ফতুল্লা গ্যাস বিস্ফোরণ
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ: পরিবারটির বাঁচল না কেউ, গ্রামের বাড়িতে দাফন
‘চাচা অনেক কষ্ট করে বাড়িতে একটা পাকা ঘর তুলেছিলেন। ছাদের কাজ এখনও বাকি ছিল। কোরবানির ঈদে এসে কাজ শেষ করে গ্রামেই থাকার কথা ছিল। ফিরেছেন ঠিকই, তবে লাশ হয়ে। তার স্ত্রী-সন্তানেরাও ফিরছে লাশ হয়ে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের আবুল কামালের ভাতিজি মেঘলা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে বিস্ফারণের ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজে প্রাণ হারিয়েছেন, তারপর একে একে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হার মেনেছেন তার পরিবারের সব সদস্য।
জীবিকার তাগিদে প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বসবাস করতেন কামাল। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সংসার ছিল তার। কিন্তু গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সেই সংসারের পাঁচটি জীবনই একে একে নিভে গেছে।
গত ১০ মে ভোরে ফতুল্লার ভাড়া বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় আবুল কামাল, তার স্ত্রী সায়মা (৩২), ছেলে মুন্না (৮) এবং দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তাদের মৃত্যু হয়।
গত সোমবার আবুল কামালকে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছিল। আজ (শনিবার) সকালে জানাজা শেষে কামালের কবরের পাশেই পরিবারের অপর চারজনকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় উত্তর কনকদিয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, আবুল কামাল ফতুল্লায় সবজির ব্যবসা করতেন। কয়েকদিন আগে তাদের বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। বিষয়টি বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ঘরে গ্যাস জমে ছিল।
তারা জানান, ১০ মে (রবিবার) ভোরে তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারটির পাঁচ সদস্যই গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়।
চিকিৎকের বরাত দিয়ে কামালের মেজ ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, কামালের শরীরের ৯৫ শতাংশ, স্ত্রী সায়মার ৬০ শতাংশ, মেয়ে মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ এবং ছেলে মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফন-কাফনে সহযোগিতা করা হবে।’
১ ঘণ্টা আগে