বাজেট ২০২৬-২৭
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১ টাকায় নামলে বিদেশে নামাতে হবে লাল-সবুজের পতাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ১ টাকায় নামিয়ে আনার ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এমনটি হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বন্ধ করে দিতে হবে, এমনকি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাও নামিয়ে ফেলতে হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি দাবি ভোটের জন্য উপস্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এ ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
সাতক্ষীরা-৪, রংপুর-১, চট্টগ্রাম-১৬ এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন এবং ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাজেটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ‘ছাঁটাই প্রস্তাব অনুযায়ী আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১ টাকায় নামিয়ে আনা হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। বন্ধ করে দিতে হবে প্রবাসীদের দেওয়া আমাদের সব সেবা। জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে বার্ষিক প্রদেয় অর্থ আমরা দিতে পারব না, যার ফলে জাতিসংঘে আমাদের সদস্যপদ স্থগিত হয়ে যেতে পারে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানের এই পরিবর্তনশীল এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে জটিল বিশ্বব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অনেকাংশেই তার দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে। আজকের এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে আমাদের কূটনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং লক্ষ্য হচ্ছে— সবার আগে বাংলাদেশ, যার অভূতপূর্ব সাম্প্রতিক উদাহরণ হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর।’
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আমাদের জনগণের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
৫ দিন আগে
সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বস্তির কথা ভেবে ‘জীবনবান্ধব’ বাজেট করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ নামে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি বাজেট আমরা উপস্থাপন করতে চেষ্টা করেছি, যাতে করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা হলেও যাতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টাদশ দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতেই বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান বক্তৃতা করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করছি, এই বাজেটকে আমি একটি নামকরণ দিতে চাই। সেটি হচ্ছে জীবনবান্ধব বাজেট।’
এবার সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি দাবি করে তারেক রহমান বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব জিনিস আছে, এরকম ৬১টি পণ্যের ওপর বলা যায় সম্পূর্ণভাবে আগে যা ট্যাক্স ছিল, সেগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা অতীতে খেয়াল করেছি যে বাজেট উপস্থাপনের আগে এবং পরে অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়া বেড়ে যেত। তবে আল্লাহর রহমতে এ বছর আমরা সেরকম কোনো দৃশ্য দেখিনি। একটি রাজনৈতিক সরকার হিসেবে আমরা মনে করি, আমাদের জনগণের প্রতি যে দায়িত্ব, তার একটু হলেও আমরা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি; কিছুটা হলেও জনগণকে স্বস্তি দিতে পেরেছি।
সংসদ নেতা বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কোথাও ঐকমত্য হয়েছে, কোথাও মতভেদ হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা দেশের মানুষের সামনে একটি আশার আলো তুলে ধরতে পেরেছি।
৬ দিন আগে
ভঙ্গুর থেকে স্থিতিস্থাপক অর্থনৈতিক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বছর হবে উত্তরণের সময় এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে দেশের সমৃদ্ধির বছর।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) ও ইউএপির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফিসকাল কম্পাস ২০২৬: বিয়ন্ড দ্য নাম্বার্স, শেপিং বাংলাদেশ’স ফিউচার—প্রপোজড ন্যাশনাল বাজেট ২০২৬-২০২৭’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের হাতে সময় ছিল মাত্র দেড় মাস, অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশ অর্থনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষ অর্থবহ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে, তখন ভারসাম্য রক্ষা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্থিতিস্থাপক অবস্থায় পৌঁছাতে দুই বছর সময় লাগবে। তৃতীয় বছর হবে একটি ভালো সময়। আর চতুর্থ ও পঞ্চম বছর হবে সমৃদ্ধির বছর।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণই এবারের বাজেটের অন্যতম কেন্দ্রীয় ধারণা। নাগরিকরা কেবল নিষ্ক্রিয় দর্শক হয়ে থাকবে না; বরং অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, বৃহত্তর অংশগ্রহণ, অন্তর্ভুক্তি এবং সুযোগ সৃষ্টির ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সৃজনশীল অর্থনীতি, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিভাবান জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় আনা হবে।
