ইউএস-ও-কানাডা
আট মাস পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে যাচ্ছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবশেষে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে। প্রায় আট মাস মধ্যপ্রাচ্যের সমূদ্রে অবস্থানের পর রণতরীটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর প্রণালি অতিক্রম করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপে অবস্থানরত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা স্থানীয় সময় রবিবার রাত ১টার কিছু পর সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ এই রণতরীটি দেখতে পান।
দীর্ঘ এই মোতায়েনকালে লিংকন মোট ২৬৬ দিন বেশি সমুদ্রে অবস্থান করেছে। এর মধ্যে ২০০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে কাটিয়েছে রণতারীটি, যা আধুনিক যুগে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও চলতি মাসের শুরুতে জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোট ২৬৬ দিন মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে ২০০ দিন ছিল যুদ্ধাঞ্চলে। এ সময় এর স্ট্রাইক গ্রুপ ১০ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করে এবং প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় এবং অপারেশনাল উপস্থিতি শুরু করে।
তবে দীর্ঘ এই মোতায়েন এবং জাহাজে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রণতরীটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের মনোবল কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং খাবার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর সাময়িক ঘাটতির খবর প্রকাশিত হয়।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় স্থানীয় সময় শনিবারও ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়, অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য উচ্ছেদের সতর্কতা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের উপপ্রধান জেরি মার্টিন বলেন, ‘ছয় ইঞ্চি পানি যেকোনো গাড়িকে অচল করে দিতে পারে। আট ইঞ্চি পানি গাড়িগুলো সড়ক থেকে ভাসিয়ে নিতে পারে। এমনকি তিন ইঞ্চি পানিও একজন মানুষকে ফেলে দিতে পারে। বন্যার পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
নগরীর গণপূর্ত বিভাগের পরিচালক টড উইলসন বলেন, ‘পানির উচ্চতা এখনও বাড়ছে। সারা দিনই এটি বাড়তে থাকবে।’
অঙ্গরাজ্যের আরও পূর্বে ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে গেল শুক্রবার শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে জেনিংস কাউন্টিতে একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে চার বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়।
এদিকে, মধ্য ইন্ডিয়ানার উত্তর-পূর্ব হেনড্রিকস কাউন্টি ও উত্তর মারিয়ন কাউন্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা আর দেখা যায়নি। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় দুই দিনে ২৮ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিল এলাকায় হোয়াইট নদীর পানি ৭ দশমিক ৩২ মিটার ছাড়িয়ে গেছে, যা ১৯১৩ সালে রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
অভূতপূর্ব এ বন্যায় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে বন্যার ঝুঁকি ছিল না এমন এলাকাতেও এবার পানি ঢুকেছে।
ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ব্রাউন শনিবার নিশ্চিত করেছেন, বন্যা মোকাবিলা ও পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তার করা ফেডারেল সম্পদের অনুরোধ অনুমোদনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তর ইন্ডিয়ানাপোলিসের কিছু এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টির একটি প্রবীণদের ভ্রাম্যমাণ আবাসনও খালি করা হচ্ছে। ফায়েত কাউন্টিতে উদ্ধার ও বাসিন্দাদের খোঁজ নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের মুখপাত্র রিটা রেইথ জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৯৫ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দিনভর জরুরি সেবার জন্য শত শত ফোনকল পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত উত্তর ইন্ডিয়ানা পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যে দেড় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন।
১৬ দিন আগে
দাবানলের কারণে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে ও অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে ওকানাগান লেকের আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি জরুরি অবস্থা জারি করেন।
শনিবার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশজুড়ে ১০০টিরও বেশি জায়গায় দাবানল জ্বলছিল। এ সময় দাবানলের প্রায় অর্ধেকই নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। প্রচণ্ড গরম, ঝোড়ো বাতাস ও দীর্ঘদিনের খরার কারণে এলাকাগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এ দুর্যোগে প্রায় ১২ হাজার মানুষের বসবাসের শহর সামারল্যান্ড এলাকা থেকে এক রাতেই সকল বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাছের শহর পিচল্যান্ড ও এর আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড এবি বলেন, ‘আগুনের কারণে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছিলেন। পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়া এলাকাগুলোতে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আজ অনেক পরিবার কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনও নিঁখোজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় আছেন।’
