রংপুর পাউবো
তিস্তা ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার দাবিতে রংপুর পাউবো ঘেরাও
রংপুরে চলতি বন্যা মৌসুমে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে জমি, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যকর উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ তুলে জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে রংপুর পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করেছেন তিস্তা পাড়ের শতাধিক বাসিন্দা।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর আলমনগরে পাউবো কার্যালয়ের সামনে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে কার্যালয় ঘেরাও করে দ্রুত ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীতে কয়েক দফা ভাঙনে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। কিন্তু বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী বা জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর চর বাগডোগরা, মিনা বাজার বিনবিনা কোলকন্দ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে চর মিনাবাজারের আব্দুল গোফ্ফার হোসেন বলেন, আমার বাড়িঘর রক্ষা করার জন্য টাকা তুলে একটা বাঁধ বানিয়েছিলাম, কিন্তু এবারের বন্যায় সেই বাঁধটাও ভেঙে গেছে। সেই সঙ্গে কয়েকটা বাড়িও ভেঙে গেছে। এখন আমার বাড়িও ভেঙে যাবে। পানি উন্নয়নের কর্মকর্তারা আমার কোনো খোঁজখবর নেয় না। সেইজন্য আমরাই তাদের খোঁজ নিতে এসেছি।
বাগডোহরা চরের বাসিন্দা গোলজার আহম্মেদ বলেন, এবারের বন্যায় ভেঙে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বাড়ি ভেঙে গেলে আমরা কোথায় থাকব সে চিন্তায় করছি। কিন্তু পাউবো কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা চাই চরগুলোর যেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন বন্ধ করা হোক।
চর বিনবিনার মমিনুর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে টাকা তুলে একটি বাঁধ দিয়েছিলাম। সেই বাঁধ এ বছর বন্যায় ভেঙে গেছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা আমাদের কয়েকটা বস্তা দেয় শুধু। এলাকায় টাকা তুলে সেই বস্তা ভরে আমরা ভাঙন রোধের চেষ্টা করি। কিন্তু এত অল্প বস্তা দিয়ে এত বড় ভাঙন রোধ করা যায় না। আমরা চাই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ করে বাঁধগুলো সংস্কার করে দিক।
গঙ্গাচড়া উপজেলার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের পকেট ভরা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এদিকে তিস্তার ভাঙনে প্রতিদিন মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।’
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বাঁ তীরে এবং ডান তীরে কোথাও গুরুতর ভাঙন দেখা দেয়নি। আর যেখানে কিছুটা ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে তা রোধ করা হচ্ছে। বাঁ তীরের ভাঙনের যে অভিযোগ নিয়ে এসেছে, সেটি মূলত নদীর ভেতরের অংশ; সেখানে কিছু মানুষ বসবাস করে।
৩ দিন আগে