জাহেদ উর রহমান
আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল, অক্টোবরে ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা: উপদেষ্টা জাহেদ
আগামী আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পৃথক রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারা দেশকে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল—এই চার ভাগে ভাগ করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে ইসি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটা সবসময় একটা খুবই আলোচিত ইস্যু ছিল আমাদের, সেটা হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আদৌ হবে কিনা। যেহেতু সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে, তাই কেউ কেউ এভাবে বলার চেষ্টা করতেন। কিন্তু আমরা বারবার বলেছি, আমাদের মন্ত্রী সবসময় বলেছেন যে, এটা এই বছরের মধ্যেই শুরু হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, নির্বাচন হওয়ার জন্য একটা বিশেষ সময় লাগে। আমরা চেষ্টা করি, বেশি সংখ্যক নির্বাচন শুষ্ক মৌসুমে, শীতের মৌসুমে করতে।’
তিনি আরও বলেন, অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু হবে। আর শুরু হওয়ার পর সব ধাপের নির্বাচন শেষ করতে সাধারণত ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগে। অনেকেই মনে করেন এখন থেকে ১০-১২ মাসের মধ্যে নির্বাচন শেষ হবে। বিষয়টি তা নয়। অক্টোবর থেকে শুরু হলে ২০২৭ সালের অক্টোবর নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে।
২ দিন আগে
সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা নিয়ে নাহিদের বক্তব্য ‘রাজনৈতিক’: উপদেষ্টা জাহেদ
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে বোমা হামলা নিয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ‘রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রশাসনের সহযোগিতায় সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘গতকালের ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। আমরা এটার প্রতিবাদ জানাই। সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে যারা এটার সঙ্গে জড়িত সেই তদন্ত করা, তাদের ধরা।’
তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে আমি এটুকু বলব যে রাজনৈতিক বক্তব্য বলে এক ধরনের কথা প্রচলিত আছে, সেই রাজনৈতিক বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। সেটা তার অধিকারও আছে, তিনি সেটা বলতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তবে আমরা একটা রাজনৈতিক দলের প্রধানের মুখ থেকে, যিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আমাদের গণঅভ্যুত্থানে তার থেকে আরেকটু দায়িত্বশীল মন্তব্য আশা করি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, এ বিষয়ে জানকে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার তদন্ত করবে। ঘটনার তো এখন ২৪ ঘণ্টাও যায়নি। সবসময় যে খুব দ্রুত কাজটা করে ফেলা যাবে তা না। সরকার অবশ্যই গ্রেপ্তার করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গ্রেপ্তারের একটা প্রক্রিয়া আছে, তদন্ত আছে, নানান রকমভাবে সেই চেষ্টা হবে। সরকার করছে না কি না সেটা দেখার ব্যাপার আছে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, একটা রাষ্ট্র বা সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও কখনও কোনো অঘটন ঘটতে পারে। সেই সরকারটা সেটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে কি না, ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না সেটা জরুরি ব্যাপার। এ সরকার নিচ্ছে, আমি আপনাকে সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি।
২ দিন আগে
