এশিয়া
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু করেছে। রুশ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চালু হওয়া সেতুটি তুমেন নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ১ কিলোমিটার (০.৬ মাইল)।
সেতুটিতে দুটি লেন রয়েছে এবং নতুন নির্মিত সীমান্ত চৌকি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন চলাচল করতে পারবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে রুশ সরকার।
ভিডিও লিংকের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রুশ প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে সীমান্তের কাছে পরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ রাশিয়ান ফেডারেশন ও ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার আরও বিকাশে শক্তিশালী গতি সঞ্চার করবে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ধরনের বিনিময় কর্মসূচি জোরদার হয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে গোলাবারুদ ও সেনাসদস্য সরবরাহ করছে।
এছাড়া মহামারির বিধি-নিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল হওয়ার মধ্যে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর কোরিয়ায় রুশ পর্যটকরাও যাতায়াত করছেন।
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ইতোমধ্যে একটি রেলসেতু ও বিমান যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ তুমেন নদীর ওপর যানবাহন চলাচলের জন্য একটি সেতু নির্মাণে সম্মত হয়। নদীটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সীমান্তের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর।
১২ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭ বিমানবন্দর বন্ধ, ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বিঘ্নিত
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে বিভিন্ন এলাকা ঢেকে গেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। স্কুলগুলোতে অনলাইন ক্লাসও শুরু করা হয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা কমে এলেও এই পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, আনাক ক্রাকাতাউয়ের টানা ২৫ ঘণ্টার অগ্ন্যুৎপাত গতকাল (রবিবার) শেষ হয়েছে। এতে লাভার ফোয়ারা সৃষ্টি হয় এবং ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৫ মাইল) দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে সোমবারও আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় ছিল। এদিন মাঝারি মাত্রায় থেমে থেমে অগ্ন্যুৎপাত, কালো ছাই নির্গমন ও স্থানীয়ভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানায় সংস্থাটি।
এয়ারনাভ ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, পরীক্ষায় জাকার্তাসহ আরও কয়েকটি শহরের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ রেখেছে। তবে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের পাগার আলাম শহরের আতুং বুংসু বিমানবন্দর সোমবার সকালে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইনজার্নি এয়ারপোর্টসের ব্যবস্থাপনায় থাকা চারটি বাণিজ্যিক বিমানবন্দর—জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা ও হালিম পেরদানাকুসুমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুং শহরের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা ও সুমাত্রার দক্ষিণ প্রান্তের লাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় প্রায় ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে এবং ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৭ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১২ দিন আগে
নয়াদিল্লিতে ভবন ধসে নিহত বেড়ে ৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ সত্য নিকেতন এলাকায় অবস্থিত ওই পাঁচতলা ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনটিতে একটি ছাত্রাবাস ছিল। এলাকাটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাসের কাছে এবং বেসরকারি ছাত্রাবাসের হিসেবে পরিচিত।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ, দমকল বাহিনী ও ভারতের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার সদস্যরা আজও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। ভারী যন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করা হচ্ছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আজ ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। ধ্বংসস্তূপের প্রায় ৮০ শতাংশ সরানো হয়েছে এবং এখন শুধু বেসমেন্টের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জন নিহত ও আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভবনটি অন্তত ৫৫ বছরের পুরোনো। কয়েক মাস ধরে সেটিতে সংস্কারকাজ চলছিল। কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও আগস্টে মূলত শিক্ষার্থীদের ভাড়াটিয়া হিসেবে সেখানে ওঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চাঁদ জানান, ভবনটি ধসে পড়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক বেসমেন্টে খননকাজ করছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বেসমেন্টে পানি জমে যাওয়া এবং পুরোনো ভবনটিতে চলমান সংস্কারকাজের কারণে ভবনটি ধসে পড়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন গুপ্তা।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে যার আওতায় জনসাধারণের ব্যবহৃত ভবন—বিশেষ করে ছাত্রাবাস, নার্সিং হোম ও স্কুল—নিয়মিত কাঠামোগত পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা সনদ পাওয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে আসবে। যেসব ভবন এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, সেগুলোতে কোনো ধরনের জনসাধারণের কার্যক্রম অনুমোদন করা হবে না বলেও জানান তিনি।
১২ দিন আগে
দুর্যোগে নিহত ১,৩০০ ছাড়িয়েছে, জাতীয় শোক পালন করছে নেপাল
