বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক
আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, আমরা বাস্তবসম্মত একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, আগামী মাসের (আগস্ট) শেষ সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের যাওয়া শুরু হবে।
কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে, আমাদের দুই দেশই অবিলম্বে এই শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। একটি নতুন ও আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে চাচ্ছি, যেন বাংলাদেশের বিপুল জনশক্তির জন্য মালয়েশিয়ার দুয়ার খুলে যায়।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে সব খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ তৈরির বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও জানান তিনি।
বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক ঐকমত্যের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, যেন আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ নাগাদ ইনশাআল্লাহ্ বাংলাদেশি শ্রমিকদের আগমন (মালয়েশিয়ায়) শুরু হতে পারে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার পদক্ষেপে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম, মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার সহযোগিতায় এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এই প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মী যাওয়া শুরু হলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নয়ন ও কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাচ্ছে এবং আমরা আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে বেশকিছু ভাইবোন এখানে এসে কাজ শুরু করবেন, তাই আপনারা সবাই ধৈর্য ধারণ করবেন এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন।
দালাল ও অসাধু চক্রের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, দেশে ফিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন কেউ কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। একই সঙ্গে এই প্রতারক চক্রের বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
কারিগরি কার্যক্রম ও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, খুব শিগগিরই টেকনিক্যাল পর্যায়ে কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাইকমিশন যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নেবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগুলোকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মালয়েশিয়া সরকার খুব শিগগিরই তাদের কাজের পদ্ধতির বিষয়ে আপডেট জানাবে এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলো জানানো হবে। মালয়েশিয়ার বাংলাদেশের হাইকমিশনকে আরও জনবান্ধব করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন যেন সাধারণ কর্মীদের আস্থার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করেছি, প্রথম ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যেন বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ জনশক্তিকে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকার প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল বর্তমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে মালয়েশিয়া নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এজেন্সির চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান, এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সর্বোচ্চসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তারা মালয়েশিয়া সরকারকে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিতে জড়িতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বিগত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত, বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং আমরা মালয়েশিয়া সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছি যে, যারা ফ্যাসিবাদী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিংবা সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে দুর্নীতি করেছে, তাদের কেউই নতুন তালিকায় স্থান পাবেন না। মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি পুনরায় শুরু করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে এই সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমল তা এক ভিন্ন মাত্রায় উন্নীত হয়। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কীভাবে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।
দুই দেশের সম্পর্ককে একটি কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে যেসব মালয়েশিয়ান প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে, তাদের কাজের পরিধি আরও কীভাবে সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন খাতের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি অ্যাজিয়াটা এবং এমএমসি পোর্টস-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।
জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তা নিরসনে মালয়েশিয়ার সরকারি জ্বালানি জায়ান্ট পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া দক্ষ জনশক্তির বিশাল বাজার হিসেবে মালয়েশিয়ায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হচ্ছে।
এর আগে, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে মাহ্দী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বিশেষ করে বাংলাদেশে বর্তমানে যে গ্যাস সংকট রয়েছে, তার আলোকে পেট্রোনাস কীভাবে দ্রুততম সময়ে এই সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান ও শ্রমবাজার বন্ধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বহুমাত্রিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো আমাদের প্রবাসী শ্রমিক ভাইবোনেরা। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠা যেমন মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, তেমনি তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকেও গতিশীল রেখেছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারটি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহ্দী আমিন জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলের বিভিন্ন অনৈতিক ও অনিয়মের কারণেই মূলত বাজারটি বন্ধ হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিলেও নানামুখী জটিলতার কারণে তা এতদিন বন্ধই ছিল। তবে বর্তমান সরকারের নানামুখী ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অবশেষে তা আবার উন্মুক্ত হলো।
বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আগের সফরের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এর আগেও এখানে এসেছিলাম। এখানকার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান এবং তার মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গসহ সব অংশীদারের সঙ্গে আজ থেকে প্রায় তিন মাস আগে আমরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই তারা আবারও মালয়েশিয়া সফরে এসেছেন বলে জানান তিনি।
গত দুই দিনের বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে মাহ্দী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, সহকারী সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ‘দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই ছিল এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল নীতি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এই আলোচনার মূল ভিত্তিই ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, অর্থাৎ বাংলাদেশের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করা।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আগামীকাল শুক্রবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা।
৩ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর চীন-মালয়েশিয়া সফরের অর্জন নিয়ে যা জানাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরে বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা, তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর আশ্বাস, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা ত্বরান্বিতকরণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয়।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
চীন সফরে নতুন উচ্চতায় সম্পর্ক, তিস্তা ও আঞ্চলিক সংযোগে অগ্রগতি
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে বিশ্বের উদীয়মান শক্তিগুলোর অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অগ্রণী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফোরামের বার্ষিক সভায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপনের প্রস্তাব দেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন ডব্লিউইএফের সিইও।
চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ‘সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ (কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ) থেকে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-চীন সম্প্রদায়’ (চায়না-বাংলাদেশ কমিউনিটি উইথ অ্যা শেয়ার্ড ফিউচার) পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে কৌশলগত সংলাপ চালু এবং কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘২+২ ডায়ালগ মেকানিজম’ চালুর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। পাশাপাশি ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় বড় ও ছোট জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।
