ইউরোপীয় ইউনিয়ন
বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ২০০৮ সালের পর প্রথম ‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ নির্বাচন এবং দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত বলে উল্লেখ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। তবে নারী প্রার্থীর স্বল্পতা, বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, অনলাইনে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং কিছু প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস ইয়াবস এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনটি ছিল সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক এবং নবায়ন করা আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে নির্বাচনটি অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং মৌলিক স্বাধীনতা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একইসঙ্গে নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক পরিসর তাদের অংশগ্রহণে বাধা তৈরি করেছে।
ইভারস ইয়াবস জানান, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে এবং অংশীজনদের আস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচনি আইনি কাঠামো গণতান্ত্রিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য উপযোগী হলেও আইনি নিশ্চয়তা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে আরও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
কমিশন গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ বজায় রেখেছে, তবে কঠোর প্রচারণাবিধি সবক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পক্ষপাতের অভিযোগও উঠেছে।
নির্বাচন প্রস্তুতি পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিদেশে থাকা প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নির্বাচনকর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং সামগ্রী বিতরণও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র প্রতিবন্ধী ও সীমিত চলাচলক্ষম ভোটারদের জন্য সহজ প্রবেশযোগ্য ছিল না।
ভোট গণনা ও ফল সংকলন মোটামুটি দক্ষতার সঙ্গে হলেও কিছু ক্ষেত্রে অখণ্ডতা রক্ষার ব্যবস্থা পুরোপুরি অনুসরণ হয়নি এবং তিনটি ঘটনায় ফল সংকলনে স্বচ্ছতার ঘাটতি লক্ষ করা হয়েছে। তবুও দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি এবং নিয়মিত ফল প্রকাশ জনআস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ৬০০-এর বেশি আপিল নিষ্পত্তি এবং দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থী পুনর্বহালকে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, দুই হজারের এর বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোটাররা বিস্তৃত রাজনৈতিক বিকল্প পেয়েছেন। প্রচারণা ছিল প্রাণবন্ত এবং প্রার্থীরা সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করেছেন, যদিও শেষদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পারস্পরিক অভিযোগ বেড়ে যায়।
নারীর অংশগ্রহণ কম হওয়াকে বড় হতাশা হিসেবে উল্লেখ করে ইভারস ইয়াবস বলেন, মাত্র ৪ শতাংশ প্রার্থী নারী ছিলেন। পিতৃতন্ত্র, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি ও চরিত্রহনন নারীদের অংশগ্রহণে বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে। আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং জনপরিসরে ধর্মীয় বক্তব্যের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যাতে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নারী প্রচারকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সম্পত্তিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যেকোনো ধরনের সহিংসতা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়।
অনলাইন প্রচারণায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণে।
ইভারস ইয়াবস জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অন্তত ৩০টি ভুয়া তথ্যের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। জাতীয় ফ্যাক্ট চেকিং উদ্যোগগুলো সক্রিয় থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিক্রিয়া ধীর ছিল।
নাগরিক সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ৮১টি নাগরিক পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তরুণ কর্মীরা দেশজুড়ে ভোটার শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে গণতান্ত্রিক চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
ইয়াবস বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান পরিপক্বতার প্রতিফলন ঘটায় না, এমন পুরোনো চর্চা পরিত্যাগের সময় এসেছে। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা জোরদারের মাধ্যমে নতুন পথরেখা নির্ধারণ করতে হবে।’
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদলের প্রধান টমাশ জদেচোভস্কি বলেন, ‘দেশ এখন একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। নতুন সংসদ ও সরকারকে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।’
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন বাংলাদেশে অবস্থান করছে। ভোটের দিন মিশনের ২২৩ জন পর্যবেক্ষক রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্যরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষকরা এই মিশনে যুক্ত হন। দেশের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে মিশনটি। এরপর আগামী মাসগুলোতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের উন্নয়নকল্পে সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য আজ বড় একটি দিন: ইয়াবস
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের এই দিনকে একটি ‘বড় দিন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভারস ইয়াবস।
তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য আজ একটি বড় দিন। আমরা সবাই সবার অংশগ্রহণের ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর নিউ বেইলি রোডে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নির্বাচন শুরুর প্রায় আধঘণ্টা আগে থেকেই এই পর্যবেক্ষক দলটি ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের সামনে ব্যালট বাক্স উল্টেপাল্টে দেখানোর পর ভোটগ্রহণের জন্য রাখেন। এরপর নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইভারস ইয়াবস। তিনি বলেন, ‘এখানে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন শুরু হয়েছে। আমরা সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেখেছি।’
শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দিনের বাকি সময়েও তিনি পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানান।
ইইউয়ের প্রধান পর্যবেক্ষক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল কেন্দ্র পরিদর্শনের পর দুপুর ১২টায় তিনি আরও তথ্য জানাবেন।
ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেশের ৬৪টি জেলায় ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে ইইউ। এসব পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটগ্রহণ সমাপ্তি, ব্যালট গণনা এবং ফলাফলের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
সাংবাদিকদের ইয়াবস বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা প্রায় প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় শহর, মফস্বল ও গ্রামে উপস্থিত থাকবেন। সারা দিন তাদের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হবে।’
সারা দেশে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েনের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা অবদান রাখছেন।
২ দিন আগে
নির্বাচনি পরিবেশ ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক: ইইউ পর্যবেক্ষক প্রধান
বাংলাদেশে একটি নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইয়াবস। তিনি বলেছেন, ‘সামগ্রিক নির্বাচনি পরিবেশ ইতিবাচক। এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।’
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সংবাদ সম্মেলনে ইভারস ইয়াবস এসব কথা বলেন।
ইভারস ইয়াবস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যক্ষ করার প্রত্যাশা করছে। গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন নীতির ভিত্তিতেই বাংলাদেশে তাদের পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রার্থী এবং দেশের এলাকায় সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সাধারণ পরিবেশ খুব ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। যাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই জোর দিয়ে বলেছেন যে এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, ‘মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।’
নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইয়াবস বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক বিষয়। নির্বাচনকে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক করতে সব সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু এবং বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ মিশনের বিশেষ নজরে থাকবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় ইইউ মিশনের ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে বলে জানান তিনি। ইয়াবস জানান, এই স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাবদ্ধসহ নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা শহর, নগর ও গ্রামে প্রায় প্রতিটি সংসদীয় আসনে উপস্থিত থাকবেন। তাদের সারা দিনের পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন এই ঐতিহাসিক নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হবে।
এই পর্যবেক্ষক বলেন, দেশজুড়ে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার মাধ্যমে তারা এই নির্বাচনের স্বচ্ছতায় অবদান রাখছেন। এই বিশাল এবং নিবেদিতপ্রাণ মিশন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অটুট অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
প্রাক-নির্বাচনি প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করা সমীচীন নয়। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং তখন এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।
‘নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জড়িত না হওয়া। নির্বাচন শেষে প্রায় দুই মাস পর প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকরা ইউরোপের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য এবং অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে আগ্রহী।’
এর আগে, গত মাসে মিশনটির ৫৬ জন প্রতিনিধি দীর্ঘ মেয়াদে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ঢাকায় আসেন। তারা নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রস্তুতি, নির্বাচনি প্রচারণা, ভোটার শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে যোগাযোগ।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদল মিশনটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। পূর্ণ সক্ষমতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক এই মিশনে পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন।
নির্বাচনের দুই দিন পর, অর্থাৎ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে একটি প্রাথমিক বিবৃতি দেবে ইইউ মিশন। ওইদিন ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে তাদের। তার দুই মাসের মধ্যে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে তারা।
ইভারস ইয়াবস জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত ‘আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা’ অনুযায়ী তাদের মিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের সবাই কঠোর আচরণবিধি মেনে চলবেন।
