শোক সংবাদ
অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অষ্টাদশ ব্যাচের কর্মকর্তা ফেরদৌসি শাহরিয়ার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনে ব্যাংকক, রোম, ম্যানচেস্টার ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, তিন সন্তান এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ফেরদৌসি শাহরিয়ারের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
৫ দিন আগে
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন
লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ সালেকীন) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ‘যতদূর জেনেছি, মিরপুরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।’
অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুহাম্মদ আবদুল হাকিম এবং মা জাহানারা খাতুন।
তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করেন। পেশাজীবনের পুরোটা সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা শেষে ২০১১ সালে অবসর নেন। তিনি বাংলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই কবিতা, ছোটগল্প ও প্রবন্ধ রচনার মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। তার লেখায় সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি ও জীবনদর্শনের অনুসন্ধান বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।
একুশটিরও বেশি গ্রন্থের রচয়িতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক নজরুল রচনাবলীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়।
তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’-এর মতো একাধিক গ্রন্থ। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
২৯ দিন আগে