সিনেমা
সালমান শাহ: তিন দশকের মুগ্ধতা, স্মৃতি ও অমীমাংসিত প্রশ্ন
কিছু তারকা আসেন, উজ্জ্বলভাবে আলো ছড়ান এবং সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যান। তবে খুব অল্প কয়েকজন প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিতে থেকে যান। চলে যাওয়ার কয়েক দশক পরও তাদের উপস্থিতি মুছে যায় না।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন তারকাদের মধ্যে সালমান শাহর মতো দীর্ঘস্থায়ী ছাপ খুব কমই কেউ রেখে যেতে পেরেছেন। আজ (রবিবার) তার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই জনপ্রিয় অভিনেতার নাম ছিল চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
মাত্র প্রায় চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম তারকা হয়ে ওঠেন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক হয়। এরপর ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘সুজন সখী’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নেন।
শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ঢালিউডে যার সঙ্গে তার অভিষেক হয়েছিল সেই মৌসুমীসহ শাবনাজ, লিমা ও শাহনাজের মতো শীর্ষ অভিনেত্রীদের সঙ্গেও তার অভিনয় তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করে।
সালমান শাহর পোশাক, চুলের স্টাইল ও পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি তাকে অনুসরণীয় তারকায় পরিণত করে। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে যার প্রভাব এখনও অনুভূত হয়।
তবে এই তারকার প্রতি দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার পাশাপাশি তার মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নও তিন দশক ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তী তদন্তগুলোতে তাকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এটি আত্মহত্যা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেও একই সিদ্ধান্ত আসে।
তবে সালমান শাহর পরিবার বরাবরই এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে আসছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার একটি আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। পরে তার প্রাক্তন স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। চলতি বছরের আগস্টে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা কয়েক দফা পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পর আজও তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। তাকে দেখে বড় হওয়া দর্শকদের কাছে তিনি এখনও তার সিনেমার পর্দায় থাকা সেই তরুণ নায়ক, যার আকর্ষণ আজও অমলিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও এই কিংবদন্তি অভিনেতার অগণিত ভক্তের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।
ঢালিউডের সবচেয়ে বড় ‘যদি-কিন্তু’র গল্পগুলোর একজন সালমান শাহ। তিনি কখনোই সত্যিকার অর্থে পর্দা কিংবা তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করা মানুষের হৃদয় থেকে বিদায় নেননি।
১২ দিন আগে
সুচিত্রা সেন: পাবনার এক সাধারণ মেয়ে থেকে মহানায়িকা হয়ে ওঠার গল্প
‘তুমি যে আমার, ওগো তুমি যে আমার’—হারানো সুর ছবির এই গানের সুর এখনো বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বল তো?’—এই প্রশ্ন শুধু একটি গানের নয়, এটি এক যুগের আবেগ। আর সেই আবেগের কেন্দ্রে ছিলেন সুচিত্রা সেন। তার হাসি, দৃষ্টি আর নীরবতায় আজও বেঁচে আছেন বাঙালির হৃদয়ে।
সব মহানায়িকার গল্পই আলোঝলমলে স্টুডিও থেকে শুরু হয় না। কিছু গল্প জন্ম নেয় ধুলিমাখা ছোট শহরে, যেখানে স্বপ্নগুলো নিঃশব্দে বড় হয়ে ওঠে। সুচিত্রা সেনের গল্পও তেমনই। পাবনার এক সাধারণ মেয়ে, যিনি একদিন হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সিনেমার চিরন্তন ‘মহানায়িকা’।
পাবনা থেকে পথচলা
সুচিত্রা সেনের জন্ম ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাবনা জেলার বেলকুচিতে। তার প্রকৃত নাম রমা দাশগুপ্ত। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্কুলশিক্ষক এবং মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত গৃহিণী। একটি সাধারণ, সাদামাটা পরিবেশে পাবনাতেই কেটেছে তার শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবন। পরবর্তীতে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয় তার পরিবার।
কলকাতার পথে
১৯৪৭ সালে অল্প বয়সেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর কলকাতায় এসে তার জীবনে নতুন মোড় আসে। চলচ্চিত্রে প্রবেশ তার জন্য সহজ ছিল না। প্রথমদিকে কয়েকটি সিনেমা তেমন সাড়া ফেলেনি। তবে তিনি থেমে যাননি। নিজের অভিনয়, অভিব্যক্তি ও উপস্থিতিকে ধীরে ধীরে নিখুঁতভাবে গড়ে তোলেন।
ক্যারিয়ারের উত্থান
১৯৫০-এর দশক থেকেই তার অভিনয় জীবনের উজ্জ্বল সূচনা। বিশেষ করে উত্তম কুমারের সঙ্গে তার জুটি বাংলা সিনেমায় এক নতুন যুগের সূচনা করে। হারানো সুর, সপ্তপদী, দীপ জ্বেলে যাই-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো শুধু জনপ্রিয়ই হয়নি, বরং কালজয়ী হয়ে উঠেছে।
‘সাড়ে চুয়াত্তর’ (১৯৫৩) থেকে ‘প্রিয় বান্ধবী’ (১৯৭৫) পর্যন্ত প্রায় ৩০টি ছবিতে এই জুটি এক সঙ্গে কাজ করে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্বর্ণযুগ রচনা করে। তার অভিনয়ে ছিল আত্মমর্যাদা ও সংযমের অনন্য মিশ্রণ। হিন্দি চলচ্চিত্রেও তিনি নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
বিশেষত্ব
সুচিত্রা সেন শুধু একজন অভিনেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক রহস্যময়ী ব্যক্তিত্ব। তার চোখের ভাষা, সংযত অভিব্যক্তি এবং পর্দায় উপস্থিতির শক্তি তাকে আলাদা করে তুলেছিল।
তিনি কখনো অতিরিক্ত প্রচারে বিশ্বাসী ছিলেন না, বরং নিজেকে আড়ালেই রাখতে পছন্দ করতেন। ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই লাইম লাইট থেকে দূরে সরে যান। এই স্বেচ্ছা-নির্জনবাসই তাকে আরও বেশি রহস্যময় করে তোলে।
জীবনের শেষ তিন দশক তিনি কাটান প্রায় সম্পূর্ণ নির্জনতায়। যেন তিনি নীরবে প্রশ্ন রেখে গেছেন—ভালোবাসা কি শুধু পাওয়া, নাকি ছেড়ে দেওয়ার মধ্যেও তার পূর্ণতা আছে?
‘কিছু দৃশ্য কখনো পুরোনো হয় না, কিছু মুখ কখনো ভুলে যাওয়া যায় না’—বাংলা সিনেমার সেই চিরন্তন মুখগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সুচিত্রা সেন। পাবনার এই মেয়ে সময় ও দেশের সীমানা পেরিয়ে হয়ে উঠেছেন এক কিংবদন্তি।
দর্শকপ্রিয় কিছু চলচ্চিত্র
দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯)
এক মানসিক হাসপাতালের নার্স ‘রাধা’ চরিত্রে তার অভিনয় মানবিকতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত। সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রের গভীর যন্ত্রণা তুলে ধরেছেন।
সপ্তপদী (১৯৬১)
উত্তম কুমারের সঙ্গে তার রসায়ন বাংলা সিনেমায় নতুন উচ্চতা তৈরি করে। ধর্ম, সমাজ ও প্রেমের সংঘাতে গড়ে ওঠা এই গল্পে তিনি এক আধুনিক নারীর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেন।
সাত পাকে বাঁধা (১৯৬৩)
এই ছবিতে এক স্বাধীনচেতা নারীর মানসিক টানাপোড়েন সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ অভিনয়ের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।
আন্ধি (১৯৭৫)
হিন্দি চলচ্চিত্রে তার অন্যতম শক্তিশালী কাজ। একজন নারী রাজনীতিকের চরিত্রে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাস্তবভাবে তুলে ধরেন।
দেবদাস (১৯৫৫)
বিমল রায় পরিচালিত এই ক্লাসিক ছবিতে ‘পার্বতী’ চরিত্রে তার অভিনয় ছিল গভীর আবেগে ভরপুর।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি
তার অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরষ্কারে ভূষিত করে; পশ্চিমবঙ্গ সরকার দেয় ‘বঙ্গবিভূষণ’ পুরষ্কার।
সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’ চলচ্চিত্রে কাজের প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া রাজ কাপুরের সঙ্গেও কাজ করেননি ব্যক্তিগত কারণে। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি যা তার ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তারই প্রমাণ।
সুচিত্রা সেন নেই, কিন্তু তার উপস্থিতি রয়ে গেছে প্রতিটি ক্লাসিক দৃশ্য, সংলাপ আর স্মৃতিতে। তিনি শুধু একজন নায়িকা নন; তিনি এক অনুভূতি, এক ইতিহাস, এক চিরন্তন রহস্য।
পাবনার সেই সাধারণ মেয়েটি প্রমাণ করে গেছেন, মহানায়িকা হয়ে ওঠা শুধু ভাগ্যের বিষয় নয়; প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব ও নিজস্বতার সমন্বয়ই একজনকে কিংবদন্তি করে তোলে। আজ তার জন্মদিনে তাকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন অভিনেত্রীকে নয়, এক যুগকে স্মরণ করা।
১৬৪ দিন আগে
রণবীর কাপুর-যশের রামায়ন হতে যাচ্ছে ভারতীয় ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র
কিংবদন্তির মহাকাব্য রামায়ন এবার আসতে যাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য পর্দায়। এমনকি দুটি পর্বের এক সমৃদ্ধ ফ্র্যাঞ্চাইজির অবতারণা করতে চলেছে ঐতিহাসিক সৃষ্টিকর্মের এই চলচ্চিত্ররূপ। এখন পর্যন্ত ২০২৬ ও ২০২৭-এর দুই দীপাবলিতে দুটি কিস্তিতে এর মুক্তির কথা চলছে। শ্রেষ্ঠাংশে রণবীর কাপুর, যশ, ও সাই পল্লবী নামগুলো ইতোমধ্যে বেশ হৈচৈ-এর জন্ম দিয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে। তবে সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এর বিশাল বাজেট। ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণে এক নতুন মাইলফলক রচনা করতে চলেছে ‘রামায়ন’। চলুন, বহু প্রতীক্ষিত এই ছবিটি সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
তারকা নির্ভর চলচ্চিত্র রামায়ণ
এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র রামচন্দ্রের ভূমিকায় দেখা যাবে বলিউডের রণবীর কাপুরকে। তার বিপরীতে সীতার চরিত্রে অভিনয় করবেন দক্ষিণ ভারতের সাই পল্লবী। দক্ষিণের সুপারস্টার যশ থাকবেন রাবণের ভূমিকায়, আর হনুমানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন সানি দেওল। গুরুত্বপর্ণূ বিভিন্ন চরিত্রে আরও রয়েছেন লারা দত্ত, কাজল আগারওয়াল, বিবেক ওবেরয়, রবি দুবে এবং অরুণ গোভিল।
মহা এই আয়োজনের নেপথ্যের চলচ্চিত্র শিল্পীরা
সিনেমার পরিচালনায় রয়েছেন প্রথিতযশা নির্মাতা নীতেশ তিওয়ারি। প্রযোজনা করছেন আটবার অস্কার বিজয়ী প্রযোজক নমিত মালহোত্রা। তার প্রোডাকশন হাউজ ডিএনইজি ও প্রাইম ফোকাস স্টুডিওর সাথে যৌথ প্রযোজনায় আছে যশের মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশন্স।
ডিএনইজি মূলত একটি বিশ্বখ্যাত ভিএফএক্স কোম্পানি। ‘ডিউন’, ‘অপেনহাইমার’ এবং ‘ইন্টারস্টেলার’-এর মতো বিশ্বনন্দিত চলচ্চিত্রগুলোর ভিজ্যুয়াল এফেক্টের জন্য এটি ব্যাপক ভাবে সমাদৃত। তাছাড়া, ‘রামায়ণ’ শ্যূট করা হবে বিশেষভাবে আইম্যাক্সের জন্য।
আরো পড়ুন: মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থের’ দাপট
সিনেমার সঙ্গীতায়োজনে একত্রিত হয়েছেন দুই অস্কারজয়ী সুরকার। ভারতের এআর রহমান এবং বিখ্যাত জার্মান সুরকার হ্যান্স জিমার। জিমারের জগদ্বিখ্যাত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্যা লায়ন কিং’ (১৯৯৪), ‘দ্যা ডার্ক নাইট’ (২০০৮), ‘ইনসেপশন’ (২০১০) এবং সম্প্রতি দুই পর্বের ‘ডিউন’ মুভি সিরিজ।
অ্যাকশন কোরিওগ্রাফিতে রয়েছেন গাই নরিস। তার শ্রেষ্ঠ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’।
ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেটের মুভি
রামায়ণের প্রথম পর্বের জন্য বাজেট ঠিক হয়েছে ৯০০ কোটি রুপি আর সিক্যুয়েলের জন্য ৭০০ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে গোটা ফ্র্যাঞ্চাইজির নির্মাণ বাজেট দাড়িয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি। প্রথম ছবিতে একদম শূন্য থেকে আদ্যোপান্ত নতুন এক জগত তৈরি করা হয়েছে। আর এই প্রোডাকশন সেটই মূলত এত বড় বাজেটের জন্য দায়ী। দ্বিতীয় অংশে এই পূর্ব নির্মিত সেটেই চিত্রায়িত হবে অ্যাকশন দৃশ্যগুলো। তাই দ্বিতীয় ছবিতে তুলনামূলক কম বাজেট। তবে গোটা ভারতীয় মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে এমন বাজেটের নির্মাণ এই প্রথম।