৪ দিন আগে
নির্বাচনে তিন বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা জানান ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইয়াবস।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয়ের বিশেষ গুরুত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নাগরিকরা কতটা নির্ভয়ে ও নিরাপদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন, নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।’
ইভারস ইয়াবস জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা, অংশগ্রহণমূলক প্রকৃতি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা হবে। একইসঙ্গে এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে ইইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে ইয়াবস বলেন, আপনার সুন্দর দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উভয় দিক থেকেই সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে আমরা এখানে এসেছি। এই লক্ষ্যে আমাদের এই নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং আমরা এই নির্বাচনটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মিশনের একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি রয়েছে, যেখানে আমাদের কাজ হলো কেবল পর্যবেক্ষণ করা, তবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নয়। এই কারণে, যেহেতু নির্বাচন খুব নিকটে, আমি কোনো দলের নিয়ম লঙ্ঘন বা অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করব না।’
ইভারস ইয়াবস বলেন, আমরা নির্বাচনের পরপরই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আমাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রদান করব এবং দু মাস পরে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করব।
ইইউ এর এই পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, এই মিশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে একমাস আগে শুরু হয়েছে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দল (এলটিও) ইতোমধ্যে ঢাকা এবং অন্যান্য অঞ্চলে নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
ইয়াবস বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষকরা স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, যার মধ্যে প্রধান অংশীদার হিসেবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্তৃপক্ষ, প্রার্থী, দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং বিভিন্ন এনজিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন পর্যবেক্ষক আসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী বাম্বি এবং ক্রিশ্চিয়ান এখানে এক মাস ধরে কাজ করছেন এবং আগামীকাল (আজ) ইউরোপ থেকে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেবেন, যারা নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে প্রচার এবং ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন। এটি কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নের মিশন নয়; সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও কানাডার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশও এতে অংশগ্রহণ করছে।
এ সময় তাদের পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা, শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে থাকবেন বলে জানান ইয়াবস।
ইইউয়ের এই পার্লামেন্ট সদস্য আরও বলেন, ঢাকায় আমাদের মূল দলে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা, যেমন: আইনি বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশ্লেষক এবং মিডিয়া বিশ্লেষক রয়েছেন। তারা প্রথাগত ও সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে তারা কোনোভাবেই এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছেন না বা কাউকে কোনো পরামর্শ দিচ্ছেন না।
এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন আয়োজন করা মূলত বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজ এবং এখানে বাইরের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
ইয়াবস বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক রক্ষা করতে চাই। বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার খুঁজে পাওয়া।
বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করতে এবং সবুজ শক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। আমাদের কাছে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৭ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলার মাঝেই ৩ ইউরোপীয় পরাশক্তির সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সমাধানের পথ খুঁজতে ইউরোপের তিন পরাশক্তি—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান। এই তিন ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ই৩’ নামেও ডাকা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাসের উপস্থিতিতে শনিবার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।
বৈঠকের বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা শনিবার জেনেভাতে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসব।’
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর পাশাপাশি ইউরোপীয় কূটনীতিকরাও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইইউ প্রতিনিধি ছাড়াও ই৩, অর্থাৎ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তারা আরাগচির সঙ্গে কথা বলেন এবং পরমাণু আলোচনায় ফেরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়ার পর উভয়পক্ষই সরাসরি বৈঠকে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়াবে কি না, সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহের মধ্যে
