ইউরোপ
দলীয় চাপে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
নিজের দলের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই বছর আগে ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও ধারাবাহিক ভুল পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তে ভোটারদের আস্থা হারানোর পর শেষ পর্যন্ত তাকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) স্টারমার জানান, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে স্থলাভিষিক্ত করতে সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
ইতোমধ্যে বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।”
অন্যদিকে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যাকে বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ই স্টারমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক দশক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরছেন এবং সোমবারই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কেবল সংসদ সদস্যরাই দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
স্ট্রিটিংয়ের সমর্থনের ঘোষণায় নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহ্যাম নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
স্টারমার গত এক দশকে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, যিনি ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন। তার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে (ব্রেক্সিট) ব্রিটেনের গণভোটের দশম বার্ষিকী পালিত হবে। সিদ্ধান্ত এখনও দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজের পদ ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত স্টারমার নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন, তবে এরপর থেকে তার এবং দলের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতা
দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেওয়া সরকারি বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়েই পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শেষ দিকে তার কণ্ঠ আবেগে ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় তার দপ্তরের কর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে তা হলো, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। এ বিষয়ে আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সৌজন্যের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।’
তিনি জানান, সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাতে তিনি ব্রিটেনের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরো সপ্তাহাজুড়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন স্টারমার। তিনি জানান, আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে ১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে বার্নহ্যাম যদি একমাত্র প্রার্থী হন, তাহলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হতে পারে।
৮ ঘণ্টা আগে
লেবার পার্টির নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস, পদত্যাগ করতে পারেন কিয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির ভেতরে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই তার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
স্টারমার যদি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে গত এক দশকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে একজন হবেন তিনি।
গত সপ্তাহে বিশেষ নির্বাচনে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিজয় লাভ করেন। এরপর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো সপ্তাহ ধরে চিন্তাভাবনা করেন স্টারমার। ওই নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২২ জুন) বার্নহ্যামের পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে স্টারমারের কার্যালয় পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল রবিবার বলেন, ‘স্টারমার বর্তমানে তার সামনে থাকা রাজনৈতিক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার জন্য সময় নিচ্ছেন।’
স্টারমার সরে দাঁড়ালে বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্ব পাবেন না কি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত মাসে স্টারমারের নেতৃত্বের প্রতিবাদে স্বাস্থ্যসচিবের পদ থেকে সরে দাাঁড়ন ওয়েস স্ট্রিটিং। তিনি জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের নির্বাচন হলে তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বিগত কয়েক মাস ধরেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তার নেতৃত্বে লেবার পার্টি বড় ধরনের নির্বাচনি বিজয় পেলেও এরপর থেকে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ফলে লেবার পার্টির দলীয় আইনপ্রণেতারা পরিস্থিতি পরিবর্তনে চাপ বাড়াতে থাকেন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, দুর্বল জনসেবা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট কমানোসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্টারমার সাফল্য দেখাতে পারেননি। এছাড়া কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তও তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল জেফ্রি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
একদিকে লেবার পার্টি গ্রিন পার্টির কাছে উদারপন্থি ভোটার হারাচ্ছে, অন্যদিকে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকায় নতুন সংকটে পড়েছে দলটি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসার আগেই স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে স্টারমারের ব্যর্থতাই তাকে সম্ভাব্য বিদায়ের পথে নিয়ে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। তিনি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছেন: অভিবাসন এবং জ্বালানি। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।’
তবে ট্রাম্প গণমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে এ মন্তব্য করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে কোনো কথপোকথনও হয়নি।
ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকে ট্রাম্প ও স্টারমারের সম্পর্ক ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা খারাপ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। যুক্তরাজ্য ইরান যুদ্ধে অংশ নেয়নি।
তবে দেশের ভেতরে নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্টারমার প্রশংসা পেয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের লড়াইয়ে ইউরোপীয় সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখা এবং ইরান সংঘাত থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানোর প্রচেষ্টার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবার পার্টির বেশিরভাগ আইনপ্রণেতা বার্নহ্যামের পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ মনে করেন, স্টারমারের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। লন্ডনের আইনপ্রণেতা নিল কয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পরিকল্পিতভাবে একজন নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং এ নিয়ে তৈরি হওয়া গণমাধ্যমের উন্মাদনা আসলেই হতাশাজনক।’
তিনি আরও লেখেন, পরবর্তী নেতা যদি ট্রাম্প, ইরান, ইউক্রেন, পুতিন, মাস্ক, গণমাধ্যমের পক্ষপাত বা অ্যালগরিদমের প্রভাব রাতারাতি বদলাতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও একইভাবে সমালোচনা শুরু হবে।’
৯ ঘণ্টা আগে
ইরান- যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ, কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে
ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চেয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আজ সোমবার শেষ হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ লেবাননে চলমান সংঘাত মোকাবিলায় একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হওয়ায় এ বিষয়ে সপ্তাহজুড়েই কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সেলে লেবানন সরকারও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এটি ‘লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করবে’।
তবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষ থামাতে এই উদ্যোগ যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। লেবাননের কিছু এলাকা দখল করে রাখা ইসরায়েল বলেছে, উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানো জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের স্বাধীনতা তারা বজায় রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
আলোচনাগুলো ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে লেবাননের সংঘাত এখনও অন্যতম বড় অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
এদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ সূচনা
রবিবার সুইজারল্যান্ডে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই এক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দিয়ে এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘লেবাননে ইরানকে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থপুষ্ট প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তারা যদি তা না করে, তবে আমরা গত সপ্তাহের মতো আবারও ইরানে খুব জোরালো আঘাত হানব, তবে এবার আঘাত হবে আরও মারাত্মক।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের জন্য ইরানকে আলোচনায় ধরে রাখার প্রচেষ্টাকে জটিল করে তোলে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে লেখেন, ‘তাদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী ভিন্নভাবে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু কাজ করি আমরা।’
তবে পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক্সে লেখেন, ‘পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতা লেবানন যুদ্ধের অবসানে বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আলোচনার প্রথম ‘বাস্তব পরীক্ষা’ হবে ডি-কনফ্লিকশন সেল লেবাননের সংঘর্ষ বন্ধ করতে পারে কি না।
কারিগরি আলোচনা চলবে
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্য স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকটি প্রায় ৮০ মিনিট ধরে চলে।
বৈঠক শেষে পাকিস্তান ও কাতার জানায়, পুরো সপ্তাহজুড়ে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলবে। এসব আলোচনা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চূড়ান্ত চুক্তি সইয়ের পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
১২ ঘণ্টা আগে
জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতিতে গুরুত্বারোপ
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের প্রথম দিনে ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে তারা রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি ইরান-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তি, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের প্রভাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এবারের জি-৭ সম্মেলন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁয়ে শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে সম্মেলনে পৌঁছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, আপাতত ইরান বিষয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে, আমরা এখন ইউক্রেনের পরিস্থিতির ওপর মনোযোগ দেব।
সম্মেলনে মাক্রোঁ জানান, তিনি ট্রাম্পকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়াতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন। তার মতে, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি জরুরি।
ট্রাম্প আরও জানান, রবিবার তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন। ফ্রান্সের আমন্ত্রণে জেলেনস্কিও সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জি-৭ নেতাদের একটি একটি কর্মঅধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় মিসর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
অপরদিকে, জি-৭ সম্মেলনে সম্মেলনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে ট্রাম্প সাড়ে তিন মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির ঘোষণা দেন।
জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) হলো বিশ্বের ৭টি উন্নত ও প্রভাবশালী অর্থনীতির দেশের একটি জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো হলো: ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাজ্য।
বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সংকট, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমন্বয়ের জন্য এসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা বছরে একবার বৈঠক করে নীতিগত সমন্বয়ের চেষ্টা করেন।
এবারের সম্মেলনে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিচ্ছে ব্রাজিল, মিসর, ভারত, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, ইউক্রেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের
এদিকে, নৗপথে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য যে ছায়া বহর (শ্যাডো ফ্লিট) ব্যবহার করে, সম্মেলনের মধ্যেই সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার সম্প্রতি কেনা কয়েকটি জাহাজও রয়েছে। এসব জাহাজ নিষেধাজ্ঞার অমান্য করে আর্কটিক এলএনজি ২ প্রকল্প থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ৬০০টিরও বেশি শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
গত সপ্তাহের শেষে ইংলিশ চ্যানেলে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার একটি শ্যাডো ফ্লিট জাহাজ জব্দ করেছে ব্রিটিশ বাহিনী।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশনিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সেখানে তিনি রাশিয়ার ওপর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার তার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।
৬ দিন আগে
ছায়া বহর সন্দেহে রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করল ব্রিটেন
আটলান্টিক মহাসাগরের ইংলিশ চ্যানেল থেকে রাশিয়ার একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ব্রিটেন। ট্যাংকারটি শ্যাডো ফ্লিট (ছায়া বহর) হিসেবে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ তথ্য জানান।
রবিবার ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার সময় রাশিয়ার ‘স্মির্টোস’ নামের জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে সেটিকে আটক করে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী ।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তদন্তের জন্য জাহাজটিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে রাখা হয়েছে। সেখানে এটিকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
শ্যাডো ফ্লিট হলো তেল ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য বহনকারী অনিবন্ধিত জাহাজের একটি গোপন নেটওয়ার্ক। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে রাশিয়া শত শত জাহাজ নিয়ে গঠিত এসব নৌবহর ব্যবহার করে আসছে।
রবিবার ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে ফ্রান্সও শ্যাডো ফ্লিট-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি জাহাজ আটক করেছিল।
এ বিষয়ে স্টারমার বলেন, ‘এই অভিযান পুতিনের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় আঘাত হানবে। পাশাপাশি যারা ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পুতিনকে যুদ্ধের রশদ যোগান দিচ্ছে, তারা কেউই লুকিয়ে থাকতে পারবে না।’
এদিকে, যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান রাশিয়ার নৌসম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। মহাসাগরে চলাচলকারী এসব ছায়া বহর ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে আসছিল। নৌপথে মিত্র দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে এমন অভিযান আব্যাহত থাকলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে রাশিয়ার হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা কমে আসবে।
৮ দিন আগে
২০৪২ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৮৭ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য যুক্তরাজ্যের
বিশ্বজুড়ে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ থাকা সত্ত্বেও ‘নেট জিরো’ (কার্বন নিরপেক্ষতা) লক্ষ্যে অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে আগামী দেড় দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধিকারী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ১৯৯০ সালের তুলনায় শতকরা ৮৭ ভাগ হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ মে) এসব কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
২০০৮ সালে প্রণীত একটি আইন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার (নেট জিরো) একটি আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। ওই আইন অনুসারে, সরকারকে একটি কঠোর সময়সূচি মেনে ভবিষ্যতের জন্য প্রতি ৫ বছর মেয়াদি বাজেটে কার্বন নির্গমন হ্রাসের সীমা নির্ধারণ করতে হয়।
দেশটির জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, সরকার তাদের স্বাধীন জলবায়ু পরিবর্তন কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করবে। এর সঙ্গে ২০৩৮ থেকে ২০৪২ সাল পর্যন্ত পরবর্তী বাজেটের জন্য ৮৭ শতাংশ কার্বন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে অগ্রসর হলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানির মূল্যস্ফীতির ধাক্কা থেকে রক্ষা পাবে যুক্তরাজ্য।
মিলিব্যান্ড বলেন, ‘চলতি দশকে ব্রিটেন যখন দ্বিতীয়বারের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির সংকটের মুখে পড়ছে, তখন পরিবার ও ব্যবসার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নিজস্ব পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া।’
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই লক্ষ্যমাত্রা যুক্তরাজ্যকে ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ অর্জন করতে সাহায্য করবে। তবে লক্ষ্যটি কীভাবে অর্জিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা এই ঘোষণায় প্রকাশ করা হয়নি।
ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের ভূ-বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মার্টিন সিগার্ট বলেন, ‘আমি মনে করি ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ অর্জনের মাইলফলক হিসেবে এটি অত্যন্ত ভালো খবর। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের একটি সুসংগত ও সমন্বিত পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন একটি স্বাধীন ‘ডেলিভারি বোর্ড’। এই বোর্ডের কাজ হবে সরকার, রাজনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন কমিটি থেকে মুক্ত থেকে এটি বাস্তবায়নের উদ্দ্যেশে কাজ করা।
এদিকে, দেশটির বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এবং রিফর্ম ইউকে যুক্তি দেখাচ্ছে যে, সরকারের উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল করা এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ব্রিটেনের নির্ভরতা কমাতে উত্তর সাগর থেকে আরও বেশি তেল ও গ্যাস উত্তোলন করা।
এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে কনজারভেটিভ পার্টির জ্বালানি বিষয়ক মুখপাত্র ক্লেয়ার কুটিনহো বলেন, ‘এই নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা আমাদের আরও দুর্বল ও দরিদ্র করে তুলবে এবং সবার জ্বালানি বিল কমানোর পরিবর্তে আরও বাড়িয়ে দেবে।’
১৯ দিন আগে
পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক
গতরাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। তবে তাদের শিরোপা জয়ের উৎসব মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ফ্রান্সজুড়ে পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর ৪ শতাধিকের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ মে) ভোর পর্যন্ত মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে শুধু প্যারিস থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮০ জন। এ ঘটনায় ৭ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
২২ দিন আগে
কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত ২, আহত ২১
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি ভবন আবাসিক এলাকা ও স্কুলসহ অন্তত ৪০টি স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৪ মে) সারা রাত কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বেজেছিল। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে থাকে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাংবাদিকরা কিয়েভ শহরের কেন্দ্রে এবং সরকারি ভবনের আশপাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সূর্য ওঠার পরও কিয়েভে হামলা চলছিল। এ সময় কিয়েভের দিকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা কথা জানিয়েছেন তারা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রামে পোস্টে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন জেলার অন্তত ৪০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ হামলায় বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাজারে ২২ বছর ধরে কাজ করাছেন কিয়েভের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী স্বিতলানা অনোফ্রিয়িচুক। তিনি বলেন, ‘গতরাত ছিল ভয়াবহ এক রাত। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলার পুরো সময়টতে এমন বিস্ফোরণ আগে কখনও ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট নিয়ে বলছি, এখন আমার কিয়েভ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমি আর এখানে থাকছি না। এখানে থাকার কোনো উপায়ই নেই। হামলায় পুরো বাজার পুড়ে গেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।’
৭৪ বছর বয়সী কিয়েভবাসী ইয়েভহেন জোসিন বলেন, হামলার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার কুকুরটিকে আনতে দৌড়ে যান। তিনি বলেন, ‘তার ঠিক পরপরই আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণের আঘাতে আমি আর আমার কুকুর দুজনই ছিটকে পড়ি। আমরা দুজনই প্রাণে বেঁচে গেলেও আমার বাসা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে, কিয়েভের শেভচেঙ্কো এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, ওই আবাসিক ভবনে একজন নিহত হয়েছেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার সময় মানুষ একটি স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে সেই স্কুল ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সুপারমার্কেট ও গুদামঘরেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক জানান, এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ অঞ্চলের একাধিক এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া তাদের ওপর হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। পরে ইউক্রেনের বিমান বাহিনীও রাশিয়ার ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সম্ভাবনার কথা জানায়।
রাশিয়া প্রথম ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইউক্রেনের দনিপ্রো শহরে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। এ বছরের জানুয়ারিতে পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চলে দ্বিতীয়বার রাশিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে জানিয়েছেন, ওরেশনিক শব্দের অর্থ হলো হ্যাজেল বাদাম গাছ। ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ১০ গুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম। এটি মাটির নিচে অনেক গভীরে থাকা বাঙ্কারও ধ্বংস করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এই অস্ত্রটি উল্কাপিণ্ডের মতো ছুটে যায়। বিশ্বের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে থামাতে পারবে না। পুতিনের দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত পারমাণবিক হামলার মতোই ভয়াবহ হতে পারে। ওয়ারহেড বহন করেও এর আঘাত প্রতিহত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
২৯ দিন আগে
মস্কোর কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৪
রাশিয়ায় মস্কোর কাছাকাছি এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলাটিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অন্যতম বড় হামলা হিসেবে দেখছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এ হামলার ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
