এশিয়া
চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চীনে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) পাকিস্তানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেইজিং এ দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। চীনের এ মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাত নিরসনই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, উত্তর চীনের উরুমকিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি চীন।
এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান ও প্রতিবেশী আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে উরুমকিতে এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবানকে (টিটিপি) নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান। অবশ্য এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে কাবুল।
গত মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পাকিস্তান অবশ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, তারা কেবল একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার তখন বলেছিলেন, কোনো হাসপাতালে নয়, কেবল সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং তাদের সহায়তাকারী সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসলামাবাদ।
উভয় পক্ষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখন আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের তুলনায় বর্তমানে লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কম। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘খোলা যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছিল।
এ সহিংসতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ আল-কায়েদা এবং আইএসের মতো গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্রমতে, চীন মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়ার পর উভয় পক্ষ তা গ্রহণ করলে নতুন করে এ আলোচনা শুরু হয়। এর আগে, অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং নভেম্বরে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনাও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
৩ দিন আগে
রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৯ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানটির ছয়জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রী রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম।
খবরে বলা হয়েছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত অ্যান-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ও আরআইএ নভোস্তির বরাতে জানা যায়, টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত বিমানটি একটি খাড়াই পাহাড়ে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, বিমানটিতে মোট সাতজন ক্রু সদস্য ও ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাকি একজন ক্রু সদস্য বেঁচে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উড্ডয়ন বিধিমালা-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বাখচিসারাই জেলার পার্বত্য বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবরে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ ছিল না বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ইভানোভো অঞ্চলে একটি অ্যান-২২ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন ক্রু নিহত হন। তার আগে অক্টোবরে লিপেৎস্ক অঞ্চলে একটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাইবেরিয়ার ইরকুত্স্ক অঞ্চলে একটি টু-২২এম৩ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়।
এছাড়া, ২০২২ সালের অক্টোবরে আজভ সাগর উপকূলবর্তী ইয়েইস্ক শহরের একটি আবাসিক এলাকায় একটি সু-৩৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন।
৩ দিন আগে
সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভে মৃত্যু: নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেপ্তার
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালের জেন-জি নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের বিক্ষোভে বেশকিছু প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ (কেপি) শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে নিজ বাসভবন থেকে প্রভাবশালী এই কমিউনিস্ট নেতাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দাঙ্গা প্রতিরোধ সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের বেশ কয়েকটি ট্রাক দুই নেতার বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে কাঠমান্ডু জেলা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
নেপালের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। এটি কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শুরু মাত্র।’
সরকার গঠিত একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ওলি, লেখাক এবং বিক্ষোভ চলাকালীন তৎকালীন পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছিল।
চলতি মাসের সংসদীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির বিপুল জয়ের পর র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার একদিন পরই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। শাহ এবং গুরুং উভয়ই বিক্ষোভে হতাহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভে ৭৬ জন নিহত এবং ২ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। উত্তেজিত জনতা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, থানা এবং শীর্ষ রাজনীতিবিদদের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করলে তারা সামরিক হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর নেপালে এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন।
‘জেন জি’ অ্যাক্টিভিস্টদের সেই তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে গত ১২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশীলা কারকিকে নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যিনি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করেন।
৮ দিন আগে
দক্ষিণ কোরিয়ার অটো পার্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ১৪ জন নিহত
দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেজনে একটি অটো পার্টস কারখানায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৫৯ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পাঁচ শতাধিক ফায়ার সার্ভিসকর্মী, পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তবে কেউ প্রাণসংকটে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কারখানা এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
