্য।
টেলিযোগাযোগ সেবা নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি মোবাইল অপারেটরদের উদ্দেশে বলেন, কল ড্রপ, নেটওয়ার্কের মান এবং ভয়েস ও ডাটা প্যাকেজের মূল্যসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গ্রাহকদের প্রত্যাশা ও স্বার্থের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী, নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানের শেষে মন্ত্রী গ্রামীণফোনের ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন ফর মার্জিনালাইজড কমিউনিটিজ—ফেজ টু’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
নগদকে আরও লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে: ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
নগদকে আরও লাভজনক, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, সরকারের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নগদের প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে সেবার মান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁও ডাক ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে নগদ কর্তৃক ডাক অধিদপ্তরকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ রাজস্ব আয়ের চেক হস্তান্তর করা হয়।
নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহর সভাপতিত্বে রাজস্ব আয় হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আজকে নগদের এই অনুষ্ঠানে আমরা টাকা পাচ্ছি। সরকার তো শুধু খরচই করে, কিন্তু আজকে সত্যিই সরকারের জন্য এটি একটি আনন্দের দিন। কারণ কোথাও না কোথাও থেকে আমরা টাকা পাচ্ছি, মুনাফা পাচ্ছি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমাদের সরকার প্রায় ছয় মাস পূর্ণ করতে যাচ্ছে। আগামী আগস্টে ছয় মাস হবে। এই ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমরা প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ে কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেকগুলোই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আজকে নগদের এই মুনাফাও আমি মনে করি আমাদের সরকারের একটি সফলতা ও বাস্তবতার প্রতিফলন।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। আর সেই প্রযুক্তি তখনই অর্থবহ হয়, যখন তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী কিংবা নারী উদ্যোক্তা, সবার জন্য সহজ ও নিরাপদ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এই খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন এবং গ্রাহকবান্ধব সেবার বিস্তার ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাক বিভাগের এই পরিবর্তন অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রচলিত ডাকসেবার পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা, আর্থিক সেবা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি কার্যক্রম চালু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ডাকের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে, যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলবে। একটু আগে বলা হয়েছে, অন্যান্য পার্সেল সেবাদাতাদের তুলনায় আমরা এক-তৃতীয়াংশ দামে সেবা দিচ্ছি। আমরা ডাক বিভাগকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছি।
মন্ত্রী বলেন, ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থা রয়েছে। তাই ডাক বিভাগের নামে প্রতিষ্ঠিত মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা নগদও দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে নগদের কিছু কার্যক্রমের কারণে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। আমি ডাক বিভাগকে বলব, চুক্তি অনুযায়ী মনিটরিং জোরদার করতে হবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নগদকে একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। ডাক বিভাগের মতো নগদকেও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাকে আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবন উৎসাহিত হবে এবং জনগণ আরও উন্নত সেবা পাবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদ যে রাজস্ব ভাগাভাগি করছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে তা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আমি শুনেছি নগদের প্রায় নয় কোটি গ্রাহক রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় তিন কোটি নিয়মিত সক্রিয় গ্রাহক। এটি একটি বিশাল বিষয়।
তিনি বলেন, নগদ যেহেতু সরকারের প্রতিষ্ঠান, তাই মানুষের মধ্যে এর প্রতি একটা আস্থা রয়েছে। এজন্যই দিন দিন এর গ্রাহক বাড়ছে। প্রশাসক বলেছেন, সফটওয়্যারের আরও উন্নয়ন করা গেলে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়বে। আমি, সচিব মহোদয়, ডিজি সাহেব এবং সংশ্লিষ্টদের বলব, আমরা বসে দেখি কীভাবে নগদের সেবা আরও উন্নত করা যায়। এখানে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। জনগণের আস্থা রয়েছে, কারণ এটি সরকারের প্রতিষ্ঠান। আমরা যদি আরও ভালো সেবা দিতে পারি এবং সফটওয়্যারকে আধুনিক করতে পারি, তাহলে নিশ্চয়ই নগদকে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ডাক বিভাগের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে আমাদের প্রায় নয় হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে। কীভাবে এসব ডাকঘরের আধুনিকায়ন করা যায়, তা নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি। গ্রামে যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারে না, সেখানে ডাকঘর রয়েছে। যদি আমরা এগুলোকে উন্নত করতে পারি, তাহলে মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকর সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আজ নগদ সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ প্রায় ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে। এটি বড় অঙ্ক। যেখানে বস্ত্র, পাটসহ অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে, সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, বন্ধ শিল্পগুলো চালু করতে হবে এবং লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
