ইউরোপ
ইউক্রেনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, পুলিশের পাল্টা গুলিতে আততায়ীর মৃত্যু
ইউক্রেনে এক বন্দুকধারী নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের ভয়ে জিম্মিদের নিয়ে একটি সুপারমার্কেটের ভেতর আত্মগোপন করেন তিনি। এরপর পুলিশ খোঁজ পেয়ে ওই স্থানে পৌঁছে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি শপিং সেন্টারের সামনে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ৫৮ বছর। তবে তার নাম ও পরিচয় প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কিয়েভে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলায় রাস্তায় মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা আতঙ্ক হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা পালাতে থাকেন।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘হামলাকারীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি কিছু মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। দুঃখের বিষয় এই যে, তাদের মধ্যে একজনকে তিনি হত্যা করেন। এ ছাড়াও রাস্তায় আরও ৪ জনকে তিনি হত্যা করেছেন। জিম্মিদের মধ্যে এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় নিশ্চিত যে, হামলাকারী রাস্তায় বের হওয়ার আগে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়েছিল। তার নামে আরও বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং জন্মসূত্রে একজন রাশিয়ান।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো জানান, ইউক্রেনের বিশেষ কৌশলগত পুলিশ ইউনিটগুলো আলোচনার মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ দোকানটিতে অভিযান চালায়। দু্ষ্কৃতিকারী যাদের জিম্মি করেছিল, তারা ছিল ওই সুপারমার্কেটের ক্রেতা ও কর্মচারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা ভেবেছিলাম, দোকানের ভেতরে কেউ আহত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য টুর্নিকেট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম, তবুও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলাকারীর বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা হামলাকারীকে চিনতেন।
৭৫ বছর বয়সী হান্না কুলিক বলেন, ‘আমি তাকে চিনতাম। তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ বলে মনে হতো। আমি কখনও ভাবিনি যে তিনি কোনো অপরাধী হতে পারেন। লোকটি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেনও না। কারো সঙ্গে দেখা হলে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি চলে যেতেন। একাই থাকতেন তিনি।
৩ দিন আগে
টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি
আবারও সামনে এসেছে ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকা আরএমএস টাইটানিক জাহাজ। জাহাজটি যখন আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাচ্ছিল, তখন একটি লাইফবোটের সাহায্যে প্রাণ বাঁচিয়ে ফেরা এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে উঠেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে লাইফ জ্যাকেটটি নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলার) বিক্র হয়েছে।
এই লাইফ জ্যাকেটটি পরেছিলেন বিলাসবহুল ওই জাহাজের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি। জ্যাকেটিতে লরা এবং একই লাইফবোটে থাকা অন্য বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের স্বাক্ষরও রয়েছে।
পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডিভাইজেসে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন’-এর টাইটানিকের স্মারক বিক্রির আয়োজনে এই জ্যাকেটটিই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিলামের আগে এটির দাম আনুমানিক আড়াই লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ডের মধ্যে ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি টেলিফোনে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দামে এটি কিনে নেন।
একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের সিট কুশন বা বসার গদি ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (৫ লাখ ২৭ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিজন ফোর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক এটি কিনে নেন। উল্লেখ্য, বিক্রিত এই দামের মধ্যে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ফি বা ‘বায়ার্স প্রিমিয়াম’ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ‘রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দামগুলো প্রমাণ করে যে টাইটানিকের গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও কতটা প্রবল। একইসঙ্গে সেইসব যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি এটি এক গভীর সম্মান প্রদর্শন যাদের জীবনকাহিনী এই স্মারকগুলোর মাধ্যমে অমর হয়ে আছে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং কার্যত ‘ডোবার অযোগ্য’ হিসেবে প্রচারিত টাইটানিক জাহাজটি ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রথম যাত্রায় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে একটি বিরাট বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়। জাহাজের ২ হাজার ২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
টাইটানিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও মানুষের মাঝে এক ধরনের মোহ কাজ করে। আংশিকভাবে এর কারণ ছিল জাহাজে থাকা দরিদ্র থেকে শুরু করে প্রচণ্ড প্রভাবশালী—সব স্তরের মানুষের সরব উপস্থিতি।
লরা ফ্রাঙ্কাতেলি সেই জাহাজে তার নিয়োগকর্তা তথা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং লুসির স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তারা তিনজনই টাইটানিকের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন। ৪০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন নিয়ে পানিতে নামানো হয়েছিল। তখন সমুদ্রের বরফশীতল পানি থেকে অন্য ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার না করায় পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
টাইটানিকের স্মারক হিসেবে নিলামে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির বিশ্বরেকর্ডটি বর্তমানে ১৫ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডের (তৎকালীন হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ডলার)। ২০২৪ সালে আরএমএস কার্পেথিয়া জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি সোনার পকেট ঘড়ি এই দামে বিক্রি হয়েছিল। কার্পেথিয়া ছিল সেই উদ্ধারকারী জাহাজ, যেটি টাইটানিকের ৭০০ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করেছিল।
৩ দিন আগে
সুইজারল্যান্ডে বাসে আগুন লেগে নিহত ৬
পশ্চিম সুইজারল্যান্ডে একটি বাসে আগুন লেগে কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে দেশটির রাজধানী বার্ন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ফ্রিবুর্গ কান্টনের কেরজেরসের কেন্দ্রস্থলে (যা ফরাসি ভাষায় শিয়েট্রেস নামে পরিচিত) এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় ৩ জনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন।
তবে ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই সঙ্গে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখছেন বলে জানাচ্ছেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার বাসটি মূলত কেরজেরস থেকে ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ডুডিঙ্গেন পৌরসভা থেকে আসছিল।
একটি এক্স পোস্টে সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন বলেছেন, ‘এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আমি সত্যিই হতবাক এবং ব্যাথিত।’
এর আগেও বছরের শুরুর দিকে সুইজারল্যান্ডের একটি স্কি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত হয়েছিল।
৪৩ দিন আগে
২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া: সামরিক থিংকট্যাঙ্ক
অর্থনৈতিক চাপ ও জনবল সংকটের লক্ষণ দেখা দিলেও ২০২৬ সালজুড়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাশিয়ার এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আন্তর্জাতিক সামরিক থিংকট্যাঙ্ক আইআইএসএস। একইসঙ্গে ইউরোপের জন্য রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। বরং রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি ক্রমশ বাড়ছে। এমনকি ইউক্রেনকে অর্থনৈতিক ও জনবলর চাপের মধ্যেও ফেলতে পারে রাশিয়া।
আইআইএসএসের মহাপরিচালক বাস্তিয়ান গিগেরিশ বলেছেন ‘যুদ্ধের পঞ্চম বছরে রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে—এমন ইঙ্গিত খুব কম পাওয়া যাচ্ছে।’
থিংকট্যাঙ্কটির তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষায় রাশিয়ার ক্রেমলিন অন্তত ১৮৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যা এর সাধরণ ব্যয়ের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। এটি দেশটির জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের দ্বিগণেরও বেশি এবং যুক্তরাজ্যের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।
থিঙ্কট্যাঙ্কটির প্রতিরক্ষা অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ফেনেলা ম্যাকগার্টি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, রাশিয়ার অর্থনীতির গতি কমছে, ফলে ২০২৬ সালে প্রকৃত অর্থে সামরিক ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। তবে গত কয়েক বছরের বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখতে হবে।’