কারখানাটি আনজুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বলে জানা গেছে।
দেজনের দেদক জেলার ফায়ার চিফ নাম দুক-উ জানান, আগুনে কারখানার একটি ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। সেটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় প্রথমে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে কাঠামো ঠান্ডা করতে ড্রোন ও অগ্নিনির্বাপক রোবট ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তারপর নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়।
নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ তৃতীয় তলার একটি জিমে পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া দ্বিতীয় তলার একটি পানির ট্যাংকের কাছে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া নিখোঁজ সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। তিনি নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আগুনের সঠিক কারণ জানা না গেলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাশের স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং বিস্ফোরক রাসায়নিক আলাদা করতে কাজ করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ কেজির বেশি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কেউ কেউ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ায় আহত হয়েছেন, আবার অনেকে ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ায় অসুস্থ হয়েছেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাদের মধ্যে চারজনের হাড় ভাঙাসহ বিভিন্ন জখমে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় বিমানসহ প্রায় ১২০টি যান ও সরঞ্জাম, একটি পানি নিক্ষেপকারী যান এবং দুর্গম স্থানে ব্যবহারের জন্য দুটি অগ্নিনির্বাপক রোবট মোতায়েন করা হয়।
১৪ দিন আগে
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের হামলায় ৪০০ জন নিহতের দাবি, ইসলামাবাদের অস্বীকার
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছে আফগানিস্তান।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
গত মাসের শেষ দিকে শুরু হওয়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ভেতর সংঘাতের ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় ঘটনা। এই সময়ে সীমান্তে বারবার সংঘর্ষসহ আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক পক্ষগুলো বারবার সংযম প্রদর্শন ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনও তা আমলে নেয়নি যুদ্ধরত এ দুই দেশ।
তবে সর্বশেষ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান বলেছে, তারা কোনো হাসপাতাল বা বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা করেনি। ইসলামাবাদের দাবি, পূর্ব আফগানিস্তানে তারা যে হামলা চালিয়েছে, সেগুলোতেও কোনো বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
আফগানিস্তান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এক এক্স পোস্টে জানান, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের ওই হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। হামলায় ২ হাজার শয্যার ওই হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০০ জন এবং আরও অন্তত ২৫০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর এক্সে প্রকাশিত ভিডিও থেকে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী সার্চলাইট ব্যবহার করে হতাহতদের সরিয়ে নিচ্ছে এবং অগ্নি নির্বাপক কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
ফিতরাত জানান, উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং মরদেহ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এ হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে আফগানিস্তানের চারজন নিহত হয়েছেন।
এর মাধ্যমে প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ-সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করল।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্স পোস্টে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ করেছেন তিনি।
নিহতের সংখ্যা যে এত বেশি, তা সামনে আসার আগেই এক এক্স পোস্টে তিনি বলেছিলেন, যারা এই বর্বর হামলার শিকার হয়েছেন, তারা সবাই ওই হাসপাতালের রোগী ছিলেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এই অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই। এটি স্বীকৃত নীতিমালা ও মানবতার বিরুদ্ধ অপরাধ।’
অভিযোগ অস্বীকার পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মুশাররফ জায়েদি রীতিমত অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তার দাবি, কাবুলের কোনো হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে তার এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি পোস্টে জানান, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী একটি সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালিয়ে কাবুল ও নানগারহার প্রদেশে শুধু সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, কাবুলের দুটি জায়গায় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও লেখেন, ‘সকল লক্ষ্যবস্তুই পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু যেসব অবকাঠামো আফগান তালেবান সরকার এবং তার সন্ত্রাসীদলগুলোকে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাতে সাহায্য করবে, সেগুলোই আমাদের লক্ষ্যবস্তু।’
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ও আফগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অযোোজানায়জাবিহুল্লাহের দাবি পুরোপুরি মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। এটি জনমত প্রভাবিত করার পাশাপাশি সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের অবৈধ সমর্থন ঢাকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এ হামলা ছিল মূলত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত। সাধারণ মানুষ বা বেসামরিক কোনো স্থাপনায় হামলা কখনোই তাদের অভিপ্রায় ছিল না।’
জঙ্গি দমনে পদক্ষেপ নিতে আফগানিস্তানকে জাতিসংঘের আহ্বান
পাকিস্তানের এই হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসবাদ দমনে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এতে পাকিস্তানে সংঘটিত নির্দিষ্ট হামলার উল্লেখ না থাকলেও সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে সন্ত্রাসী হামলাগুলোকে কঠোরভাবে নিন্দা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানি তালেবানরাও (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি) আছে, যারা পাকিস্তানের ভেতরে মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, তারা টিটিপিকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে, যাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ ছাড়াও নিষিদ্ধ বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং অন্যান্য জঙ্গিদেরও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাবুল।
