লং মার্চ
আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে: শফিকুর রহমান
আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়েছে। তবে দাবি না মানা হলে যেকোনো সময় তা এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশে লং মার্চ শুরু হয়। লং মার্চটি গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে পথসভা করে। সেখানে জামায়াত আমির এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’। এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর একই দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ‘লং মার্চ’ পালন করেছিল তারা।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমাদের দ্বিতীয় দফায় লং মার্চ; এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লং মার্চ সফল হয়েছে। এটা দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। সেটার লক্ষণ আমরা রাজধানীতে দেখতে পাচ্ছি। হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না।’
তিনি বলেন, আমাদের লং মার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে; নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে, মানুষের দুঃখ দূর করার দাবিতে। রাস্তাঘাট, হাটবজার সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে, দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে আমাদের এই লং মার্চ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের এই লং মার্চ আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের দাবিতে।’
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। কোন দলীয় দাবি নিয়ে নামি নাই। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।
‘আপনারা গণভোটে “হ্যাঁ” বলেছিলেন। সরকার আপনাদের অপমানিত করেছে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন ইনশাআল্লাহ এই বাংলার মাটিতে হবে। এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিএনপি পানি খাবে কিন্তু ঘোলা করে খাবে। আজকে ৮ দফা দাবিতে নেমেছি। জনগণের প্রয়োজনে ৮ দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। আপনারা পাশে থাকলে ইনশাল্লাহ দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।’
২ ঘণ্টা আগে
৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ সফল করার আহ্বান জামায়াতের
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গত ৬ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণায় দেশব্যাপী ৪টি লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম, রংপুর ও খুলনার লং মার্চ সড়কপথে এবং সিলেটের লং মার্চ রেলপথে অনুষ্ঠিত হবে। লং মার্চ কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে লং মার্চগুলো শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীর প্রতি লং মার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মো. রেজাউল করিম।
এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের প্রতিনিধি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আতিক এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাও উপস্থিত ছিলেন।
৩২ দিন আগে