ওই প্রতিবেদনে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘২০২১ সালের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বাস্তবিক অর্থে দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল নিয়োগে বেশি ব্যয় করতে পারছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর স্থল ও আকাশপথে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে।’
চার বছর আগে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু করেন। এই আগ্রাসনে রাশিয়ার প্রতিবেশী ছোট এই দেশটি ভেঙে না পড়লেও এতে ১২ লাখের বেশি লোক হতাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও লড়াই চালিয়ে যেতে পারে রাশিয়া।
গিগেরিশ বলেন ‘একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পর্কে পশ্চিমাদের আলোচনা চললেও রাশিয়া ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনের মাধ্যমে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও জনবসতিতে হামলা আরও জোরদার করেছে।’
আইআইএসএসের রাশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং বেলারুশে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত নাইজেল গুল্ড ডেভিস বলেন এমন অনেক লক্ষণ স্পষ্ট হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে রাশিয়ার মাসিক সৈন্য নিয়োগের হার যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রাণহানির তুলনায় কমে আসছে।’ তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনজুড়ে সম্মুখ সমরে আক্রমণের তীব্রতা কমিয়ে মস্কো তাদের এই ক্ষয়ক্ষতির হার কমিয়ে আনার সক্ষমতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়া তাদের সামরিক খাতে প্রতি মাসে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের মান কমছে, কারণ এখন মদ্যপ, মাদকাসক্ত ও অসুস্থ লোকদেরও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।’
এদিকে, রাশিয়ার আক্রমণে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব রয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে ৩৫ হাজার ৩০ জন এবং এ বছরের জানুয়ারিতে ৩১ হাজার ৭১৩ জন হতাহত হয়েছে।
থিংকট্যাঙ্কটি জানিয়েছে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মস্কো নতুন রণকৌশল, ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরি করছে। এর মধ্যে আধুনিক শাহেদ-১৩৬ ড্রোনও রয়েছে যা ইউরোপজুড়ে ২ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।
গিগেরিশ বলেন ‘রাশিয়ার এ ধরনের উদ্যোগ ন্যাটোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ২১টি রুশ ড্রোন ঢুকে পড়ে। যার ফলে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনটি অঞ্চলের মানুষ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ার হুমকির জবাবে ইউরোপের ন্যাটো সদস্য ও কানাডা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আইআইএসএস তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘দ্য মিলিটারি ব্যালান্স’-এ বলেছে এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে যা অনেক দেশের জন্য কঠিন হবে।
গিগেরিশ বলেন, ‘সামরিক গোয়েন্দা তথ্য, ক্লাউড কম্পিউটিং ও মহাকাশ সম্পদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপের দেশগুলোর ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।’ এর পাশাপাশি বিমান প্রতিরক্ষা উন্নত করাও ইউরোপীয় দেশগুলোর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
৫৬ দিন আগে
তবে কি নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটেন?
২০২২ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পদত্যাগ করার সময় বলেছিলেন, যেসব রাজনীতিক একসময় তাকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছিলেন, তারাই পরে তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় তিনি তার ভাগ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘পালের (রাজনৈতিক গোষ্ঠী) প্রবৃত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী, আর এই পাল যখন একবার চলতে শুরু করে, তখন তা চলতেই থাকে।’
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কিয়ার স্টারমারকে নিয়েও এখন একই প্রশ্ন উঠছে। গত সপ্তাহ শেষে তার ঘনিষ্ঠতম সহকারীর পদত্যাগ ছিল গত ১৮ মাসে সরকারের ওপর নেমে আসা ধারাবাহিক বিপর্যয়ের সর্বশেষ ঘটনা।
এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অসন্তোষ ও হতাশা স্পষ্ট হলেও এখনও সম্মিলিতভাবে স্টারমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি সবাই।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের অভিমত, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমারের সময় প্রায় শেষের দিকে।
স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
গত ১০ বছরে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। এর আগে, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ডেভিড ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর একে একে টেরিজা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস এবং ঋষি সুনাকও পদত্যাগ করেন ।
