এশিয়া
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৭৬, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
গেল বুধবারের ভয়াবহ বন্যার চার দিন পর আজ শনিবারও নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় চাপা পড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে সাতজন নিহত এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দুই অঞ্চলে মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৬ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর অন্যতম নুয়াকোটে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। তবে দুপুরের আগে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসার পর আবারও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, কিছু হেলিকপ্টারে পোশাক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বিস্কুট ও চালসহ ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়। অন্য হেলিকপ্টারগুলো বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষদের নিয়ে ফিরে আসে।
২১ ঘণ্টা আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ ২৯৮০
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে ২ হাজার ৪২৬ জন হয়েছে।
এছাড়া চীনের অংশে হতাহত ও জীবিতদের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে ৫৫৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সদস্যরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবার আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা এবং চীনের তিব্বত অংশে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং সীমান্ত ক্রসিংসহ কয়েকটি স্থানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
বাসনেত বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে ঘন কাদায় ভরা একটি সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা ঝুড়ি ও দড়ির সাহায্যে কয়েকজনের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর কাদা এবং হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য সীমিত জায়গা থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নতুন বন্যার সতর্কতার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিতে হয়েছে।
বুধবারের প্রাথমিক বন্যার পর হিমালয়ের উঁচু এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে একটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়। হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
তবে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত হ্রদটির আয়তন কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার বা ৩২ ফুট নেমেছে।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের বন্যাকবলিত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে শনিবার নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন বহু মানুষ। একটি ত্রাণকেন্দ্রে সামরিক সদস্যরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামসংবলিত কাগজ দেওয়ালে টাঙিয়ে দেন। স্বজনরা সেগুলো ঘিরে প্রিয়জনদের নাম খুঁজতে থাকেন। অনেকে তালিকার ছবি তোলেন এবং নাম খুঁজতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চীনের সঙ্গে নেপালের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরেও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে ও ভেলায় করে সেখানে পৌঁছাচ্ছেন। ড্রোনের সাহায্যেও কিছু উদ্ধারকর্মীকে এলাকায় নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তারা জীবিতদের সন্ধানে ডাকাডাকি করছেন।
বন্যার সময় ওই সীমান্ত চেকপোস্টের ভবনটিতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা সেখানে কাজ, ট্রেকিং অথবা একটি পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।
১ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: নিহত বেড়ে ৫৪৩, নতুন হ্রদ থেকে ফের বন্যার আশঙ্কা
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে চীন। দুই দেশের এ দুর্যোগে দেড় হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্যে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায় যে বন্যায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫৩৮। তবে দেশটির পুলিশ জানায়, এর সংখ্যা ৫৪৭ জন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৯০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এর মধ্যেই বন্যার উজানে নতুন তৈরি হওয়া ও উপচে পড়া একটি হ্রদ থেকে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ।
বুধবারের ওই ভয়াবহ দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে আজ শুক্রবারও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নতুন হ্রদ থেকে ফের বন্যার শঙ্কা
বুধবারের দুর্যোগের পর উজানে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে। হ্রদটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে বলে জানিয়ে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানায়, হ্রদটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এতে জমা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ গিরং বন্দরের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ অবস্থিত। কাদা ও বন্যার পানিতে গিরং বন্দরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিসিটিভির তথ্যমতে, হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৯৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যা গিরং বন্দরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার মিটার উঁচুতে।
সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় নেপাল সেনাবাহিনী ভোতেকোশি নদীর পরিস্থিতি পরিদর্শনে সীমান্ত এলাকায় একটি দল পাঠিয়েছে।