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে বলেছেন, ‘ইউরোপীয় দেশগুলো একটি আলোচনাভিত্তিক সমাধানের প্রস্তাব নিয়ে আসবে।’ পরের দিন তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের’ সঙ্গে মিলে যুদ্ধ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো বলেন, ‘এই বিষয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আমরা তিন দেশই প্রস্তুত। আমরা চাই, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আলোচনা হোক।’
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্যে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে সরাসরি সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
ইরানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ল্যামি বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না পায়।… কূটনৈতিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা করতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় আছে।’
কায়া কাল্লাসও বলেছেন একই কথা। তার ভাষ্যে, ‘ইরান যাতে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো কূটনীতি।’
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে।
তবে ইসরায়েলের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ইরান। তাদের পরমাণু কর্মসূচি ‘সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ’ দাবি করেছে দেশটি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
কূটনৈতিক পথ বন্ধ নয়
গতকাল (বৃহস্পতিবার) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে খুব শিগগির নতুন করে আলোচনা শুরুর উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পাঁচ দফা আলোচনা করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের হামলার পর ষষ্ঠ দফার আলোচনা বাতিল করা হয়।
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের হামলা চলাকালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা পুনরায় শুরু করবে না। তবে কূটনৈতিক পথ যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, সে কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান।
এ ছাড়া জেনেভা থেকে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদক মিলেনা ভেসেলিনোভিচ জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বকে যুদ্ধের দিকে গড়াতে না দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
ট্রাম্পের অবস্থান
এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নেবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’
তাই এ সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের একটি নিষ্পত্তি খোঁজার সুযোগ রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের সুসংরক্ষিত ফোরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে কি না, তা-ই এখন বিবেচনা করছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ: দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ
এই স্থাপনাটি একটি পর্বতের নিচে অবস্থিত এবং কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বোমা দিয়েই এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব বলে ধারণা করা হয়।
২৩৮ দিন আগে
নির্বাচন আগে-পরে নয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক রূপান্তর দেখতে চায় ইইউ: রাষ্ট্রদূত মিলার
বাংলাদেশে নির্বাচন কবে হবে তা নির্ধারণ করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। বরং ইইউ বাংলাদেশে একটি সফল রাজনৈতিক রূপান্তর দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ হোটেলে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মিলার বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত। নিবার্চন আগে-পরে হওয়া নিয়ে মতামত দেওয়া বা চাপ সৃষ্টি করা ইইউয়ের উচিত হবে না। এটি একেবারেই আমাদের বিষয় নয়।’
বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলছে, প্রয়োজনীয় সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে ভোট ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তা হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আমরা সমর্থন করি এবং তা সফল হোক, এই কামনা করি।’
তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমসহ চলমান রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সংস্কার কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ইইউ বিশেষজ্ঞ দিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রশংসা ইইউর
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোন দল নিবন্ধিত হবে আর কোনটি হবে না, সেটি বাংলাদেশের বিষয়। কারণ নিবন্ধন ও বাদ দেওয়া সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।’
আন্তর্জাতিক বাজারে রাজশাহীর আমের সম্ভাবনা
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, রাজশাহীর আম ইউরোপীয় বাজারে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। শুধু আম নয়, এখানকার আরও অনেক পণ্য রয়েছে যেগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা যেতে পারে।
এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেও ইইউ সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
মিলার জানান, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে ইতোমধ্যে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে, যা বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: ইইউ
এ ছাড়া রাজশাহী শহরের পরিকল্পিত অবকাঠামো ও পরিবেশেরও প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত মিলার। বলেন, ‘রাজশাহী শহর খুব পরিষ্কার ও সুপরিকল্পিত। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ।’
২৬০ দিন আগে
ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কারোপে ইইউ প্রধানের নিন্দা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ শতাংশ শুল্কারোপের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ভন দের লিয়েন।
