ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত: যুক্তরাষ্ট্র
ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টা থেকে (১৪:০০ জিএমটি) এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চুক্তি লঙ্ঘন হলে বা প্রয়োজন দেখা দিলে যেকোনো মুহূর্তে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানায়, গত রাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হন। অন্যদিকে, এই লড়াইয়ে নিজেদের চার সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর যুদ্ধবিরতির খবর সামনে এল।
তেহরান ও ওয়াশিংটন গত কয়েক মাসের আলোচনায় মধ্যে যে ১৪ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, সে বিষয়ে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে লুসার্ন শহরে তাদের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সঙ্গে জড়িত যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং সমগ্র অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে আনা।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রথম শর্তেই সমগ্র অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া এই চুক্তি লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতে সব পক্ষকে আহ্বান করা হয়েছে।
১৪ দফার এই রূপরেখায় বেশ কিছু বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরান যাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে তার নিশ্চয়তা দেওয়া, ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাবিত পুনর্গঠন কর্মসূচি এবং শেষ পর্যন্ত তেহরানের ওপর থেকে সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।
মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে স্পষ্ট করেছিলেন যে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হলেও, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এই চুক্তির কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের থাকবে।
এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বৃহত্তর এই আঞ্চলিক চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী বাস্তবায়ন এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
১২ ঘণ্টা আগে