২ দিন আগে
নেপালের বন্যায় ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজ
তিব্বতে হিমবাহ ধসে চীন ও নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ২৭৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় কম্পন শনাক্ত হওয়ার তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রবল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকার জনবসতি, সড়ক, সেতু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রাসুয়ার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এবং নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যায় নিখোঁজ অনেকেই ট্রেকিং কিংবা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার জন্য ওই এলাকায় ছিলেন।
নেপাল পুলিশের হিসাবে দেশটিতে অন্তত ২৭০ জন নিহত এবং ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ১১৩ জন নেপালি পর্যটক, সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৮৫ জন সদস্য এবং রাসুয়া জেলার ১৬১ জন বাসিন্দা রয়েছেন। এছাড়া নুয়াকোট জেলার একজন বাসিন্দাও নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার পরে দেশটির পর্যটন বোর্ড জানায়, দেশটিতে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া নেপালের অংশে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাবে, নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক—১৭৯ জন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই তিব্বতের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন, ইউক্রেনের ৫৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ হিসেবে বিবেচিত ৫৩ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের মধ্যে ৪৬ জন পর্যটক রয়েছেন এবং নেপালি কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কাজ করা দেশটির নয়জন নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ছাড়াও সিঙ্গাপুরের আটজন, জার্মানির আটজন পর্যটক, রাশিয়ার আটজন, দক্ষিণ আফ্রিকার ছয়জন, লাটভিয়ার ছয়জন এবং নিউজিল্যান্ডের পাঁচজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন বোর্ড।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পাঁচজন জাপানি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশের পর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
এছাড়া চারজন ফরাসি, তিনজন বেলজিয়ান এবং তিনজন স্প্যানিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি ইতালি, কাজাখস্তান, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের দুজন করে নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্যটন বোর্ড।
সেই সঙ্গে বেলারুশ, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, ইসরায়েল, লিথুয়ানিয়া, ফিলিপাইন, বুলগেরিয়া, সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া ও সুইডেনের একজন করে নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে বোর্ড জানিয়েছে।
২ দিন আগে
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩৫৩
হিমবাহ ধসে কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে নেপাল-চীন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নিহত বেড়ে ৩৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট প্রবল পানি ও কাদার স্রোত কয়েকটি জনপদে আঘাত হানে। এতে নেপালের পাশাপাশি তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যায় ৩৫৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সেই সঙ্গে তিব্বতে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন এবং সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন।
ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা ভিডিওতে নেপালের ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা উঠে আসে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় বন্যার পানির স্রোতে মানুষ ভেসে যাচ্ছে এবং ভবন ও সেতু ধসে পড়ছে।
নুয়াকোট জেলার সোলি গ্রামের প্রায় ২৫টি বাড়ি নিয়ে গঠিত জনপদটি প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরাজন পৌডিয়াল। তার বাবা-মা ও স্বজনরা ওই গ্রামে থাকেন। পরিবারের খোঁজ নিতে আজ বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে গেছেন।
পৌডিয়াল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খবর নেই। আশঙ্কা করছি, আর কোনো খবর পাওয়া যাবে না।’
বৈশ্বিক উষ্ণায়নে হুমকিতে হিমালয় অঞ্চলের জনপদ
ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশজুড়ে বিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালায় বিশ্বের অনেক উঁচু শৃঙ্গ ও হিমবাহ রয়েছে। পর্বতমালার খাড়া ঢাল ও নিচের সবুজ উপত্যকাগুলো বন্যা, ভূমিধস ও চরম আবহাওয়ার জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ায় হিমবাহ গলে যাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। কাঠমান্ডুর গবেষকেরা চলতি বছরের শুরুতে দেখতে পান, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো দ্রুত গলছে এবং ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার হার দ্বিগুণ হয়েছে।
২ দিন আগে
নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১৬৫, নিখোঁজ প্রায় দেড় হাজার
নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে এখন পর্যন্ত ১৬৫ জন নিহত হাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপালের সরকারি কর্তৃপক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ’ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ নেই বলে জানিয়েছে নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় কম্পন শনাক্ত হওয়ার তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রবল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকার জনবসতি, সড়ক, সেতু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রাসুয়ার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এবং নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩ দিন আগে
টোকিওতে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ৩৭
জাপানের পূর্বাঞ্চলে স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে টোকিওসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তবে ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির প্রাথমিক মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ইবারাকি অঞ্চলের দক্ষিণে। ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি সৃষ্ট হয়েছে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮।
জাপানের আঞ্চলিক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে পাঁচটি অঞ্চলের অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে টোকিওতে ১৫ জন, সাইতামায় ৯ জন, কানাগাওয়ায় ৮ জন, চিবায় ৪ জন ও ইবারাকিতে ১ জন আহত হয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, ভোরে মানুষ কিছু যখন ঘুমিাচ্ছিল, ভূমিকম্পটি তখন আঘাত হানে। সে সময় মানুষ ঘুম ভেঙে আকস্মিক কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়েন। আহতদের বেশিরভাগই ওঠার সময় পড়ে গিয়ে অথবা আসবাবপত্র ও দরজার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হয়েছেন।
জাপানের ইয়োমিউরি সংবাদপত্র জানিয়েছে, কানাগাওয়া অঞ্চলের ইয়োকোহামায় ৮০ বছর বয়সী এক নারী বিছানা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে নিতম্বে আঘাত পেয়েছেন।
এদিকে, টোকিওর পূর্বাঞ্চলের তাইতো এলাকার ২৩ বছর বয়সী এক যুবক আসাহি সংবাদপত্রকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় তিনি কেনাকাটা করছিলেন। এ সময় তিনি ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পাওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরই তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করেন। তিনি বলেন, ভবনটি কাঁপতে থাকায় তাক থেকে পণ্য পড়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের কারণে টোকিও ও নারিতা বিমানবন্দরের সঙ্গে চলাচলকারী এক্সপ্রেস ট্রেন এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য স্থানীয় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হয়। তবে ভূমিকম্পের মধ্যেও শিনকানসেন বুলেট ট্রেন স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, ‘এ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে।’
এদিকে, জাপান আবহাওয়া সংস্থা টোকিওর বাসিন্দাদের পরবর্তী এক সপ্তাহে আরেকটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবারের ভূমিকম্পে টোকিওতেও বেশ জোরালোভাবে কম্পন অনুভূত হয়। সে সময় টোকিওর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। তবে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের ফুটেজে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় মিতো ও সাইতামাসহ আশপাশের শহরগুলোর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে, টোকিওতে বেশ কয়েকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। এ ভূমিকম্পে এসব স্থাপনার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে নিউক্লিয়ার রেগুলেশন কর্তৃপক্ষ।
গত মাসে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কিউশু দ্বীপের কুমামোতো এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৩৮ জন নিহত ও ৩৬৪ জন আহত হয়েছিলেন।
৭ দিন আগে
কাবুলে স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলা, অর্ধশতাধিক শিশু আহত
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি স্কুলের কাছে গ্রেনেড হামলায় অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় ওই বিস্ফোরণ হয়।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান সোমবার রাতে বলেন, হামলায় ‘বেশ কয়েকজন শিশু’ আহত হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক রিচার্ড বেনেট মঙ্গলবার আগের দিনের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, স্কুলের কাছে বহু শিশুকে আহত করা এই জঘন্য হামলার নিন্দা জানাচ্ছি।
আফগান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে অর্ধশতাধিক শিশু আহত হয়েছে। রাজধানীর যে এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সেখানে প্রধানত হাজারা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন।
আফগানিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ হাজারা সম্প্রদায়ের মানুষ। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছেন। হাজারা সম্প্রদায়ের অধিকাংশই শিয়া মুসলিম। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের মতো সুন্নি উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো অতীতে বারবার তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বৈষম্যেরও শিকার হয়েছেন।
২০২১ সালের মে মাসে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের কয়েক মাস আগে কাবুলের একটি স্কুলে তিনটি বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। নিহতদের সবাই ছিলেন হাজারা সম্প্রদায়ের এবং অধিকাংশই ছিলেন স্কুল ছুটি শেষে বের হওয়া কিশোরী।
সোমবার বিস্ফোরণের ঘটনা যে স্কুলের কাছে ঘটেছে, সেই স্কুলটিও কাবুলের দাশত-ই-বারচি এলাকায় অবস্থিত। রাজধানীর এই এলাকাটি হাজারা সম্প্রদায়ের প্রধান আবাসিক এলাকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট বলেন, হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে একটি স্বাধীন তদন্ত করা জরুরি।
তিনি লিখেছেন, ‘আবারও কাবুলের হাজারা অধ্যুষিত এই এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। নিন্দনীয়!’
