মাহ্দী আমিন
অনিশ্চয়তা অনিবার্য, সঠিক নীতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব: মাহ্দী
সঠিক নীতি, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে রাজনৈতিক, ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এর ‘দ্য ইনার ফোরাম: লিডারশিপ ইন অ্যান এজ অব আনসার্টেনটি’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘অনিশ্চয়তা অনিবার্য। তবে সঠিক মূল্যবোধ, নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মাধ্যমে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো সম্মিলিতভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন অব্যাহত রাখা উচিত। একই সঙ্গে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।’
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, কানেক্টিভিটি, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে কিছু কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হতে পারে। তবে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, ২০ হাজার খাল ও নদী খনন, পানি সংরক্ষণে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা ব্যারেজের মাস্টার প্ল্যান গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কার মধ্যেও সঠিক নীতির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড ও হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আলোচনায় অন্যান্য বক্তার মধ্যে ছিলেন কাতারের লন্ডন ডায়ালগের নন-রেসিডেন্ট ফেলো আমনা খান; ভারতের সেন্টার ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক প্রগ্রেসের সিনিয়র ফেলো কনস্টান্টিনো জেভিয়ার; ইন্দোনেশিয়ার ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক হাজা মিন ফাদলি রবি; মালয়েশিয়ার টেলরস ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার জুলিয়া রোকনিফার্ড; পোল্যান্ডের বয়ম ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ক্রজিসটফ মার্সিন জালেউস্কি; যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হালেলুজাহ লুলি ওয়ানডিমু; তুরস্কের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মেহমেত ওজকান; এবং রাশিয়ার স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগী সিনিয়র গবেষক পেতর তোপিচকানভ।
নেপালের দ্য অন্নপূর্ণা এক্সপ্রেসের প্রধান সম্পাদক কমল দেব ভট্টারাই আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন।
সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি ও ১ হাজার অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন।
সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতারা তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। আজ (সোমবার) সম্মেলনটির শেষ দিন।
২০ দিন আগে
জাতিসংঘ সফরে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহ্দী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রাকে তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বক্তব্য দেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় স্বার্থ অটুট রেখেছেন, সর্বোচ্চভাবে তা সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথযাত্রাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সফরটি ছিল সংক্ষিপ্ত। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে এক দিন, ফেরার পথে এক দিন এবং যুক্তরাষ্ট্রে চার দিন অবস্থান করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, চার দিনে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর বাইরে আরও কিছু অনানুষ্ঠানিক বৈঠক ও কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। ১১টি দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন, ছয়টি বক্তব্য দেন এবং একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চার দিনের সফরে প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন।
সার্বিকভাবে সফরকালে বাংলাদেশ ৮০টির বেশি পৃথক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনকল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দেশগুলো হলো পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতি। প্রতিটি বৈঠকেই তারেক রহমান সমতা, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেন বলে জানিয়েছেন মাহ্দী।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য চায়, যাতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বনির্ভরতা, স্বাবলম্বিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, সফরটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয়কে প্রতিফলিত করেছে এবং সমতা ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং সফরের পুরোটা সময় দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও স্বনির্ভরতার পথে অগ্রগতির বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজতে আয়োজিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন বলেও জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তারেক রহমান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন, যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
আলোচনায় উঠে আসে, মিয়ানমারে উদ্ভূত এই সমস্যার সমাধান মিয়ানমারেই করা সম্ভব। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুটি কাজ করতে হবে—রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য চাপ সৃষ্টি ও আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে এবং বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশকে আরও বেশি অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অংশীজন ও উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা চেয়েছেন। তারা বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে উপদেষ্টা জানান।
তারেক রহমানের জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে বৈশ্বিক এই সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এই সমন্বয়কে অভূতপূর্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।
তারেক রহমানের ভাষণ বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন।
২৫ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ: মাহ্দী আমিন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে তিনি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে এক উচ্চতর জায়গায় নিয়ে গেছেন।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশে ফিরে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও সম্ভাবনাকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রতিটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান অত্যন্ত সাদরে ও উষ্ণতার সঙ্গে তাকে গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি এবং যতটা সম্ভব কম সফরসঙ্গী নিয়ে তারেক রহমান চার দিনের সফল সফর সম্পন্ন করেছেন। সংক্ষিপ্ত এই সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের আটটি প্রধান অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং এর মধ্যে সাতটিতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন। এসবের মধ্যে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ‘ঐতিহাসিক’ ভাষণও ছিল।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচির কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বাংলাদেশ দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আরও দুটি বৈশ্বিক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক জাতিসংঘের ভাষণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, তারেক রহমান শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি তরুণ ও নারীদেরসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এসব পরিকল্পনা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেননি, তিনি বিশ্বশান্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।’
ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জাতিসংঘে তারেক রহমানের বক্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিতে উঠলে বাংলাদেশ সেখান থেকে ওয়াকআউট করে। ‘বিশ্বশান্তির পক্ষে এটি বাংলাদেশের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে,’ বলেন তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখা, মানবাধিকার রক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে সরকারের উদ্যোগ দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতেও এগুলো অব্যাহত থাকবে।
বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে করা হয়েছে এবং এটি দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল।
মাহ্দী বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সফরকালে দুই দেশের সরকারের মধ্যে কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই আলাদা একটি পার্শ্ব বৈঠকে ওই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা জাতিসংঘকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল না।
তিনি বলেন, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোট ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনা করেন। প্রতিটি আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতিবাচক আশ্বাস
আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সংকট কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আসিয়ানভুক্ত দেশ এবং মানবাধিকার ও বাস্তুচ্যুত মানুষ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সংকট সমাধানে প্রতিটি দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদারতা ও মানবিকতার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যাপক প্রশংসা করেছে।
তিনি আরও বলেন, সফরকালে অনুষ্ঠিত প্রতিটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্বনেতারা একসঙ্গে কাজ করার এবং বাংলাদেশের পাশে থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হকও উপস্থিত ছিলেন।
২৮ দিন আগে