আরো পড়ুন: ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫-এ ৩৫ লক্ষাধিক পেইড ভিউ: বাংলাদেশের ওটিটি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন রেকর্ড
প্রধান কুশীলবদের কে কত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন
দুই পর্বের ‘রামায়ণ’ ছবিতে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতা হচ্ছেন রণবীর কাপুর। প্রতি কিস্তির জন্য ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতা নিচ্ছেন ৭৫ কোটি রুপি। সুতরাং পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার মোট আয় দাড়াচ্ছে ১৫০ কোটি রুপি।
দুই কিস্তি জুড়ে প্রধান নারী চরিত্রের জন্য সাই পল্লবী নিচ্ছেন ৬ কোটি করে। অর্থাৎ পুরো মুভি সিরিজে তিনি পাবেন মোট ১২ কোটি রুপি। যশের পারিশ্রমিক ৫০ কোটি করে মোট ১০০ কোটি রুপি। আর সানি দেওল নিচ্ছেন ২০ কোটি করে সর্বমোট ৪০ কোটি রুপি।
উপমহাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব মঞ্চে রামায়ন
গত ৩ জুলাই ভারতের নয়টি প্রধান শহরে একযোগে প্রকাশিত হয় রামায়নের প্রথম লুক- ‘রামায়ণ: দি ইন্ট্রোডাকশন’। এই শহরগুলো ছিলো মুম্বাই, চেন্নাই, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু, কলকাতা, আহমেদাবাদ, পুনে, এবং কোচি।
এর মাত্র একদিন পরেই লুকটি প্রকাশ পায় নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারের ডিজিটাল বিলবোর্ডে। এর মাধ্যমে দেশের গণ্ডী পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের কাছে পৌছে যায় ভারতের ‘রামায়ন’।
আরো পড়ুন: ঈদুল আজহায় মুক্তি-প্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘উৎসব’: এক ঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পীর এক অনবদ্য রম্য পরিবেশনা
পরিশিষ্ট
রণবীর কাপুর, যশ, ও সাই পল্লবীর ‘রামায়ণ’ এখন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি হট টপিক। নীতেশ তিওয়ারি ও নমিত মালহোত্রার বিশ্বমানের নির্মাণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠার রসদ পাচ্ছে ভারতের পৌরাণিক কাহিনীকে। এই চলচ্চিত্ররূপকে আরও অলংকৃত করতে রয়েছে এআর রহমান ও হ্যান্স জিমারের যৌথ সঙ্গীত। অন্যদিকে, ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপির বাজেটে রয়েছে ভারতীয় সিনেমার নতুন শিখর জয়ের উন্মাদনা। সর্বপরি, তারকা-অভিনয়শিল্পী ও পর্দার পেছনের কুশলীদের সমন্বয়ে এক কালজয়ী সৃষ্টিকর্ম পেতে চলেছে ভারতীয় মুভি ইন্ডাস্ট্রি।
৪৩৭ দিন আগে
মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থের’ দাপট
হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’। ১৯৯৩ সালে ‘জুরাসিক পার্ক’ মুক্তির মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু। এবার এসেছে নতুন ছবি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থ’।
এ গল্পের পটভূমিতে ডাইনোসর ক্লান্তি থাকলেও দর্শকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একদমই প্রযোজ্য হয়নি। বরং বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে দারুণ দাপট দেখিয়েছে ছবিটি। রবিবার (৬ জুলাই) স্টুডিও থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ৩১৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে ছবিটি। এটি মুক্তি পেয়েছিল গত বুধবার।
জুরাসিক ওয়ার্ল্ড রিবার্থ পরিচালনা করেছেন গ্যারেথ এডওয়ার্ডস। এটি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ সিরিজের চতুর্থ সিনেমা এবং ১৯৯৩ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত মাইকেল ক্রাইটনের উপন্যাস অবলম্বনে প্রথম ‘জুরাসিক পার্ক’ মুক্তির পর থেকে সিরিজের মোট সপ্তম সিনেমা এটি।
আন্তর্জাতিক বাজারে চীনসহ ৮২টি দেশে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রথম পাঁচ দিনে আয় ১৭১ মিলিয়ন ডলার। শুধু চীনেই আয় হয়েছে ৪১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। সেখানে ছবিটি ৬৫ হাজার পর্দায় চলেছে, যার ৭৬০টি ছিল আইম্যাক্স স্ক্রিন। এটিই চলতি বছরে চীনে সবচেয়ে বড় ‘মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন’ (এমপিএ) মুক্তির রেকর্ড গড়েছে।
৪৩৮ দিন আগে
ঈদুল আজহার সিনেমা নীলচক্র: আরেফিন শুভ ও মন্দিরা চক্রবর্তীর সাড়া জাগানো সাসপেন্স থ্রিলার
গত ৭ জুন ঈদুল আজহার ধামাকা আয়োজনে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোর অন্যতম ছিলো ‘নীলচক্র’। প্রথম সারির চলচ্চিত্রগুলোর সাথে এই থ্রিলার ঘরানার মুভিটিও চলে এসেছে দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে। আরেফিন শুভ ও নবাগতা মন্দিরা চক্রবর্তী জুটির ছবিটি ইতোমধ্যে নিজের সমুচিত জায়গা করে নিয়েছে ঢালিউড বক্সঅফিসে। চলুন, ‘নীলচক্র’-এর নির্মাণ, কুশীলব, চিত্রনাট্য, ও সর্বশেষ আয়ের ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক।
এক নজরে টিম নীলচক্র
ছবির নির্দেশনা ও গল্প লেখনীতে ছিলেন মিঠু খান। কাহিনী রূপায়নে তার সাথে যোগ দিয়েছেন অঞ্জন সরকার জিমি, অংকন পোদ্দার, এবং নাজিম উদ দৌলা।
চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে এই প্রথমবারের মত একসঙ্গে কাজ করলেন আরিফিন শুভ ও মন্দিরা চক্রবর্তী। ‘কাজলরেখা’র পর এটি মন্দিরার দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা।
আরো পড়ুন: ঈদুল আজহায় মুক্তি-প্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘উৎসব’: এক ঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পীর এক অনবদ্য রম্য পরিবেশনা