অন্য কোনো নামে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না: তথ্য উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অন্য কোনো নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ গঠন হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সফট বা হার্ড আওয়ামী লীগ না। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) বিএনপিও তো নাই, আছে কি? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কি বিএনপি আছে? জামায়াত, এনসিপি আছে? নেই। এক সময় ছিল, মানে যে আইনটা মাঝখানে পরিবর্তিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়, সেখানে একটা নির্বাচনে দল ছিল, সেটা হচ্ছে চেয়ারম্যান বা মেয়র। তখনও কিন্তু মেম্বার এবং কমিশনার নির্বাচনে কোনো দল অংশগ্রহণ করত না। এখন এটা তুলে দেওয়া হয়েছে, মানে আমরা আগের জায়গায় চলে গেছি।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত কেউই অংশগ্রহণ করছে না। এটা হলো একদম নিশ্চিত কথা। আর দ্বিতীয় কথাটি হচ্ছে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের একটা আলাপ মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও দেখা যায়, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যত দিন নিষিদ্ধ আছে, তত দিন সে যে নামেই হোক না কেন, রিফাইন্ড হোক বা অন্য কোনো নতুন আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ—যাই বলি না কেন, কোনো নামেই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এই জিনিসটা আমাদের বুঝতে পারতে হবে।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার মানে সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সরকার মনে করে আদালত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলটির কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা উচিত। আমি আগের দিনই বলেছিলাম, এটা আসলে আদালতের এখতিয়ার।
৯ দিন আগে
কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমি খুব বিস্তারিত বলছি না, তবে এটা সরকার কগনিজেন্সে (আমলে নেওয়া) নিয়েছে, সরকার এটা দেখেছে। এটার সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক থাকার কোনো কারণ নেই। বরং এটা কেন হচ্ছে সেটা সরকার খতিয়ে দেখছে। কারণ এটা নিয়ে গ্লোবালি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই এ ব্যাপারে আমরা সচেতন আছি।
তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি। পাশাপাশি আমি ব্যক্তিগতভাবেও এটার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। আমরা আশা করি, এটা আর এভাবে চলমান থাকবে না।
এগুলো কারা করছে— জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বুঝতেই পারছেন, এটা কারা করছে, কেন করছে। কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছে, কিন্তু তারাই তো আসলে হয়তো সবসময় মূল ব্যক্তি না। তাই, এটা একটু খতিয়ে দেখার প্রশ্ন আছে। এটা যেহেতু এত ওয়াইডস্প্রেড (বিস্তৃত) হয়েছে, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি এবং আমরা ইনশাআল্লাহ এটা বের করতে পারব।
৯ দিন আগে
আ.লীগ নিষিদ্ধ কি না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে: উপদেষ্টা জাহেদ
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমেছে। দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনকে সরকার কতটুকু যুক্তিযুক্ত মনে করছে? এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো আমি মনে করি তারা একটা সিম্বলিক কারণে আছে। কারণ হচ্ছে, একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, নিষিদ্ধ ঘোষিত আসলে কথাটা ঠিক না, আমরা টেকনিক্যালি যদি বলি, নাম যদি এভাবে বলি আওয়ামী লীগ, দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, এই জিনিসটা একটু স্পষ্ট করে রাখা দরকার, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি না, সেই বিচারের পর তা নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে ‘সন্ত্রাস দমন আইন, ২০০৯’-এর অধীনে। তাই তাদের কর্মসূচি নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যেকোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, সেটা তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। তাই সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই, এটা তারা সিম্বলিক্যালি হয়তো মাঠে আছেন, যেহেতু তারা (আওয়ামী লীগ) বলছেন, তারা অনেক কিছু করে ফেলবেন।
সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, এর মানে এই না যে অনেক কিছু তারা করে ফেলতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহসও আছে। কিছু করতে হলে অন্তত একটা নৈতিক সাহস লাগে।
তিনি বলেন, আমরা একটা কথা বলি না, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, মানে আওয়ামী লীগের বড় গলা হতে আমাদের সবার মেমোরি (স্মৃতিশক্তি) শেষ হয়ে যেতে হবে। আমাদের সবার ডিমেনশিয়া (স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া রোগ) হবে, তারপর কোনোদিন আওয়ামী লীগ আমাদের সামনে বড় গলা করে কথা বলতে পারবে, এর আগে পারবে বলে আমার মনে হয় না। তাই, তাদের ওই নৈতিক সাহসও নেই। কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি একটু পেছনে যাই, একটু অপ্রাসঙ্গিক হলেও বলি— জুলাইয়ে এরকম বন্দুকের সামনে মানুষ দাঁড়াতে পেরেছিল, কারণ তার নৈতিক সাহসটা ছিল। ও ধান্দাবাজ লোক ছিল না, ও দেশকে ভালোবেসেছে, এ দেশের ভালো করতে চেয়েছে। এত গুলি, এত মৃত্যু, এরপরও মানুষ পরের দিন আবার গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তো তাদের (আওয়ামী লীগ) দিয়ে আসলে তেমন কিছু হওয়ার কোনো কারণ নাই।
১৬ দিন আগে
জাহেদ উর রহমান ইস্যুতে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারকে তলব
প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাধেকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ সময় নয়াদিল্লির কাছে ঢাকার অসন্তোষের কথা জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে তাকে কূটনৈতিক নিয়ম মেনে তলব করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, ওই ঘটনার বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ভারতীয় কূটনীতিকের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে ডা. জাহেদ উর রহমানের ফেরত আসা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, দুঃখজনকও বটে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং আজ দিনশেষে আমরা এ বিষয়ে আপনাদেরকে জানাব।
দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে ড. জাহেদ উর রহমান রবিবার (১৩ জুন) বিকালে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল তার।অ
তবে সেখানে ইমিগ্রেশনে তাকে জেরার মুখে পড়তে হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা জিজ্ঞাসবাদের পর বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রবেশের অনুরোধ করা হলে তিনি পাসপোর্ট ফেরত চান। এরপর তিনি কলম্বো হয়ে আজ সকালে দেশে ফিরে আসেন।
২৪ দিন আগে
জঙ্গিবাদ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
দেশে জঙ্গি রয়েছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকার জঙ্গিবাদকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা দেখেছি যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেছেন, দেশে আসলে জঙ্গি নেই। জঙ্গি আছে কিনা, এই সরকার কী মনে করে এবং নাশকতার যদি হয় এটা আসলে সরকারের গোয়েন্দাদের কাছে কী ধরনের তথ্য আছে— এ বিষয়ে সংবাদিকরা উপদেষ্টার কাছে জানতে চান।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, সরকারের কাছে কতখানি তথ্য আছে তা বলা যাবে না। এটা একটা সংবেদনশীল তথ্য। এই তথ্যটা গোপন থাকবে। কিন্তু যেটুকু তথ্য সরকার জানিয়েছে, এটা ফ্যাক্ট— বাংলাদেশে জঙ্গি আছে।
