নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
নিরাপদ খাদ্য আইনে এক সপ্তাহে ৭ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
জনস্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বাজার ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানে মনিটরিং কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক টেলিভিশন ও বেতার প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকা, বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে (৯ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত) নিরাপদ খাদ্য আইনে ঢাকা মেট্রোপলিটনে মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানের মাধ্যমে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা ও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটনের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায়ও ভ্রাম্যমাণ আদালত র্কাযক্রম চলমান রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, ঢাকা ও মানিকগঞ্জে মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযানে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৪টি মামলা করা হয়।
অর্থাৎ, ঢাকা মেট্রোপলিটন এবং বিভিন্ন জেলা মিলে মোট ৭টি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ খাদ্য আইনে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ৭টি মামলা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ কোর্টের পাশাপাশি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও চলমান। বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের জন্য ১৩০টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় গত ১৪ আগস্ট ‘খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধের লক্ষ্যে স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা’ সংক্রান্ত একটি সেমিনার জয়পুরহাটে আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব আব্দুল বারী। এ সময় তিনি কর্তৃপক্ষের ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি ভ্যানের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
এ সময়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রান্সফ্যাট-বিষয়ক বার্তা বাংলাদেশ টেলিভিশন ১৪ মিনিট এবং নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক ভিন্ন ভিন্ন তিনটি বার্তা বাংলাদেশ বেতারে ৩৫ মিনিট প্রচার করা হয়েছে।
এসব প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বার্তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপদতা ব্যবস্থার উন্নয়ন, ঝুঁকি নিরূপণ এবং নীতিনির্ধারণে সহায়ক তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, গবেষণা, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষের এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানান মো. শফিকুল ইসলাম।
২ ঘণ্টা আগে