এতে দেখা গেছে ফজলুর রহমান বাবু, খালেদা আক্তার কল্পনা, এবং শিরিন আলমের মত বর্ষিয়ান অভিনেত্রীদের। নতুনদের মধ্যে ছিলেন প্রিয়ন্তী ঊর্বি, পারভীন পারু, মনির আহমেদ শাকিল, দীপান্বিতা মার্টিন, এবং মাসুম রেজওয়ান। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে শিশুশিল্পী মায়েশা আহমেদ অদিতিকে।
এছাড়াও অন্যান্য ভূমিকায় ছিলেন বড় পর্দার পরিচিত মুখ শাহেদ আলী ও টাইগার রবি।
সিনেমায় আলাদা একটি মাত্রা যোগ করেছিলো সঙ্গীতশিল্পী বালামের অভিনয়। এর মাধ্যমে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে বালামের অভিষেক ঘটলো। এছাড়া গোটা চলচ্চিত্রের মিউজিক কম্পোজেও ইমন সাহার সাথে যৌথভাবে কাজ করেছেন বালাম।
আরো পড়ুন: শাকিব-সাবিলার ‘লিচুর বাগানে’কে ছাড়িয়ে জোভানের ‘আশিকি’
ঈদের দুদিন আগে সিনেমায় তার গাওয়া ‘ধোকা’ গানটি প্রকাশ পায়। গানটির গীতিকার রবিউল ইসলাম জীবন, আর সুর করেছেন বালাম নিজেই।
এছাড়া অন্যান্য কন্ঠশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন জালালী শাফায়াত এবং মাশা ইসলাম।
অ্যাকশন নির্ভর ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন রাজু রাজ।
ফিল্ম লাইফ প্রোডাকশন এবং ফিল্ম ফায়োস প্রোডাকশনের ব্যানারে প্রযোজনায় ছিলেন আসিফ আকবর এবং এনায়েত আকবর মিলন। পরিবেশনায় ছিলো অভি কথাচিত্র।
আরো পড়ুন: ঈদুল আযহা ২০২৫ এ চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে যে চলচ্চিত্রগুলো
সিনেমার কাহিনী
অনলাইনে ক্লিক বেইটের শিকার হয়ে এক দর্শকের অভিজ্ঞতা কেবল একটি ভুল কন্টেন্ট দেখাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেকে সরাসরি স্ক্যামের মত সাইবার অপরাধের অসহায় শিকারে পরিণত হয়। এই চিত্র এখন পুরো শহরের। এভাবে একের পর এক ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হতে হতে গোটা সমাজ ছেয়ে যায় অন্ধকার আর আতঙ্কে। দানা বেধে ওঠে রহস্য, ভয়, ও উত্তেজনা। এমনি সমসাময়িক গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘নীলচক্র’।
রহস্য, সাসপেন্স, থ্রিলার, অ্যাকশন, ও নাটকীয়তার এক দারুণ সমন্বয় ছবিটি। হলিউডের অপরাধের সয়লাবে পরিপূর্ণ নয়ের ফিল্মের পুরো আমেজটাই পাওয়া গিয়েছে এতে। একই সাথে এর অন্যতম প্রধান উপাদান ছিলো আন্তর্জাতিক ডার্ক ফিল্মের অন্ধকার পটভূমি।
ঢালিউড বক্স অফিসে নীলচক্র’-এর আয়
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে বিশ্ব প্রিমিয়ারের পর কুরবানী ঈদের দিন বাংলাদেশে মুক্তি পায় ‘নীলচক্র’। মুক্তির পর দ্বিতীয় দিনে সিনেমার সংগ্রহ ছিল ৩.০২ লাখ টাকা। তৃতীয় দিনে সেটি সামান্য বেড়ে হয় ৩.২৬ লাখ টাকা। তবে চতুর্থ দিনে তা সামান্য কমে দাড়ায় ২.৯৯ লাখে। চতুর্থ দিন শেষে মাল্টিপ্লেক্স থেকে ‘নীলচক্র’-এর উপার্জন সব মিলিয়ে ১০.০৬ লক্ষ টাকা।
আরো পড়ুন: ঈদুল আযহা ২০২৫ এ দর্শক মাতাতে আসছে যে নাটকগুলো
শেষাংশ
৭ জুন ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত আরেফিন শুভ ও মন্দিরা অভিনীত ‘নীলচক্র’-এর এই সমুচিত সাফল্য বাংলাদেশি মূলধারার চলচ্চিত্রে সৃজনশীল সংযোজন। বিশেষত সাইবার অপরাধ সারা বিশ্বের জন্যই একটি চলমান সংকট। এমন পটভূমিতে মিঠু খানের এই নির্মাণটি নিঃসন্দেহে বিশ্ব মানের উপাদান সংযোগের একটি যুগোপযোগী প্রয়াস। অভিনয়ের দিক থেকে সিনেমাটি মন্দিরা এবং বালামের ক্যারিয়ারের জন্য এক মাইলফলক রচনা করেছে। সব মিলিয়ে, দর্শকদের কাছে ছবির গ্রহণযোগ্যতা ভবিষ্যতেও একই ধরণের কাস্টিং, সিনেমাটোগ্রাফি ও গল্পচর্চার দাবি রাখছে।
৪৬৩ দিন আগে
ঈদুল আজহায় মুক্তি-প্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘উৎসব’: এক ঝাঁক শক্তিমান অভিনয়শিল্পীর এক অনবদ্য রম্য পরিবেশনা
২০২৫-এর ৭ জুন তথা ঈদুল আযহার এই দিনটিতে ভরপুর বিনোদন নিয়ে একসাথে মুক্তি পেয়েছে দারুণ সব ব্লকবাস্টার। এই কাতারে থেকে চমকপ্রদ ভাবে প্রেক্ষাগৃহে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে রম্য চলচ্চিত্র ‘উৎসব’। শিরোনামের মতই সিনেমাটি দর্শকদের এক নতুন উৎসবমুখর অভিজ্ঞতার উপহার দিচ্ছে। এর মাঝে রয়েছে পুরনো সব দেশ সেরা নাটক ও সিনেমার নস্টালজিয়া; সাথে গভীর অর্থবহ হাস্যরস। চলুন, সব ধরণের চলচ্চিত্রপ্রেমিদের মন জয় করে নেওয়া এই সিনেমাটির ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
দেশ সেরা অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে অভূতপূর্ব আয়োজন
‘উৎসব’-এর শ্রেষ্ঠাংশে ছিলেন জাহিদ হাসান, আফসানা মিমি, অপি করিম, জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, ইন্তেখাব দিনার, আজাদ আবুল কালাম, তারিক আনাম খান, ও নরেশ ভুঁইয়া। এই কুশীলবদের অধিকাংশই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া।
এ প্রজন্মের তারকাদের মধ্যে অভিনয় করেছেন সাদিয়া আয়মান, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ও সৌম্য জ্যোতি।
‘উৎসবের’ চিত্রনাট্য ও সংলাপ করেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়া। প্রযোজনা করেছে ডোপ প্রোডাকশন্স, সহ-প্রযোজনায় আছে চরকি। সিনেমার সহযোগী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আছে লাফিং এলিফ্যান্ট। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও মুক্তি পাবে সিনেমাটি। 'উৎসব' এর আন্তর্জাতিক ডিসট্রিবিউশনে আছে 'স্বপ্ন স্কোয়ারক্রো' ও 'পথ প্রোডাকশনস'।
আরো পড়ুন: শাকিব-সাবিলার ‘লিচুর বাগানে’কে ছাড়িয়ে জোভানের ‘আশিকি’
পর্দার পেছনের চলচ্চিত্রশিল্পীরা
ছবির পরিচালনায় ছিলেন জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘কাইজার’-খ্যাত নির্মাতা তানিম নূর। কিংবদন্তির ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত গল্প ‘এ ক্রিস্টমাস ক্যারল’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। লেখনীতে তানিম নূরের সাথে যৌথভাবে ছিলেন আয়মান আসিব স্বাধীন, সামিউল ভূঁইয়া, এবং সুস্ময় সরকার। এদের মধ্যে চিত্রনাট্য ও সংলাপ বানিয়েছেন সামিউল ভূঁইয়া এবং আয়মান আসিব স্বাধীন। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন রাশেদ জামান।