তিনি বলেন, এখানে দুটো এক্সট্রিম বা চরম অবস্থানই আছে, আমি দুটো এক্সট্রিমের কথা বলি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জঙ্গি সমস্যাকে যেই স্কেলে দেখানো হয়েছে, এটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ (আখ্যান) হিসেবে তারা ব্যবহার করেছিলেন যে বাংলাদেশে জঙ্গি আছে, জঙ্গিরা সব দখল করবে। সুতরাং আমি নির্বাচন করলাম কি না দেখার দরকার নেই, আমাকে ক্ষমতায় রাখো—এটি একটা ন্যারেটিভ ছিল। এটা অতিরঞ্জিত হয়েছিল ওই সরকারের সময়ে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই আলাপ কেউ কেউ করার চেষ্টা করেছেন যে, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। এটাও আরেকটা চরম অবস্থান; এটাও ভুল কথা। বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে মিলিট্যান্সি, জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। সেটাকে আমরা আসলে প্রতিরোধ করতে চাই।
জাহেদ উর রহমান বলেন, এবার এই সতর্কতার মানে হচ্ছে, এটা খানিকটা ঝুঁকি তৈরি করেছে। কারণ দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আমরা খেয়াল করেছি, এই প্রবণতার মানুষদের অনেক বেশি সংগঠিত হওয়া বা জনসম্মুখে আসা বা মুক্তভাবে আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। সেটারই খানিকটা প্রভাব আমরা বলতে পারি। এই সরকার এগুলো প্রতিরোধ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জনগণকে এটুকু বলতে চাই, এই ঝুঁকি এমন না যে এটার জন্য ভয় পেতে হবে। কিন্তু সেই পুরোনো কথা হলো, আমরা যদি কোনো একটা সংকট বা রোগকে স্বীকার না করি, ওটার চিকিৎসা হবে না। তাই, আমরা এটাকে একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অনেক জঙ্গি জেল থেকে বেরিয়ে গেছেন—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, কিছু মানুষ বেরিয়েছিলেন। এখন সরকারের নিয়মিত কার্য হলো, এটা একদম নিয়মিত কর্মকাণ্ডের বা কাজের অংশ যে সরকার এগুলো প্রতিরোধ করবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, জঙ্গিবাদ শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা আমাদের লক্ষ্য। সেটা কতটা পেরে উঠব আমরা জানি না, কিন্তু আমরা চেষ্টা করব শূন্যের কাছে নিয়ে আসার জন্য। কারণ আমরা এই সমস্যাটা স্বীকার করি এবং এটা আমরা অনেক বেশি বাড়াতে চাই না।
জাহেদ উর রহমান জানান, জঙ্গিরা দেশের ভেতরে আছে এবং তাদের সহায়তা করার মতো মানুষ বাইরেও থাকতে পারে। আমি এটাও একজন বিশ্লেষক হিসেবে বলছি।
জামিনে থাকা জঙ্গিদের নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন, এটার যদি মোটামুটি বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে জামিন বাতিল হবে এবং সরকার সেই জামিন বাতিলের জন্য শক্ত আপিল করবে। জামিন থাকবে কি থাকবে না তা আসলে সরকারের সিদ্ধান্ত নয়, এটা আদালতের সিদ্ধান্ত। কিন্তু সরকার প্রতিবাদ করবে কঠোরভাবে যাতে তাদের জামিন বাতিল হয় এবং সরকার এটা অবশ্যই করবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ‘জঙ্গি’ শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে চাই। কাউকে আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দেওয়াও ঠিক নয়। এ ধরনের সাধারণীকরণ অতীতে অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে উগ্রবাদী প্রবণতা যে রয়েছে, তা আমরা স্বীকার করি এবং তা নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
উপদেষ্টা দাবি করেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অতীতের মতো কোনো ধরনের শিথিলতা নেই। যে কোনো অপরাধের তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করা—এসবই জঙ্গিবাদ মোকাবিলার অংশ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাজের একটি ছোট অংশ উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে ভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিল। কখনো কখনো সক্রিয় হওয়ার চেষ্টাও করেছে। তবে দেশ শেষ পর্যন্ত উদার গণতান্ত্রিক পথেই এগিয়েছে। সরকার এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, কোনো সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে গণতান্ত্রিক উপায়ে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনই চূড়ান্ত পথ।
