নারী জেলে
সুন্দরবনে কুমিরের আক্রমণে নারী জেলে নিহত
বাগেরহাটের সুন্দরবনে শেলা নদীতে কুমিরের আক্রমণে সেলিনা বেগম (৫২) নামে এক নারী জেলে নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই নারী জেলার মোংলা উপজেলাধীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের জয়মনি লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে মাছ ধরার সময় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিনা বেগম (৫২) বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনি গ্রামের আব্দুল শেখের স্ত্রী ছিলেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ১ জুন থেকে আগামী ৩১ আগাস্ট পর্যন্ত ৩ মাস সুন্দরবনে জেলে,বাওয়লী, মৌয়াল ও পর্যটকসহ সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু ওই এলাকার তিনজন নারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লোকালয়-সংলগ্ন শেলা নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি কুমির সেলিনা বেগম নামে ওই নারীকে টেনে নদীর মধ্যে নিয়ে যায়। পরে তার সঙ্গীরা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
জয়মনি এলাকার স্থানীয় এক সূত্র জানায়, সুন্দরবন-সংলগ্ন লোকালয়ের অসহায় দরিদ্র বেশকিছু নারী বিভিন্ন সময়ে সুন্দরবনের নদ-নদীতে জাল টেনে মাছ এবং মাছের রেনু আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কুমিরের আক্রমণে নিহত ওই নারী বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে শেলা নদীতে জাল টেনে মাছ আহরণ করছিলেন। এ সময় কুমিরের আক্রমণে তার প্রাণহানি ঘটে। বন-সংলগ্ন লোকালয়ের অসহায় নারী-পুরুষদের কর্মসংস্থান এবং আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
ডিএফও মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালসহ পেশাজীবীরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে বাঘ, কুমিরসহ বন্যপ্রাণীর আক্রমণে নিহত অথবা আহত হলে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ওই নারী নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন অবৈধভাবে সুন্দরবনের নদীতে মাছ আহরণ করতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে নিহত হয়েছেন। এক্ষেত্রে তাকে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
১ দিন আগে