সিনেমার গল্প
জাহাঙ্গীর একজন স্বার্থপর ও কৃপন ব্যবসায়ী। হঠাৎ এক দৈববাণীর সংস্পর্শে তার বোধোদয় হয়। নিমেষেই তিনি পরিণত হন পুরোদস্তুর এক পরোপকারী মানুষে।
ফ্যামিলি ড্রামা ঘরানার এই মুভিটিতে এক অভূতপূর্ব সন্নিবেশ ঘটেছে পুরোনো কিছু সিনেমা ও নাটকের সংলাপের। বিষয়টি দর্শকদের বিশেষ করে মধ্য বয়স্কদের পুরনো সময়ের স্মৃতিকাতরতায় ভাসিয়েছে।
আরো পড়ুন: ঈদুল আযহা ২০২৫ এ চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে যে চলচ্চিত্রগুলো
উল্লেখ্য যে, একদম শুরুতে ছবির ঘোষণা হয়েছিলো মজার একটি স্লোগানের মাধ্যমে আর তা হচ্ছে- সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ- পরিবার ছাড়া দেখা নিষেধ।
মুক্তি পরবর্তী ছবির চমকপ্রদ সাফল্য
ঈদের পঞ্চম দিন স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির ক্যাপাসিটি ছিলো ৭ লক্ষ ৫১ হাজার ৯৫০। ৯টি শো-এর ১ হাজার ৪৮৯ টা টিকেটের সবগুলোই বিক্রি হয়ে গিয়েছিলো। এমনকি অগ্রিম টিকেট বিক্রি হওয়ায় ষষ্ঠ দিনের জন্যও অবশিষ্ট কিছু ছিলো না। শাকিব খানের ‘তান্ডব’ সিনেমার পরে শুধুমাত্রই এই ‘উৎসব’-এর জন্য হলটিতে এই অবস্থা।
এমন একটি ড্রামা জনরার মুভির জন্য বিষয়টি নিতান্তই অপ্রত্যাশিত ছিলো। বলাই বাহুল্য যে, খুব বেশি শো রাখা ছিলো না এর জন্য। এমনকি ১০০ ভাগ অকুপেন্সীর পরেও সিনেমাটি যথেষ্ট শো পায়নি। ফলে অনেকেই টিকেট না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্য সিনেমা দেখেছে।
এই কারণে বিপুল প্রত্যাশা থাকলেও বক্সঅফিস সংগ্রহ আশানুরূপ মাত্রায় পৌঁছতে পারেনি। চার দিনে সিনেমার মাল্টিপ্লেক্স আয় ছিলো সর্বমোট ২৫ দশমিক ৯১ লাখ টাকা।
আরো পড়ুন: ঈদুল আযহা ২০২৫ এ দর্শক মাতাতে আসছে যে নাটকগুলো
পরিশিষ্ট
তানিম নূর পরিচালিত ‘উৎসব’ সিনেমার এই সাফল্য ঢালীউডের চিরাচরিত গতিপথে পরিবর্তন এনেছে। নাট্যজগতের প্রথিতযশা সব মুখগুলো একসাথে থাকায় মন সম্মত অভিনয় পাওয়া গেছে শতভাগ। সেই সাথে বিশ্ববিখ্যাত গল্পের দক্ষ রূপান্তর স্ক্রিণের পুরো সময়টা জুড়ে ছড়িয়েছে মুগ্ধতা। গভীর হাস্যরসের পরিমিতি এবং নাটকীয়তার নির্দেশনাশৈলী ছুঁয়ে গেছে প্রতিটি দর্শকের হৃদয়। এই সাফল্যের নিরিখে অকপটেই স্বীকার করা যায় যে, শিঘ্রই সুদিন ফিরছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে।
৪৬৩ দিন আগে
শাকিব-সাবিলার ‘লিচুর বাগানে’কে ছাড়িয়ে জোভানের ‘আশিকি’
ঈদুল আযহার আগে থেকেই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলো শাকিব-সাবিলা জুটির ‘তাণ্ডব’ সিনেমার গান ‘লিচুর বাগানে’। বিনোদন জগতের সবগুলো মাধ্যমে জুড়ে ছিলো মিউজিক ভিডিওটির জয় জয়কার। কিন্তু ঈদ শুরু হতেই পুরো চিত্রপট পাল্টে দিয়েছে ফারহান আহমেদ জোভান অভিনীত নাটক ‘আশিকি’। ইউটিউবে দর্শকপ্রিয়তার নিরিখে ‘লিচুর বাগানে’কে ছাড়িয়ে অনেক এগিয়ে আছে নাটকটি। চলুন, বহুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এই ঈদ নাটকটির ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ইউটিউব ট্রেন্ডিং-এ জোভানের ‘আশিকি’
ঈদের দ্বিতীয় দিন ৮ জুন রবিবার রাতে সিএমভি’র ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ করা হয় নাটক ‘আশিকি’। তারপর থেকে মাত্র দুই দিনের মধ্যে ভিডিও কন্টেন্টটি অর্জন করেছে ৫০ লাখ ভিউ। সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘তাণ্ডব’ সিনেমার হিট গান ‘লিচুর বাগানে’কে অনেক পেছনে ফেলে বর্তমানে নাটকটি ইউটিউব ট্রেন্ডিং-এ শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। বিগ বাজেটে নির্মিত মিউজিক ভিডিওটি এতদিন একচ্ছত্র ভাবে আধিপত্য করে এসেছে ইউটিউব প্লাটফর্মে। এখন ‘আশিকি’ শুধু জায়গাটি দখলই করেনি, বরং কন্টেন্ট দুটোর মধ্যকার ভিউয়ের ব্যবধান চোখে পড়ার মত। এখন পর্যন্ত জোভানের নাটকটি ৬৬ লক্ষ ভিউ অতিক্রম করেছে। সেখানে ‘লিচুর বাগানে’ এখনও ১৭ লক্ষতেই পৌঁছতে পারেনি।
আরো পড়ুন: ঈদুল আযহা ২০২৫ এ চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে যে চলচ্চিত্রগুলো
আশিকি নাটকের গল্প
নাটকে জোভানের চরিত্রের নাম আশিক, যে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার স্বপ্নকে সত্যি করার লক্ষ্য নিয়ে সে শহরে এসে ভর্তি হয় কলেজে। সঙ্গীতের প্রতি তার অদম্য ভালবাসা। স্বপ্ন দেখে একদিন সে অনেক বড় গায়ক হবে।
অপরদিকে ধর্নাঢ্য পরিবারের আদুরে মেয়ে জেস, পড়ে একই কলেজে। সারা কলেজ জুড়ে তার প্রভাবের অন্ত নেই। এই চরিত্রটিতে দেখা গেছে এ প্রজন্মের অভিনেত্রী নাজনীন নিহাকে।
আশিক-জেসের পরিচয়, প্রেম এবং অতঃপর ঘরপালিয়ে বিয়ে। আপাতদৃষ্টে ট্রেইলার এবং গল্পের শুরুটা এমন মনে হলেও এই গল্পে রয়েছে অপ্রত্যাশিত সব বাঁক। কাহিনী সামনে এগোনোর সাথে সাথে বিষাদ আর আনন্দের এক অসাধারণ মেলবন্ধন রচিত হয়েছে প্রতিটি পরতে পরতে।
আরো পড়ুন: ঈদুল আযহা ২০২৫ এ দর্শক মাতাতে আসছে যে নাটকগুলো
পর্দার সামনে ও অন্তরালের কলাকুশলী
পারভেজ ইমামের চিত্রনাট্যে ‘আশিকি’র নির্দেশনা দিয়েছেন ইমরোজ শাওন। সিনেমাটোগ্রাফির কাজ করেছেন খায়ের খন্দকার। প্রযোজনা ও পরিবেশনায় ছিলেন সিএমভি’র এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু।
জোভান-নেহার সহশিল্পীরা ছিলেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, মিলি বাশার, ও অদিতি জামান স্নেহা সহ আরও অনেকে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিলশাদ নাহার কনার একটি চমকপ্রদ ক্যামিও রয়েছে।
গল্পের পাশাপাশি নাটকের বিশেষত্ব হচ্ছে এর গান দুটি। তন্মধ্যে নাটক মুক্তির আগেই ‘ওরে মন’ গানটির জোভান অভিনীত একটি ক্লিপ ভাইরাল হয়। গানটির শিরোনাম ‘দহন’, যার গীতিকার এম এ আলম শুভ, সুর ও কন্ঠ দিয়েছেন সজীব দাস।
