শিল্পসংলাপ
কসমস আর্ট ইকোর ১৩তম পর্বে তৈয়বা বেগম লিপির সঙ্গে শিল্পসংলাপ
বাংলাদেশের বিশিষ্ট সমকালীন শিল্পী তৈয়বা বেগম লিপিকে নিয়ে গ্যালারি কসমস ও কসমস আঁতেলিয়ের-৭১ আয়োজন করতে যাচ্ছে কসমস আর্ট ইকো: সেশন ১৩।
‘বিইং অ্যান্ড বিলং’ শীর্ষক এই আর্ট টকে তৈয়বা বেগম লিপি তার দীর্ঘ শিল্পযাত্রা, সৃজনশীল চর্চা এবং শিল্প, পরিচয় ও অন্তর্ভুক্তির ধারণা নিয়ে কথা বলবেন। অনুষ্ঠানটি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ঢাকার মালিবাগের ৬৯/১ নিউ সার্কুলার রোডে অবস্থিত কসমস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।
চলমান কসমস আর্ট ইকো উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সেশনে শিল্পী, শিল্পচর্চাকারী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও শিল্পবোদ্ধাদের বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমকালীন শিল্পীর সঙ্গে সরাসরি ও ভাবনাপ্রসূত সংলাপে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আলোচনায় তৈয়বা বেগম লিপির শিল্পীজীবন, তার সৃজনশীল অন্বেষণ এবং শিল্প, পরিচয়, অন্তর্ভুক্তি ও সমকালীন জীবন নিয়ে তার ভাবনা উঠে আসবে।
বাংলাদেশের গাইবান্ধায় জন্ম নেওয়া তৈয়বা বেগম লিপি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে চারুকলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি। সমকালীন শিল্পচর্চা এবং আন্তর্জাতিক শিল্পবিনিময়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দীর্ঘ শিল্পজীবনে তৈয়বা বেগম লিপি দেশে ও বিদেশে ১৭টি একক প্রদর্শনী করেছেন। এছাড়া তার স্বামী ও শিল্পী মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তার ছয়টি দ্বৈত প্রদর্শনী রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি অসংখ্য দলীয় প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। সিঙ্গাপুর, ইস্তাম্বুল, লন্ডন, ঢাকা, নিউইয়র্ক, হংকং, দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে তার একক প্রদর্শনী ও শিল্প প্রকল্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তার শিল্পচর্চা বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উপস্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সলোমন আর গুগেনহাইম মিউজিয়াম, নিউইয়র্ক; টেট মডার্ন, লন্ডন; এলি অ্যান্ড এডিথ ব্রড আর্ট মিউজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র; সাংহাইয়ের মডার্ন আর্ট মিউজিয়াম; আর্নহেম মিউজিয়াম; রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়াম, টরন্টো; সেন্ট্রাল মিউজিয়াম, নেদারল্যান্ডস; এবং কুন্সথাউস জুরিখ।
আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে তৈয়বা বেগম লিপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর মধ্যে ২০১১ সালের ৫৪তম ভেনিস বিয়েনালে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়নের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন অন্যতম। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত শিল্প, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন শিল্প আয়োজনে জুরি ও সহ-জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত শিল্পকর্মশালা, শিল্পী রেসিডেন্সি ও আর্ট টকে অংশ নিয়েছেন তিনি। তার শিল্পচর্চা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশে ও বিদেশে তিনি বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।
তার উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক শিল্পসম্পৃক্ততার মধ্যে রয়েছে ২০১৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে আয়োজিত গুগেনহাইম ইউবিএস ম্যাপ প্রদর্শনী; ২০১৬ সালের সন্সবিক, আর্নহেম; ২০২৩ সালের থাইল্যান্ড বিয়েনালে, চিয়াং রাই; টরন্টোর রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়ামে ‘বিইং অ্যান্ড বিলং’; নেদারল্যান্ডসের সেন্ট্রাল মিউজিয়ামে ‘স্টেটমেন্ট চেয়ার্স’; কাঠমান্ডু ও কলম্বোয় ‘ফেমিনিস্ট ফিউচার্স: আর্ট, অ্যাক্টিভিজম অ্যান্ড সাউথ এশিয়ান উম্যানহুড’; এবং ফ্রান্সের লিল-সুর-লা-সর্গে ফঁদাসিওঁ ভিলা দাত্রির ‘স্কালপচার কঁতেম্পোরেন’।
বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের অংশ হিসেবে তৈয়বা বেগম লিপি কাসেলে ডকুমেন্তা ফিফটিন, কুন্সথাউস জুরিখে ‘রিকলেক্ট’, যুক্তরাজ্যের হেয়ারউড বিয়েনালে, এশিয়া নো প্যারিস, রিয়াদে দ্বিতীয় দিরিয়াহ বিয়েনালে, রোমের ম্যাক্সিতে ‘ওয়ান প্লাস ওয়ান রিলেশনাল ইয়ার্স’ এবং ২০১১ ও ২০১৫ সালের ৫৪তম ও ৫৬তম ভেনিস বিয়েনালেসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও শিল্প প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন।
তার শিল্পকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জাদুঘর, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সলোমন আর গুগেনহাইম মিউজিয়াম, নিউইয়র্ক; টেট মডার্ন, লন্ডন; কুন্সথাউস জুরিখ; রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়াম; সেন্ট্রাল মিউজিয়াম, নেদারল্যান্ডস; ন্যাশনাল তাইওয়ান মিউজিয়াম অব ফাইন আর্টস; ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, নিউইয়র্ক; স্মিথ কলেজ মিউজিয়াম অব আর্ট; দেবী আর্ট ফাউন্ডেশন, ভারত; শেরম্যান কনটেম্পোরারি আর্ট ফাউন্ডেশন, সিডনি; বাংলাদেশের বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশনসহ আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগ্রহ।
তার শিল্পকর্ম ও শিল্পচর্চা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ও গ্রন্থেও স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ফিফটি কনটেম্পোরারি উইমেন আর্টিস্টস: গ্রাউন্ডব্রেকিং কনটেম্পোরারি আর্ট ফ্রম নাইনটিন সিক্সটি টু নাও’, যা জন গসলি ও হেদার জিসেসের সম্পাদনায় ও এলিজাবেথ স্যাকলারের ভূমিকায় ২০১৮ সালে শিফার পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত হয়। এছাড়া রয়্যাল অন্টারিও মিউজিয়ামের ‘বিইং অ্যান্ড বিলং’ এবং এলি অ্যান্ড এডিথ ব্রড আর্ট মিউজিয়ামের ‘আর্টিস্ট অ্যাজ অ্যাক্টিভিস্ট’-সংক্রান্ত প্রকাশনা ও প্রদর্শনী ক্যাটালগেও তার কাজ ও শিল্পচর্চা নথিভুক্ত হয়েছে।
এই আয়োজনটি কসমস আঁতেলিয়ের-৭১-এর সদস্য ও শিল্পবোদ্ধাদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজিত। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা তৈয়বা বেগম লিপির সঙ্গে তার শিল্পচর্চা, সৃজনশীল ভাবনা ও সমকালীন শিল্প নিয়ে সরাসরি আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ পাবেন।
৫ ঘণ্টা আগে