৭২ দিন আগে
অপতথ্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
গণমাধ্যমের ভুল এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে সরকার শক্ত অবস্থানে যাবে, অপতথ্য দিয়ে বানানো কোনো ফটোকার্ড মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা ছোট ঘটনা আছে, এটা গত সপ্তাহেও ব্রিফিং করেছিলাম। আমি আবারও একটু বলি, প্লিজ আপনাদের কাছে অনুরোধ। আমরা এগুলো নিয়ে আসলে আস্তে আস্তে আইনি ব্যবস্থার দিকেও যাব।
‘আমি গত যে ব্রিফিং ছিল, সেখানে পুনরায় পড়ে বলেছিলাম, কর্মসূচিভুক্ত খালের সংখ্যা ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার, খননকৃত খালের প্রাপ্ত দৈর্ঘ্য ৫৬১ কিলোমিটার, শতকরা অগ্রগতির হার ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এটা যে আমাদের কর্মসূচির খালের প্রায় অর্ধেক। এ বিষয়ে একটা ফটোকার্ড তৈরি হলো, আমি নাকি বলেছি যে সারা দেশের অর্ধেক খাল খনন করা হয়ে গেছে। এটা নামগোত্রহীন কেউ না, পরিচিত জাতীয় দৈনিকের ফটোকার্ড।’
তিনি বলেন, ফ্যাক্ট চেকাররা এটাকে শনাক্ত করেছেন। এটা যে অপতথ্য সেটার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তারা। একটা কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। ভুল ও অপতথ্য এ সরকার সহ্য করবে না; কারও দিক থেকেই করবে না। এটা একজন ব্যক্তির করা আর একটা প্রতিষ্ঠান করার মধ্যে গুরুতর পার্থক্য আছে।
‘একটু ব্যক্তিগত কথা বলেই ফেলি’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি খুব খারাপ মানুষ নই। আমার প্রচুর পরিচিত মানুষজনের কাছ থেকেই কার্ড পাঠিয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, এমনকি এমন সব কথাবার্তা আসছে যেগুলো ফেক ব্যক্তি করছেন; ফটোকার্ড বানিয়ে বলছেন, আমি নাকি বলেছি, জনগণের কল্যাণের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমি এগুলো এভাবে বলিনি, কিন্তু এই যে কথাটাকে বিকৃত করা হলো, আমাকে অনেকে পাঠিয়ে পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করছেন আমি এসব বলেছি কিনা।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করছি, সাংবাদিকতা সাংবাদিকতাই যেন হয়, প্লিজ!
উপদেষ্টা বলেন, আমি আগেও একদিন বলেছি, সরকারের সমালোচনা করার অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এ দেশ এত বড়, এত জটিলতা। একটু পেছনের কথা বলতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এ দেশটাকে এত বাজেভাবে রেখে গেছেন যে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আপনি দেখবেন সমালোচনার জায়গা তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা আপনি পাচ্ছেন, পাবেন। প্রকৃত জিনিসগুলো নিয়ে সমালোচনা করেন, আমি সেটাকে স্বাগত জানাই।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা এটা নিয়ে শক্ত অবস্থানে যাব। আমরা অপতথ্য দিয়ে করা ফটোকার্ড গ্রহণ করব না। আমার মনে হয়, মিডিয়ার মানুষ হিসেবে এটা আপনাদেরও চাওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমি যথেষ্ট পরিমাণ যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি, এর বেশি কিছু না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা আমাদের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত মিডিয়াকে ভয় পেতে চাই। আমি চাই মিডিয়ায় আরও বেশি সরকারের সমালোচনা, যৌক্তিক সমালোচনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক। আমি জানি না কবে কোন সরকার থেকে কেউ এ ধরনের কথা বলেছে কিনা। কিন্তু প্লিজ, ভুল ও অপতথ্য ছড়াবেন না!