আরেকটি গানের শিরোনাম ‘যদি মনটা চুরি করি’, যেটি দ্বৈত ভাবে গেছেন কনা ও সজিব দাস। গানটির কথা লিখেছেন সালাহউদ্দিন সাগর এবং সুর করেছেন সজীব দাস।
আরো পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৫ এ মুক্তির অপেক্ষায় যে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রগুলো
নাটক দেখার পর ট্রেইলার প্রতিক্রিয়া নিয়ে দর্শকদের অবস্থান
ঈদ সপ্তাহ শুরুর আগে ‘ওরে মন’ গানের সেই ভাইরাল দৃশ্যটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার শিকার হন জোভান। নেটিজেনদের অনেকেই তার পারফরমেন্সকে অতিরঞ্জিত বলে কটুক্তি করেন।
কিন্তু নাটকটি পুরো দেখার পর সেই মন্তব্য বদলে যায়। দর্শক ও নাট্য বিশ্লেষক সকলেই ভূয়ষী প্রশংসা করেন নাটকটির। ৮ হাজারেরও বেশি মন্তব্য যুক্ত হয়েছে এই ইউটিউব কন্টেন্টটিতে।
এখন পর্যন্ত ঈদুল আযহা ২০২৫-এর সর্বাধিক আলোচিত নাটকটি হচ্ছে ‘আশিকি’। বিশেষ করে নাটকের নির্মাণশৈলী, গল্প, এবং অভিনয় উঠে আসছে আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে।
আরো পড়ুন: পরিবহন পরিষেবায় অনলাইন টিকেট বুকিং ২০২৫: ঘরে বসে বাস, ট্রেন, ও বিমানের টিকেট কাটার উপায়
শেষাংশ
জোভানের ‘আশিকি’ ইউটিউব ভিউ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শাকিব-সাবিলার ‘লিচুর বাগানে’কে ছাড়িয়ে দারুণ চমক সৃষ্টি করেছে। একদিকে ‘আশিকি’র নাটকীয়তা, অন্যদিকে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার গানটির অপরিমেয় আবেদন। সব মিলিয়ে চমকটি এবারের ঈদ বিনোদনকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে- বাংলাদেশেরই দুটো ধারার কন্টেন্ট একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করার বিষয়টি যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। উপর্যুপরি, এটি ছোট ও বড় উভয় পর্দার জন্য ইতিবাচক।
৪৬৪ দিন আগে
ঈদুল আযহা ২০২৫ এ চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে যে চলচ্চিত্রগুলো
এবারের ঈদুল আযহায় চরকি তার গ্রাহকদের জন্য নিয়ে আসছে স্বয়ংসম্পূর্ণ এক প্যাকেজ। এই এক ওটিটিতেই সিনেপ্রেমিরা পেয়ে যাবেন ভরপুর বিনোদন। সেই মহা আয়োজনের নাম ‘বিরাট গরুর হাট’। গ্রামীণফোন নিবেদিত এই আয়োজনে থাকছে দর্শকনন্দিত সেরা ৪টি চলচ্চিত্র। এগুলোর সব কটিই ইতোমধ্যে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে চলতি বছরের রোজার ঈদে। চলুন, দেখে নেয়া যাক- ঈদ আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে কোন সিনেমাগুলো আসছে চরকির পর্দায়।
এই কুরবানী ঈদে চরকিতে দেখা যাবে যে সিনেমাগুলো
.
বরবাদ
এ পর্যন্ত দেশে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে দর্শক আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে সুপারস্টার শাকিব খানের ‘বরবাদ’। এটি রচনা ও পরিচালনার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র নির্দেশনায় অভিষেক ঘটে মেহেদী হাসান হৃদয়ের। ছবিতে শাকিব খানের নায়িকা হিসেবে নজর কেড়েছিলেন কলকাতার অভিনেত্রী ইধিকা পাল। ২০২৩-এর ব্যবসা সফল মুভি ‘প্রিয়তমা’র পর শাকিবের সাথে এটি ইধিকার দ্বিতীয় কাজ।
অ্যাকশন ছবিটির আরও এক বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন ভারতীয় অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত। কলকাতার নায়িকা নুসরাত জাহান এবং মানব সচদেবের আইটেম গান দর্শকমহলে বেশ আলোচিত হয়।
আরো পড়ুন: ঈদুল আযহা ২০২৫ এ দর্শক মাতাতে আসছে যে নাটকগুলো
এছাড়া নানা চরিত্রে দেখা গেছে মিশা সওদাগর, দিলারা জামান, সাম ভট্টাচার্য, শহীদুজ্জামান সেলিম, মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, ইন্তেখাব দিনার, রিয়া গাঙ্গুলী চক্রবর্তী, নরেশ ভূঁইয়া, নাদের চৌধুরী, এবং কাজী হায়াৎকে।
দাগি
২০২৩ সালে ব্যাপক প্রতিযোগিতা করেছিলো ‘প্রিয়তমা’ ও ‘সুড়ঙ্গ’ ছবি দুটি। তারপর চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মত শাকিবের সাথে চলচ্চিত্র যুদ্ধে অবতীর্ণ হন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। ঈদুল ফিতর ২০২৫-এর সেরা ছবির কাতারে অনায়াসে দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নেয় ‘দাগি’।
নিশোর প্রথম ছবি ‘সুড়ঙ্গ’-এর মত এখানেও তার বিপরীতে নায়িকা হিসেবে ছিলেন তমা মির্জা। একটি বিশেষ চরিত্রে ছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল।
নির্দেশনার পাশাপাশি সিনেমার কাহিনী, চিত্রনাট্য, ও সংলাপ লিখেছেন শিহাব শাহীন। ২০১৫ সালের ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর পর এটি নির্মাতার দ্বিতীয় মুভি।
আরো পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৫ এ মুক্তির অপেক্ষায় যে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রগুলো
ছবির অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরা হলেন শহীদুজ্জামান সেলিম, মনোজ কুমার প্রামানিক, গাজী রাকায়েত, মনিরা আক্তার মিঠু, মিলি বাশার, এবং রাশেদ মামুন অপু।
জংলি
রোজার ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে আরও একটি সুপরিচিত শিরোনাম ‘জংলি’। এম রাহিমের পরিচালনায় মুভিটির শ্রেষ্ঠাংশে ছিলেন এ সময়কার জননন্দিত তারকা সিয়াম আহমেদ। ছবিতে তার প্রধান সহশিল্পী হিসেবে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন শবনম বুবলী ও প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।
এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেছে দিলারা জামান, শহীদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপু, এরফান মৃধা শিবলু, এবং সোহেল খানকে।
চক্কর ৩০২
ঈদুল ফিতরে মোশাররফ করিমের ভক্তদের ঈদ আনন্দটা আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলো ‘চক্কর ৩০২’। সিনেমাটির গল্প লেখা থেকে শুরু করে, পরিচালনা, ও সহ-প্রযোজনা করেছেন এ সময়ের উদীয়মান অভিনেতা শরাফ আহমেদ জীবন।
