ডা. জুবাইদা রহমান
শিশু-কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠুক: ডা. জুবাইদা রহমান
শিশু-কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে তাদের মাঝে মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় বদ্ধমূলভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শিশু-কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠুক। শিশু-কিশোরদের মাঝে মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় বদ্ধমূলভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি শহরে তার প্রতিফলন ঘটবে। সহনশীলতা, সহমর্মিতা, অন্যকে সম্মান দেওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পাবে। ধৈর্যশীল মানুষ হিসেবে সমাজে বর্তমান শিশু-কিশোররা প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই বইমেলায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ুক এই পাঠাগার।
জেডআরএফের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জীবনী নিয়ে লেখা বইগুলো তাদের জীবনের সংগ্রাম, ত্যাগ, তিতিক্ষা, ধৈর্য, সাহসিকতা, দেশপ্রেমের কথা বলে। তাদের আদর্শ, দিক-নির্দেশনা আমাদের চলার পথের পাথেয়। আমি অনুষ্ঠানের আয়োজকবৃন্দকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। এই বইমেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করছি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এই বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
এরপর তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখা তার কবিতা ‘তুমি নির্ভীক’-এর কিছু অংশ আবৃত্তি করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক জাতীয় অধ্যাপক প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম, কলামিস্ট, ছড়াকার ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, আবৃতি ও বাচিক শিল্পী মুন্সি মো. রেজাউল হোসেইন টিটো।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬-এর উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আমান উল্লাহ আমান।
৩ দিন আগে
গ্রামের কোনো মানুষ যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায়: জুবাইদা রহমান
দেশের কোনো গ্রামের বাসিন্দা যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায় এবং কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা বা নবজাতক যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে জীবন না হারায়, এমন মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আগামীর বাংলাদেশে কোনো রোগাক্রান্ত গ্রামবাসী যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ না হারায়। কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা না যান। কোনো নবজাতক যেন তার মায়ের কোল খালি করে না চলে যায়।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যা বিশ্বের বুকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। কারণ, সবার স্বাস্থ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মাননা পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, কঠোর শিক্ষাক্রমের মধ্যেও যারা সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রেখেছেন, তারা প্রশংসার দাবিদার। ‘সংস্কৃতি মানবসভ্যতার ভিত্তি। আপনারা যদি নিজেদের সুপ্ত প্রতিভাকে লালন করতে পারেন, তাহলে তা আপনাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।’
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যতম মেধাবী। তবে একজন ভালো চিকিৎসক হওয়ার জন্য শুধু মেধাই নয়, মানবিক মনও প্রয়োজন।
‘অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করার মধ্যেই একজন চিকিৎসকের আত্মতৃপ্তি, জীবনের সার্থকতা ও সফলতা নিহিত। আমি আশা করি, আপনারা জ্ঞান ও সেবার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করবেন। অনেকেই হয়তো উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য উন্নত বিশ্বে যাবেন, কিন্তু সেই জ্ঞান নিয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন,’ বলেন তিনি।
দেশের স্বাস্থ্যখাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৮৩, অর্থাৎ একজন চিকিৎসককে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এ অনুপাত আরও বৈষম্যমূলক।
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা শিক্ষাজীবন থেকেই দেশসেবার অঙ্গীকারে দৃঢ় থাকি, তাহলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, দেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত থাকলেও প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে নার্সের সংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৫৪৯, যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড ১ দশমিক ৪৮। চিকিৎসকের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় প্রতি ৬ হাজার ৫০০ মানুষের জন্য মাত্র একজন সরকারি চিকিৎসক রয়েছেন। ফলে চিকিৎসা ব্যয় এখনও অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের দিকেই তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনারাই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। দেশবাসীকে সেবার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসক সংকটেরও সমাধান সম্ভব।’
৪৫ দিন আগে