সৎবাবা
কামরাঙ্গীরচরে কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে সৎবাবার মৃত্যুদণ্ড
ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে তার সৎবাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকার অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্তকে সাজার পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ওই সৎবাবা ১৩ বছরের কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আদালত তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে, যদি এই অপরাধের জন্য যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া না হয়।
তিনি আরও বলেন, এমন অপরাধ কেবল এই ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, ভুক্তভোগী যে সমাজের অন্তর্ভুক্ত, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে। সমাজের আর্তনাদে সাড়া দেওয়া আদালতের দায়িত্ব।
৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ‘ঘৃণ্য অপরাধ’ করেছেন উল্লেখ করে বিচারক বলেন, একটি ঘৃণ্য অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা বিচারকের দায়িত্ব। সেই হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা হলো।
এদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী বা তার আইনি উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করতে জেলা কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী তার মা ও সৎবাবার সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকত এবং সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। মায়ের অনুপস্থিতে সৎবাবা তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং সন্তান জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তোভোগির মা ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী হোসেন ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি অভিযুক্তর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
৫ দিন আগে