৭২ দিন আগে
জ্বালানির সরবরাহ কিছুটা কমলেও তা সংকটজনক নয়: জাহেদ উর রহমান
দেশে জ্বালানির সরবরাহ কিছুটা কমলেও তা সংকটজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা রয়েছে বটে, তবে অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতার কারণে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাদের মধ্যে এই ভীতি বা সংশয় আছে যে, জ্বালানির সরবরাহ কি অনেক কমে গেছে? যে আমরা এত বড় লাইন দেখছি, এটা কি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না? এটা একটা প্রশ্ন। যদি আমরা তুলনা করি, ২০২৫ এবং ২০২৬-এর মধ্যে। ডিজেল ২০২৫ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ টন। মার্চে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ টন। কিছুটা কমেছে তো বটেই, কিন্তু সেটা খুব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে তা না। অকটেন ৩৬ হাজার ৯৮২ টন ছিল ২০২৫-এর মার্চে। মানে আমরা দুটো বছরের মার্চকে তুলনা করছি।
উপদেষ্টা বলেন, অকটেনের সরবরাহ বরং খানিকটা বেড়েছে, ৩৭ হাজার ৪৩৯ টন। পেট্রোলে গত বছর মার্চে ছিল ৪৬ হাজার ৩৭১ টন, এটা এই মার্চে হলো ৩৯ হাজার ৯৯৮ টন। এটার সরবরাহ কিছুটা কমেছে।
তিনি বলেন, তার মানে আমরা এটা বলতে চাই, আমাদের সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা আছে। কিছুটা। শব্দটা আসলেই ‘কিছুটা’। ৪৬ হাজার থেকে যখন ৩৯ হাজার হয়, ৭ হাজার কমে আসে। ৭ হাজার কমে আসলে এটা ১০ শতাংশের খানিকটা বেশি, ১৫ পারসেন্টের মতো একটু কম সরবরাহ আছে। এটা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় খুব অস্বাভাবিক না। কিন্তু এই যে পেট্রোল নেই, অকটেন নেই, একেবারে খারাপ অবস্থা—পরিস্থিতিটা ওরকম না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটার জন্য যেটা আমরা দাবি করেছি যে প্রচুর অবৈধ মজুদ হয়। অনেকেই আশঙ্কার কথা বলেছেন, অবৈধ মজুদ যেটা হচ্ছে, সেটার কারণ খারাপ উদ্দেশ্য আছে। কারোর খারাপ উদ্দেশ্য আছে। সেটা হচ্ছে তারা কেউ কেউ পাচার বা বেশি মূল্যে বিক্রি করতে চান।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাড়ি বা বিভিন্ন স্থানে পণ্য বেশি মজুদ থাকার বিষয়টি পাচারের সম্ভাবনার একটি পরিস্থিতিগত ইঙ্গিত হিসেবে ধরা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা আরও জানান, অনেকেই যৌক্তিকভাবে প্রশ্ন তুলছেন—পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের জ্বালানির দাম কম হলে পাচারের ঝুঁকি থাকে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের শঙ্কা; ভবিষ্যতের চিন্তায় অনেকেই অতিরিক্ত কিনে মজুদ করছেন। অর্থাৎ মূলত এটি প্যানিক বায়িং ও মজুদ করার প্রবণতা।
জ্বালানি তেল অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ৬ এপ্রিল সকালে মজুদের পরিমাণ ছিল ডিজেল ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ টন, অকটেন ১০ হাজার ১৫১ টন, পেট্রোল ১৩ হাজার ৮০৫ টন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের থেকেই বড় অঙ্কের ভর্তুকি জমা আছে। দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই এই খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বোঝা ছিল, যা জ্বালানি মন্ত্রীও উল্লেখ করেছিলেন। এখনও এই ভর্তুকি চালু আছে এবং জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে আরও ভর্তুকি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার পরিমাণও অনেক জানিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের (আইপিপি) কাছে বকেয়া ২০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা, আদানি পাওয়ারের কাছে ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা, জয়েন্ট ভেঞ্চারে ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার কাছে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে ৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ রয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে এই চাপ ম্যানেজ করতে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখা যায়। তবে কিছুটা চাপ থাকবেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা দেখতে চাইছি। জ্বালানির মূল্য সারা পৃথিবীর অনেকে বাড়ালেও আমরা অন্তত আরও এক মাসের জন্য বাড়াচ্ছি না। আমরা আরেকটু অপেক্ষা করতে চাইছি। নতুন সরকার জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে যে সংকটগুলো হতে পারে, সেটা না করে দেখা। যদি সংকট বাড়তে থাকে, এই অফিস বলেন বা মার্কেট বলেন, সব ক্ষেত্রেই আমরা হয়তো আরও টাফার (কঠিন) সিদ্ধান্ত নেব বা নিতে হতে পারে। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে কেন নিচ্ছি, নিয়ে কী অর্জন করছি। এই বার্তাগুলো জনগণের কাছে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা সেই চেষ্টা অবশ্যই করব।
৯৩ দিন আগে