এদিকে, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ক্লিফ চ্যাপম্যান বলেন, ‘আগুনের কারণে যারা সড়কপথে বের হতে পারছিলেন না, তাদের দমকলকর্মীরা হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুন মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম ব্যাল্ড রেঞ্জ এলাকায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ছোট্ট ফাউল্ডার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের সামারল্যান্ড পর্যন্তও খুব দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ক্লিফ চ্যাপম্যান ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার দাবানল পরিস্থিতিকে ‘বিস্ফোরণাত্মক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামারল্যান্ডের মতো দাবানল পরিস্থিতির মুখে অন্য এলাকাগুলোও পড়তে পারে।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী কেলি গ্রিন বলেন, জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে সেখানের প্রাদেশিক সরকারকে অতিরিক্ত কিছু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওই এলাকায় ভ্রমণ সীমিত করা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসনের ব্যবস্থা করা।
ওকানাগান-সিমিলকামিন আঞ্চলিক জেলার জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এরিক থমসন বলেন, এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল এর আগে ওই অঞ্চলে দেখা যায়নি।
থমসন বলেন, একপর্যায়ে তিনি তার কর্মস্থান জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে নিজের পরিবারকে সরিয়ে নিতে বের হন। শনিবার ভোরে গাড়িতে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র ছেড়ে পরিবারকে সরিয়ে নিতে যাচ্ছি। আমরা দক্ষিণ দিকে যাচ্ছি।’ সে সময় সড়কে যানজট তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কয়েকটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। দুই পাশের আগুনের মধ্য দিয়েই বাসিন্দারা সড়ক ধরে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির মালিক কেরি গোল্ড ও তার স্বামী মাইক এলসিংগা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তারা কাছের একটি পাহাড়ের ওপর আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন।
কেরি গোল্ড বলেন, ‘এটি ভয়ংকর পরিস্থিতি। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ‘
সম্প্রতি এই দম্পতি ভ্যানকুভার শহর থেকে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসেছেন। এখানে দাবানল পরিস্থিতিতে আগে থেকেই ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিলেন। তারা তাদের বিড়ালকে নেওয়ার জন্য একটি ক্যারিয়ার প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। পাশাপাশি তারা তাদের এক শারিরীক প্রতিবন্ধী বন্ধুকে দাবানল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আগেহ থেকেই পরিকল্পনা করেছিলেন।
এলসিংগা বলেন, ‘আমরা নিজেদের বাড়ি রক্ষা করতে চাই। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা কেউই আগুনের মধ্যেও আটকা পড়তেও চাই না।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এসব দাবানলের কারণে সরকারকে বহু মানুষকে একসঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
২৩ দিন আগে
আজই হতে পারে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আজ বুধবারই একটি চুক্তি হতে পারে। এদিকে, ইরান ও ওমান ওই জলপথ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা চলমান যুদ্ধের অবসানেও সহায়ক হতে পারে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে তেহরানের সরকারকে উৎখাত এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসানকে যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করলেও বর্তমানে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে ওই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস একসময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে অজনপ্রিয় এ যুদ্ধের ইতি টানার চাপেও রয়েছেন ট্রাম্প।
বুধবারই ঘোষণা আসতে পারে
ক্যালিফোর্নিয়ায় সফরকালে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকরা অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, বুধবার হরমুজ প্রণালি নিয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এটা হতে পারে। আগামীকাল (বুধবার) বা তার পরের দিন। অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’
সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমে আসে।
গত জুনেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তবে পরে আবারও হামলা শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প একদিকে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।
ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণে পৃথক নৌপথের প্রস্তাব
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, আলোচনায় যে সম্ভাব্য চুক্তির রূপরেখা উঠে এসেছে, তাতে জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করবে ইরানের নিয়ন্ত্রিত নৌপথ দিয়ে এবং বের হবে ওমানের নিয়ন্ত্রিত পথ দিয়ে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সেবা ফি নেওয়া হবে।
সংবেদনশীল আলোচনা হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা এসব তথ্য দেন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে যায়, এমন কোনো চুক্তি তারা মেনে নেবে না।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে এটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত জলপথ ছিল।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও প্রণালিতে টোল আরোপের বিরোধিতা করে বলেন, ‘আমি তাদের টোল নিতে দেব না। যদি কেউ টোল নেয়, তাহলে আমরাই নেব।’
তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও এ চুক্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
অগ্রগতির কথা বলছে ওয়াশিংটন ও তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার বলেন, হরমুজ প্রণালিকে নৌযানের ‘নিরাপদ প্রবেশ ও বহির্গমন নৌপথ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে ওমানের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
তার ভাষায়, এসব নৌপথ ‘ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি উভয় দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেবে।’ তিনি বলেন, ‘আলোচনা শেষ হলে এর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও আলোচনা এগোনোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেন, এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এর আগে রুবিও সতর্ক করে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে গেলে তা বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথের জন্যও ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির’ তৈরি করবে।
দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, ‘আজ বা আগামীকালের মধ্যেই প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাতকে আরও স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এর আগে, সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’; অন্যথায় তাদের নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে।
তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, আলোচনা কেবল ওমানের সঙ্গেই চলছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রথম ধাপ হলো প্রণালি খুলে দেওয়া। দ্বিতীয় ধাপ হবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। আর সেটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগবে।’
২৭ দিন আগে
‘নতুন সমঝোতায়’ পৌঁছানোর পর ইরানে হামলা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখতে তিনি মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দেবেন। তার দাবি, পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা একটি সমঝোতার মৌলিক কাঠামোয় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পে এ ঘোষনা দেন।
পোস্টে তিনি বলেন, নতুন এই চুক্তির আওতায় ‘হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিক, সম্পূর্ণ ও পুরোপুরি উন্মুক্ত করা’ এবং ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি লেখেন, ‘এই অনুরোধের ভিত্তিতে আমি বিশ্বের ভবিষ্যৎ স্বার্থ এবং একই সঙ্গে একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি চুক্তি করা সম্ভব হবে—এই শর্তে হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকার বিষয়ে ইসরায়েলও সম্মত হয়েছে।
তবে এ ঘোষণার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর এক দিন আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। সেই অবস্থান থেকে তার সর্বশেষ ঘোষণা সংঘাতে নতুন মোড় আনল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা করে। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থন বন্ধ করাই এ অভিযানের লক্ষ্য। তবে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও সময়সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। এর আগে জুনের মাঝামাঝি সংঘাত বন্ধে হওয়া একটি সমঝোতাও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে যায়।
ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন সৌদি আরব
শনিবার সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ওই আলোচনার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানানো হয়, ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘোষণার আগে হওয়া ওই ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি যুবরাজ।
ওই সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রিয়াদ। যুবরাজ সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছ থেকে স্পষ্ট ধারণা জানতে চান বলেও ওই ব্যক্তি জানান।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরান এর আগে তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা বিভিন্ন জাহাজে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ এবং অন্যান্য ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বাহরাইন, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
৩০ দিন আগে
বাংলাদেশসহ ৫০ দেশে ভিসা বন্ড স্থায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা মার্কিন ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ ১৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩১ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, প্রায় এক বছরের পর্যালোচনায় কর্মসূচিটি ভিসার শর্ত প্রতিপালন নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ফলে এটি স্থায়ীভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিটি সোমবার (৩ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং সেদিন থেকেই নতুন বিধিমালা কার্যকর হবে।
বর্তমানে কর্মসূচির আওতায় থাকা ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ তালিকায় আরও দেশ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, নতুন বিধিমালার আওতায় তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক (বি-১) ও পর্যটন (বি-২) ভিসার সাক্ষাৎকারের আগে নির্ধারিত অঙ্কের বন্ড জমা দিতে হবে।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ বন্ড ছিল ১৫ হাজার ডলার। এছাড়া কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনায় ৫ হাজার বা ১০ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণের সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে সর্বোচ্চ বন্ড ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে এবং ৫ হাজার ডলারের নিম্নসীমা বাতিল করা হয়েছে।
