মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে তেহরান উদ্বিগ্ন নয়: ইরানি রাষ্ট্রদূত
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না তেহরান। একই সঙ্গে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে ঢাকার সিদ্ধান্ত নিয়েও দেশটি উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মক্কা শান্তি চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ মনে করি না। বাংলাদেশের সিদ্ধান্তও নিয়েও আমাদের উদ্বেগ নেই।’
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান সম্পর্কে তেহরান অবগত আছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ভালোভাবেই জানি যে, আপনাদের সরকার অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।’ ফলে আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে না বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্ব দেয় এবং রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আমরা আগ্রহী।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের বাইরের মানুষের স্বার্থেও আঞ্চলিক উত্তেজনার দ্রুত অবসান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে একে অপরের ওপর নির্ভরতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তার কথায়, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো যে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, শান্তি চুক্তি এর ভালো প্রমাণ। এটি প্রমাণ করে যে তারা আর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে চায় না।’
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
তিনি বলেন, তাই দেশগুলোর উচিত বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নেওয়া। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো বৃহত্তর কৌশলগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে ইরান প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে না।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর অন্যদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি না করে নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা করতে সক্ষম হওয়া উচিত।
এর আগে, গেল রবিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো ঝুঁকি দেখছে না; বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে উদ্যোগটিকে একটি ‘অনন্য’ ও নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর সেদিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এগুলো নতুন সুযোগ।’ বর্তমান বিশ্বের অস্থির ও সংকটময় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশকে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বিত ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ে।’
তবে, মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে ঢাকা। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি।
গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২২ দিন আগে
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানে তড়িঘড়ি নয়, দেশের স্বার্থে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তের আহ্বান
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে তড়িঘড়ি না করে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন।
‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান: কৌশলগত নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশ’ শীর্ষক এ বৈঠকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাব্য সুবিধা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়।
ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও বৈঠক সঞ্চালনা করেন।
তিনি বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এতদিন রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও কূটনৈতিক বৃত্তে সীমাবদ্ধ ছিল। জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নাগরিক সমাজের মতামতও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হওয়া উচিত।
প্রবন্ধে বলা হয়, গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত চুক্তির কেন্দ্রীয় ধারা অনুযায়ী, কোনো এক সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে চুক্তির কমান্ড কাঠামো, সৈন্য বা সামরিক সহায়তার পরিমাণ, পারস্পরিক পরামর্শের প্রক্রিয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরিস্থিতিতে কোনো সদস্যদেশের দায়িত্ব কী হবে, প্রকাশিত দলিলে সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু বলা নেই।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্তাবলি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবিধানের ৬৩ ও ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চুক্তিটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়।
আলোচনায় কয়েকজন বক্তা বলেন, বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়ায় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি বড় নিরাপত্তা কবচ হতে পারে। তবে অন্যরা সতর্ক করে বলেন, চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সব দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর অনুষ্ঠানে বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ অংশ নিলে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের আগ্রহ ও সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার অবস্থান না নিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফজলে এলাহী আকবর বলেন, বাংলাদেশকে মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পরাশক্তিরই সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সাবেক উপ-প্রধান জন এফ. ড্যানিলোউইজ বলেন, এখন পর্যন্ত মক্কা জোটের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইতিবাচক। তবে মিসর, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এ জোটে যোগ দেবে কি না, তা আরও কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, তুরস্ক ও ইসরায়েল বর্তমানে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকায় ইসরায়েল জোটটির সম্প্রসারণ ও অতিরিক্ত ক্ষমতায়নের বিষয়ে সতর্ক থাকবে।
ড্যানিলোউইজ আরও বলেন, ন্যাটোর মতো জোটেও একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিকভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা খুবই কম। ফলে বাংলাদেশ মক্কা জোটে যোগ দিলেও ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বাংলাদেশের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান, এফএসডিএস-এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাফায়াত আহমেদ, নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, দৈনিক ওয়া’দার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, মানবাধিকারকর্মী রুবি আহমতুল্লাহ এবং ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
২৪ দিন আগে
মক্কা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা: হুমায়ুন কবির
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ। বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার আলোকে উদ্যোগটিকে একটি ‘অনন্য’ ও নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের প্রমাণিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মক্কা চুক্তি নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাঁচার আগে যদি মরার চিন্তা করেন, তাহলে লাভ আছে বলেন?’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। এগুলো নতুন সুযোগ।’ বর্তমান বিশ্বের অস্থির ও সংকটময় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মতো দেশকে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমন্বিত ও নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখব। বাংলাদেশ সারা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রধান থাকবে, সেখানেই বাংলাদেশের অবস্থান থাকবে।’
জাতিসংঘের অধীনে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা নতুন কোনো বিষয় নয়।
‘আমরা সারা বিশ্বে এটা করছি। তাহলে আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃত্বের জন্য কেন তা করতে পারব না?’—প্রশ্ন রাখেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা খারাপ কিছু নয়। বিশেষ করে দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক হিসেবে সৌদি আরবের ভূমিকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।
মক্কা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনাগুলো ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে। ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরব ও তুরস্কসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বিশ্বের অন্যতম বড় অবদানকারী দেশ। দেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ ব্যবস্থায় অন্যতম বৃহৎ অবদান রেখে আসছে।
‘আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি,’ বলেন তিনি।
কোনো বাধ্যবাধকতার কারণে নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা মূল্যায়ন করেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
চীনের সঙ্গে ‘২+২’ সংলাপের প্রস্তুতি
এ সময় চীনের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ‘২+২’ সংলাপ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে অদূর ভবিষ্যতে এ সংলাপ শুরু হবে। তবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২+২’ সংলাপ বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং নির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশের কৌশলগত অবস্থানের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ।
এর আগে, রবিবার চীনের রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি জেদ্দায় ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনার বিভিন্ন বিষয়ও উঠে আসে এ বৈঠকে।
ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে কাতারের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কুয়েতের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ ও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের ‘গুডউইল’ বা সুনাম এখন বেশ দৃশ্যমান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ইতিবাচক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২৫ দিন আগে
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সম্ভাব্য ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে বাংলাদেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যদি একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, তাহলে সেটিতে যোগদান তো কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মক্কা ডিফেন্স প্যাক্টে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি দেশ হিসেবে বিভিন্ন উদ্যোগে আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের অংশীজন ও বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন বাংলাদেশের নেতৃত্বকে বিভিন্ন জায়গায় আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
‘আর মক্কা নিয়ে তো সবসময়ই একটা আলাদা জায়গা, মক্কা বাংলাদেশের হৃদয়ের... মানুষের হৃদয়ে,’ বলেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, তো মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে যদি একটা প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে যাওয়া তো আর অস্বাভাবিক না। সুতরাং, দেখা যাক, কী হয়! তবে এটা ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির একটি কৌশলগত কাঠামো তৈরি করেছে এবং এখন সেই ভিত্তির ওপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন দায়িত্ব পেলেও এটি তার জন্য পুরোপুরি নতুন কোনো কাজ নয়। প্রধানমন্ত্রী তাকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন এবং আগের কাজের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে গত ছয় মাস ধরে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি কাজ করেছেন। এখন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
৩১ দিন আগে