এডুকেয়ার স্কুল
অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষের মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিল এডুকেয়ার স্কুল
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের সাত বছর বয়সী মেয়ে মহিমা দত্ত বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে একা হয়ে পড়েছে। সে কুষ্টিয়ার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেজি শ্রেণির ছাত্রী। তার ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
গেল মঙ্গলবার মধ্যরাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দমবন্ধ হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের সাতজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪) রয়েছেন।
এই দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে মহিমা এখন একা হয়ে পড়েছেন। ভারতে যাওয়ার আগে দেবাশীষ তার মেয়ে মহিমাকে কুষ্টিয়ায় ঠাকুরমা ও ঠাকুরদাদার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। এখন বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সেই ঠাকুরমা-ঠাকুরদাদাই তার একমাত্র আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
তার এই কঠিন সময়ে মহিমার এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে স্কুলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেলসহ শিক্ষকরা তার বাড়িতে যান। তারা মহিমার ঠাকুরমা-ঠাকুরদাদার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পড়াশোনার জন্য বই, খাতা, কলমসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ‘মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, বই-খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বহন করবে। শুরু থেকেই যেন বাবা-মায়ের অভাবে সে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। সকালে আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি।’
মহিমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার ঠাকুরমা-ঠাকুরদাদাসহ পরিবারের সদস্য এবং দেবাশীষের সহকর্মীরা। তারা এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
এর আগে, বুধবার রাতে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা নিহত দেবাশীষের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তারা। মঙ্গলবার আত্মীয়স্বজনদের জন্য কেনাকাটা শেষে পরদিন বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যেই কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
একই দূর্ঘটনায় নিহত অন্য বাংলাদেশিরা হলেন: ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির আহমেদ বাবু (৪০) এবং সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার।
এছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহত অপর একজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা মরদেহগুলো কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
৩ দিন আগে