তবে ভিসা আবেদন বাতিল হলে কিংবা ভিসা পাওয়ার পর আবেদনকারী নির্ধারিত শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে জমা দেওয়া বন্ড ফেরত দেওয়া হবে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীদের সংখ্যা কমানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি চালু করে।
মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারী একজন বিদেশিকে গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার ডলার ব্যয় হয়।
তবে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে এটি অত্যন্ত সফল বলে দাবি করেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৫০টি দেশের প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ দর্শনার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালুর পর প্রথম ১০ মাসে ওই দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থানকারীর সংখ্যা ৫০ জনেরও নিচে নেমে আসে।
তবে এ নীতির সমালোচকেরা বলছেন, এটি দরিদ্র দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বা ব্যবসায়িক সুযোগ অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহীদের জন্য এই বন্ড একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম বছরে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ধারণা ছিল, প্রায় দুই হাজার ভিসা আবেদনকারীকে বন্ড দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ২০ হাজার আবেদনকারী এ শর্তের আওতায় পড়েন।
এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক আবেদনকারী বন্ড জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা ইস্যুর সংখ্যা ৮৩ শতাংশ কমে যায়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য, নতুন এই স্থায়ী বিধিমালা কর্মসূচির আওতাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনের প্রবণতা আরও কমাতে ভূমিকা রাখবে।
৩১ দিন আগে
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ধাক্কা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রাখল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। এর মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী এজেন্ডার একটি প্রধান স্তম্ভ অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে আদালত।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিন ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যাতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসী ও অস্থায়ী বৈধ বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, এই আদেশ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর লঙ্ঘন।
রায়ে রবার্টস লেখেন, ‘অতীতে যেমন, এখনও তেমনই নাগরিকত্ব মানে অধিকার ভোগের অধিকার; আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এ দেশের “প্রত্যেক স্বাধীনভাবে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির” জন্য সেই প্রতিশ্রুতি সম্প্রসারিত করেছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছি।’
রবার্টসের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন উদারপন্থি বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কেগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট।
তবে রক্ষণশীল বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ রায়ের সঙ্গে একমত হলেও আংশিক ভিন্নমত দিয়ে বলেন, নির্বাহী আদেশটি ফেডারেল আইনের পরিপন্থি হলেও সংবিধান লঙ্ঘন করেনি। এছাড়া অপর তিন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও নিল গরসাচ ভিন্নমত দেন।
১৯৪ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে প্রায় ৯০ পৃষ্ঠাই বিচারপতি থমাসের ভিন্নমত, যা সুপ্রিম কোর্টে তার দায়িত্বকালে সবচেয়ে দীর্ঘ ভিন্নমত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ‘দীর্ঘ ও জটিল কোনো সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রয়োজন নেই। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের মতো ব্যয়বহুল ও দেশের জন্য অন্যায্য ব্যবস্থা বন্ধে কংগ্রেসের আজই কাজ শুরু করা উচিত। এতে আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’
এদিকে, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাটরা এ রায়কে আধুনিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক সাংবিধানিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
মামলাটি পরিচালনা করে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনটির জাতীয় আইন বিষয়ক পরিচালক সিসিলিয়া ওয়াং এই রায়কে একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে উদযাপন করেছেন।
ওয়াং বলেন, ‘আদালতের সিদ্ধান্ত আমেরিকার একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে—আপনি যদি এখানে জন্ম নেন, তাহলে আপনি একজন নাগরিক। কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশ দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না।’
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে তার অভিবাসন নীতির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতার ব্যাখ্যা নতুনভাবে নির্ধারণ করা।