স্টারমারের নিজের দলের অনেক সংসদ সদস্যই মনে করছেন, তার সময় শেষ হয়ে এসেছে, কিন্তু খুব কম সংখ্যকই তা প্রকাশ্যে বলার সাহস দেখিয়েছেন।
তবে স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তখন স্কটল্যান্ডের লেবার পার্টির নেতা আনাস সারোয়ার প্রকাশ্যে স্টারমারকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই বিশৃঙ্খলা শেষ হওয়া দরকার এবং ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা উচিত।
তবে সারোয়ারের পর অন্য কেউ তাৎক্ষণিকভাবে এই পথে হাঁটেননি, বরং এক ঘণ্টার মধ্যেই স্টারমারের মন্ত্রিসভার প্রায় সব জ্যেষ্ঠ সদস্য তার পাশে থাকার ঘোষণা দেন।
তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। গত রবিবার পদত্যাগ করেছেন তার চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি। তিনি বিশ্বজুড়ে, এমনকি খোদ ব্রিটেনেও খুব পরিচিত না হলেও তার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তিনি ছিলেন সেই রাজনৈতিক কৌশলবিদ, যার পরিকল্পনা স্টারমারকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল।
নেপথ্যে এপস্টাইন ফাইল
ব্রিটনের প্রধানমন্ত্রী এখন আগের চেয়ে বেশি একা হয়ে পড়েছেন। ম্যাকসুইনির পদত্যাগ এবং স্টারমারের ওপর তীব্র চাপের মূল কারণ ‘এপস্টাইন ফাইল’। লাখ লাখ নথিপত্রের মধ্যে সাংবাদিকরা এমন কিছু ইমেল ও তথ্য পেয়েছেন যা প্রমাণ করে, প্রভাবশালী ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টাইনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ম্যান্ডেলসন গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। গত গ্রীষ্মে তার সঙ্গে এপস্টাইনের সম্পর্কের কথা জানাজানি হলে তিনি পদত্যাগ করেন। কিন্তু তখন থেকে ম্যান্ডেলসন বলেছেন যে তার ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই এবং তিনি এপস্টাইনের ঘনিষ্ঠ কেউ নন।
কিন্তু তার এ দাবি ধোপে টেকেনি। সপ্তাহ দুয়েক আগে প্রকাশিত নথি থেকে জানা যায়, তিনি এপস্টাইনের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৮ সালে ম্যান্ডেলসন যখন লেবার সরকারের সদস্য ছিলেন, তখন তিনি এপস্টাইনের সঙ্গে বাজার-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল তথ্য জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইতিহাসবিদ অ্যান্থনি সেলডন এই ঘটনাকে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে অভিযোগের তীর উঠছে স্টারমারের দিকেই। যদিও ব্রিটেন প্রধানমন্ত্রীর চিপ অব স্টাফ ম্যাকসুইনি ম্যান্ডেলনের নিয়োগের ব্যাপারে ভুল পরামর্শ ছিল বলে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন।
রবিবার এক বিবৃতিতে ম্যাকসুইনি বলেন, পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তিনি আমাদের দল, দেশ এবং রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। আমাকে জিজ্ঞেস করা হলে আমি প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছিলাম এবং সেই পরামর্শের সম্পূর্ণ দায় আমি নিচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রীর সমর্থকরা আশা করছেন, এই পদত্যাগ স্টারমারকে সরকার নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার কিছুটা সময় দেবে। তবে সমালোচকদের মতে, স্টারমারের শেষ প্রতিরক্ষাবলয়টি সরে গেছে। তার সরে যাওয়াও এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ানের রাজনৈতিক সম্পাদক পিপা ক্রেরার বলেন, স্টারমারের পুরো কর্মজীবনে আইনজীবী হিসেবে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে একটি ধারাবাহিক বিষয় ছিল সহিংস পুরুষদের বিরুদ্ধে এবং নারীদের পক্ষে তার অবস্থান।
তিন আশা প্রকাশ করেন, এপস্টাইন কেলেঙ্কারি তাকে গভীরভাবে আঘাত করবে। বর্তমান ক্ষোভ একসময় অনুশোচনায় রূপ নিতে পারে, যা তাকে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। তবে তিনি যদি দায়িত্বে থাকতে চান, কিছু শক্তি হয়তো তাকে আরও কিছুদিন ধরে রাখতে পারে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় যারা
লেবার পার্টিতে এখন স্টারমারের কোনো স্পষ্ট উত্তরসূরি নেই। একসময়ের উপ-প্রধানমন্ত্রী বামপন্থী অ্যাঞ্জেলা রেইনারকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কর-সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে স্টারমারের মন্ত্রিসভা ছাড়তে হয়েছে, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডানপন্থী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও আলোচনায় আছে। তিনি দক্ষ বক্তা হলেও ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব।
স্টারমার পদত্যাগ করলে তাদের কেউ কি লেবার পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন? বিগত রক্ষণশীল সরকারের অবিরাম নাটক, পদত্যাগ এবং কেলেঙ্কারিতে বিরক্ত এমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কি তারা আরও ভালো হতে পারবেন?