মস্কোর স্থানীয় গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকি শহরে একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানলে তাতে এক নারী নিহত হন। মস্কো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরের পোগোরেলকি গ্রামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরও ২ জন পুরুষ নিহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোরোবিয়ভ আরও জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘতে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ হামলার ফলে কয়েকটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের কাছে অবস্থানরত ১২ জন এ হামলায় আহত হয়েছেন। তবে হামলায় তেল শোধনাগারের কোনো অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন মেয়র।
এদিকে, রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মস্কোর দিকে আসা ৮১টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, এই ইউক্রেনীয় হামলাটি মস্কোর ওপর সাম্প্রতিক সময়ে করা সবচেয়ে বড় হামলা।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তারা মোট ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন একটি ট্রাককে আঘাত করে। এতে এক রুশ নাগরিক নিহত হয়েছেন।
মস্কোর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো সূত্র জানায়, ইউক্রেনের হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। তবে এতে সেখানে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, একই রাতে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২৮৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৯টি ড্রোন ধ্বংস করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দনিপ্রো শহরে ৩ জন, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে ৪ জন এবং সিনেলকোভে ১ জন আহত হয়েছেন। রাশিয়ার এ হামলায় তিনটি স্থানেই আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩৬ দিন আগে
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিস্মিত ইউরোপ
জার্মানি থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে সোমবার তাঁরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইউরোপকে এখন নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। ।
গত সপ্তাহে পেন্টাগন ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নেবে। তবে ট্রাম্প শনিবার (২ মে) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনছি। এই সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।’
তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। আকস্মিক এই ঘোষণায় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট—ন্যাটো অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্সের সঙ্গে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এল। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পৃক্ত হতে অনাগ্রহের কারণে ট্রাম্প বেশ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে বলেন, ‘আমি এটাকে অতিরঞ্জিত করব না। তবে, আমরা আশা করছি, ইউরোপ নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বড় ভূমিকা নেবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, ‘ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। তবে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই বিস্ময়কর।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন থেকে ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশকে আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
মেয়ার্সকে শাস্তি দিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে কাল্লাস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনের ভেতরে কী চলছে, তা আমি জানি না। তাই বিষয়টি তাকেই ব্যাখ্যা করতে হবে।’
গত সপ্তাহের শেষে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ৩২টি দেশের এই সামরিক জোটের কর্মকর্তারা জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে কাজ করছেন।’
গত বছর পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্ররা এবং কানাডা জানত যে ট্রাম্প ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন। অক্টোবরেই কিছু মার্কিন সেনা রোমানিয়া ছেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নিরাপত্তা শূন্যতা এড়াতে তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই যেকোনো পদক্ষেপ নেবেন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এই পদক্ষেপকে ছোট করে দেখিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের সমর্থনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হতাশা রয়েছে।’
বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্য তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
তবে ট্রাম্প নেতৃত্বের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রুটে বলেন, ‘আমি বলব ইউরোপীয়রা বার্তাটি শুনেছে। তারা এখন নিশ্চিত করছে যে সব দ্বিপাক্ষিক ঘাঁটি-সংক্রান্ত চুক্তি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ আগে থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানান, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নেবে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ পুনরায় খুলতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সেটা ভালো। শুরু থেকেই আমরা সেটাই চাইছিলাম।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ এমন কোনো অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত নয় যা ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার মনে নয়’।
মেয়ার্সের সঙ্গে উত্তেজনার আরেকটি কারণ হিসেবে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না মানার অভিযোগ তুলেছেন এবং আগামী সপ্তাহে ইইউয়ে উৎপাদিত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশ বড় গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ জার্মানির জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকারক।
ট্রাম্প বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং এখন মেক্সিকোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘একই মানসিকতার বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সরবরাহশৃঙ্খল স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য থাকে এবং সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির নেটওয়ার্ক ইউরোপেরই রয়েছে।’
৪৯ দিন আগে