ক্রিস্টোফার লাক্সন
১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিকমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে একটি প্রজন্মের ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট) লাক্সন সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে প্রস্তাবিত আইনটি এখনও পাস করার মতো পর্যাপ্ত সমর্থন পায়নি। লাক্সনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের তিন দলের মধ্যে দুটি দল প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে আইনটি পাস করতে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে, বিরোধী দল এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি।
এছাড়া আগামী নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ১ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হবে। এই সময়সীমার আগে প্রস্তাবটি নিয়ে ভোট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময়ও তাদরে হাতে নেই বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লাক্সন। কারণ কোনো বিল আইনে পরিণত হতে সাধারণত কয়েক মাস ধরে তিন দফা ভোটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
অন্যান্য দেশের দিকে হাঁটতে চায় নিউজিল্যান্ডও
এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার। নিউজিল্যান্ডও এবার সেই পথে হাঁটতে চায়। আসন্ন নির্বাচনে পুননির্বাচিত হলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাই জানিয়েছেন লাক্সন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউজিল্যান্ডের এক-তৃতীয়াংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে।
লাক্সন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু-কিশোররা ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে সময় কাটাচ্ছে। এটি শিশুদের মধ্যে এমনভাবে আসক্তি তৈরি করছে যা মোকাবিলা করার ক্ষমতা তাদের তৈরি হয়নি। এটি তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও শিক্ষায় প্রভাব ফেলছে।’
সোমবার নিউজিল্যান্ডের সরকার জানায়, প্রস্তাবিত আইনে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি কি না, তা যাচাইয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পদক্ষেপের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য, মুখ দেখে বয়স অনুমান, ডিজিটাল পরিচয়পত্রের সেবা ও সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
তবে প্রস্তাবিত আইনি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের মতো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, রোবলক্সের মতো অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহৃত এআই অ্যাপ, যেমন: চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও কোপাইলট ইত্যাদি থাকবে না।
অপরদিকে, প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মা বা শিশুদের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের আয়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
লাক্সন বলেন, যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম শিশু-কিশোররা নিয়মিত ব্যবহার করে, সেসব প্ল্যাটফর্মকে তাদের নেটওয়ার্ক শিশুদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, তা মূল্যায়ন ও প্রতিবেদন করতে হবে।
২ দিন আগে