এর আগে, স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর বহুল আলোচিত পাল্টা শুল্কারোপ ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ২০ শতাংশ শুল্কারোপ করেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন প্রশাসনের জন্য শত শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আনতে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ৫০ বছর ধরে করদাতাদের ছাড় দেওয়া হলেও তা এবার বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ও কারখানাগুলো ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৭ শতাংশ শুল্কারোপ
তবে তার এই পদক্ষেপকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় কমিশন প্রধান। লাখ লাখ মানুষের ওপর এই শুল্কারোপের ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
উরসুলা বলেন, ‘এই অতিরিক্ত শুল্কের কারণে নিত্যপণ্য, পরিবহন ও ঔষধের দাম বেড়ে যাবে। এতে নিম্ন আয়ের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’
তবে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। শুল্কারোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ইইউ প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে প্রয়োজনে পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুতি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশন প্রধান।
বুধবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে আরোপিত মার্কিন শুল্ক নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন আরও অনেকে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়ে বাণিজ্যযুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩১৭ দিন আগে
আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা: আবেদনের পদ্ধতি, খরচ, স্কলারশিপ ও যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা
ক্যারিয়ার গঠনে সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি যুগপৎভাবে কাজ করে চাকরি বা ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলের সামঞ্জস্যপূর্ণতা। সেখানে মেধা বিকাশের সাথে সম্মেলন ঘটে জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থায়িত্বের। এই সমন্বয়ের মাঝে নিহিত থাকে শিক্ষা ও পেশাগত দিক থেকে বেড়ে ওঠার সহায়ক পরিবেশ। আর এই পরিবেশ পেতেই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার ব্রত নিয়ে পাড়ি জমান উন্নত দেশগুলোতে। কাঙ্ক্ষিত ক্যারিয়ারের পাশাপাশি উন্নত জীবনধারণের প্রস্তাবনা নিয়ে এই গন্তব্যগুলোর সঙ্গে একই সারিতে রয়েছে ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ড। বৈচিত্র্যপূর্ণ কোর্সে বিশ্ব মানের পাঠদানের অভিজ্ঞতা নিতে দেশটি প্রতি বছর স্বাগত জানায় হাজার হাজার বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের। চলুন, আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া, পড়াশোনা ও জীবনধারণের আর্থিক ব্যবস্থাপনার নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
আয়ারল্যান্ড কেন উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সদস্য রাষ্ট্রটির ক্রাইম ইনডেক্স ৪৬ দশমিক ৮। অন্যদিকে ১ দশমিক ৩০৩ গ্লোবাল পিস ইনডেক্স নিয়ে শীর্ষ শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় দেশটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এই সূচকগুলোর পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড কিউএস র্যাংকিং-এও আছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তার মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন, যার র্যাংক ৮১। ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন রয়েছে ১৭১-এ, গালওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ২৮৯-এ ও ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্ক-এর অবস্থান ২৯২-এ। স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লিমেরিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি রয়েছে যথাক্রমে ৪২৬ ও ৪৩৬-এ।
আইরিশ শিক্ষার প্রসিদ্ধির কারণে এটি অভাবনীয় সাড়া ফেলেছে বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে। অনেক বহুজাতিক কোম্পানি আয়ারল্যান্ডে তাদের ইউরোপীয় সদর দপ্তর স্থাপনের মাধ্যমে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তার পরিবেশ গড়ে তুলেছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা ইন্টার্নশিপ, কো-অপারেশন প্রোগ্রাম এবং নেটওয়ার্কিং ইভেন্টগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সান্নিধ্যে যেতে পারে।
সবচেয়ে সুবিধাজনক বিষয়টি হচ্ছে দেশটির ইংরেজি ভাষাভাষী যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুধুমাত্র এই একটি ভাষা দক্ষতা নিয়ে আয়ারল্যান্ড পড়াশোনা, স্কলারশিপ ও চাকরির সুবিধাগুলো পাওয়া যায়। এই সুবিধার প্রভাব শ্রেণীকক্ষের বাইরেও বিস্তৃত। যেমন আবাসনের ক্ষেত্রে আইরিশ পরিবারগুলোর সঙ্গে শেয়ার করে থাকলে ভাড়া অনেকটাই বাঁচানো যায়।
তাছাড়া আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়াতে ইংরেজিকে পুঁজি করে এই আয়ারল্যান্ড থেকেই বৈশ্বিক নেটওয়ার্কগুলোতে প্রবেশাধিকার লাভ করা যায়। এতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভ্রমণের সুযোগও সৃষ্টি হয়, যা ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করার এক অভাবনীয় প্রয়াস।
আরও পড়ুন: চেক প্রজাতন্ত্রে উচ্চশিক্ষা: পড়াশোনার খরচ ও স্কলারশিপসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা
আয়ারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য যে যোগ্যতাগুলো থাকা দরকার
আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রামগুলোর জন্য ক্লাস ১২ তথা উচ্চ মাধ্যমিক সনদ পরীক্ষায় সাধারণত কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ থাকা প্রয়োজন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে সাধারণ শর্ত হচ্ছে একই বিষয়ে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ বা তার বেশি স্কোরের স্নাতক ডিগ্রি। মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্যও একই বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন। পিএইচডির জন্য প্রকাশনা এবং এমবিএর ক্ষেত্রে পেশাগত অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে।
ইংরেজি ভাষা দক্ষতার জন্য আইইএলটিএস, টিওইএফএল বা পিটিই-এর মতো ভাষা যাচাই পরীক্ষার স্কোরগুলো দেখা হয়।
আয়ারল্যান্ডের সেরা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাহিদাসম্পন্ন কোর্স
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়ারল্যান্ডের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-
· আমেরিকান কলেজ ডাবলিন
· ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিন
· ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিন
· ডাবলিন সিটি ইউনিভার্সিটি
· লিমেরিক বিশ্ববিদ্যালয়
· ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্ক
· মায়নুথ বিশ্ববিদ্যালয়
· কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট
· আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গালওয়ে
· গালওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়
আরো পড়ুন: মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা: উপায়, খরচ ও সুযোগ-সুবিধা
৫৫৯ দিন আগে
চেক প্রজাতন্ত্রে উচ্চশিক্ষা: পড়াশোনার খরচ ও স্কলারশিপসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা
উন্নত মানের শিক্ষার ভিত্তিতে যুগ যুগ ধরে মেধার সুষ্ঠু বিকাশের মঞ্চ হয়ে আসছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলো। বছরের পর বছর ধরে দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন এই মহান মঞ্চগুলোরই রূপকল্পের ফসল। শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সগর্বে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে এই শিক্ষাকেন্দ্রগুলো। প্রতিটির মতো ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও প্রতি বছর পরিণত হয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বজোড়া শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায়। তেমনই একটি দেশ চেক প্রজাতন্ত্র, যেটি ৯৯ শতাংশ শিক্ষার হার এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে পরিণত হয়েছে শিক্ষার স্বর্গভূমিতে। চলুন, চেক প্রজাতন্ত্রে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
উচ্চশিক্ষায় চেক প্রজাতন্ত্রের জনপ্রিয়তার কারণ
বিগত দশকে বিশ্বজুড়ে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান মধ্য ইউরোপের দেশটিকে উচ্চশিক্ষার জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্পে পরিণত করেছে। সব থেকে মোক্ষম কারণটি হচ্ছে দেশটির নিরাপদ পরিবেশ। বিশ্বব্যাপী ১৬৩টি দেশের মধ্যে ১ দশমিক ৪৫৯ গ্লোবাল পিস ইনডেক্স স্কোর নিয়ে ১২তম অবস্থানে রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র। অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ নিরাপদ দেশগুলোর মধ্যে ৬ষ্ঠ তম এই দেশটির ক্রাইম ইনডেক্স স্কোর ২৬ দশমিক ৮।
শেনজেনভুক্ত রাষ্ট্র হওয়ায় অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে ভ্রমণের আকর্ষণে অধিকাংশ বিদেশি শিক্ষার্থীর গন্তব্য থাকে এই দেশটি।
এখানে পড়াশোনার জন্য স্থানীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি চাকরি ক্ষেত্রে অধিকাংশ চাহিদাসম্পন্ন কোর্সগুলো ইংরেজিতেই পড়ানো হয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষা দক্ষতা হিসেবে আইইএলটিএস স্কোরের পূর্বশর্তটিও শিথিল করা হয়। সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী একাডেমিক ডিগ্রি ইংরেজি মাধ্যমে করা হয়েছে কিনা তার জন্য এমওআই ( মিডিয়াম অব ইন্স্ট্রাক্শন ) চাওয়া হয়।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সহজে ভর্তি হওয়ার জন্য ভাষার জন্য সিইএফআর বা কমন ইউরোপীয় ফ্রেমওয়ার্ক অব রেফারেন্স পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের এই দেশ নির্বাচনের আরও একটি কারণ হচ্ছে চেক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহজ ভর্তি প্রক্রিয়া। এখানে প্রবেশিকা পরীক্ষা বা ইন্টারভিউয়ের যথেষ্ট বিকল্প রয়েছে, যেখানে শুধু সঠিক কাগজপত্র এবং ফি প্রদানের মাধ্যমেই ভর্তির কাজ সম্পন্ন করা যায়।
চেক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একদিকে যেমন প্রাচীন, অন্যদিকে তেমনি বিশ্বনন্দিত এবং নানা শিল্পের সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোতে সমাদৃত।
কিউএস র্যাংকিং-এ ২৪৮ নম্বরে রয়েছে সুপরিচিত চেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া মাসারিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৪০০ নম্বরে, চেক টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির অবস্থান ৪৫৪, এবং কেমিস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি, প্রাগ ৫৫৬-তে। ব্রনো ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি রয়েছে ৬১১, প্যালাস্কি ইউনিভার্সিটি অলোমৌচ ৬৩১-এ এবং চেক ইউনিভার্সিটি অব লাইফ সায়েন্সেস প্রাগ ৭০১ নম্বরে।
আরো পড়ুন: জার্মানিতে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়
উচ্চশিক্ষার জন্য চেক প্রজাতন্ত্র গমনের পূর্বশর্ত
এখানকার কোর্সগুলোতে পড়ার জন্য প্রাথমিক শর্ত হলো পূর্ববর্তী প্রাসঙ্গিক একাডেমিক ডিগ্রিগুলোতে উত্তীর্ণ হওয়া। যেমন আন্ডারগ্রাজুয়েশনের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক, ডিপ্লোমা বা সমমানের একাডেমিক পরীক্ষার সনদ থাকা প্রয়োজন। মাস্টার্সের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল স্টাডি প্রোগ্রামের জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দরকার হয়।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেক ভাষায় পড়ানো কোর্সগুলোতে কোনো খরচ নেই। বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চেক ভাষায় পড়ার জন্য এক বছরের একটি ফাউন্ডেশন কোর্স করায়। অতঃপর প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ভর্তি নেওয়া হয়। এখানে ভাষা টেস্ট পরীক্ষায় ন্যূনতম স্কোর বি-২, কিছু প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সি-১ থাকতে হয়।
