তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে: আইনমন্ত্রী
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক প্রতিক্রিয়ায় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিল বিভাগে বহাল রাখা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। তবে নির্বাচনকালীন এ সরকার কোন প্রক্রিয়ায়, কাদের নিয়ে গঠিত হবে, তা রায় দেখলে বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এরপর যে জাতীয় নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে? এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইনশাল্লাহ, ইনশাল্লাহ। এটি আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আপনারা জানেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল। কীভাবে? ১৯৯০ ও ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন হলো, সেটা বিএনপির বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের ফসল ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই কনসেপ্ট (ধারণা) থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রক্রিয়ায় গেছি। ১৯৯৬ সালে সংসদে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিল আনা হয়েছিল। এটি এনে বিএনপি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল।’
তিনি বলেন, বিএনপি এটির জন্য বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে সংগ্রাম করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়ে আমরা নিরন্তর সংগ্রামের পথে হেঁটেছিলাম। সেই পথে হাঁটার মুখ্য লক্ষ্য ছিল ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। এবং সেই প্রক্রিয়ায় ফেরার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। আমরা সেই জায়গায় রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল। যে সংশোধনীগুলো বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল, যে সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া আনা হয়েছিল, যেগুলো নিয়ে আমরা বলেছিলাম—এটা আল্ট্রা ভাইরাসের মতো কনস্টিটিউশন।’
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষিত সংবিধানের সংশোধনীগুলো বহাল রয়েছে এবং যেসব বিষয়ে সংসদের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। এক্ষেত্রে জুলাই সনদকে মুখ্য বিবেচনায় রেখে জনপরামর্শের ভিত্তিতে সংসদে সংশোধনী বিল আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সেগুলো আমরা পার্লামেন্টের সামনে উপস্থাপন করব। সেখানে আমাদের এই সংশোধনীগুলো আনতে মুখ্য বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই চার্টার। জুলাই সনদকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে, যুগোপযোগী, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য কীভাবে সংশোধনী আনা যায়, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে ও জণগণের মতামতের ভিত্তিতেই সংসদে বিল আনব।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, রায় হাতে পাওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তবে এ প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনি ও জাতীয় অঙ্গীকার। সে অনুযায়ী আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, রায়ে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট নয়, মোট ৫৪টি বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। সরকার সবগুলো বিষয়ই পর্যালোচনা করবে এবং জুলাই সনদকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, সংসদ যে আইন প্রণয়ন করতে পারে, একইভাবে সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে সেই আইন বাতিল করারও ক্ষমতা রাখে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রায়, জুলাই সনদ ও জনআকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুসারে যখন আমরা সংশোধনীগুলো আনব, হাইকোর্টের রায় আমার সামনে থাকবে। যে যে জায়গায় সংস্কার, সংযোজন, সংশোধন, পরিবর্তন বা পরিমার্জন দরকার, সব জায়গায় আমরা রায় ও জুলাই সনদকে সামনে রেখে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করে জণগণের মতামতের ভিত্তিতেই দিয়ে আইন পাস করার চেষ্টা করব।
আইনমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কিত যেকোনো পরিবর্তনের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার কোনোভাবেই সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করবে না।
তিনি জানান, যেসব আইন ব্যাপকভাবে জনগণকে প্রভাবিত করবে, সেগুলো প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। এজন্য খসড়া আইন প্রকাশ করে নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, ভুক্তভোগী, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক জনপরামর্শ করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শেষ করে মানবাধিকার কমিশন আইন আগামী সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
হাইকোর্টের রায় বহাল, সংবিধানে ফিরল গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশকিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
নির্ধারিত দিনে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
শুনানির পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, চার সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেছেন। সেই রায়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বদরুদ্দুজা মজুমদার সাহেবসহ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যে আপিল করা হয়েছিল, সেগুলো ডিসমিস করে দিয়েছেন। অর্থাৎ হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকল।
তিনি বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, হাইকোর্ট বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের যে প্রক্রিয়া করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে যখন এই সংশোধনীটা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়, হাইকোর্ট ডিভিশন চারটি বিষয়ের ওপর তার অবজারভেশন দিয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ফিরে আসা।
গণভোট ফিরে আসা এবং সংবিধানের ৭-এর ক, খ এবং সুপ্রিম কোর্টের রিটের যে ক্ষমতা, সেই সম্পর্কে তো আল্টিমেটলি এই রায়ের ফলে হাইকোর্টের যে রায় সেই রায়টি বহাল থাকল। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসলো আর বাকিগুলো এখন সংসদে পরে যেটা হাইকোর্ট ছেড়ে দিয়েছিল সেটা আল্টিমেটলি সংসদে সিদ্ধান্ত হবে।
এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।
তার আগে, গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে।
রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি ওই রায়ে।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ ক, ৭ খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
রায়ে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।
গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।
হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যেকোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।
গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
৮ ঘণ্টা আগে