১২ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবসেও শোকের ছায়া, ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৫
আজ ১৭ আগস্ট, ৮১তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে ইন্দোনেশিয়া। তবে স্বাধীনতা দিবসের এই দিনটিতেও দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের খুঁজছেন বহু মানুষ। শনিবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৩৫ জন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গত এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পৌঁছানো হয়েছে শত শত টন ত্রাণও। তবে দুর্গম এলাকা এবং যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় সময়মতো সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে হাজারো মানুষ এখনও খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
শনিবারের ভূমিকম্পে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাংগারাই অঞ্চল। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় প্রদেশটির গভর্নর গতকাল রবিবার ১৪ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৬টার দিকে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভূমিকম্পের পর দেশটির কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৯৫টি পরাঘাত বা আফটার শক রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে ৪৬টি পরাঘাত স্থানীয় বাসিন্দারা অনুভব করেছেন। নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় ফ্লোরেসের হাজারো মানুষ ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপলের তাঁবু টাঙিয়ে রাত্রিযাপন করছেন।
১২ দিন আগে
বিহারে মন্দিরে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক, পদদলিত হয়ে নিহত ৭
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে আজ সোমবার পদদলনের ঘটনায় সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, বিহারের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিমবঙ্গের তীর্থযাত্রীদের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লেগে অন্তত সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরের কাছে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার হাজার হাজার ভক্ত প্রার্থনা করতে ওই মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রাবণ মাসটি শিবের উপাসনার জন্য উৎসর্গীকৃত এবং এ সময় উপবাস, প্রার্থনা ও বর্ষাকালীন বিভিন্ন উৎসব পালিত হয়।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু মানুষকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র কুমার। তিনি বলেন, পদদলনের কারণ এখনও তদন্ত করা হচ্ছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে ভক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।
শৈলেন্দ্র কুমারের বরাতে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) খবরে বলা হয়, হুড়োহুড়ি করে এগিয়ে আসা মানুষের চাপে ব্যারিকেডের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে অনেকে পড়ে গেলে তাদের ওপর অন্যরা পড়ে যান এবং পদদলনের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মন্দিরনগরী তারাপীঠে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চারতলা একটি হোটেলের নিচতলায় আগুন লাগে। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে পিটিআই।
খবরে বলা হয়, হোটেলের অনেক অতিথিই তারাপীঠে প্রার্থনা করতে আসা তীর্থযাত্রী ছিলেন। সেখানে একটি বড় মন্দির কমপ্লেক্সে শিবের একটি মন্দিরও রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের বেশ কিছু সময় পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সেখান থেকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন দগ্ধ হওয়ার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, অন্যরা ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ ও শ্বাসরোধজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সংস্থাটিকে জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বৈদ্যুতিক উপাদানে আগুন লাগার পর অভ্যর্থনা এলাকার কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ধর্মীয় উৎসবের সময় ভারতে এ ধরনের পদদলনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে সাধারণ। বড় বড় ধর্মীয় সমাবেশে কখনো কখনো লাখ লাখ মানুষ সীমিত জায়গায় জড়ো হন, যেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে না।
গত বছরের জানুয়ারিতে মহাকুম্ভ উৎসবের সময় নদীতে স্নান করতে গিয়ে পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। মহাকুম্ভকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১৩ সালে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রীরা একটি সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় পদদলিত হয়ে এবং নিচের নদীতে ডুবে অন্তত ১১৫ জন নিহত হন।
১৩ দিন আগে