মতপ্রকাশ
১৭ বছর মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল একজন ও এক দলের: রিজভী
গত ১৭ বছরে দেশে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্র থাকলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কার্যত একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিআরইউ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেখলাম, অনেক টেলিভিশন ছিল, অনেক পত্রিকা ছিল। কিন্তু কথা বলা হবে, মত প্রকাশ হবে শুধু একজন ব্যক্তির, একটি রাজনৈতিক দলের।’
তিনি আরও বলেন, ওই কাঠামোর বাইরে মতপ্রকাশের চেষ্টা যারা করেছেন, তাদের কেউ গুমের শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। ‘ভয়াবহ ছিল সেই রূপ,’ বলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘মিডিয়াগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো তাদের নিয়ন্ত্রণে, টকশো হোস্ট যারা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণে। সামাজিক গণমাধ্যমকে তারা নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন।’
তবে ওই সময় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আলো কিছুটা জ্বালিয়ে রেখেছিলেন বলে প্রশংসা করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক যারা মাঠপর্যায়ে ছিলেন, তারা কেবল ধিকি ধিকি করে জ্বলছিলেন। গণতন্ত্রের আলো কিছুটা তারা জ্বালিয়ে রেখেছেন, যারা এখানে অনেকেই বসে আছেন। তারা ওই পরিস্থিতির মধ্যেও চেষ্টা করেছেন।’
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘যে সময়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবদমিত ছিল, কথা বলা ছিল পাপ এবং সরকারের বিরুদ্ধে যায়—এমন কথা বলা ছিল ঘোরতর অন্যায়, সেই সময় আমরা যতটুকু পরিসর পেয়েছি, ডিআরইউ তা প্রচার ও প্রকাশ করতে কখনও দ্বিধা করেনি।’
ওই সময়ে সাংবাদিকেরাও চাপের মুখে ছিলেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, অনেক সাংবাদিককে দমনমূলক কালো আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় নিগৃহীত হতে হয়েছে। জেল-জুলুমও খাটতে হয়েছে।
তবে এখন দেশে মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, এখন সবাই স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
রিজভী বলেন, ‘যারা সরকারে আছেন, সরকারের বাইরে যারা আছেন এবং সরকারের বাইরে থাকা বিরোধী দল—তারা মুক্ত কণ্ঠে সমালোচনা করবেন। সরকারের কাজগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। এইভাবেই একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।’
এছাড়া গণতান্ত্রিক এই অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করেন রিজভী।
১ দিন আগে