শিল্প-সংস্কৃতি
লামায় কেন্দ্রীয় জলকেলি উৎসবে মাতলেন হাজারো মারমা
পুরোনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ, অপশক্তিকে দূর করে ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে মারমা জনগোষ্ঠীর ‘জলকেলি উৎসব’।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বাংলা নববর্ষ ও সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে ‘জিনামেজু অনাথ আশ্রম’ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব।
উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা জিনামেজু অনাথ আশ্রমের পরিচালক উ. নন্দ মালা মহাথেরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ও মারমা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।
এ উৎসবের মধ্য দিয়ে উপজেলায় শেষ হলো মাহা সাংগ্রাই। এর আগে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পাড়ায় পাড়ায়ও এ উৎসব পালন করা হয়।
এদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত মারমা তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দুই লাইনে দাঁড়িয়ে মারমা কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীরা সামনে পাত্রভর্তি পানি, আর সেই পানি একে অপরের গায়ে অবিরাম বর্ষণ করেন। এর পাশাপাশি বাজনা ও গানের তালে তালে নেচে গেয়ে মেতে ওঠেন মারমা কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতীরা। এতে সম্মিলন ঘটে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষের।
জনশ্রুতিতে রয়েছে, জলকেলি উৎসবের মাধ্যমে মারমা যুবক-যুবতীদের একে অন্যের সহচর্যে আসার সুযোগ হয়। এ সময় তারা তাদের প্রিয় মানুষটিকে বেছে নেওয়ার কাজটিও সফলভাবে করে নেন। এ উৎসবে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গান ও নাচ পরিবেশন করা হয়।
আনাই মারমা নামের এক নারী বলেন, পুরোনো বছরের সকল দুঃখ, কষ্ট, বেদনাকে ভুলে গিয়ে একে অন্যের প্রতি শুদ্ধতা আর সুন্দর আগামীর বার্তা দিতেই এমন পানি বর্ষণ। তিনি বলেন, জলকেলি উৎসবে যুবক-যুবতীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে ও বাজনার তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন।
সাংগ্রাই এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়, এটি পাহাড়ের সব জাতি-গোষ্ঠীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন।
জীনামেজু অনাথ আশ্রমের পরিচালক উ. নন্দ মালা মহাথের জানান, সাংগ্রাই উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব যা সম্প্রীতি, আনন্দ ও নতুন বছরের বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১২ মাসের দেশ, ছয় ঋতুর দেশ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এটি মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠি এই উৎসবে শামিল হয়েছেন।’
এই উৎসবে সরকারি মাতামুহুরী কলেজের সাবেক অধ্যাপক অংথিং রাখাইন, ডা. সাইনপ্লানু মার্মা, জিনামেজু অনাশ আশ্রমের দাতা সদস্য বাবু প্রুমং রাখাইন, আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অং থোয়াইহ্লা মারমা, আশ্রমের জমিদাতা সদস্য মো. জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা অতিথি ছিলেন।
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ বরণ উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলায় চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুররা বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু, রাখাইনরা চাংক্রান, অহমিয়া জনগোষ্ঠী বিহু এবং অন্যান্য সম্প্রদায় নিজ ভাষা-সংস্কৃতির নামে তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব পালন করেন। ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ঘরে ঘরে তিন দিনের উৎসব শেষে ১৫ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলকেলির আয়োজন করে মারমা সম্প্রদায়।
১১ ঘণ্টা আগে
পহেলা বৈশাখ: বাঙালির চিরন্তন নবজাগরণের উৎসব
বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। পুরোনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন আশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে এই দিনটি। ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলনমেলা এই পহেলা বৈশাখ। এটি শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।
ইতিহাসের পথ বেয়ে
পহেলা বৈশাখের সূচনা মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে। সে সময় কৃষিজ ফসলের খাজনা আদায় সহজ করতে হিজরি চান্দ্র বর্ষপঞ্জির পরিবর্তে একটি সৌরভিত্তিক বর্ষপঞ্জির প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে প্রবর্তিত হয় ফসলি সন, যা পরবর্তীতে বাংলা সনে রূপান্তরিত হয়।
১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে আকবর এই সন প্রবর্তন করেন। এটি গণনা শুরু হয় তার সিংহাসনে আরোহণের সময় (১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ) থেকে। তখন বাংলার কৃষকরা চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করতেন এবং নববর্ষের দিনে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এই উপলক্ষে মেলা ও আনন্দোৎসবের আয়োজন করা হতো। এভাবেই ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মিশে এক আনন্দময় উৎসবে পরিণত হয়।
