স্বত্ত্ব বিক্রি
চাপের মুখে বিশ্বকাপের স্বত্ত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাদ দিলেন ফিফা সভাপতি
ফুটবল বিশ্বে তীব্র সমালোচনা, ইউরোপীয় ফুটবলের বয়কট হুমকি এবং নিজ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের মুখে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের স্বত্ব বা শেয়ার বেসরকারি খাতে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
শনিবার (১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে, এই প্রকল্পটি এমন বিভাজনের সৃষ্টি করেছে, যা সমর্থনের মাত্রা যাই হোক না কেন, এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো। তাই এই প্রস্তাব আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।’
বিশ্বকাপ পরিচালনায় দুই হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। এতে কুশনার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদার করার পরিকল্পনা ছিল। তবে গত মঙ্গলবার পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর গত বৃহস্পতিবার উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (এএফসি) এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।
উয়েফা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কিছু বিষয় বিক্রির জন্য নয়। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্পদ। এটি সবসময়ই ফুটবলেরই থাকবে। ইউরোপের কণ্ঠস্বর যতদিন থাকবে, ততদিন এটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হবে না।’
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার ফিফার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।
পদত্যাগের পর কর্দেইরো বলেন, ‘বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন অবস্থায় আমি নীরব থাকতে পারি না।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগে অবশ্য ফিফা দাবি করেছিল, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না।’
পরে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইনফান্তিনো গত কয়েক মাস ধরে পরিকল্পনাটি নিয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখাননি এবং এতে ফিফার কর্মকর্তারা বিভ্রান্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটি কেবল একজন ব্যক্তির প্রকল্প। শুধু এই প্রকল্পই বন্ধ হওয়া উচিত নয়, ফুটবলের রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও এখন নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।’
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রম একটি ২০ বিলিয়ন বা ২ হাজার কোটি ডলারের সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হতো। এর ২০ শতাংশ মালিকানা থাকত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে।
ফিফার তথ্যমতে, এই প্রকল্পের প্রধান বিনিয়োগকারী হওয়ার কথা ছিল নিউইয়র্কভিত্তিক একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, যা প্রতিষ্ঠা করেছেন জশুয়া কুশনার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ ফিফার পরবর্তী টুর্নামেন্ট। উয়েফার সদস্যদেশগুলো এই আসরও বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যর্থ উদ্যোগ ইনফান্তিনোর জন্য রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হতে পারে। বিশেষ করে ফিফার শীর্ষ দুই কর্মকর্তা কার্লোস কর্দেইরো ও কেভিন লামুরের প্রকাশ্য বিরোধিতা তার অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।
২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত ইনফান্তিনো ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আরও একবার চার বছরের জন্য সভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর এবং ভোট হবে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।
দীর্ঘদিন ধরেই তার নেতৃত্বের ধরন এবং অজনপ্রিয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও এবার বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বিক্রির ব্যর্থ পরিকল্পনা তার ভবিষ্যৎ অবস্থানকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
১৭ ঘণ্টা আগে