২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার নেপালে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। এদিন সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
বন্যার ত্রয়োদশ দিনে এসে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া বিদেশিসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
হিন্দুপ্রধান দেশটিতে সাধারণত মৃত্যুর পর ১৩ দিন শোক পালন করা হয়। এ সময়ে নিকটাত্মীয়রা বাড়িতে অবস্থান করেন এবং স্বজন ও পরিচিতরা তাদের সমবেদনা জানাতে যান। ত্রয়োদশ দিনে মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
যেসব পরিবারের সদস্য এখনও নিখোঁজ, তাদের অনেকেই প্রতীকী শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠান পালন করেছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। প্রিয়জনের মরদেহ না পেলেও প্রতীকীভাবে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে কিছু পরিবার। তাদের কাছে এটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
এর আগে, সোমবারকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে নেপাল সরকার এবং সব সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেয়।
১২ দিন আগে
জলবায়ু পরিবর্তনে উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে নেপালের মতো দুর্যোগ
অতি সম্প্রতি নেপালের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের দিকে পানি, পাথর ও কাদার স্রোত ধেয়ে এলে পেমা তামাং ও তার প্রতিবেশীরা পাহাড়ের উপরের দিকে একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর গত বছরই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।
ইতোমধ্যে ভূমিকম্পপ্রবণ হিমালয়ের খাড়া পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উঁচু পর্বতের হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে ওই অঞ্চলে ঘন ঘন আকস্মিক বন্যা হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ কখনো কখনো ভয়াবহ দ্রুততায় বদলে যাচ্ছে। এক দুর্যোগের পর আরেক দুর্যোগের মধ্যে বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য খুব কম সময়ই মিলছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বাড়তে থাকায় এসব জনগোষ্ঠী টিকে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মন্দিরটির কথা উল্লেখ করে তামাং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘ভূমিকম্পে মন্দিরটি ধ্বংস হওয়ার পর মাত্র গত বছরই আমরা এটি পুনর্নির্মাণ করেছি। বন্যার কবল থেকে প্রাণ বাঁচাতে আমরা সেখানেই আশ্রয় নিই।’ কাঠমান্ডুর একটি বৌদ্ধবিহারে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসে তিনি এসব বলছিলেন।
নেপাল ও প্রতিবেশী চীনে ২৬ আগস্টের বন্যায় ১ হাজার ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে শত শত মানুষ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিমালয়ের একাধিক নদীতে শিলাস্তর ও হিমবাহের বরফ ধসে পড়ার পর ধ্বংসাবশেষ ও পানি প্রবল বেগে নেমে এলে এই বন্যার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিপর্যয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি যোগসূত্র স্থাপনের জন্য এখনই উপযুক্ত সময় নয়। তবে তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কাও বাড়ছে, বিশেষ করে হিমালয় পর্বতমালায়, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত বাড়ছে।
১৪ দিন আগে
নেপালে নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন স্বজনরা
নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের আর জীবীত উদ্ধারের আশা পরিত্যাগ করেছেন স্বজনররা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন শোকাস্তব্ধ নেপালবাসী।
নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে নিখোঁজ স্বজনদের মৃত ধরে নিয়ে কয়েকটি পরিবার এ ধরনের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করেছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। স্বজনের মরদেহ না পেলেও এই আনুষ্ঠানিকতা পালন কিছু পরিবারের জন্য আধ্যাত্মিক স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নুয়াকোটের মুকুন্দ রিজাল জানান, তার কয়েকজন চাচাতো ভাই ও তাদের মেয়েদের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে পরিবার তাদের প্রতীকী শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।
ত্রিশূলী নদীর তীরে এক পুরোহিত নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের প্রতীক হিসেবে খড় দিয়ে তৈরি অবয়ব তৈরি করেন। পরে সেগুলো ছোট ছোট কাঠের স্তূপ দিয়ে ঢেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতীকী চিতাগুলোর চারপাশে হিন্দু দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয় এবং স্বজনরা শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
নিখোঁজ পর্যটকদের কেউ কেউ যোগাযোগ করেছেন
এদিকে, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকজন বিদেশি পর্যটক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা জানিয়েছেন, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত অন্তত আরও পাঁচ পর্যটক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ই-মেইল বা ফোনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
১৬ দিন আগে
নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ১০০০ ছাড়িয়েছে; জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও আটকে বহু শ্রমিক
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় কাদায় চাপা পড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ মঙ্গলবারও জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ রবিবারের হিসাবে, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি।
দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০০-এর বেশি।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদগুলোতে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উড়োজাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে, নেপালের বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী বেসরকারি খাতের একটি সংগঠন জানিয়েছে, দেশটির রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৯০০ শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এসব শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, তাদের কেউ কেউ সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেন পাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকতে পারেন। তবে অন্যরা বলছেন, জীবিত অবস্থায় তাদের উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। এর মধ্যেই নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কাদায় ভরা তিনটি সুড়ঙ্গ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গেল বুধবার দুর্যোগ শুরু হওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হওয়া কয়েকজন শ্রমিক জানান, তাদের অনেক সহকর্মী তখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে ছিলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন)-এর সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে শুরুতে সাহায্য চাওয়ার পর থেকে আটকা পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকারীদের আর কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুর্যোগের ছয় দিন পর কিছু শ্রমিকের দমবন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দাঙ্গি।
পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে তৈরি বিশাল সুড়ঙ্গ
পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত বিশাল সুড়ঙ্গগুলোতেই আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার গ্রাৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী জ্যাকব স্টেইনার বলেন, এসব সুড়ঙ্গ এতটাই বড় যে এর ভেতর দিয়ে ট্রাক চলাচল করতে পারে। তার ভাষ্য, ভেতরে আটকা পড়া কয়েকজন শ্রমিকের কাছে অক্সিজেন পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন এবং তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কারণ শ্রমিকদের খাবার ও পানির প্রয়োজন।
১৮ দিন আগে
বন্যায় নেপাল-চীনে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ ৪,৭০০
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মোট নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখনও ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। এরই মধ্যে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ সোমবারও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৪ হাজার ২৪৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবার পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি, যার মধ্যে শতাধিক নেপালি রয়েছেন।
নেপালের রাসুওয়া ও নুয়াকোট জেলার বন্যাকবলিত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ৯০০ শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর একটি বেসরকারি সংগঠন।
নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন বা আইপিপিএএনের সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি বলেন, নিখোঁজ ৯০০ শ্রমিকের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি বিদেশি দল নেপালি উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দাঙ্গি বলেন, গত বুধবার ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার সময় কিছু শ্রমিক যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন এবং সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন। আবার যারা বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের কেউ কেউ কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের জানিয়েছেন যে তাদের অনেক সহকর্মী এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
১৯ দিন আগে
নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, নিহত ৮০০ ছাড়িয়েছে
নেপাল ও তিব্বতে বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। এই দুর্যোগে তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নেপালের ভোতেকোশি নদীতে পানির স্তর আবার বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় দুর্গত জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে বন্যার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, উজানে পানির প্রবাহ বেড়েছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ নেপালকে অবহিত করেছে। এরপর সর্বশেষ নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকে বারবার পাওয়া সতর্কবার্তায় তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘কখনো বলা হচ্ছে বন্যা আসছে, তখন আবার রাতেও উঁচু জায়গায় দৌড়ে যেতে হচ্ছে। আমার ৭২ বছর বয়সী বাবা ও ৭০ বছর বয়সী মা আছেন। আমাকে তাদের বহন করতে হয়। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’
ভয়াবহ ওই আকস্মিক বন্যার পঞ্চম দিনেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন।
২০ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৭৬, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
গেল বুধবারের ভয়াবহ বন্যার চার দিন পর আজ শনিবারও নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় চাপা পড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে সাতজন নিহত এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দুই অঞ্চলে মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৬ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর অন্যতম নুয়াকোটে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। তবে দুপুরের আগে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসার পর আবারও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, কিছু হেলিকপ্টারে পোশাক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বিস্কুট ও চালসহ ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়। অন্য হেলিকপ্টারগুলো বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষদের নিয়ে ফিরে আসে।
২১ দিন আগে