বিবর্তনের ধারা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পহেলা বৈশাখে নববর্ষ উদযাপন বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি ছিল কৃষি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দিন। হালখাতার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন বছরের সূচনা করতেন।
ক্রমে এই দিনটি তার সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বাঙালির সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এটি আনন্দ, ঐক্য ও মিলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ একটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রা: ঐক্যের প্রতীক
পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশাল মুখোশ, পাপেট, বাঘ-হাতি-পাখির প্রতীকী রূপ এবং নানা শিল্পকর্মের মাধ্যমে এই শোভাযাত্রা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়গান করে।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এটি ইউনেস্কোর বিশ্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ তালিকায় জায়গা করে নেয়। বর্তমানে এটি বাঙালির ঐক্য, প্রতিবাদ ও সাংস্কৃতিক শক্তির প্রতীক।
১১ দিন আগে
নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রবিবার (৫ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচি বিষয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, নাম (শোভাযাত্রা) নিয়ে একটা বিতর্ক, আমরা এই বিতর্কের অবসান করতে চাই। আমরা আজকের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এটাকে আমরা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ও বলব না, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ও বলব না। শোভাযাত্রা হবে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে; এখানে সমস্ত সাংস্কৃতির প্রদর্শন থাকবে। যার যার মতো ঢোল-বাদ্য পোশাক-আশাক নিয়ে একটা আনন্দঘন শোভাযাত্রা হবে। এই শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখী আনন্দ—যা কিছু, সবকিছুতে আমরা বৈশাখকে প্রাধান্য দিতে চাই। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ নিয়ে একটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব লক্ষ করা যাচ্ছে। হাজার বছরের পুরনো পহেলা বৈশাখ, ১৯৮৯ সালের এরশাদের আমলে এ শোভাযাত্রাটি ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে চালু হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর তারা আনন্দ বাদ দিয়ে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসে আবার এটার নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করে। এখন কেউ বলছে, শোভাযাত্রার নাম আনন্দই থাকতে হবে, আবার কেউ বলছে মঙ্গল হতে হবে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জনগণ, জাতি ও দেশের কাছে এ সরকারের দায়বদ্ধ। আমরা চাই, অতীতের যা কিছু গ্লানি, সেটা নিয়ে তো আমরা আছিই, সেটা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু, আমরা আমাদের দেশে, সমাজে বিভাজন চাই না; মানুষের মাঝে অনৈক্য, সংঘাত—এগুলো আমরা চাই না। আমরা বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য চাই। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন আদর্শের বিভিন্ন ভাবনার লোক থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের লোকও থাকবে। এটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য।
নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করায় ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে কিনা— এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা কি ইউনেস্কো দ্বারা পরিচালিত সরকার বা দেশ নাকি? যখন নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ছিল, তখনও ইউনেস্কো ছিল, যখন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ছিল, তখনও ইউনেস্কো ছিল। আমরা তাদের জানিয়ে দেব যে আমাদের দেশে এখন থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হবে, এটাই আমাদের ঐতিহ্য।
তিনি আরও বলেন, শোভাযাত্রার নামে ইউনেস্কো কোনো স্বীকৃতি দেয়নি, তারা দিয়েছে বৈশাখের উৎসবের ওপরে; তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে। আমাদের সাংস্কৃতি কি শোভাযাত্রা শুধু? নানান ব্যাপার আছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ১৯৮৯ সালে যে শোভাযাত্রার সূচনা করে, তখন এর নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এটি নতুন তাৎপর্য পায়। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শুভ শক্তির আহ্বানের প্রতীক হিসেবে তখন এর নামকরণ করা হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।
ক্রমে এই শোভাযাত্রা শুধু নববর্ষ উদযাপনের অংশ না থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের একটি প্রতীকী মাধ্যমে পরিণত হয়। এর গুরুত্ব আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পায়, যখন ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
তবে গত বছর বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উপলক্ষে আয়োজকরা মঙ্গল শোভাযাত্রার পরিবর্তে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম ব্যবহার করেন। তাদের দাবি, এটি নতুন কিছু নয়; বরং ১৯৮৯ সালের মূল নামেই ফিরে যাওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। একদল মনে করে, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ইতোমধ্যেই ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অংশ হয়ে উঠেছে, তাই এর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, ভিন্নমতাবলম্বীরা মনে করেন, নামের পরিবর্তনের মাধ্যমে আয়োজনটির সর্বজনীনতা আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