স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইবে ও অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশের কারুশিল্পকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা সম্ভব। একইভাবে সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক শিল্পেও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, বাজেট কখনোই শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি একটি রাজনৈতিক হাতিয়ারও, যা সরকারের অগ্রাধিকার ও দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, নতুন সরকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট উপস্থাপন করেছে, তবে এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএপির স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর ড. এম এ বাকী খলিলী। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগনির্ভর পুনরুদ্ধার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান বলেন, যেকোনো বাজেটের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে মানুষ। বাজেটকে এক বছরের বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা হিসেবে না দেখে আগামী পাঁচ বছরের ধারাবাহিক উন্নয়ন কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, ট্রান্সকম লিমিটেডের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ, র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসীসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
১৩ দিন আগে
বাজেট উচ্চাভিলাষী, তবে মূল প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের সম্ভাবনা কম: সিপিডি
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মানব উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি স্পষ্ট দর্শন ফুটে উঠেছে। তবে এর উচ্চাভিলাষী সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো নড়বড়ে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং প্রস্তাবিত রাজস্ব কাঠামোটি যেভাবে আছে, সেভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।
রবিবার (২১ জুন) গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাজেট সংলাপ ২০২৬’-এ সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই গবেষণা সংস্থার ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিভিউ অব বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট’ (আইআরবিডি) বিশ্লেষণটি উপস্থাপন করেন।
গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করেছিলেন, তার ওপর এই গবেষণা সংস্থা আটটি মূল পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
সিপিডি উল্লেখ করেছে, সরকারের সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ থেকে একটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের দাবি প্রকাশ করে। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক তথ্য অনুযায়ী গত অর্থবছরের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে সিপিডি চিহ্নিত করেছে যে, সরকার রাজস্ব সংগ্রহে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার পরিমাণ ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। তবে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিপিডির নিজস্ব প্রাক্কলন বলছে, গত অর্থবছরের প্রকৃত রাজস্ব আদায় হতে পারে মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রকৃত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হতে হবে প্রায় ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
গবেষণা সংস্থাটি মানবসম্পদ খাতে সরকারি ব্যয়কে নতুন করে অগ্রাধিকার দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১২৪ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
তবে তারা সতর্ক করে বলেছে, উভয় খাতেই দীর্ঘস্থায়ী বাজেট ব্যবহারের দুর্বলতা রয়েছে। যেমন: স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যবহারের হার ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ৮০ শতাংশ থেকে নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর মাত্র ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সম্পর্কে সিপিডি বলেছে, ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি বরাদ্দ (যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি) একটি উচ্চাভিলাষী আর্থিক অবস্থান প্রদর্শন করে। তবে গত বছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপির মাত্র ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব হয়েছিল, যা প্রকল্প বাস্তবায়নের নিম্ন সক্ষমতারই ইঙ্গিত দেয়।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকা ৮টি মেগা প্রকল্পের একটিও সময়মতো শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ব্যক্তিগত আয়কর কাঠামোর ক্ষেত্রে সিপিডি বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেছে। তারা দেখিয়েছে যে, বার্ষিক ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের তুলনায় নিম্ন আয়ের মানুষদের ওপর আনুপাতিকভাবে করের বোঝা বেশি বেড়েছে।
সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে (এসএসএনপি) বরাদ্দ ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। তবে সিপিডি লক্ষ করেছে যে, পেনশন ব্যবস্থাপনা ও কৃষি ভর্তুকি মিলেই মোট সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটের ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ চলে যায়, যা মূলত সরাসরি দরিদ্রদের লক্ষ্য করে নেওয়া কর্মসূচি নয়।
১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে সরকারি অঙ্গীকার রয়েছে, সে বিষয়ে সিপিডি দেখেছে, কর্মসংস্থান-সংশ্লিষ্ট প্রধান চারটি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের অংশ হিসেবে হয় কমেছে, নয়তো স্থবির হয়ে আছে। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছে, যেখানে বরাদ্দ ৯০৯ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৩২৯ কোটি টাকা করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণ ৩ বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাজেটে মধ্যমেয়াদি রোডম্যাপের অনুপস্থিতিও চিহ্নিত করেছে সিপিডি।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘টেকসই কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণের প্রথম বড় সুযোগ এই বাজেট।’ তবে এর সফলতা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের গুণগত মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৪ দিন আগে
প্রশাসনিক সংস্কার, দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে: অর্থমন্ত্রী
ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ (শুক্রবার) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কোনো স্বল্পমেয়াদী সমস্যা নয়। এটি গত কয়েক বছরের পুঞ্জীভূত চাপ, বৈশ্বিক সংঘাত, আমদানির উচ্চ খরচ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার সম্মিলিত ফল।
তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন বছর ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বিভিন্ন বাহ্যিক কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, ঋণখেলাপি, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোতে যে মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে, তা তহবিলের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমির খসরু বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ ধরনের বাহ্যিক মূল্যস্ফীতির চাপের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ সীমিত। তবে, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যবসার খরচ কমিয়ে সরকার দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘমেয়াদী অনুমোদন প্রক্রিয়া, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদ, বন্দরে অদক্ষতা এবং কর ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, বাজারে পুলিশ, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা সরকারি কর্মকর্তা মোতায়েন করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটি সঠিক নীতি এবং দক্ষ প্রশাসনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।
বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
খসরু বলেন, সরকার ব্যবসার সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় নিয়মকানুন হ্রাস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৃহত্তর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেবে। এছাড়া বন্দর, লজিস্টিকস এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার সংস্কারও খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
দীর্ঘমেয়াদী ক্রয় পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক বাজারের ধাক্কা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশের জ্বালানি, খাদ্য ও সারের কৌশলগত মজুত বজায় রাখা উচিত। জ্বালানি আমদানির বিষয়ে অতীতের স্পট মার্কেট নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভালো দাম পেতে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির দিকে এগোতে চায়।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিষয়ে খসরু বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর বড় ধরনের কোনো সমন্বয় না হওয়ায়, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের সঙ্গে সঙ্গতি রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, মানুষ যখন আর্থিক সংকটে পড়ে, তখন দুর্নীতির প্রবণতা বাড়ে। বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই চাপ কমবে এবং সরকারি কর্মচারীদের উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত হবে।
বাজেটের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। তরুণ ও শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ মানেই কর্মসংস্থান। আমাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে চাকরির চাহিদা তৈরি করা।
খসরু বলেন, এই বাজেট প্রচলিত ধারা থেকে একটি বড় পরিবর্তন এবং এটি পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারি ঋণের কারণে অনেক সময় বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। চলতি অর্থবছরে স্থানীয় ব্যাংক থেকে পরিকল্পিত ঋণ গ্রহণের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমানো হয়েছে এবং আগামী বছরগুলোতেও এই ধারা বজায় থাকবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাজেটের বরাদ্দের বিষয়ে তিনি বলেন, নিম্নআয়ের এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তার লক্ষ্যেই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের সহায়তা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার মতো কর্মসূচিগুলোর উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং তাদের আরও ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করা।
অর্থমন্ত্রী সরকারের প্রস্তাবিত ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন, যার লক্ষ্য কারুশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের মূলধারার অর্থনীতিতে একীভূত করা। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পী, তাঁতি, কুমার, সংগীতশিল্পী এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মীদের অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, ডিজাইন সহায়তা এবং বাজারের সুযোগ দেওয়া হবে, যারা এতদিন আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, সৃজনশীল কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক জেলা, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রকল্প এবং ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচিসহ এই সৃজনশীল অর্থনীতি উদ্যোগ চালু করতে সরকার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতাকে অর্থনৈতিক রূপ দেওয়া, যাতে শিল্পী ও কারুশিল্পীরা তাদের জীবিকার উন্নতি করতে পারেন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারেন।
খসরু আরও জানান, সম্পত্তি লেনদেনের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পুরানো মৌজা জমির মূল্যায়ন হার পর্যালোচনা করছে, যা প্রায়ই বাজার মূল্যের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে। মৌজা রেট সংশোধন করে প্রকৃত বাজার মূল্যের কাছাকাছি আনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে এর জন্য দেশব্যাপী জরিপ প্রয়োজন এবং বাজেটের আগে এটি সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল না।