স্টারমার যদি মে মাস পর্যন্ত টিকে যান, তাহলে তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বিকেন্দ্রীভূত পার্লামেন্ট এবং ব্রিটেনজুড়ে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। এসব নির্বাচনে লেবার পার্টির ফল খুব খারাপ হলে স্টারমারের ওপর চাপ অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। তখন তার নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বীরা হয়তো প্রকাশ্যে সামনে আসবেন।
৭০ দিন আগে
যুদ্ধ শেষ করতে জুনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে জুন মাসের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুনের সময়সীমার মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে ইউক্রেন-রাশিয়া উভয় পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রস্তাব করছে যে গ্রীষ্মের শুরুতেই যুদ্ধ শেষ না করলে তারা এই সময়সূচি অনুযায়ীই যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ওপর চাপ দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে জুনের মধ্যেই তারা এ বিষয়ে সবকিছু সমাধান করতে চায় এবং যুদ্ধ শেষ করতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবই তারা করার জন্য প্রস্তুত। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মূলত সব ঘটনার একটি স্পষ্ট সময়সূচি চায়।’
তবে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল পর্যন্ত তার এ মন্তব্য প্রকাশ করা নিষেধ ছিল।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছে যে পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেন সেখানে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে যুদ্ধরত দেশগুলোর অনঢ় অবস্থান দেখে যুদ্ধ অবসানে সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনে লড়াই ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ডনবাস অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার জন্য রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা কিয়েভ কখনোই মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘জটিল বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমরা আমাদের অবস্থানেই অটল। আমাদের মতে, আজকের দিনে যুদ্ধবিরতির জন্য এটিই উত্তম পন্থা।’
তবে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
৭৩ দিন আগে
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মানতে এখনো প্রস্তুত নন জেলেনস্কি: ট্রাম্প
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিতে সই করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনো প্রস্তুত নন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে মতপার্থক্য কমানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সময় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মার্কিন ও ইউক্রেনীয় আলোচকরা তিন দিনের বৈঠক শেষ করার পর জেলেনস্কির সমালোচনা করেন ট্রাম্প। পরের দিন রবিবার রাতে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আলোচনা এগিয়ে নিতে বাধা দিচ্ছেন।
কেনেডি সেন্টারে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কিছুটা হতাশ যে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখনো প্রস্তাবটি পড়েননি। অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল। তার প্রতিনিধিরা এটি পছন্দ করেছে, কিন্তু তিনি পড়েননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি রাশিয়া এতে সম্মত আছে, কিন্তু জেলেনস্কির সম্মতি আছে কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নই। তার প্রতিনিধিরা এটি পছন্দ করেছে, কিন্তু তিনি এখনো প্রস্তুত নন।’
অন্যদিকে, ট্রাম্প বললেও হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনায় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে অনুমোদন দেননি পুতিন। যদিও মূল খসড়াটি ব্যাপকভাবে মস্কোর পক্ষে ছিল, তবে গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন যে ট্রাম্পের প্রস্তাবের কিছু দিক গ্রহণযোগ্য নয়।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জেলেনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্ক অনেকটা অম্লমধুর। তবে, ট্রাম্প জোর দিয়ে বলে আসছেন যে এই যুদ্ধ মার্কিন করদাতাদের অর্থের অপচয়। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই সংঘাত শেষ করতে তিনি বারবার ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে ভূমি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় সময় শনিবার জেলেনস্কি বলেন, ফ্লোরিডায় বৈঠকে থাকা আমেরিকান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ ফোনালাপ হয়েছে। বৈঠকে থাকা মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা তাকে ফোনে পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন।