১৮ দিন আগে
জ্বালানি সাশ্রয়ে শ্রীলঙ্কায় বুধবার ছুটি ঘোষণা, এশীয় দেশগুলোতে নানা পদক্ষেপ
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা প্রতি বুধবার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে বলেন, আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়ায় প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল আসত। যুদ্ধের কারণে সেই পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শীলঙ্কাও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশটিতে আরও একদিন সাপ্তাহিক ছুটি বাড়াল। গত বছর এ প্রণালিটি দিয়ে প্রবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোতে আসে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে এশিয়াজুড়ে নানা পদক্ষেপ
সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার অন্যান্য দেশও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
থাইল্যান্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ওপর নির্ভরতা কমাতে স্যুট ছেড়ে ছোট হাতার টি-শার্ট পরার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।
এছাড়া মিয়ানমারে লাইসেন্স প্লেট নম্বরের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোকে একদিন অন্তর চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং চালু করা হয়েছে।
ফিলিপাইনে সরকারি কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সরকারি খরচে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন। ক্রমবর্ধমান তেলের দামের সঙ্গে মানিয়ে নিতে মার্কোস রিকশাচালক, কৃষক এবং জেলেদের জন্য ৫০ থেকে ৮৪ ডলার নগদ সহায়তার ঘোষণাও করেছেন।
ভিয়েতনামে নাগরিকদের বেশি করে বাড়িতে অবস্থান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া সাইকেল চালানো, গণপরিবহন ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার আরও কিছু পদক্ষেপ
শ্রীলঙ্কার এ নতুন চার দিনের কর্মদিবস স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে স্বাস্থ্য ও ইমিগ্রেশনের মতো জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে। সরকারি অফিস যেন টানা তিন দিন বন্ধ না থাকে, সেজন্য শুক্রবারের পরিবর্তে বুধবারকে ছুটির দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গাড়িচালকদের এখন ন্যাশনাল ফুয়েল পাসের জন্য নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি কেনা সীমিত করা বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার জ্বালানি কেনা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ কোটা ব্যবস্থা অনেক লঙ্কান নাগরিকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। ২০২২ সালে দেশটির চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রথম এই রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
১৯ দিন আগে
পাকিস্তানে ঈদের ভাতা নিতে গিয়ে ছাদ ধসে ৮ নারী নিহত
পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের একটি গ্রামে সরকারি কল্যাণ ভাতা নিতে জড়ো হওয়া নারীদের ভিড়ের মধ্যে একটি দোকানের ছাদ ধসে অন্তত আটজন নারী নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এ ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
উদ্ধারকর্মী আশিক মাহমুদ জানান, শতাধিক নারী ভাতা নিতে সেখানে জড়ো হলে দোকানদার কিছু নারীকে ছাদের ওপর উঠতে বলেন এবং অন্যরা দোকানের ভেতরে অবস্থান করেন। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ সহ্য করতে না পেরে ছাদটি ধসে পড়ে।
পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলায় এসব নারী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আর্থিক সহায়তা নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
২০০৭ সালে বন্দুক ও বোমা হামলায় নিহত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর নামে চালু করা বেনজির ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রামের আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো নিম্নআয়ের পরিবারের নারী নগদ সহায়তা পেয়ে থাকেন। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি তিন মাসে ১৩ হাজার রুপি (প্রায় ৪৫ ডলার) করে পায়।
রমজান মাসে দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য ও নগদ সহায়তা বিতরণের সময় পাকিস্তানে প্রায়ই ভিড় ও পদদলনের ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে করাচিতে একটি কারখানার বাইরে রমজানের খাদ্য ও নগদ সহায়তা নিতে গিয়ে শত শত মানুষ ভিড় করলে পদদলনে অন্তত ১১ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছিল।
১৯ দিন আগে
নেপালে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে পড়ে ৭ ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিহত
নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভারতীয় তীর্থযাত্রী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস পাহাড়ি সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে শহিদ লাখান গ্রামের কাছে মহাসড়ক থেকে মন্দিরে যাওয়ার একটি সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাতজনই ভারতীয় তীর্থযাত্রী। বাসে থাকা আরও সাতজন ভারতীয় তীর্থযাত্রী আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত অন্য দুজন হলেন নেপালি বাসচালক ও তার সহকারী।
নেপালের জনপ্রিয় হিন্দু ধর্মীয় তীর্থস্থান মনোকামনা মন্দির দর্শন শেষে ফেরার পথে ছিলেন তীর্থযাত্রীরা। ভক্তদের বিশ্বাস, ওই মন্দিরে গেলে দেবী তাদের মনোবাসনা পূরণ করেন।
পুলিশ জানায়, বাসটি ঢালু পথে নামার সময় একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং প্রায় ১৫০ মিটার নিচে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে একটি খাদে গিয়ে পড়ে।
ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নেপালে প্রায়ই বাস দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বাগমতি প্রদেশের ধাদিং জেলার পৃথ্বী মহাসড়কে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও অন্তত ২৬ জন আহত হন।
কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে ধাদিংয়ের বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাউন্ডির কাছে চিনাধারা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে যায়। এরপর সেটি খাদের তলদেশে ত্রিশুলী নদীতে গিয়ে পড়ে।
২০ দিন আগে
দুর্নীতি মামলায় কাঠগড়ায় ইস্তাম্বুলের মেয়র, হতে পারে ২০০০ বছরের জেল
তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু ও তার ৪০২ জন সহযোগী বড় ধরনের দুর্নীতি মামলার বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরোধী এই নেতার বিরুদ্ধে ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে বিরোদী দলকে দমনের রাজনৈতিক চেষ্টা বলে মনে করছেন সমালোচকরা।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির আদালতে এই বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামোগলু প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ২৩ বছরের শাসনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। গত বছরের মার্চে তাকে আটক করার পরও কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের জন্য প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) তাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত ৪০২ জন আসামির অধিকাংশই ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির কর্মী। ২০১৯ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইমামোগলু। এই আসামিদের মধ্যে অনেকেই সিএইচপির কর্মকর্তা। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকও রয়েছেন।
গত বছরের ১৯ মার্চ ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করার পর তুরস্কে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে সড়ক বিক্ষোভ শুরু হয়। গত দশ বছরের মধ্যে এটিই ছিল দেশটিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ আন্দোলন।
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে মোট ১৪২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হলো ২০১৫ সাল থেকে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামে একটি সংগঠন গঠন করার অভিযোগ। ওই সময় তিনি ইস্তাম্বুলের বেইলিকদুজু জেলার মেয়র ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের করা ৩ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র দরপত্র কারসাজি ও ঘুষের মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেননি। পাশাপাশি তারা সিএইচপির ভেতরে ইমামোগলুর রাজনৈতিক উত্থানকে অর্থায়ন করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার পথে নিয়ে গিয়েছে।
যদি এসব অপরাধে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তার ২ হাজার বছরেরও বেশি কারাদণ্ড হতে পারে।
শুক্রবার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে ইমামোগলু বলেন, সোমবারের এই বিচার তুরস্কের ইতিহাসে গণতন্ত্র রক্ষায় সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। এটি জনগণের ইচ্ছাকে অবদমিত করার একটি প্রচেষ্টা।’
ইমামোগলুর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ইমামোগলু ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন ফর প্রফিট’ নামের ওই সংগঠনের মামলা। এসব মামলায় তিনি কারাদণ্ডের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধও হতে পারেন। অন্যান্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জাল ডিপ্লোমা ডিগ্রি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অপমান করার অভিযোগ।
তবে সরকারের সমালোচকদের মতে, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে বিচারিক অভিযান চালাচ্ছে সরকার। এতে সিএইচপির নির্বাচিত প্রার্থীরা, বিশেষ করে অন্যান্য বড় শহরের মেয়ররা সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়েছেন।
২০২৩ সালে কংগ্রেসে নিয়মভঙ্গের অভিযোগে সিএইচপির শীর্ষ নেতৃত্বও আইনি চাপের মধ্যে রয়েছে।
ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির বিরুদ্ধে হওয়া এই মামলার পরিসর এবং এর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ নতুন একটি আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালত ভবনটি ইস্তাম্বুলের পশ্চিমে সিলিভ্রি কারাগার কমপ্লেক্সে নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে ইমামোগলুসহ অনেক আসামি বন্দি রয়েছেন।
নতুন আদালত ভবনটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মামলায় সংশ্লিষ্টদের কারাগারে বিদ্যমান একটি আদালতকক্ষে গাদাগাদি করে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।
সিএইচপি সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এটি তুলে ধরতে ইমামোগলুর সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটরের ভূমিকা।
ইমামোগলুর সমর্থকদের মতে, আকিন গুরলেক ২০২৪ সালের শেষ দিকে ইস্তাম্বুলের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে তিনি উপবিচারমন্ত্রী ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি সিএইচপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু করেন। পরে গত মাসে তিনি আবার সরকারে ফিরে গিয়ে বিচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সমালোচকরা আরও বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গোপন সাক্ষী ব্যবহার করা হচ্ছে, যাদের পরিচয় প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের কাছেও গোপন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আসামিদের দিয়ে সহ-আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ানো হচ্ছে, যা ন্যায়বিচারের অধিকার লঙ্ঘন করে বলে দাবি করছেন তারা।
তবে দেশটির সরকার বলছে, তুরস্কের বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক বেঞ্জামিন ওয়ার্ড বলেন, ‘গত এক বছরে সিএইচপির বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোকে আমরা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখছি।’
তিনি বলেন, ‘এই মামলাগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সরকার ইমামোগলুকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এজন্য রাষ্ট্রপক্ষ তার দলের দুর্নাম করার চেষ্টা করছে। এর ফলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
২৬ দিন আগে
তেহরানে ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেশটির রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হামলা চালায় তারা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলাকে ‘হুমকি অপসারণের’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানী তেহরানে তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।
খামেনি সেই সময় তার কার্যালয়ে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
তবে হামলার ফলে কোনও হতাহতের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
পরবর্তীতে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিস্ফোরণের খবর প্রচার করলেও এর কোনো কারণ উল্লেখ করেনি।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে দেশটিকে চাপে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজের এক বিশাল বহর মোতায়েন করেছে।
একই সময়ে পুরো ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার সম্ভাবনার বিষয়ে জনগণকে প্রস্তুত রাখতে একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছে।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
৩৬ দিন আগে