রংপুর শিশু হাসপাতাল
সাত বছর পর চালু হচ্ছে রংপুর শিশু হাসপাতাল
নির্মাণের সাত বছর পর অবশেষে চালু হচ্ছে রংপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল।
হাসপাতালের আউটডোর, ইনডোর ভবন, প্রধান ফটক ও অক্সিজেন প্ল্যান্ট পরিদর্শন শেষে শনিবার (১ আগস্ট) এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ।
আরিফ আহমদ বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রংপুরসহ সারা দেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় এবং জনবল নিয়োগের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অচিরেই রংপুরসহ সারাদেশে নির্মিত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। এ লক্ষ্যে যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ২০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেটির টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ মাসের মধ্যে সব হাসপাতালে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পদ সৃজনের বিষয়টি অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এটির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের আসবাবপত্রের জন্য এরই মধ্যে টেন্ডার হয়েছে। এখন নমুনা যাচাই-বাছাই চলছে। আশা করছি এ মাসের মধ্যে অগ্রগতি দেখা যাবে। প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এর আগেই হাসপাতালের সকল কাজ শেষ হবে।’
এরপর অতিরিক্ত সচিব আরিফ আহমদ রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপপরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী, সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানাসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সাত বছর আগে রংপুরের সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অণিক ট্রেডিং কর্পোরেশন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ করা হয়।
২০২০ সালের ৮ মার্চ নবনির্মিত হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ওই বছর করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ভবনটিকে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৭ বর্গফুট। এছাড়া চারতলা ভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়েছে। সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন দেড় হাজার বর্গফুট। ভবনটির ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় রয়েছে গাড়ি পার্কিং ও দ্বিতীয় তলা থেকে রয়েছে ডবল ইউনিট। এ ছাড়াও রয়েছে ছয়তলা বিশিষ্ট স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। সেখানে রয়েছে দুইতলা বিশিষ্ট গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়ার্টার। ভবনটিতে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও একটি পৃথক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
শিশু হাসপাতালের মূল ভবনের প্রথম তলায় জরুরি বিভাগ, আউটডোর, চিকিৎসকদের চেম্বার ও ল্যাবরেটরি রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার ও বার্ন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন স্থাপন করা হয়েছে।
হাসপাতালটি চালু হলে শিশুদের জটিল সার্জারিসহ সাধারণ সব ধরনের রোগের চিকিৎসা স্বল্প খরচে পাওয়া যাবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ভোগান্তিও অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন রংপুরবাসী।
১ দিন আগে