আফ্রিকা
ডিআর কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন, নিহত অন্তত ২২
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন লেগে অন্তত ২২ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।
আঞ্চলিক মেয়র শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কিনশাসার উত্তরে লিংওয়ালা পৌরসভায় একটি ভবনে গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা শনিবার ভোর পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন আগুন থেকে বাঁচতে সেখানে থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সরু করিডোরগুলোতে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। পরে কয়েকজনকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যাদের কেউ জীবিত, কেউ মৃত ছিল।
কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সিকে লিংওয়ালার মেয়র নরবার্ট মুশিঙ্গা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২২। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিআর কঙ্গোর উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’
কিনশাসার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব এলাকায় নগর উন্নয়নের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে এবং চলতি বছরও বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
১৩ দিন আগে
কঙ্গোয় ইবোলা আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যু ৩ হাজার ছুঁই ছুঁই
কঙ্গোয় ইতিহাসের দ্রুততম বিস্তার লাভ করা ইবোলার প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৯১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাইরাসে আক্রান্ত ১ হাজার ৩৬০ জনের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যা একটি ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি।
পূর্ব কঙ্গোয় অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট এবং মানুষের ব্যাপক স্থানান্তর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, যেখানে বাসিন্দারা আগে থেকেই অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছেন।
গত সপ্তাহে এ অঞ্চলের আরও দুটি নতুন স্বাস্থ্য এলাকায় ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং এটি ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ওই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের বাসিন্দা।
গেল শনিবার ইতুরি প্রদেশের মামবাসা শহরের উপকণ্ঠে একটি মরদেহ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানে সাড়া দিতে যাওয়া ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত একটি দলের ওপর হামলা হয়। দলের এক প্রতিনিধি এপিকে জানান, মাশেটি হাতে একদল তরুণ মরদেহ দাফনের স্থানটিতে হামলা চালায়। এতে দলটির সদস্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন এবং একজন আহত হন।
ইবোলা মোকাবিলা দলের সদস্য ফ্লোরিবার্ট মাজেনে বলেন, ‘মাঠে কাজ করতে এবং জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা আরও নিরাপত্তা দাবি করছি।’
ইবোলায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক হতে পারে। মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া এবং জানাজা বা শেষকৃত্যে মানুষের সমাগমের মাধ্যমে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে ইবোলা মোকাবিলায় কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ যেখানে সম্ভব সন্দেহভাজন আক্রান্তদের মরদেহ দাফনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এ নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও ভাইরাস। এটি ইবোলার একটি বিরল ধরন, যার অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
গত সপ্তাহে কঙ্গো স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখসারির কর্মীদের ইরভেবো টিকা দেওয়া শুরু করেছে। এর আগে ইবোলার আরও প্রচলিত ধরন জাইর-এর সৃষ্ট প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এই টিকা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য অনুমোদিত টিকা উদ্ভাবনে বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।
চলতি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তবে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এর সংক্রমণ ফেব্রুয়ারি থেকেই ছড়াচ্ছিল। শুরুতে তিনটি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন প্রায় ৬০টি এলাকায় এটি ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটনাই নজরদারিতে থাকা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বাইরে এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘটছে।
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম সীমিত করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিমানবন্দর বন্ধের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশটির ছয়টি প্রদেশে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশে বিদ্রোহীদের সহিংসতার কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক।
সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন বলছে, স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেশী উগান্ডা গত মাসে নিজেদের ইবোলামুক্ত ঘোষণা করলেও সীমান্ত পেরিয়ে ভাইরাসটির আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
১৮ দিন আগে
জিম্বাবুয়েতে গির্জার সদস্যদের বহনকারী মিনিবাসের দুর্ঘটনায় নিহত ২৭
জিম্বাবুয়েতে গির্জার সদস্যদের বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে দেশটির চিভু শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার পুলিশের মুখপাত্র পল নিয়াথি জানান, সাদা পোশাক পরার কারণে পরিচিত একটি জনপ্রিয় স্থানীয় আফ্রিকান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা একটি সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পথে একটি মহাসড়কে মিনিবাসটির সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়।
তিনি বলেন, রাজধানী হারারে থেকে ১৩২ কিলোমিটার দক্ষিণে চিভু শহরের কাছে ট্রাকটি একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় মিনিবাসটির সঙ্গে হয়।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসি নিউজ প্রাদেশিক সরকারের এক মন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানায়, দুর্ঘটনাস্থলেই ২৩ জন নিহত হন। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন মারা যান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের ছবিতে দেখা যায়, সংঘর্ষের পর মিনিবাসটিতে আগুন ধরে সেটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা নিয়াথি জানান, দুটি যানবাহনেই কতজন যাত্রী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই বাস, মিনিবাস ও অনিয়ন্ত্রিত সেডান ট্যাক্সির দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। বেপরোয়া গাড়ি চালনা এবং সড়কের বেহাল অবস্থা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনার ৯৪ শতাংশই মানুষের ভুলের কারণে ঘটে।
জাতিসংঘের আফ্রিকার জন্য অর্থনৈতিক কমিশনের (ইউএনইসিএ) তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে প্রায় তিন লাখ মানুষ নিহত হন যা বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশ। অথচ ১৫০ কোটি জনসংখ্যার মহাদেশ আফ্রিকায় বিশ্বের মোট যানবাহনের মাত্র ৩ শতাংশের মতো রয়েছে।
২০ দিন আগে
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ফেরিডুবিতে নিহত বেড়ে ৬৮
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে ফেরিডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাম্বিয়ার সীমান্তবর্তী কারিবা হ্রদে ফেরিটি ডুবে যায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রবল বাতাসের মধ্যে ফেরিটি উল্টে যায়।
সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এটি জিম্বাবুয়ের ইতিহাসে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা।
এদিকে, সর্বশেষ দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে টিকিট বিক্রির তথ্যের সূত্র দিয়ে সিপিইউ জানিয়েছিল, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া বেশকিছু শিশুও ফেরিটিতে ছিল।
উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত নৌবাহিনীর ইউনিটের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোসেফ মুচেচেসি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত আমরা ২২টি মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি। আশা করি আমরা সব মরদেহ উদ্ধার করতে পারব।’
জিম্বাবুয়ের পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১৮টি শিশু রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, যাত্রীদের বেশিরভাগই কারিবা শহরের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ী চিরৈণ।
দুর্ঘটনার দিন কারিবা শহরের জেলা হাসপাতালে স্বজনদের মরদেহ শনাক্ত করতে শত শত মানুষ জড়ো হন।
গত বৃহস্পতিবার কারিবা শহরে একটি গণ-স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শহরটিতে একে একে মরদেহ দাফন শুরু হয়।
এ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, ফেরিটি ছাড়ার পরপরই পানি ঢুকতে শুরু করলে তারা চালককে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছিলেন।
বেঁচে যাওয়া যাত্রী ৪৫ বছর বয়সী চান্সে সিয়ামাভু বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। একটি ঢেউ ডুবে যাওয়া ফেরিটিকে আবার ভাসিয়ে তুললে আমরা সেটির ওপর উঠে প্রাণে বাঁচতে পেরেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার জন্য ছোটাছুটি করছিলেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানতেন না। বেশিরভাগ মানুষই বাঁচতে পারেননি।’
কারিবা হ্রদ আয়তন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদ। এটি ২০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এবং এর প্রস্থ ৪০ কিলোমিটার।
জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ২৪১ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়। হ্রদটি তৈরির সময় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
এর আগে হ্রদটির জিম্বাবুয়ে অংশে ২০২১ সালের একটি নৌদুর্ঘটনায় পাঁচ যাত্রী ডুবে মারা যান।
তার আগে ২০১৪ সালে হ্রদের জাম্বিয়া অংশে ২৬ জন ডুবে মারা যান, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ছিল শিশু। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের বহনকারী নৌকাটি উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
৩১ দিন আগে
জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে ৪৪ প্রাণহানি
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে আজ বুধবার বিকেলে দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
টিকিট বিক্রির তথ্যের সূত্র দিয়ে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া বেশকিছু শিশুও ফেরিটিতে ছিল।
দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ফেরিটির এক ক্রু সদস্য জানান, মঙ্গলবার বড় ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যাওয়ার সময় এতে মোট ১৫৩ জন মানুষ ছিলেন।
ফেরিতে থাকা এক যাত্রী জানান, কারিবা শহরের তীর থেকে দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে একটি বিশেষায়িত পানির নিচে অনুসন্ধানকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিইউ।
আজ সকালে সিপিইউ জানিয়েছিল, দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিকেলে জিম্বাবুয়ের পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাত্র ৩২ মিনিটের ব্যবধানে দুটি পোস্টে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে। প্রথম পোস্টে মৃতের সংখ্যা ৩৮ জন জানানো হয়। পরে আরেক পোস্টে জানানো হয়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
কারিবা হ্রদ আয়তন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদ। জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৫০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়।
হ্রদটি তৈরির সময় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কারিবা বাঁধ থেকে জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া উভয় দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয়।
৩৭ দিন আগে
কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল
কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন।
দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অর্থ পরিশোধ নিয়ে কর্মবিরতির কারণে দেশটির দুর্গম এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোয় ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮১ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন। বর্তমানে সেখানে ৭০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও আইসোলেশনে রয়েছেন।
কঙ্গোতে গত ১৫ মে থেকে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর তিন মাসের মধ্যেই এমন ভয়াবহর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথম ৯ সপ্তাহে ১ হাজার মানুষ মারা যান। পরে মাত্র ৩ সপ্তাহেই ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি ক্রমশ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কঙ্গোতে চলমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে আফ্রিকার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। ওই সময় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
এ ব্যাপারে সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা বলছেন, ইবোলা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও এর প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যাচ্ছে না। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির আক্রান্ত ৫টি প্রদেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
এদিকে, ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে দেশটির বহু স্বাস্থ্যকর্মীর পারিশ্রমিক না পাওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষেরও তালিকা করেছেন। তবে নতুন করে যারা ইবোলা আক্রান্তদের বেশিরভাগই এই তালিকায় ছিলেন না। তবুও তারা ইবোলা আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে না এসেও মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, রোগটির প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চরে গেছে।
আগের বেশিরভাগ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি আলাদা। কারণ এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বান্দিবুগিও ভাইরাস’। এ ভাইরাসের অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
তবে এরই মধ্যে সাম্প্রতিক ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশে এ রোগের টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে ।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সম্ভবত ফেব্রুয়ারিতে এবারের ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ এটি শনাক্ত করার অনেক আগেই দেশটির সবচেয়ে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু আক্রান্ত রোগীকে ভুলভাবে ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া রোগটির শুরুর দিকে ইবোলার আরও প্রচলিত ধরন শনাক্তের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল।
ডব্লিউএইচওর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মোহামেদ ইয়াকুব জানাবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভাইরাসটি ঠেকাতে এর পেছনে ছুটছি, কিন্তু ভাইরাসটি আমাদের চেয়ে দ্রুত ছুটছে।’
১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে ইবোলা নদীর কাছাকাছি এলাকায় প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। মধ্য আফ্রিকার এই দেশে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এবারের প্রাদুর্ভাব দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
৩৮ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনিতে ১৪ অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পরিত্যক্ত খনিতে অন্তত ১৪ জন অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সার্ভিস (এসএপিএস) জানিয়েছে, জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে রাস্টেনবার্গ শহরের কাছে একটি খনিতে ওই শ্রমিকদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতীয় পুলিশ সার্ভিস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তারা জানিয়েছে, প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় খনি কোম্পানিগুলো ব্যবহার না করা সোনা ও প্লাটিনামের খনিতে অবৈধভাবে কাজ করেন হাজার হাজার ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক। এসব অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক খনির ভেতরে গিয়ে অবশিষ্ট খনিজের সন্ধান করেন এবং তা বিক্রি করেন। তারা প্রায়ই যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করেন এবং কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ ভূগর্ভে অবস্থান করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্লাটিনাম খনিশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রাস্টেনবার্গ। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্লাটিনাম মজুত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনানুষ্ঠানিক খনন একটি গভীর সমস্যা এবং এর সঙ্গে অপরাধী চক্রগুলোর সম্পৃক্ততা রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিকরা ‘জামা জামা’ নামে পরিচিত, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ঝুঁকি গ্রহণকারী’। তারা প্রায়ই দলবদ্ধভাবে কাজ করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে জড়ান।
অবৈধ খনন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রকার সর্বশেষ বড় দুর্ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের শেষ দিকে। সে সময় একটি সোনার খনিতে শত শত খনি শ্রমিক ভূগর্ভে আটকা পড়েন। পুলিশ ওই খনিটি ঘিরে রাখার পর উদ্ধার অভিযান নিয়ে কয়েক মাস অচলাবস্থা চলে। কর্তৃপক্ষের মতে, ওই ঘটনায় ভূগর্ভে ৮০ জনের বেশি খনি শ্রমিক মারা যান।
সংগঠিত অপরাধ দমনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা চলতি বছরের শুরুতে এক বছরের একটি অভিযানে রাস্তায় সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেন। অবৈধ খননও ওই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
৩৮ দিন আগে
উগান্ডায় ট্রাক-যাত্রীবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ১৪
উগান্ডায় যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যান ও বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে দেশটির কালুঙ্গু জেলার কামুঙ্গা ট্রেডিং সেন্টার এলাকায় একটি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এক বিবৃতিতে দেশটির পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (সোমবার) রাতে কালুঙ্গু জেলার একটি মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি ট্যাক্সি ভ্যানের সঙ্গে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই ট্যাক্সি ভ্যানটির যাত্রী ছিলেন। এছাড়া আরও ৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। তারা ট্রাকচালককে খুঁজছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো উগান্ডাতেও সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা। সেখানে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব দুর্ঘটনার জন্য যানবাহনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত গতি ও সড়কের বেহাল অবস্থাকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে, জুলাই মাসে পূর্ব উগান্ডায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বাস মনোরম এক জলপ্রপাত এলাকা থেকে ফেরার পথে সড়ক থেকে ছিটকে উল্টে যায়। ওই বাসটিতে করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষাসফর শেষে ফিরছিলেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ শিশু ও ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছিল।
৪৫ দিন আগে
কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৯৩০ ছাড়াল
কঙ্গোতে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে, ইতুরি প্রদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের অসন্তোষের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, শনিবার ২ হাজার ৩৪৪ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।
গত ১৫ মে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই এটি আগের সব রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এ প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ভাইরাসটি ইবোলা সৃষ্টিকারী অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় কম পরিচিত। এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।
এদিকে, ইবোলার প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতুরি প্রদেশ। সেখানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষে অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম সীমিত হয়ে যাওয়ায় ইতুরি প্রদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসের মাঝামাঝি প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কর্মবিরতি পালন করছেন।
কঙ্গোতে এ পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আক্রান্ত এলাকাগুলোতে রোগ মোকাবিলার কার্যক্রম আরও জোরদার করছে।
৬০ দিন আগে
সুদানে ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু হতাহত: ইউনিসেফ
সুদানের চলমান যুদ্ধে গত ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
ইউনিসেফ জানায়, বর্তমানে করদোফান, দারফুর ও ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যগুলোতে সংঘাত সবচেয়ে তীব্র। এসব এলাকায় মোট হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটছে ড্রোন হামলার কারণে।
উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের লড়াইয়ের মধ্যে সম্ভাব্য নৃশংসতা নিয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব ভোট ছাড়াই অনুমোদন করে। এতে এল-ওবেইদ এবং আশপাশের এলাকায় আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সহিংসতা বৃদ্ধির নিন্দা জানানো হয়।
প্রস্তাবে সুদান থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধে ‘সব ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপের’ নিন্দা জানানো হয়।
সংঘাতে সুদানে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত, প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশটির বহু এলাকা দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে তিন কোটির বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে স্কুল, বাজার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং পানি সরবরাহকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক এলাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেসামরিক মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘শিশুরা অবিরাম সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক নির্মম চক্রের মধ্যে আটকে পড়েছে।’
এমন পরিস্থিতিতে সংঘাতের সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা, নিরাপদ, দ্রুত ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ক্ষতি থেকে রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
৭৪ দিন আগে