সম্প্রতি নগদ বিক্রির গুঞ্জনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে দেখলাম একটি সংবাদে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নাকি নগদ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা কখনোই এ ধরনের কোনো কথা বলিনি। যারা এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেন, তাদের বলব, গুজবে কান দেবেন না। আমি আছি, সচিব মহোদয় আছেন, ডিজি সাহেব আছেন, প্রশাসক আছেন। আমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন, তারপর সংবাদ প্রকাশ করুন।
তিনি বলেন, আমরা একটি স্বচ্ছ সরকার। সাংবাদিক ভাইদের জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা। আপনারা কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাহলে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। কারণ আপনাদের সংবাদ থেকেই মানুষের ধারণা তৈরি হয়। তাই সঠিক সংবাদ প্রকাশ করুন, যাতে মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নগদকে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। খুব শিগগিরই আমরা আবার বসবো, কীভাবে নগদের সেবা আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবো। সামনে আরও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা আসতে চাইছে। আসুক, প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকুক। যত বেশি প্রতিযোগিতা হবে, তত বেশি জনগণ উপকৃত হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, আমরা সবাই সরকারের কাছ থেকে উন্নত সেবা চাই। আমরা চাই প্রশস্ত রাস্তা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং উন্নত নাগরিক সেবা। কিন্তু সরকার তখনই এসব সেবা নিশ্চিত করতে পারবে, যখন সরকারের পর্যাপ্ত রাজস্ব থাকবে। কারণ সরকারের কোনো সেবাই বিনামূল্যে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি সেবার পেছনেই রাজস্ব প্রয়োজন। রাজস্ব পর্যাপ্ত না হলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
সচিব বলেন, তিন বছর আগেও শ্রীলঙ্কা বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছিল। তারপরও দেশটির কর-জিডিপি অনুপাত ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর আমরা এখনো ৭ শতাংশেরও নিচে। তাই সরকারের সেবা চাইলে আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে রাজস্ব প্রদান করতে হবে।
ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় ডাক বিভাগের প্রধান সেবা ছিল মানি অর্ডার। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো মানি অর্ডারের সঙ্গে পরিচিত নয়। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার চালু হয়। তখন ডাক অধিদপ্তর চিন্তা করে, কৌশলগত অংশীদারের মাধ্যমে কীভাবে এই সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করা যায়। সেই ভাবনা থেকেই ডাক অধিদপ্তর ও নগদের এই অংশীদারিত্বের সূচনা।
তিনি আরও বলেন, নগদ ডাক অধিদপ্তরের লোগো ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে নগদের গ্রাহক প্রায় ৯ কোটি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই আস্থার কারণেই ব্যবসা বেড়েছে, রাজস্ব বেড়েছে এবং সরকারের আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত নগদ ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করেছে মাত্র ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা হয়েছে। আর সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, গ্রাহকের আস্থা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান ব্যবস্থাপনার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এজন্য প্রশাসকসহ নগদের বর্তমান টপ ম্যানেজমেন্টকে শীর্ষ ব্যবস্থাপনাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিক সেবাকে কীভাবে আরও সহজ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, সে লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ডাক বিভাগের বর্তমান কার্যক্রম তুলে ধরে সচিব বলেন, অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, এখন ডাক বিভাগের কাজ কী? আগে ডাক বিভাগ মানেই ছিল লাল রঙের পোস্টবক্স আর চিঠি আদান-প্রদান। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলে গেছে। সারা বিশ্বেই ডাকসেবাকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এখন চিঠির পরিবর্তে মানুষ মোবাইল, টেক্সট মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। তবে লজিস্টিকস (সরবরাহব্যবস্থা) সেবার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন কি না, দেশের বাইরে এক কেজি পণ্য ফেডএক্স বা ডিএইচএলের মাধ্যমে পাঠাতে যে খরচ হয়, ডাক বিভাগ প্রায় তার এক-তৃতীয়াংশ খরচে একই ধরনের সেবা দিতে পারে। একই সময়ের মধ্যে নিরাপদভাবে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করব, ডাক বিভাগের আধুনিক সেবাগুলো গ্রহণ করুন।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, আজকে আসলেই আমাদের জন্য একটি খুশির দিন। নগদ যে পরিস্থিতিতে ছিল, দিনে দিনে আলহামদুলিল্লাহ সেটার ভালো ধরনের উন্নতি হচ্ছে। এটা একটা স্থিতিশীল উন্নতি। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেভাবে আমাদের সহযোগিতা করছেন, ইনশাল্লাহ আমরা সরকারের একটি সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের আরও প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।