এরপর সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘প্রকৃত শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে ইউক্রেন আমেরিকার সঙ্গে সদিচ্ছার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।’
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বার্তা সংস্থা তাসকে বলেছেন, নতুন কৌশলগত চুক্তিটি মস্কোর পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে সংঘাতের বিরুদ্ধে এবং সংলাপ ও ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এটি ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় ওয়াশিংটনের আরও গঠনমূলক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শেষ করা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মূল বিষয়, যাতে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।
গত শনিবার রিগ্যান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোরামে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন-বিষয়ক বিদায়ী দূত কিথ কেলগ বলেন, যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টা আর ‘১০ মিটার দূরে’। তিনি বলেন, চুক্তি এখন দুটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে— ‘ভূখণ্ড, মূলত ডনবাস’ এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
রাশিয়া বর্তমানে ডনবাসের (দোনেৎস্ক ও পাশের লুহানস্ক অঞ্চল) অধিকাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তিন বছর আগে ইউক্রেনের দক্ষিণের আরও দুটি অঞ্চলের সঙ্গে এই এলাকাগুলো দখল করেছিল রাশিয়া। এ ছাড়া জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ইউক্রেনে আগ্রাসনের শুরু থেকেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অবশ্য বর্তমানে এটি চালু নেই।
এদিকে, আজ (সোমবার) লন্ডনে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
১৩৬ দিন আগে
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে নৌকাডুবি, অন্তত ১৮ অভিবাসী নিহত
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে একটি ফোলানো নৌকা উল্টে গিয়ে কমপক্ষে ১৮ জন অভিবাসী নিহত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) তুরস্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবতে থাকা নৌকাটিকে দেখতে পায়। এরপর তারা গ্রিস কর্তৃপক্ষ জানায়।
নৌকাটিতে আরও কেউ ছিল কিনা, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চলছে। নৌকাটি কোথা থেকে ছেড়ে এসেছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ ও একটি উড়োজাহাজ, গ্রিক কোস্টগার্ডের একটি হেলিকপ্টার এবং তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ অংশ নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার দারিদ্র্য ও সংঘাতপীড়িত অঞ্চল থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ গ্রিস উপকূল। তবে এ যাত্রাপথে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে।
ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অল্প দূরত্ব হওয়ায় ফোলানো ডিঙ্গি বা ছোট নৌকায় করে তুরস্কের উপকূল থেকে গ্রিসের নিকটবর্তী দ্বীপগুলোতে যাতায়াতের এই নৌপথ ছিল অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রধান রুট। তবে স্থানীয় নৌ-পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং ক্রমাগত পুশব্যাকের কারণে সম্প্রতি এই পথে অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ কমে গেলেও বিকল্প পথ হিসেবে গত কয়েক মাসে লিবিয়া থেকে ক্রিট দ্বীপে তাদের আনাগোনা বেড়েছে।
১৩৭ দিন আগে
ইউক্রেন শান্তি চুক্তি যে আর দূরে নয়, তা নিশ্চিত: ক্রেমলিন
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ। তবে সফল চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও কাজ বাকি আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ক্রেমলিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তিনি একথা জানান উশাকভ।
শান্তি চুক্তিতে পৌঁছার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পুতিন। তবে কোনো পক্ষই আলোচনার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।
উশাকভ এই আলোচনাকে কার্যকর, গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত বলে অভিহিত করেছেন। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনার পরিবর্তে শান্তি চুক্তির কাঠামো নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন বলে জানান তিনি।
শান্তি চুক্তির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে পুতিনের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘সেটি যে আর দূরে নয়, তা নিশ্চিত।’
তিনি বলেন, ‘তবে মস্কো ও ওয়াশিংটনে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষই সম্মত হয়েছে এবং যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।’
১৪০ দিন আগে
ট্রাম্পের শান্তি আলোচনা এগোলেও ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা জটিলতাই প্রধান অন্তরায়
