জেএসএস-সন্তু গ্রুপ
সাজেকে দ্বিতীয় দিনেও অবরুদ্ধ সড়ক, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর টহল
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে ঘোষিত তিন দফা দাবির অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি দ্বিতীয় দিনের মতো শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। পার্বত্য জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত এলাকা থেকে অপসারণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মূল দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বর্তমানে সাজেক ও আশপাশের এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
তিনি জানান, সাজেক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং দুষ্কৃতকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, সাজেকে চলমান আন্দোলনের সমর্থনে এবং এর আগে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, লাঠিচার্জ ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি-দোকানপাটে ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ’। সংগঠনটি আগামী শনিবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি-এই দুই পার্বত্য জেলায় সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা।
বিবৃতিতে ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল এবং দুই জেলার গণপরিবহন, নৌযান মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু জরুরি সেবাকে এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। আধা বেলা অবরোধ চলাকালে অ্যাম্বুলেন্স, রোগীবাহী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী পরিবহন এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে