অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
সব ধরনের জ্বালানির তিন মাসের মজুদ নিশ্চিত করা হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
সব ধরনের জ্বালানির তিন মাসের মজুদ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি ছিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তারা অনেকেই ফোর্স মেজর (চুক্তি পালন করতে না পারলে দায়মুক্তি সংক্রান্ত ধারা) ডিক্লেয়ার করেছে। এজন্য জ্বালানি সংগ্রহে আমাদের নতুন নতুন উৎস অনুসন্ধান করতে হয়েছে। আমরা কিছু ভালো উৎস পেয়েছি। তাদের অনেকের সঙ্গে আমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছি।
তিনি জানান, যদি এটা বাস্তবায়ন হয় আমরা প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে আগামী তিন মাসের জ্বালানি সংগ্রহ করার জন্য সকল প্রস্তুতি আমরা গ্রহণ করেছি, এটা ডিজেলের ক্ষেত্রে। আর পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে আনুমানিক তিন মাসের মতো আমরা কিন্তু নিশ্চিত করতে পেরেছি, অর্থাৎ আমাদের কাছে সেটা রেডি।
তিনি আরও জানান, আগামী তিন মাসের জন্য জ্বালানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি। এপ্রিল মাসের ডিজেলের চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার করি, তাহলে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন থাকবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, পেট্রোল পাম্পে যে লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে, তা মূলত অকটেন ও ডিজেলের জন্য। অকটেনের চাহিদা মোট চাহিদার প্রায় ৬ শতাংশ, পেট্রোলেরও প্রায় ৬ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ১২ শতাংশ। বাকি ৮৮ শতাংশ চাহিদা খুবই স্বাভাবিকভাবে পূরণ হচ্ছে। সে কারণে সামগ্রিক কোনো সংকট আমরা দেখছি না।
তবে কিছু জায়গায় অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু ঘটনা ঘটছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তার মেশিনারিজ নিয়ে কাজ করছে। আজ সকালেও আমরা দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছি। সেখানে আলোচনা হয়েছে কীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া যায়। বিপিসি এবং পদ্মা, মেঘনা, যমুনা কোম্পানির পক্ষেও যদি কোনো ত্রুটি থাকে, তা সংশোধন করে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও মসৃণ করার চেষ্টা চলছে, যাতে জনদুর্ভোগ কমে এবং জনগণও দায়িত্বশীল আচরণ করে।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব কিছুদিন থাকতে পারে। সে কারণেই আমরা তিন মাসের জ্বালানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছি। ডিজেলের ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় হচ্ছে স্টোরেজ ক্যাপাসিটি। শুধু জ্বালানি আনলেই হবে না, সংরক্ষণের ব্যবস্থাও বাড়াতে হবে। আমরা সমান্তরালভাবে সেই সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর যেমন বিএডিসি, রেলওয়ে, এমনকি প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর অব্যবহৃত সংরক্ষণ ক্ষমতাও ব্যবহার করা হবে।
৫ ঘণ্টা আগে