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি উদ্যোগ জোরালো হওয়ার মাঝেই কূটনীতিকরা এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত প্রাথমিক শান্তি প্রস্তাবে দুটি মুখ্য বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে—ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া এবং কিয়েভের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা।
গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার্কিন আলোচকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল। এবার রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে এ সপ্তাহেই ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মস্কো সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত মাসে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশের পর তা রাশিয়ার স্বার্থের অনুকূলে বলে কিয়েভ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে গত সপ্তাহে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের এক দফা আলোচনার পর পরিকল্পনায় সংশোধন আনা হয়।
এরপর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, সংশোধিত পরিকল্পনাটি ‘কার্যকর করার মতো’। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির ‘সম্ভাব্য ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন। আর গেল রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তিতে পৌঁছানোর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। কারণ ইউক্রেন নিজেদের ভূমি ছাড়বে কিনা এবং ভবিষ্যতে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কতটা নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে—এমন মূখ্য কিছু বিষয় নিয়ে এখনও কোনো মীমাংসা হয়নি।
কিয়েভের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, এবার মস্কো
ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। ফ্লোরিডার হ্যাল্যারেন্ড বিচের শেল বে ক্লাবে স্থানীয় সময় রবিবার (৩০ নভেম্বর) ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলে ওই আলোচনা।
বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান রুস্তেম উমেরভ, সেনাপ্রধান অ্যান্ড্রি নাটভ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ওলেক্সান্দার বেভজসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
বৈঠকের পর রুবিও জানান, ইউক্রেনের প্রতিনিধি দলের বৈঠক ফলপ্রসু হয়েছে, তবে যুদ্ধের অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আরও অনেক কাজ বাকি। অপরদিকে, উমেরভ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রশংসা করলেও আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।
এবার মস্কোর আলোচকদের সঙ্গে মার্কিন আলোচকরা বৈঠকে বসবেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে রাশিয়ায় পাঠাবেন। এব বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার নিশ্চিত করেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট পুতিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে উইটকফের সঙ্গে দেখা করবেন।
এমনকি, এই চুক্তির আশানুরূপ অগ্রগতি হলে ট্রাম্প ভবিষ্যতে পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে বসতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন।
দুই পক্ষের কার কী অবস্থান
ট্রাম্পকে খুশি করতে কিয়েভ ও মস্কো উভয় পক্ষ থেকেই শান্তি পরিকল্পনার বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনে হামলা বন্ধ করেনি রাশিয়া। ফলে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যে এখনো অনেক দূরের বিষয়, তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে পুতিন বলেন, তিনি তার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল দখল করেছে, ইউক্রেন যদি সেখান থেকে তাদের সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেয়, কেবল তখনই তিনি হামলা বন্ধ করবেন।
যদিও ওই অঞ্চলগুলোতে এখনও পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি রাশিয়া, তারপরও পুতিনের দাবি, ‘যদি তারা (ইউক্রেনীয় বাহিনী) না সরে, আমরা জোর করে তা আদায় করব, ব্যাস।’
এর মধ্যে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেছেন, এটি ‘ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি’ হতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত করতে হলে এ বিষয়ে ‘গুরুতর আলোচনা’ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, জেলেনস্কি নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কথা না বলে কেবল ট্রাম্পকে তার (শান্তি স্থাপন) প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি চান, এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপের যুক্ত থাকুক, কারণ এতে ইউরোপের স্বার্থও সম্পৃক্ত। এ ছাড়া ইউক্রেনের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের উপস্থাপিত পরিকল্পনার প্রাথমিক খসড়ায় রাশিয়ার কয়েকটি মূল দাবি মেনে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, ইউক্রেন যেগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে খারিজ করে দেয়। দাবিগুলো ছিল, ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল রাশিয়া এখনও পুরোপুরি দখল করেনি, সেগুলোও রাশিয়াকে ছেড়ে দিতে হবে, ন্যাটোর সদস্য হওয়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে ইত্যাদি।
