জেলা তথ্য কর্মকর্তা
ডিজিটাল যোগাযোগ জোরদারে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পরিবর্তিত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের প্রচলিত কার্যক্রমকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, বিশেষ করে দুর্যোগকালীন তথ্য দ্রুত, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলার মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহকে পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য রাখা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য মানুষের জীবনে অক্সিজেনের মতো অপরিহার্য। জনগণ যাতে সহজে, দ্রুত ও সঠিক তথ্য পায়, তা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার রোধ করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। তাই তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তথ্যপ্রবাহ গতিশীল, উন্মুক্ত ও নির্ভুল রাখতে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, তথ্য সংগ্রহ, প্রতিবেদন প্রেরণ এবং জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া সময়ের দাবি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের প্রধান কাজ ছিল প্রজেক্টর ও প্রচারযান নিয়ে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। সেই কার্যক্রমের গুরুত্ব এখনও থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় এর পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ আধুনিক যোগাযোগমাধ্যম আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সময়মতো জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারলে সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে এবং এতে বিভ্রান্তির সুযোগ সৃষ্টি হয় বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও প্রধান তথ্য অফিসকে (পিআইডি) যৌথভাবে প্রতিদিন তথ্য সংগ্রহ, সমন্বয় ও প্রচারের নির্দেশনা দেন।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলেও এর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দুর্যোগ-সংক্রান্ত তথ্যের নিয়মিত হালনাগাদ নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন ড্যাশবোর্ড বা ডিজিটাল পোর্টাল চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে সংশ্লিষ্ট সবাই যেকোনো সময় সর্বশেষ তথ্য জানতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুর্যোগ-সংক্রান্ত তথ্য আরও নির্দিষ্ট, বিশ্লেষণভিত্তিক ও প্রমাণসমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃতি, স্থানভিত্তিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানান।
সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা তথ্য অফিস থেকে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ত্রাণ বিতরণসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিলসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জেলার তথ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।
১৫ দিন আগে