আরো পড়ুন: পরিবহন পরিষেবায় অনলাইন টিকেট বুকিং ২০২৫: ঘরে বসে বাস, ট্রেন, ও বিমানের টিকেট কাটার উপায়
ছবিতে মোশাররফ করিমের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু।
অন্যান্য কুশিলবদের মধ্যে ছিলেন ইন্তেখাব দিনার, তারিন জাহান, রওনক হাসান, মৌসুমী নাগ, শাশ্বত দত্ত্ব, সারা আলম, সুমন আনোয়ার, আহমেদ গোলাম দস্তগীর শান, ডিকন নূর, ও ফারজানা বুশরা।
শেষাংশ
ঈদুল আযহা ২০২৫-এ চরকির ‘বিরাট গরুর হাট’ হতে যাচ্ছে মহা আড়ম্বড়পূর্ণ। তা বলা বাহুল্য যে, ৪টি ছবির মধ্যে শাকিবের ‘বরবাদ’ দর্শক আগ্রহে অন্যগুলো থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকবে। তারপরেই সিনেপ্রেমিদের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে নিশোর ‘দাগি’র উপর। একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহকদের আকষর্ণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিয়াম-বুবলির ‘জংলি’। আর ‘চক্কর ৩০২’-এর জন্য মোশাররফ করিম ভক্তদের সরব উপস্থিতি থাকবে ওটিটি দর্শকমহলে। সব মিলিয়ে, এ বছরের সেরা চলচ্চিত্রগুলো আরও একবার নতুন উদ্যমে হৈচৈ তুলতে যাচ্ছে বিনোদন জগতে।
আরো পড়ুন: ২০২৫ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা
৪৬৯ দিন আগে
ঈদুল আজহা ২০২৫ এ মুক্তির অপেক্ষায় যে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রগুলো
ঢালিউড পাড়ায় এখনও কাটেনি ঈদুল ফিতরে মুক্তি প্রাপ্ত সিনেমার রেশ। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ঈদুল আজহার প্রস্তুতি। অবশ্য নির্মাণের সময়সীমার ভিত্তিতে অনেক আগে থেকেই বছরের দ্বিতীয় ঈদ উৎসবের আয়োজনে সারিবদ্ধ হয়েছে ছবিগুলো। তবে অধিকাংশের ক্ষেত্রেই একাধিকবার পেছানোর পর ঠিক হয়েছে মুক্তির দিনক্ষণ। চলুন, আসন্ন ঈদুল আজহায় কোন চলচ্চিত্রগুলোর মুক্তির কথা চলছে তা জেনে নেওয়া যাক।
২০২৫ ঈদুল আজহায় মুক্তির মিছিলে ৭টি বাংলাদেশি সিনেমা
.
তান্ডব
আসন্ন ঈদে দর্শক আগ্রহ তুঙ্গে থাকা সিনেমাটি হচ্ছে শাকিব খান অভিনীত ‘তান্ডব’। ‘তুফান’-এর পর আবারও ঢালিউড সুপারস্টারকে নিয়ে ছবি বানালেন পরিচালক রায়হান রাফি।
এবার শাকিবের বিপরীতে প্রধান নায়িকা হিসেবে থাকবেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর। আর এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে সাবিলার।
ছবিতে সাংবাদিকের ভূমিকায় দেখা যাবে দুই বাংলায় বহুল সমাদৃত অভিনেত্রী জয়া আহসানকে। এছাড়া ৪০ সেকেন্ডের একটি ক্যামিওতে দেখা দেবেন বর্তমান সময়ের ব্যস্ততম তারকা শরিফুল রাজ।
আরো পড়ুন: সিআইডির এসিপি প্রদ্যুমানের বিদায়: সনি টিভির সেরা গোয়েন্দা সিরিজে আকস্মিক ছন্দপতন
রায়হান রাফী নিজেই চলচ্চিত্রটির মূল গল্প লিখেছেন। চিত্রনাট্যে রাফীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন আদনান আদিব খান।
দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে হামলার প্রেক্ষাপট নিয়ে এগিয়ে যাবে সিনেমার কাহিনী।
পিনিক
শবনম বুবলীকে প্রথমবারের মতো খলনায়িকার ভূমিকায় দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা। কিন্তু তাদের এই প্রতীক্ষা দীর্ঘায়িত করে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে ছবি মুক্তির দিনক্ষণ। তবে এবারের কুরবানীর ঈদে চূড়ান্ত মুক্তির কথা চলছে জাহিদ জুয়েল পরিচালিত এই সিনেমাটির।
সিনেমায় তার প্রধান সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন আদর আজাদ। ২০২২-এর ‘তালাশ’ এবং ২০২৩-এর ‘লোকাল’-এর পর ‘পিনিক’ বুবলী-আদর জুটির তৃতীয় কাজ।
আরো পড়ুন: ঈদুল ফিতর ২০২৫-এ ছোট পর্দার ঈদ আয়োজন: মুক্তির অপেক্ষায় শীর্ষ ১০টি নাটক
থ্রিলার, সাসপেন্স ও অ্যাকশনে ভরপুর ছবিটিতে প্রাধান্য পেয়েছে জিঘাংসা, প্রতিশোধ, এবং পাল্টা প্রতিশোধের গল্প। চিত্রনাট্যে রয়েছেন আখিউজ্জামান মেনন।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন আলী রাজ, ফজলুর রহমান বাবু ও আজাদ আবুল কালাম-এর মতো অভিনেতারা। এছাড়াও আছেন সমু চৌধুরী, মাসুম বাশার, মোমেনা চৌধুরী, এ কে আজাদ সেতু, শরীফ সিরাজ, নাফিস আহমেদ বিন্দু, এবং জয়িতা মহলানবীশ।
ইউরো বাংলা এন্টারটেইনমেন্ট-এর সাথে সিনেমার সহ-প্রযোজনা করেছেন অভিনেতা শিমুল খান।
ইনসাফ
ছোট পর্দার দর্শকনন্দিত অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের নতুন সিনেমার নাম ‘ইনসাফ’। ওয়েব চলচ্চিত্রের বাইরে বাংলাদেশে এটি ফারিণের দ্বিতীয় ছবি। এর আগে ২০২৪ সালে তার অভিনীত প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা ‘ফাতিমা’ মুক্তি পায়। ‘ইনসাফ’-এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো তিনি ফর্মুলা ছবির নায়িকার ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। এখানে তার বিপরীতে রয়েছেন শরিফুল রাজ। আর খলনায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে শক্তিমান অভিনেতা মোশাররফ করিমকে।
আরো পড়ুন: ঈদুল ফিতর ২০২৫-এ ঢালিউডে মুক্তির অপেক্ষায় যে সকল বাংলাদেশি সিনেমা
অ্যাকশন ও থ্রিলার গল্প কেন্দ্রীক সিনেমাটির নির্দেশনা দিয়েছেন সঞ্জয় সমাদ্দার।
৫০৯ দিন আগে
ঈদুল ফিতর ২০২৫-এ ঢালিউডে মুক্তির অপেক্ষায় যে সকল বাংলাদেশি সিনেমা
বাণিজ্যিক ঘরানার পাশাপাশি অভিনব গল্প ও আধুনিক চিত্রনাট্যে সমৃদ্ধ সিনেমা সাদরে গ্রহণ করেছে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রপ্রেমিরা। বিশেষ করে ঈদ উৎসবে এখনও সিনেমা হলগুলোতে থাকে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরেও নানান উদ্দীপনার খোরাক যোগাচ্ছে নতুন কিছু ছবি। চলুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আসন্ন ঈদে ২০২৫ ঈদুল ফিতরে ঢালিউডে মুক্তি পাচ্ছে যে সকল চলচ্চিত্র মুক্তির অপেক্ষায় থাকা চলচ্চিত্রগুলো।
২০২৫ ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাচ্ছে যে সকল বাংলাদেশি চলচ্চিত্র
.