আর ইংরেজিতে পড়ানো কোর্সের ক্ষেত্রে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভাষা দক্ষতা সনদ চায়, তারা সচরাচর আইইএলটিস বা টিওইএফএল স্কোরকে গুরুত্ব দেয়।
আরো পড়ুন: উচ্চশিক্ষায় দেশের বাইরে যেতে প্রস্তুতির ধাপগুলো জেনে নিন
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চেক প্রজাতন্ত্র সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সগুলো
বিগত বছরগুলোতে দেশটির যে বিশ্ব মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বাধিক বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল, সেগুলো হলো-
· চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়
· মাসারিক বিশ্ববিদ্যালয়
· চেক টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি
· ইউনিভার্সিটি অব কেমিস্ট্রি এ্যান্ড টেকনোলজি, প্রাগ
· ব্রনো ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি
· প্যালাস্কি ইউনিভার্সিটি অলোমৌচ
· চেক ইউনিভার্সিটি অব লাইফ সায়েন্সেস প্রাগ
· মেন্ডেল বিশ্ববিদ্যালয় ইন ব্রনো
· অস্ট্রাভা টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি
· সাউথ বোহেমিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইন চেক বুডিজোভিচ
আরো পড়ুন: দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার আগে যে অভ্যাসগুলো গড়ে তোলা জরুরি
বিশ্ববিদ্যালয় এবং একাডেমি ডিগ্রির স্তর নির্বিশেষে সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলো হলো-
· মেডিসিন ও হেল্থকেয়ার
· ব্যবসা ও অর্থনীতি
· মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান
· তথ্য প্রযুক্তি
· প্রকৌশলী
চেক প্রজাতন্ত্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদনের উপায়
ভর্তির জন্য আবেদনের মৌসুম শুরু হয় সাধারণত ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে। অনলাইনে ভর্তির আবেদনের জন্য প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে নিজস্ব পোর্টাল। সেখানে কাঙ্ক্ষিত কোর্স খুঁজে বের করার জন্য রয়েছে যাবতীয় তথ্য।
অনলাইনে আবেদন সম্পন্নের সময় কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হতে পারে। ইলেক্ট্রনিক আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তা প্রিন্ট করতে হবে। অতঃপর তা সই করে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকযোগে পাঠাতে হবে।
আরো পড়ুন: জার্মানিতে বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য কিভাবে আবেদন করবেন
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
ভর্তির আবেদনের সঙ্গে যে কাগজপত্রগুলো সংযুক্তি হিসেবে দিতে হয়, তা হলঃ
· ডিপ্লোমা বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণের সত্যায়িত অনুলিপি
· সনদপত্র এবং একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ইংরেজির পরিবর্তে বাংলায় হলে সেগুলো চেক বা ইংরেজিতে অনুবাদ করে নিতে হবে
· প্রশাসনিক ফি প্রদানের প্রমাণ: ৩ হাজার চেক কোরুনা বা ১৪ হাজার ৯৯১ টাকা ( ১ চেক কোরুনা = ৫ বাংলাদেশি টাকা )
· ভর্তি প্রক্রিয়াকরণ ফি প্রদানের প্রমাণ:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ২০ ইউরো থেকে শুরু হয়ে ৫০ ইউরোর অধিক হতে পারে। বাংলাদেশি টাকায় এটি ২ হাজার ৫৪১ টাকা ( ১ ইউরো = ১২৭ দশমিক ০৩ বাংলাদেশি টাকা ) থেকে ৬ হাজার ৩৫২ টাকার সমান।
· মোটিভেশন লেটার
· ২ থেকে ৩টি রেফারেন্স লেটার
· সিভি বা পোর্টফোলিও
· বৃত্তি পেলে বা অন্য কেউ পড়াশোনার খরচ বহন করলে তার প্রমাণ
· ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষা ( সাধারণত পিটিই একাডেমিক, টিওইএফএল ও আইইএলটিএস স্কোর দেখা হয়)|
আরো পড়ুন: ডুওলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট কী? কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
আবেদন পরবর্তী প্রক্রিয়া
পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালের মাধ্যমে এবং চিঠি বা ইমেলের মাধ্যমে জানানো হয়। এখানে প্রার্থীর আবেদন ও কাগজপত্রগুলো যাচাইকরণে ৩০ সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
আবেদনের প্রাথমিক ধাপে উতড়ে গেলে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জুম বা স্কাইপের মাধ্যমে মৌখিক সাক্ষাৎকার নিতে পারে। যাবতীয় যাচাই-বাছাই শেষে সাধারণত জুনের শেষের দিকে চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়।
ফলাফল ইতিবাচক হলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রথম সেমিস্টারের জন্য টিউশন ফি দিতে বলা হয়। আর এই ফি প্রাপ্তির পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীকে তার কাঙ্ক্ষিত অফার লেটারটি পাঠানো হয়। এটি পরবর্তীতে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে।
চেক প্রজাতন্ত্রের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন পদ্ধতি
অফার লেটার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভিসার কাজ শুরু করে দিতে হবে। চেক প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী ডি-টাইপ ক্যাটাগরিই হচ্ছে স্টুডেন্ট ভিসা, যেখানে ৯০ দিনেরও বেশি সময় থাকার অনুমতি দেয়া হয়। ভিসার মেয়াদ থাকে সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত; এরপর ভিসা আবার রিনিউ করতে হয়।
আবেদনের জন্য https://frs.gov.cz/en/forms-and-documents/-এই লিঙ্কে যেয়ে অনলাইন আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া ফর্ম ডাউনলোড করে কম্পিউটারের মাধ্যমে অথবা প্রিন্ট করে হাতে লিখেও পূরণ করা যেতে পারে। ফর্মের সব তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদানের পর সব শেষে সই করতে হবে। ইলেক্ট্রনিকভাবে এই আবেদনের সময় ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো সঙ্গে থাকা দরকার।