জেলেনস্কি বারবার বলেছেন যে ভূখণ্ড ত্যাগ করা কোনো বিকল্প হতে পারে না। গত বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে ইয়েরমাকও দ্য আটলান্টিককে বলেন, জেলেনস্কি ভূখণ্ড ছাড়ার শর্তে কোনো চুক্তিতে সই করবেন না।
জেলেনস্কির মতে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে সহজ পথ হলো দেশটিকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়া। ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশও গত বছর বলেছিল যে, ইউক্রেনকে ন্যাটোয় অন্তর্ভূক্তির বিকল্প নেই। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে আর কোনো আলোচনা হবে না।
ওদিকে, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে পশ্চিমা শান্তিরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য হতে না দেওয়াই ছিল চলমান এই হামলা শুরুর মূল উদ্দেশ্য।
সময় পুতিনের পক্ষে
এদিকে, নিজ দেশেই সম্প্রতি রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন জেলেনস্কি। ইয়েরমাকের পদত্যাগ জেলেনস্কির জন্য বড় ধাক্কা, যদিও দুজনের কারো বিরুদ্ধেই কোনো অনিয়মের অভিযোগ আনেননি তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া চায় ইউক্রেন ভুল করুক। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। আমাদের কাজ চলমান, আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। একে শেষ পর্যন্ত না নিয়ে যাওয়ার অধিকার আমাদের নেই।
ইয়েরমাকের পদত্যাগে সাময়িক চাপে পড়লেও দীর্ঘ মেয়াদে তা ইউক্রেনের জন্য মঙ্গলজনক বলে মনে করেন দেশটির বেসরকারি দুর্নীতি দমন কেন্দ্রের অ্যাক্টিভিস্ট ভ্যালেরিয়া রাডচেঙ্কো। তার মতে, এর ফলে সরকারের মধ্যে একটি ‘সংস্কারের সুযোগ’ তৈরি হবে।
তবে, এর মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে তা নিয়ে গর্ব করছেন পুতিন। এ বিষয়ে কার্নেগি রাশিয়া ও ইউরেশিয়া সেন্টারের তাতিয়ানা স্তানোভায়া এক্স-এ লিখেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের ময়দানে সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। তিনি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাই তিনি (পুতিন) কিয়েভের পরাজয় মেনে নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় বাধ্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।
স্তানোভায়া বলেছেন, ‘আমেরিকা যদি সমস্যা সমাধানের এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করে, তাহলে ভালো। আর যদি না করে, সেক্ষেত্রে তিনি (পুতিন) জানেন কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে। এটিই হচ্ছে ক্রেমলিনের বর্তমান যুক্তি।’
ধাঁধায় ইউরোপ
ইউক্রেন ইস্যুতে এ সপ্তাহে বেশ কিছু বৈঠক করছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সোমবার প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জেলেনস্কি। অন্যদিকে, ব্রাসেলসে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেনিস শ্মিহালের সঙ্গে বৈঠক করছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। একইসঙ্গে সামরিক সহায়তা ও নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীগণ ইউক্রেনের আলোচনা করছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) আবারও ব্রাসেলসে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসবেন।
ইইউয়ের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, বেলজিয়ামে জব্দ করা রুশ সম্পদের কী হবে? ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রাথমিক খসড়ায় অবশ্য এগুলো যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেনের পুনর্গঠনে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন এসব তহবিল ইউক্রেনকে সাহায্য করতে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার ওপরও চাপ বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু খোদ বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী জব্দ করা এই সম্পদ ইউক্রেনের জন্য ব্যবহারের পক্ষে নন। এর আইনি বৈধতা, ইইউয়ের ওপর প্রভাব এবং রাশিয়ার প্রতিশোধের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের নাইজেল গোল্ড-ডেভিস বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার ফলে যে নতুন কূটনীতি শুরু হয়েছে, তা ইউরোপের দুর্বলতাকে ‘নিদারুণভাবে’ উন্মোচিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করে গোল্ড-ডেভিস বলেন, (ইউক্রেন) যুদ্ধ কূটনীতিতে প্রায় উপেক্ষিত। খসড়া প্রস্তাবে কিছু সংশোধন ছাড়া কিছুই করতে পারেনি তারা।’
১৪১ দিন আগে