তিনি বলেন, সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ করতে পারে না বা রাজস্ব আয় করতে পারে না, এমন একটি ধারণা রয়েছে। আমরা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করতে চাই। সরকারের অধীন ডাক অধিদপ্তর এবং নগদ একসঙ্গে সেই সক্ষমতা দেখাতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। সরকারের একটি অংশ হতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৭-১৮ সালে নগদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটি সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৩১৩ কোটি টাকা দিয়েছে। শুধু চলতি বছরেই সরকার নগদের কাছ থেকে মোট ৩৫০ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে।
আসাদুল ইসলাম বলেন, জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত নগদ সরকারকে মোট ৯৪৬ কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করেছে। এছাড়া ডাক অধিদপ্তরের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির আওতায় দিয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে গেছে। অল্প কিছু টাকা হলেই এই অঙ্ক ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। ২০১৮ সালে কার্যক্রম শুরু করার পর মাত্র আট বছরে সরকারকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন।
নগদ প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সঙ্গে নগদের রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি অনুযায়ী ডাক বিভাগকে ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ অর্থ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দিতেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সমন্বয়ে নগদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাক বিভাগের একটি টিমের সহায়তায় কোনো নতুন সরকারি বা অন্য কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সংকটের সময় অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলেও নগদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বরং গত দুই বছরে নগদের লেনদেন, রাজস্ব এবং সরকারের কাছে প্রদেয় রাজস্বের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নগদ প্রশাসক বলেন, গত বছর বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে ১৮ মাসের রাজস্ব বাবদ প্রায় ১৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। আর এ বছর মাত্র এক বছরের জন্যই ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সংকট কাটিয়ে উঠে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।
নগদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি লেনদেন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে সক্রিয় গ্রাহক তিন কোটির বেশি এবং মোট গ্রাহক সংখ্যা নয় কোটিরও বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মে মাসে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকায়। বর্তমানে প্রতি মাসেই ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে।
মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, নগদের প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো : বিনিয়োগের অভাব এবং পুরোনো সফটওয়্যার। সফটওয়্যার আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করা গেলে নগদ দেশের শীর্ষ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা (এমএফএস) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে নগদ ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে।
৮ দিন আগে
বাংলাদেশকে শ্রমনির্ভর থেকে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার: প্রযুক্তিমন্ত্রী
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশকে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত চিপ ডিজাইন, বায়ো-ইলেকট্রনিক্সসহ উচ্চপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও নির্মাতা দেশ হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকায় নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইআর সামিট-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশ ডিপ-টেক ফিউচার’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তিপণ্য ও প্রযুক্তিসেবার উদ্ভাবন এবং রপ্তানিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
এ সময় সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক খাতের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, দেশের তরুণরাই এই খাতের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। উদ্ভাবনী, গবেষণা ও নীতিগত সহায়তায় তরুণদের পাশে থাকবে সরকার।
এরপর বৈশ্বিক একাডেমিক প্লেনারি অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রি পেরুলিস।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা হোসাইন, পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিফ আর্কিটেক্ট, সিলিকন রিভার বাংলাদেশ, নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১১ দিন আগে
সাইবার স্পেসে বৈষম্যহীন ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়তে ৩ দফা প্রস্তাব আইসিটিমন্ত্রীর
চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বহুপাক্ষিক সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে ৩ দফা দূরদর্শী প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার (২২ জুলাই) চীনের প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক শহর শি’আনের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘পুলিং ইন্টেলিজেন্স অন দ্য সিল্ক রোড, এমবার্কিং অন অ্যা ডিজিটাল ফিউচার: জয়েন্টলি বিল্ডিং অ্যা কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার ইন সাইবারস্পেস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।
