ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক
ছয় বছরে হয়েছে ২ শতাংশ কাজ, অনিশ্চয়তায় ঝিনাইদহ-যশোর ৬ লেন প্রকল্প
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উইকেয়ার ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উল্টো মহাসড়কজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি ও খানাখন্দের কারণে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। প্রথম লটে অগ্রগতি প্রায় ১০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় লটে মাত্র ২ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিসেম্বর ২০২৬-এর পর বিশ্বব্যাংক আর অর্থায়ন করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রশাসনিক সহায়তা ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিয়ে।
প্রকল্পের ধীরগতির জন্য শুরুতে জমি অধিগ্রহণকে দায়ী করা হলেও বর্তমানে মূল অভিযোগের তীর লট-২ ও ৩-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড এবং লট-১-এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স (এলআর বিসি-মিল জেভি, চীন)-এর স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় জমি পাওয়ার পরও তারা কাজ এগিয়ে নিতে চরম গড়িমসি করছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণে সরকারের ছয়টি বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় জরিপ ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিলম্ব হয়েছিল। এতে শুরুতে অধিগ্রহণের গতি কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে জেলা প্রশাসন দ্রুতগতিতে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বরং দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি যাতে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সহায়ক হয়, সেভাবেই আমরা অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’
২ ঘণ্টা আগে