ইস্টার সানডে
উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ভালো বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (৫ এপ্রিল) পবিত্র ইস্টার সানডে উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিসভাকক্ষে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চেস ইন বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন দেশটাকে গড়ার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষ, সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে নিয়ে সুখী, সমৃদ্ধ একটা ভালো বাংলাদেশ গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে—এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।
নিজের সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে ভালোবাসি একরমভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, দেশটা সবার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, অন্য ধর্মের মানুষজন বিএনপিকে ভোট দেয় না। এটা এবারের নির্বাচনে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপিকে সব ধরনের মানুষ ভোট দিয়ে জয়ী করেছে।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দেশের অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তখন দেশের ভঙ্গুর দশা ছিল। অর্থনৈতিক খাতে ভঙ্গুর অবস্থা, যোগাযোগখাতে ভঙ্গুর দশাসহ বিভিন্ন সেক্টরে যে অবস্থা বিরাজ করছিল মনে হয়েছে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।
এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন।
১৫ দিন আগে
ইস্টার সানডেতে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
পবিত্র ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি।
খ্রিস্টানধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব ইস্টার সানডে মূলত যীশু খ্রিস্টের পুনরুত্থানকে স্মরণ করে পালিত হয়। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় এই দিনটি পালন করে থাকেন।
দিবসটিকে আশা, পুনর্জাগরণ এবং হতাশার বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রার্থনা, সামাজিক মিলনমেলা এবং আর্তমানবতার সেবামূলক কাজের মাধ্যমেই এই উৎসবের মূল উদযাপন সম্পন্ন হয়।
১৫ দিন আগে
ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির নীতিগত স্বীকৃতির দাবি
ইস্টার সানডেকে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন। আয়োজকদের মতে, ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ দিনটি ছুটির আওতায় না থাকায় খ্রিষ্টানদের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে ধর্মীয় আচার পালনে বাস্তবিক সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতৃরা ছাড়াও বিভিন্ন গির্জা ও খ্রিষ্টান সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিওর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া, ঢাকা আর্চবিশপ হাউজের পরিচালক ফাদার আলবার্ট টি রোজারিও, ঢাকা ক্রেডিটের সেক্রেটারি মঞ্জু মারীয়া পালমা এবং যুগ্ম মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে নির্মল রোজারিও বলেন, ‘ইস্টার সানডে খ্রিষ্টান বিশ্বাসের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এটি কর্মদিবস হিসেবে থেকে যাওয়ায় বহু মানুষকে ধর্মীয় কর্তব্য ও পেশাগত দায়বদ্ধতার মধ্যে বেছে নিতে হয়, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’
মহাসচিব হেমন্ত আই কোড়াইয়া বলেন, ‘এটি নতুন কোনো দাবি নয়; দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে উত্থাপিত একটি বিষয়। আমরা আশা করি, সরকার বিষয়টিকে নীতিগত ও প্রশাসনিক—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছাবে।’
রমনা ক্যাথেড্রাল চার্চের পাল-পুরোহিত ফাদার আলবার্ট টি রোজারিও বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ইস্টার সানডে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। বাংলাদেশেও একই ধরনের স্বীকৃতি ধর্মীয় স্বাধীনতার চর্চাকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে।’
ঢাকা ক্রেডিটের সেক্রেটারি মঞ্জু মারীয়া পালমা বলেন, ‘বিষয়টি কেবল একটি ছুটির প্রশ্ন নয়; এটি ন্যায্যতা, সমতা এবং নাগরিক অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। রাষ্ট্রীয় নীতিতে এ ধরনের স্বীকৃতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা জোরদার করে।’
যুগ্ম মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা বলেন, ‘আসন্ন ৫ এপ্রিলের ইস্টার সানডে উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে একদিনের ছুটি ঘোষণা একটি তাৎপর্যপূর্ণ সূচনা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী নীতিগত অন্তর্ভুক্তির পথ তৈরি করবে।’
মানববন্ধন থেকে জানানো হয়, ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অনুরোধপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে একই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
২০ দিন আগে