বাস্তবায়নের বিষয়ে আশঙ্কার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্কার কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স এবং একটি অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম গঠন করবে।
তিনি বলেন, কোনো কাজে বিলম্ব বা অনিয়ম হলে কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকবে না। আমরা বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এর আগে, প্রারম্ভিক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এই বাজেটকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট হিসেবে বর্ণনা করেন, যা নতুন সরকার গঠনের পর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই বাজেট সুবিধাভোগী অর্থনৈতিক মডেল থেকে সরে এসে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রীকরণ’ নিশ্চিত করতে চায়।
মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে যা প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়, আর্থিক অব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের সরকারি ব্যয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো চারটি মূল মানদণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে: অর্থের সঠিক মূল্য (ভ্যালু ফর মানি), বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত টেকসই স্থায়িত্ব (এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন)।
আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের বাজেট চিন্তায় ছিল বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষকে নিয়ে আসার। তাদের জীবনযাত্রার মান তাদের ভবিষ্যৎ সবসময় বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। এবারের বাজেটে আমরা চেষ্টা করেছি সবাইকে আনার। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে কোনো শ্রেণি, পেশা, ধর্ম, বর্ণের কেউ এই বাজেটের আওতার বাইরে আছে বলে আমি মনে করি না।’
২৩ দিন আগে
বাজেট ২০২৬-২৭: কোন পণ্যের দাম বাড়বে, কমছে কোনটির
জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এটি বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।
দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের
কারণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কয়েকটি পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বৃদ্ধি করেছে সরকার। এর ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিগারেট, আমদানি করা জ্বালানিচালিত গাড়ি, বিদেশি কাজুবাদাম, মধু, সুপারি, রড এবং বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিগারেটে বাড়ছে করের চাপ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার যুক্তিতে সিগারেটের সব স্তরের ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তেলচালিত গাড়ি কেনা হবে আরও ব্যয়বহুল
পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন (আইসিই) চালিত গাড়ির ওপর করভার বাড়িয়েছে সরকার। বিশেষ করে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন আমদানি করা পেট্রল, অকটেন বা ডিজেলচালিত গাড়ির করভার ১৩২ শতাংশের বেশি থেকে প্রায় ১৫৬ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
এতে মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় গাড়িগুলোর দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাইসাইকেল
দেশীয় সাইকেল শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি নতুন করে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
কাগজের কাঁচামাল
কাগজ শিল্পের সুরক্ষায় গ্রিজ প্রুফ ও গ্লাসিন পেপারের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে আমদানিকৃত কাগজ ও কাগজজাত কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
বৈদ্যুতিক মোটর
১২০০ ওয়াটের নিম্ন ক্ষমতাসম্পন্ন ডিসি মোটর আমদানির ওপর ১০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব থাকায় বৈদ্যুতিক মোটরের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাজুবাদাম
দেশীয় কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পকে উৎসাহ দিতে কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত কাজুবাদামের বাজারদর বৃদ্ধি পেতে পারে।
জিপসাম বোর্ড ও শিট
নির্মাণসামগ্রী খাতেও প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে জিপসাম বোর্ড ও শিট আমদানির ওপর ২০ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়ও ডিটারজেন্ট, রড, কপার তার, কপার টিউব, হিমায়িত মাছ, সুগন্ধি নির্যাসসহ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব পড়তে পারে।
কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম
নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে শুল্ক-কর কমানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একদিকে কিছু পণ্য ও সেবার ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বড় একটি অংশের পণ্যে কর হ্রাস ও অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে অনেক পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
৬০টি নিত্যপণ্য
ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দৈনন্দিন বাজারে চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশুখাদ্য
শিশুখাদ্য উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে দাম কমতে পারে।
মসলা
জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়ার মতো মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
খেজুর
খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে।
সোনার গয়না
সোনার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের ফলে প্রতি ভরিতে করের চাপ কমেছে, এতে দাম কিছুটা কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি
ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়িতে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে এসব গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ল্যাপটপ ও কম্পিউটার
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমতে পারে।
কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা
ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিবার ডায়ালাইসিস খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
ওষুধ
ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি নতুন কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এতে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাদ্যযন্ত্র
গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে।
অন্যান্য
বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম, পিওএস যন্ত্র, লিপস্টিক, ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্যের শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিত্যপণ্যে কর কমানোয় সাধারণ মানুষের ব্যয়চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বাস্তবে বাজারে দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।
২৪ দিন আগে
রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই প্রবাসী কল্যাণসেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।
একইসঙ্গে বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখার কথাও জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশি জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সঙ্গে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
আমির খসরু বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রবাসি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশন ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যে, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে—এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার। এ ছাড়াও বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।
২৪ দিন আগে
ক্যানসারসহ ৬ রোগে আক্রান্তদের এককালীন ১ লাখ টাকা সহায়তার প্রস্তাব
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যানসার, কিডনি ও অন্যান্য দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। নতুন বাজেটে এসব রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণের অংশ হিসেবে শিগ্গিরই ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী কর্মী থাকবেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতের দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যার ফলে দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম, রুবেলা টিকা দিয়েছে।’
এছাড়া মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং নার্সিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ প্রথমবারের মতো জিডিপির ১ শতাংশের ওপরে নেওয়া হয়েছে। মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
২৪ দিন আগে
ব্যাংক হিসাব খুলতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে টিআইএন
বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে এমনিতেই মানুষের হাতে টাকা রাখার প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তি ও যে কোনো ব্যবসায়িক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব ঘোষণা করেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন করে কোনও ব্যক্তি ব্যাংক হিসাব খুলতে চাইলে তাকে টিআইএন সনদ দাখিল করতে হবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে করদাতাদের তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে এবং কর প্রশাসনের আওতা বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এ বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব, নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্ট (১০ টাকার হিসাব), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা গ্রহণের হিসাব এবং পেনশনভোগীদের ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১৭ কোটির বেশি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। নতুন বিধান কার্যকর হলে ভবিষ্যতে ব্যাংক হিসাব খুলতে আগ্রহী ব্যক্তিদের আগে টিআইএন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত এই পদক্ষেপকে কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২৪ দিন আগে
বাজেটে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য স্বস্তির খবর
দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একাধিক ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এর ফলে এসব খাতের উদ্যোক্তাদের পরিচালন ব্যয় কমবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যের খসড়া অনুযায়ী, বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা বিভিন্ন সেবা এবং তাদের ব্যবহৃত অফিস বা অন্যান্য স্থাপনা ভাড়ার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটও মওকুফের প্রস্তাব রাখা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্টার্টআপ খাতের জন্য এসব ভ্যাট সুবিধা আগামী ৩০ জুন ২০৩৫ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি এই কর-সুবিধা দেশের উদীয়মান প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাগুলোর বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, খসড়া বাজেটে কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের প্রদত্ত সেবার ওপর বর্তমানে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে ইউটিউবার, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা, গ্রাফিক ডিজাইনার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, অনলাইন পরামর্শকসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাধীন পেশাজীবীরা সরাসরি এ সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট নির্মাণ এবং স্টার্টআপ উদ্যোগ দেশের তরুণদের জন্য আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরকারও স্মার্ট অর্থনীতি ও ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট অব্যাহতির এই উদ্যোগকে ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২৪ দিন আগে