ফকির মাহবুব আনাম তার বক্তব্যে প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আজকের এই মূল প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই জনমিতিক লভ্যাংশ (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট) কাজে লাগিয়ে একটি প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মোবাইল কানেক্টিভিটির আওতায় এসেছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পোর্টাল ও ডি-নথির মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজকর্ম সম্পন্ন হচ্ছে। ভূমি রেকর্ড থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজড করায় প্রতিবছর নাগরিকদের কোটি কোটি কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর কেবল ভৌত অবকাঠামোর বিষয় নয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেধারও বিষয়। বাংলাদেশে এআই গবেষণা, ফিনটেক উদ্ভাবন এবং সুবিশাল ডেটা সেন্টার অবকাঠামো গঠনে ব্যাপক বিনিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীমাতৃক বাংলাদেশে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস প্রদান এবং প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারের (নিখুঁত কৃষি) জন্য ড্রোন ব্যবহারের মতো স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করা হচ্ছে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের জন্য ডিজিটাল সিল্ক রোড একটি অর্থনৈতিক জীবনরেখা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাই-স্পিড সাবমেরিন কেবল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আসিয়ান অঞ্চলের উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সংযুক্ত হচ্ছে।
সম্মেলনে যৌথ অগ্রগতির লক্ষ্যে মন্ত্রী তিনটি মূল স্তম্ভ বা প্রস্তাবনা পেশ করেন— ১. ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অ্যান্ড নলেজ ট্রান্সফার: কেবল হার্ডওয়্যারে নয়, বাংলাদেশের তরুণ মেধার বিকাশে বিনিয়োগের আহ্বান। সাইবার বিজ্ঞানী তৈরিতে যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন। ২. অ্যাফোর্ডেবল কানেক্টিভিটি: প্রযুক্তি হস্তান্তর সাশ্রয়ী করা এবং বিশ্ব প্রযুক্তি নেতাদের সহযোগিতায় ডিজিটাল বিভাজন রোধ করা। ৩. ডিজিটাল পাবলিক গুডস: ডিজিটাল উন্নয়নকে জনকল্যাণমূলক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আইপি ও ডাটা আর্কিটেকচার বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত করা।
সাইবার স্পেসের হুমকি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, ভুয়া তথ্য ও ডাটা উপনিবেশবাদের মতো ঝুঁকি মোকাবেলায় সাইবার শাসনব্যবস্থাকে বহুমেরুকরণ (মাল্টিপোলারাইজেশন), স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।
বক্তব্যের শেষে প্রাচীন সিল্ক রোডের আস্থা ও বিশ্বাসের নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সুপারহাইওয়েকেও আমাদের সেই একই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ সংযোগ, তরুণ শক্তি ও উদ্ভাবনী চেতনা নিয়ে এই যাত্রায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে প্রস্তুত।’
২১ও ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে বিশ্বের ৫২টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৮০০ জন অতিথি ও প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বাণিজ্য, সিল্ক রোড ই-কমার্স, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্মার্ট হেলথকেয়ার এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া কোয়ালকম, লেনোভো, জেডটিই, ৩৬০, সুগন, ওয়াটারড্রপ, কিসন টেকনোলজি, পেঙ্গুয়া ফান্ডসহ চীন ও বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ফোরামে অংশ নেন।
১৫ দিন আগে
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপ্যালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা চালুর প্রচেষ্টা অব্যাহত: মন্ত্রী
দেশের ফ্রিল্যান্সারদের সীমান্তপারের লেনদেন সহজ করতে পেপ্যালসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা চালুর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আজ বেলা ৩টার দিকে দিনের অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উপস্থাপন করেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশের ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সংস্থা এবং পেপ্যালসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, যাতে এসব পেমেন্ট সেবা চালু করা যায়।
তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা, কর ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সহায়ক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে আইসিটি বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৪৩ দিন আগে
ডিজিটাল সেবা উন্নয়নে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভুটানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে চলমান অগ্রগতি, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রাষ্ট্রদূতকে জানান।
রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা বাংলাদেশের এ ধরনের উন্নয়ন অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উভয়পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নে একত্রে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।
এ সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, ভুটান দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর জিগড্রেল ওয়াই শেরিং এবং বাণিজ্য বিষয়ক কাউন্সিলর দাবা শেরিং উপস্থিত ছিলেন।
১২৮ দিন আগে