৩৫ দিন আগে
২০২৭ সালের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চায় ঢাকা ও কুয়ালালামপুর
বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে একটি ‘পারস্পরিক কল্যাণকর, ব্যাপক ও দূরদর্শী’ চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করার আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।
সোমবার (২২ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দুই দেশের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা শুরুর ব্যাপারে হওয়া অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হলো বাংলাদেশ।
তারা অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার এবং দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল (জেবিসি) প্রতিষ্ঠার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এটি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে কাঠামোগত সংলাপ ও মতবিনিময়ের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে দুই নেতা টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো (যেমন: সড়ক, সেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার), বন্দর ও লজিস্টিকস, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাতে অধিকতর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা বিনিয়োগ সহায়তা, কারিগরি সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে উভয় দেশের সরকারি সংস্থা, বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা, শিল্পখাত ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। এর মাধ্যমে শিল্পখাতের উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে অংশগ্রহণ জোরদার এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
দুই নেতা বৈশ্বিক ইসলামী অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়টি স্বীকার করেন। হালাল ইকোসিস্টেম উন্নয়নে মালয়েশিয়ার দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দিয়ে তারা বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হন।
উভয় পক্ষ হালাল ইকোসিস্টেম বিষয়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত নোট বিনিময়কে স্বাগত জানান এবং মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (জাকিম) ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
এছাড়া হালাল সনদ, নিয়ন্ত্রক কাঠামো উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দুই দেশ।
শ্রম সহযোগিতা
মালয়েশিয়ার বর্তমান বৈদেশিক শ্রমিক নীতির আলোকে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া উভয় দেশই স্বীকার করেছে যে নতুন বিদেশি কর্মীদের কোটার অনুমোদন বর্তমানে নিয়োগকর্তার যাচাইকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ সীমার ওপর ভিত্তি করে কঠোরভাবে কেস-বাই-কেস (প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে) মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদিত এ ধরনের যেকোনো কোটার ক্ষেত্রে উভয় দেশই কেবল নির্ভরযোগ্য ও যোগ্য নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, বৈষম্যহীন এবং প্রতিযোগিতামূলক নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের "অব্যাহত, নিরাপদ এবং পারস্পরিক কল্যাণকর" অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশই জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজে) বৈঠক আহ্বান করতে সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মূল্যায়ন এবং উভয় দেশের বর্তমান প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ও হালনাগাদ সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের ভিত্তি স্থাপনের ওপর আলোকপাত করা হবে।
কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দুই প্রধানমন্ত্রী জনগণের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানকে স্বাগত জানান।
তারা উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারস্পরিক বিনিময় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
শিক্ষা ও পর্যটন সহযোগিতা
মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, শিক্ষাগত বিনিময় ও আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের ইতিবাচক অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে ফিরে আসার পর তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতার মূল্য বিবেচনায় নিয়ে দুই নেতা শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছেন।
এ সহযোগিতার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়-থেকে-বিশ্ববিদ্যালয় (ইউনিভার্সিটি-টু-ইউনিভার্সিটি) অংশীদারত্ব, যৌথ গবেষণা কর্মসূচি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের (টিভিইটি) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে।
দুই নেতা শ্রমবাজারের চাহিদা এবং উভয় দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর সঙ্গে শিক্ষাক্রমের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে স্নাতকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
মালয়েশিয়ার ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ (ভিএম২০২৬) এবং ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ (এমওয়াইএমটি২০২৬) প্রচারণাকে সামনে রেখে পর্যটন সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে তারা উভয়েই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি পর্যটকদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানায় এবং দুই দেশের মধ্যে পর্যটন বিষয়ে প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির বিষয়ে তারা একমত হন।
৪১ দিন আগে
বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো নতুন ও উদীয়মান খাতে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত অংশীদারত্বের দিকে এগোতে চাই। এটি শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং গবেষণা, নতুন বিজ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতেও বিস্তৃত হবে। কারণ এগুলোই ভবিষ্যতে আমাদের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।’
বাংলাদেশের বিশাল বাজার ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা মালয়েশিয়ার সঙ্গে আরও গভীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংস্কৃতি, সন্ত্রাস দমন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করবে দুই দেশ।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বিশাল সম্ভাবনাময় বড় দেশ। আমাদের যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা উচিত এবং কৃষির বাইরে জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন শিল্প (অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিং) ও সেমিকন্ডাক্টরসহ নতুন খাতগুলোতে সহযোগিতা প্রসারিত করা প্রয়োজন।’
শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি কর্মীদের তার দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একটি আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উভয় সরকার একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে, যা কর্মী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করবে।
তিনি জানান, পেট্রোলিয়াম খাত, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার এবং আসিয়ানের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে একটি টেকসই সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালানো হবে।
বৈশ্বিক ইস্যুগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান অভিন্ন এবং সংঘাতকবলিত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে উভয় দেশ সমর্থন করে।
শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য পারস্পরিক কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম তার আমন্ত্রণ গ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সরকারি বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
৪১ দিন আগে
মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খোলার আহ্বান, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর
মালয়েশিয়াকে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার পাশাপাশি আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য উপকারী। আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি।’
সোমবার (২২ জুন) পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান অনিয়মিত (অবৈধ) কর্মীদের বৈধকরণ এবং সম্ভব হলে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী হয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় হ্রাস পায়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সহযোগিতার একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব দলিল বিনিময় করেন।
পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অর্জন তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথম যাদের কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন, তাদের একজন ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। তার আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমি ও আমার স্ত্রী এখানে এসে আনন্দিত।’
৪১ দিন আগে