ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জোরপূর্বক আলোচনায় যাবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে তেহরান কোনো জোরপূর্বক আলোচনায় অংশ নেবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ চলমান আলোচনার প্রতি তাদের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ড আলোচনার পথকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ ও চলমান চাপ বন্ধ না হলে ইরানের পদক্ষেপ কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। সমাধানে আাসতে হলে ইরানের বন্দরগামী ও ইরানের বন্দর থেকে আসা জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রর আরোপিত অবরোধগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শেহবাজ শরিফ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করেছেন যে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদ আন্তরিক এবং তারা সৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
এদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলটি স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইসলামাবাদ ত্যাগ করে পরবর্তী আঞ্চলিক আলোচনা করতে ওমানের মাসকাটে পৌঁছেছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের শনিবার ইসলামাবাদ সফরের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প সেই সফর বাতিল করেন।
৩৪ দিন আগে
রাতে আরাঘচির নেতৃত্বে পাকিস্তানে যেতে পারে ইরানের প্রতিনিধিদল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, আরাঘচি ও পাকিস্তানি নেতৃত্বের মধ্যে শুক্রবার একাধিকবার টেলিফোনে আলোচনার পরই এই সফরের সিদ্ধান্ত আসে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই সফরটি মূলত দ্বিপাক্ষিক— অর্থাৎ আরাঘচি পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নেবেন না। সফর শেষে তিনি মস্কো ও মাস্কাটও সফর করবেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তেহরান তাদের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধের কারণে আলোচনায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফা আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ার দুই দিন পর ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন।
এরপর থেকে পরবর্তী আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা আলোচনায় ফিরবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অবরোধ প্রত্যাহারে অনড় অবস্থান বজায় রাখে। এমনকি ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ওয়াশিংটন তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করে। এর জবাবে ইরান দুটি জাহাজ আটক করে এবং তৃতীয় একটি জাহাজে গুলি চালায়।
ফলে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা আলোচনা আদৌ হবে কি না—তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
৩৬ দিন আগে