এর আগে তিনি বারাক ওবামা কেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য—এমন বর্ণবাদী প্রচারণা ছড়িয়েছিলেন। এমনকি কমলা হ্যারিসের জন্মের সময় তার মা-বাবার অভিবাসন মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে তিনি হ্যারিসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের যোগ্যতার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
তার প্রশাসনের দাবি ছিল, চতুর্দশ সংশোধনীতে ব্যবহৃত ‘subject to the jurisdiction thereof’ বা ‘যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারের অধীন’ বাক্যাংশের অর্থ হলো, যেসব শিশুর বাবা-মা বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন না বা কেবল অস্থায়ী বৈধ মর্যাদা নিয়ে আছেন, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবেন না।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নীতি কার্যকর হবে এবং এর ফলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া কয়েক লাখ শিশুর নাগরিকত্বের ওপর প্রভাব পড়বে।
তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে আদালতে এ আদেশের বৈধতা নিয়ে শুনানি চলার পর সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বা অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুরাও চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার আওতায় জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন নাগরিক।
ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেছেন, চতুর্দশ সংশোধনী ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসাংবিধানিক আক্রমণ’ প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান ‘অপব্যবহার’ হয়েছে।
সহমতসূচক পৃথক মতামতে বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন লেখেন, চতুর্দশ সংশোধনীর ‘সর্বজনীন লক্ষ্য’ বংশপরিচয়কে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের ভিত্তি করার যেকোনো দাবির অবসান ঘটানোর জন্যই প্রণীত হয়েছিল।
৬২ দিন আগে
আর্থিক জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ধনকুবেরের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির দায়ে স্বেচ্ছানির্বাসিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক গুও ওয়েংগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের তথ্যমতে, তিনি গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সমর্থকদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ জুন) ম্যানহাটনের একটি আদালতকক্ষে বিচারক আনালিসা টরেস এ রায় ঘোষণা করেন।
আনালিসা টরেস বলেন, চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যেসব মানুষ গুওকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি তাদেরই শিকার বানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন।
এদিকে, রায় ঘোষণার আগে গুও কারাগারে নিজের সঙ্গে হওয়া আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। সে সময় তিনি জানান, সোমবার ভোরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রসিকিউশনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আদালতে তাকে অসুস্থতার ভান করা ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসার সময় তিনি বারবার বমি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আদালতে গুওর বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি মামলার বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। এ সময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে (সিসিপি) ধ্বংস করার জন্য।’
গুওর সাজা ঘোষণার সময় বিচারক টরেস ভুক্তভোগীদের পাঠানো কয়েকটি চিঠির অংশ পড়ে শোনান। চিঠিতে ভুক্তভোগীরা লিখেছেন, গুওর প্রতারণায় তারা আজীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। এতে তারা চরম মানসিক চাপ ও লজ্জার মধ্যে পড়েছেন। ভুল বিনিয়োগের কারণে তাদের সঙ্গে পরিবারেও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বিচারক টরেস বলেন, গুও নিজের কর্মকাণ্ডের কোনো দায় স্বীকার করেননি। বরং তিনি দাবি করছেন, তার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, এর আগে যারা গুওর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন, গুও তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন।
এছাড়া রায়ে আদালত গুওর ৮৮৯ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে গুও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। ২০২০ সালে তারা যৌথভাবে চীনা সরকারকে উৎখাতের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় গুও নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক-সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো গলফ ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে গুওর জন্য অন্তত ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তাদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুওর অভূতপূর্ব প্রতারণা শত শত মানুষের জীবন ধ্বংস করেন দিয়েছে। এতে অসংখ্য ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার আর্থিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে গুও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। তার সম্পদের মধ্যে ছিল প্রাসাদসম বাড়ি, ইয়ট, রেসিং কার, দামি পোশাক এবং বিলাসবহুল আসবাবপত্র।
সাত সপ্তাহ ধরে চলা এ বিচার কার্যক্রম শেষে ১২টি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে গুও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের মতে, বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে গুও হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর সেই অর্থ দিয়েই তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবন চালিয়ে গেছেন।
আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে গুওর আইনজীবীরা দাবি করেন, গুও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। এমনকি তারা গুওর প্রাণনাশের হুমকির মতো তৎপরতা চালিয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সাজা ঘোষণার আগে দাখিল করা নথিতে তার আইনজীবীরা আরও বলেন, গুওর দীর্ঘ কারাদণ্ড হলে তা চীনের অপপ্রচারকে শক্তিশালী করবে। এ রায় চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের স্বাভাবিক জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেবে। এছাড়া একই ধরনের মামলায় অন্য আসামিরা যেখানে দুই থেকে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন, সেখানে গুওর ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সাজা অযৌক্তিক বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও জানান, আদালতের প্রবেশন কর্মকর্তা বিচারককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, চীনে নির্যাতনের কারণে গুওর শরীরে ক্ষতচিহ্ন ও বিকৃতি রয়েছে। ১৯৯৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব আঘাতের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের জন্য তার একাধিক অস্ত্রোপচারও হয়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, গুওর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চীনের বৃহত্তম সিকিউরিটিজ কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ছিল। সেখান থেকেই তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করার পর থেকে তিনি সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে হংকং ও লন্ডন হয়ে ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে চলে যান।
এছাড়া চীনা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ, ঘুষসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। তবে আদালতে গুও দাবি করেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গুও তার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য শত শত মানুষকে রাজি করিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে তিনি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল তার গণমাধ্যম কোম্পানি জিটিভি মিডিয়া গ্রুপ ইনকরপোরেশন, হিমালয়া ফার্ম অ্যালায়েন্স এবং হিমালয়া এক্সচেঞ্জ।
সাজা ঘোষণার আগে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক শিথিল আশ্রয় আইনের সুযোগ নিয়ে গুও দেশটিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজের এসব অপরাধের জন্য গুও একেবারেই অনুতপ্ত নন।
৬৩ দিন আগে
ইরানের পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে অন্তর্বর্তী চুক্তিকে এগিয়ে নেওয়া এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে ইরানি নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আজ রবিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই আলোচনার লক্ষ্য হলো দুই দেশের একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
গত সপ্তাহে আলোচনা শেষে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ আলোচকরা ৬০ দিনের মধ্যে চুড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আলোচনাটি বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে এই ৬০ দিনের সময়সীমার শুরুতেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ, লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করার পথ ফের বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অবশ্য ইরানের দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। মার্কিন বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জলপথে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করছে। এ বিষয়ে ভ্যান্স বলেন, গত দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে লাখ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে।
ভ্যান্স প্রথমে স্থানীয় সময় শুক্রবার লুসার্নের কাছে বুর্গেনস্টক রিসোর্টে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার যাত্রা বিলম্বিত হয়। একই সময়ে ইরানি কর্মকর্তারাও আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির আলোচকদের সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর খবর প্রচারের পর পরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে রওনা হন ভ্যান্স।
ইরানের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল খাতের কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, সুইজারল্যান্ডে ভ্যান্সের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তারা ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছে যুদ্ধ অবসানের বিষয়গুলো পর্যালোচনা শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও অংশ নিচ্ছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শাহবাজ শরিফ ইরান, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন। বৈঠকে তিনি সংলাপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির প্রতিষ্ঠার চ্ষ্টো করবেন।
ভ্যান্স ও তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে লুসার্নের বাইরে এমেন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখান থেকে ভ্যান্স জানান, তিনি সুইজারল্যান্ডে এক বা দুই দিন থাকবেন। মূলত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
এদিকে, ট্রাম্প ও ভ্যান্স নিজ দলের একটি অংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থিরা এই চুক্তিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে তুলনা করছেন। রিপাবলিকানরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ওই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যকরভাবে বন্ধ করতে পারেনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ফলে ইরান অবিলম্বে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবহারের পথও উন্মুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি, চুক্তিতে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে হবে।