বরবাদ
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান ও কলকাতার ইধিকা পল জুটির এই দ্বিতীয় কাজটি নিয়ে ইতোমধ্যে চলচ্চিত্র পাড়ায় বেশ হৈচৈ চলছে। এর আগে প্রিয়তমা (২০২৩)-তে বেশ সাড়া ফেলেছিলো এই জুটি। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ভারতের যীশু সেনগুপ্তের যুক্ত হওয়া ছবিটির প্রতি আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি আইটেম গানে ক্যামিও চরিত্রে থাকবেন কলকাতার আরেক তারকা নুসরাত জাহান-কে।
রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলারটি পরিচালনার মধ্য সিনেমা নির্মাণে পদার্পণ করেন মেহেদী হাসান হৃদয়। প্রযোজনায় রয়েছেন শাহরিন আক্তার সুমি (রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন) এবং আজিম হারুন (রিধি সিধি এন্টারটেইনমেন্ট)।
অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, মামুনুর রশীদ, এবং ইন্তেখাব দিনার।
আরো পড়ুন: ‘কৃশ ৪’-এর বিশাল বাজেটে অনিশ্চিত বিনিয়োগ, কেন সরে দাঁড়ালেন রাকেশ রোশান
সংগীত আয়োজনে আছেন প্রীতম হাসান। ২০২৪ সালের তুফান চলচ্চিত্রে তার ‘লাগে উড়া ধুরা’ গানটি বিভিন্ন মহলে বেশ সমাদৃত হয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এ নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার কাজ করছেন শাকিব খানের সঙ্গে। প্রীতমসহ ছবির বিভিন্ন গানে কণ্ঠ দিয়েছেন বলিউডের কয়েকজন গায়ক।
অ্যাকশন দৃশ্য পরিচালনা করেছেন বলিউড ও তেলুগু ইন্ডাস্ট্রির অ্যাকশন ডিরেক্টর রবি বর্মা। নাচের কোরিওগ্রাফি করেছেন বলিউডের আদিল শেখ।
জংলি
বেশ কয়েকবার মুক্তির তারিখ পিছিয়ে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র জংলি। এম রাহিম পরিচালিত রোমাঞ্চকর নাট্য চলচ্চিত্রটির প্রধান ভূমিকায় আছেন এ সময়কার দর্শকনন্দিত তারকা সিয়াম আহমেদ। তার প্রধান সহশিল্পীরা হলেন শবনম বুবলী ও প্রার্থনা ফারদিন দীঘি।
সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমার গল্প লিখেছেন আজাদ খান। মেহেদী হাসান ও সুকৃতি সাহা যৌথভাবে গল্পটিকে চিত্রনাট্যে রূপ দিয়েছেন।
আরো পড়ুন: গৌরী স্প্রাট কে? আমির খানের বান্ধবী, বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক উদ্যোক্তা
অন্যান্য অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, দিলারা জামান, রাশেদ মামুন অপু, সোহেল খান, এবং এরফান মৃধা শিবলু।
প্রিন্স মাহমুদের সংগীত পরিচালনায় একটি বিশেষ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তাহসান খান। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে এমআইবি স্টুডিও এবং টাইগার মিডিয়া।
দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে ২৫ এপ্রিল চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত হবে।
দাগি
২০২৩ সালে শাকিব অভিনীত প্রিয়তমার সাথে প্রতিযোগিতা করেছিলো আফরান নিশোর সুড়ঙ্গ। এবার তারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে আসন্ন ঈদে। প্রথম ছবি সুড়ঙ্গ-এর পর প্রায় দেড় বছরের বিরতিতে ছিলেন ছোট পর্দার এই জনপ্রিয় অভিনেতা। তারপর ভক্তদের হতবাক করে দিয়ে দিলেন দ্বিতীয় চলচ্চিত্র দাগি’র সংবাদ। তার বিপরীতে নায়িকার অবস্থানও থাকছে অপরিবর্তিত। দেড় বছর সিনেমা থেকে দূরে থাকার পর দ্বিতীয়বারের মতো নিশোর সাথে জুটি বদ্ধ হয়েছেন তমা মির্জা।
আরো পড়ুন: অস্কার ২০২৫: ৯৭তম অ্যাকাডেমি পুরষ্কারের আসর মাতালেন যারা
একটি বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জয়ী অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালকে। সিনেমায় আরও রয়েছেন মনোজ কুমার প্রামানিক, শহীদুজ্জামান সেলিম, গাজী রাকায়েত, রাশেদ মামুন অপু, মনিরা আক্তার মিঠু, এবং মিলি বাশার।
পরিচালনার পাশাপাশি ছবির কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য গড়েছেন শিহাব শাহীন। এখানে বলা হয়েছে একজন সাধারণ মানুষের অপরাধজগতে জড়ানোর গল্প। এই পটভূমিকে উপজীব্য করেই কাহিনী এগিয়ে গেছে মূল চরিত্রের প্রায়শ্চিত্য ও মুক্তির দিকে।
২০১৫ সালে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’-এর পর ‘দাগি’ নির্মাতার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। এটি এসভিএফ আলফা-আই এবং দেশীয় ওটিটি (ওভার দ্যা টপ) চরকির একটি যৌথ প্রযোজনা।
চক্কর ৩০২
মোশাররফ করিম ভক্তদের জন্য এবারের ঈদে রয়েছে দারুণ চমক। শরাফ আহমেদ জীবনের গল্প, পরিচালনা এবং সহ-প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘চক্কর ৩০২’। সহ-প্রযোজনায় আরও ছিলেন আবুল ফজল মোহাম্মদ রিতু, সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন, সরদার সানিয়াত হোসেন, এবং আদনান আল রাজীব।
আরো পড়ুন: ভালোবাসা দিবস ২০২৫: ভ্যালেন্টাইনস ডেতে মুক্তি পাচ্ছে যেসব নাটক
সিনেমাতে মোশাররফ করিম একটি মার্ডার কেসের তদন্তকারী কর্মকর্তা। তার স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু।
সংলাপ লিখেছেন নাহিদ হাসনাত, যিনি সৈয়দ গাউসুল আলম শাওনের সাথে যৌথভাবে ভূমিকা রেখেছেন চিত্রনাট্যে।
বিভিন্ন চরিত্রের অভিনয়ে ছিলেন তারিন জাহান, ইন্তেখাব দিনার, মৌসুমী নাগ, রওনক হাসান, শাশ্বত দত্ত্ব, সুমন আনোয়ার, সারা আলম, ফারজানা বুশরা, আহমেদ গোলাম দস্তগীর শান, এবং ডিকন নূর।
সঙ্গীত পরিচালনার কাজ করেছেন ইমন চৌধুরী, জাহিদ নিরব, অমিত চ্যাটার্জি।
আরো পড়ুন: ২০২৫ সালের রূপালি পর্দায় সুপারহিরোদের রোমাঞ্চকর অভিযান
বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্রের অনুদানে নির্মিত ছবিটি মুক্তি পাবে কারখানা প্রোডাকশন এবং গামাফ্লিক্স-এর ব্যানারে।
৫৪৮ দিন আগে