বাশার আল-আসাদ
লেবাননে বাশার আল-আসাদের আত্মীয় আটক
লেবাননের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্ত্র ও মাদক বহনের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের এক আত্মীয় ও কুখ্যাত এক মাদক কারবারির ছেলেকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) লেবাননের সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
আদালতের দুই কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর বালবেকের কাছে সুলেইমান আসাদ ও আলি জেইতারকে আটক করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই বিচারিক কর্মকর্তা আরও জানান, সুলেইমান আসাদ সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই হিলাল আসাদের ছেলে। অন্যদিকে আলি জেইতার গত বছর গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কারবারি নোয়াহ জেইতারের ছেলে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীরা ক্ষমতা দখল করার পর আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর সিরিয়ার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও আসাদের আত্মীয় লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান। বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছেন।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তিনজনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে একজন সিরীয় নাগরিকও রয়েছেন, যার লেবাননে বৈধভাবে অবস্থানের নথি ছিল না।
সেনাবাহিনী আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছে অস্ত্রের পাশাপাশি হাশিশও পাওয়া গেছে। উত্তর-পূর্ব লেবাননে ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া গাঁজা থেকে এই মাদক তৈরি করা হয়।
সেনাবাহিনী তাদের নাম প্রকাশ না করলেও তাদের নামের প্রথম ও পারিবারিক নামের আদ্যক্ষর সুলেইমান আসাদ ও আলি জেইতারের সঙ্গে মিলে যায়। বিচারিক কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, সুলেইমান আসাদকে গ্রেপ্তারের কয়েক সপ্তাহ আগে লেবানন সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে অবসরপ্রাপ্ত এক মেজর জেনারেলকে হস্তান্তর করেছিল, যিনি বাশার আল-আসাদের সেনাবাহিনীর একটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
২৩ দিন আগে
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটিতে ১৪ বছর ধরে চলা সংঘাতে এসব অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সংঘাতে দেশটিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের ২০ মাস পর আজকের এ রায়ই বাশার আল-আসাদ বা তার ঘনিষ্ঠ মহলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা। আদালতের এই বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
রায়ে বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, ‘বাশার আল-আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেছেন।’
একই মামলায় আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের তদারকির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই দমন-পীড়নই পরবর্তী সময়ে দেশটিতে বিদ্রোহ এবং গৃহযুদ্ধের সূচনা করেছিল।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজিবকে কারাবন্দিদের পোশাক পরে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বিচারক তার সাজা পড়ে শোনান। রায় শুনতে দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে আদালত ভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
৫৫ দিন আগে