প্রসঙ্গত, যেসব পারমাণবিক স্থাপনায় ইরান ইউরেনিয়াম মজুত করে রেখেছিল, গত গ্রীষ্মে সেসব স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। তবে ভবিষ্যতে ইরান প্রবেশমূল্য আরোপ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
অন্যদিকে, স্থানীয় সময় শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সেবার বিনিময়ে এবার থেকে অর্থ নেওয়া হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের মৌসুম শুরুর আগে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ তেলের দামে সাময়িক সময়ের জন্য প্রভাব ফেলেছে।
হোয়াইট হাউস চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের বাজারে দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়। স্থানীয় সময় আজ (রবিবার) সন্ধ্যায় বাজার খোলার পর বিনিয়োগকারীরা আলোচনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে পরিস্থিতিকে এখনও কিছুটা জটিল রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির সঙ্গে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর কোনো পক্ষই জড়িত নয়।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত তার বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবে। অপরদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা হামলা বন্ধ করবে না।
৭২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবে বন্দুক হামলায় অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়োতে একটি জনাকীর্ণ উৎসবের কাছে ভয়াবহ এক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৬ জুন) লাইভ মিউজিক ও বাড়ি পরিদর্শনের বার্ষিক আয়োজন ‘ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যালের’ কাছাকাছি এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
গুলির শব্দে উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই আতঙ্কে রূপ নেয়; কেউ কেউ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন, আবার অনেকে আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
ঘটনার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরও কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় টলেডো পুলিশের ডেপুটি চিফ জো হেফার্নান। সেই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে কোনো ছবি বা ভিডিও থাকলে, তা তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হেফার্নান জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে, অন্তত দুজন ব্যক্তি গুলি ছুড়েছেন। তারা সম্ভবত একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিলেন।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। ভুক্তভোগীদের বয়স ১৪ থেকে ৬১ বছরের মধ্যে, তবে তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ওহাইয়োর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন বলেছেন, ‘আজ রাতে টলেডোর পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গ্রীষ্মকালীন উৎসবগুলো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একটি নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত, যেখানে কোনো সহিংসতার ভয় থাকবে না।’
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শুনে মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন। আরেক ভিডিওতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।
ফায়ার চিফ অ্যালিসন আর্মস্ট্রং জানান, রাস্তা বন্ধ থাকা এবং উৎসব ছেড়ে ঘরে ফিরে যাওয়া মানুষের গাড়ির ভিড়ের কারণে শুরুর দিকে হাসপাতালে পৌঁছানো বেশ কষ্টকর ছিল। তবে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা এক ঘণ্টার মধ্যেই সব রোগীকে ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।
কেভিন বেরি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বন্ধুদের সঙ্গে উৎসবস্থলের একটি উদ্যানে বসে গান শুনছিলেন। ঠিক তখনই তিনি বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শুনতে পান বলে জানান।
তার ভাষ্যে, ‘গুলির শব্দ শোনামাত্রই সবাই মাটিতে শুয়ে পড়েন। এরপর যখন মাথা তুলে তাকাই, তখন দেখি যে আমার থেকে ৫০ ফুটেরও কম দূরত্বে একটি বন্দুক মাটিতে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। উৎসবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে উপস্থিত হন।’
নৌবাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কারও সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না, তা দেখতে এগিয়ে যান বেরি। সে সময় তিনি অন্তত পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তারা উদ্যান এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন।’
টলেডোর ঐতিহাসিক জেলায় অনুষ্ঠিত ‘ওল্ড ওয়েস্ট এন্ড ফেস্টিভ্যাল’ মূলত দুই দিনব্যাপী একটি উৎসব। যেখানে লাইভ মিউজিক, খাবারের দোকান, ঘর সাজানোর প্রদর্শনী ও কেনাকাটার ব্যবস্থা থাকে। বেরি এটিকে ‘টলেডোর গ্রীষ্মকালীন উৎসব মৌসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শহরের নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক জর্জ ক্রাল জানিয়েছেন, উৎসবটি সপ্তাহের বাকি সময় চালু রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, এটি টলেডোর অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এমন একটি ঘটনা পুরো আয়োজনটি নষ্ট করে দিল।
৮৬ দিন আগে