আরো পড়ুন: যে ১০টি দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অল্প খরচে পড়তে পারবেন
দরকারি কাগজপত্র
চেক প্রজাতন্ত্রের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করার জন্য যে নথিগুলো প্রস্তুত রাখতে হয়, সেগুলো হলো-
· চেক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ভর্তির অফার লেটার
· দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা সহ একটি বৈধ পাসপোর্ট, যার মেয়াদ থাকতে হবে চেক প্রজাতন্ত্রে উপস্থিত হওয়ার দিন থেকে ন্যূনতম ৩ মাস পর্যন্ত।
· সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
· দেশটিতে থাকার জন্য আর্থিক তহবিলের প্রমাণপত্র ( কমপক্ষে ৭৮ হাজার ২৫০ কোরুনা বা প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯৯৭ টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট )
· মেডিকেল রিপোর্ট
· আবাসন নিশ্চিতকরণের প্রমাণ
· পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ( অফিসিয়াল রাবার স্ট্যাম্পসহ চেক ভাষায় অনুবাদ করা হতে হবে )
· চেক প্রজাতন্ত্রে পৌছার দিন থেকে কমপক্ষে ৯০ দিনের জন্য ভ্রমণ চিকিৎসা বীমার প্রমাণপত্র
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও পাসপোর্ট ছাড়া আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত সমস্ত নথি চেক ভাষায় হতে হবে। পাসপোর্ট ও ছবি ছাড়া ব্যতিত কোনো নথি ১৮০ দিনের বেশি পুরনো হতে পারবে না।
আরো পড়ুন: মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা: উপায়, খরচ ও সুযোগ-সুবিধা
৫৬২ দিন আগে
ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা: আবেদন পদ্ধতি, খরচ ও যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা
সমৃদ্ধির সহায়ক শিক্ষাব্যবস্থা, সুষ্ঠু পরিবেশ এবং উন্নত জীবন ধারণের মতো সম্ভাবনাগুলোর দ্বার উন্মোচন করে উচ্চশিক্ষা। এই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার সর্বোচ্চ আদর্শ মান বজায় রাখা উন্নত বিশ্বের দেশগুলো আকৃষ্ট করে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের। বিগত কয়েক দশক জুড়ে পৃথিবীর প্রথম সারির বিদ্যাপীঠগুলোর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ৯৯ শতাংশ শিক্ষার হার নিয়ে সগর্বে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে শৈল্পিক দেশ ফ্রান্স। বিশ্বের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীদের মতো বাংলাদেশের মেধাবীদেরও প্রতি বছর স্বাগত জানাচ্ছে দেশটি। চলুন, ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশটিতে আবেদন ও খরচসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা
অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আবেদনকারীর পূর্ববর্তী ডিগ্রি থেকে ন্যূনতম ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ মার্কস নেওয়া হয়।
মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য পূর্বে ডিগ্রিগুলো একই বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে থাকতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিন্ন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকার পরেও অতিরিক্ত ক্রেডিট কোর্সের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। পিএইচডির জন্য আলাদাভাবে প্রয়োজন হয় একই বিষয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা ও প্রকাশনার। এ ছাড়া সেমিনার ও কনফারেন্সের মতো পাঠ্যক্রম বহির্ভূত ক্রিয়াকলাপ অতিরিক্ত মান সংযোজন করে।
আরো পড়ুন: সুইজারল্যান্ডে উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়
এমবিএর ক্ষেত্রে ফ্রান্সের শীর্ষ বিজনেস স্কুলগুলোতে আবেদনের জন্য কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। প্রাথমিক নিরীক্ষণে মূল্যায়ন করা হয় জিআরই কিংবা জিম্যাটের স্কোরকে।
সাম্প্রতিক শিক্ষাবর্ষগুলোতে পাঠদানের মাধ্যম হিসেবে ইংরেজিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবস্থাপনা, প্রকৌশল, ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোর ক্লাস ইংরেজিতেই করানো হয়। তাই ইংরেজি ভাষা দক্ষতার জন্য প্রয়োজন হবে টিওইএফএল এবং আইইএলটিএস।
তবে বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প পেতে হলে ফরাসি ভাষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি এই ভাষার দক্ষতা খণ্ডকালীন চাকরি এবং পড়াশোনা শেষে ভালো চাকরি পাওয়ার জন্যও অপরিহার্য।
আরো পড়ুন: জার্মানিতে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রান্সের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সগুলো
ফ্রান্সের পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে জগৎজোড়া খ্যাতি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- টুলুজ, গ্রেনোবল ও বোর্দোর জাতীয় পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং লিলি, লিয়ন, মার্সেই ও নান্টেসের সেন্ট্রাল স্কুল।
লিয়ন, রেনেস, টুলুস, রুয়েন, স্ট্রাসবার্গ ও সেন্টারভাল ডি লোয়ারের প্রত্যেকটি স্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।
কম্পিয়েনি, বেলফর মন্টবেলিয়ার ও ট্রয়াতে রয়েছে একটি করে টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্যারিস, ক্যাচান, লিয়ন ও রেনেসে আছে ৪টি হায়ার এডুকেশন ইন্সটিটিউট।
আরো পড়ুন: সুইডেনে স্কলারশিপ পাওয়ার কিছু উপায়
২০টি জাতীয় ইন্সটিটিউটের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- কলেজ ডি ফ্রান্স, ন্যাশনাল কনজারভেটরি অব আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড সিভিলাইজেশন এবং স্কুল অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সাইন্স।
এগুলোসহ অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিষয়গুলো হচ্ছে পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থায়ন, কৃষিবিদ্যা, জীববিদ্যা, কলা, সংস্কৃতি, নকশা ও ফ্যাশন।
৫৬৬ দিন আগে