এমন পক্ষে-বিপক্ষে মতবিরোধের মধ্যেই এবার ভিন্ন একটি পথ বেছে নিয়েছে বর্তমান সরকার।
২০ দিন আগে
পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার
‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হলো অমর একুশে বইমেলা-২০২৬। মাসব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার পর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে শুরু হলো এই ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং সংস্কৃতিসচিব মো. মফিদুর রহমান।
আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবারের বইমেলা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মেলা। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
এদিন দুপুর ২টায় মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদত্যাগী উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, সহকারী উপাচার্য মামুন আহমেদসহ কবি, শিল্পী ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা এক হাজার ১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট ছিল ১ হাজার ৮৪টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর; সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশুচত্বরে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
অমর একুশে বইমেলায় এবার প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুচত্বর। শিশুদের অবাধ বিচরণে শিশুচত্বরে থাকবে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
বইমেলার মূল মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে থাকবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
এবার বইমেলার পরিবেশ-সুরক্ষায় সচেতন থেকে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। এছাড়া মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে। থাকবে মশকনিধনের সার্বিক ব্যবস্থাও।
বাইমেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুত করতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ— পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে রমজান মাসে মেলা শুরু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে শেষ সময়ে এসেও নিজেদের স্টল গুছিয়ে উঠতে পারেনি অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। স্টল সাজানো, বই গোছানো ও ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর কাজে সময় পার করছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।
প্রকাশকদের মতে, অনেকে প্রথম দিন মেলায় স্টল সাজানোর কাজ শেষ করতে পারবেন না। মেলার দিনেও অনেক স্টল সাজানোর কাজ চলবে।
৫৮ দিন আগে
৯ বিশিষ্টজনকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অমর একুশে বইমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরস্কৃতদের হাতে সম্মাননাপত্র, সম্মাননা স্মারক ও তিন লাখ টাকা নগদ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় কথাসাহিত্যে নাসিমা আনিস, প্রবন্ধ-গদ্যে সৈয়দ আজিজুল হক, শিশুসাহিত্যে হাসান হাফিজ, অনুবাদে আলী আহমদ, গবেষণায় মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান, বিজ্ঞানে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, কবিতায় মোহন রায়হান এবং মুক্তিযুদ্ধে মঈদুল হাসানের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
৫৮ দিন আগে
অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ
নানা সংকট কাটিয়ে আজ শুরু হচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’। বইমেলার এবারের প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ তুলে দেবেন।
এবারের বইমেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। এবার মোট ইউনিট থাকবে ১ হাজার ১৮টি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এবার বইমেলার পরিবেশ-সুরক্ষায় সচেতন থেকে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’য় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। এছাড়া মেলার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধুলাবালু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে। থাকবে মশকনিধনের সার্বিক ব্যবস্থাও।
বাইমেলা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, লিফলেট, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবার দোকান ইত্যাদি প্রস্তুত করতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ— পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদির ব্যবহার করতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে এবারের বইমেলার বিন্যাস, তবে কিছু আঙ্গিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে মেলার বাহিরপথ গতবারের চেয়ে এবার একটু সরিয়ে মন্দির গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট চারটি প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ থাকবে।
খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে করা হয়েছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য তারাবির নামাজের সুব্যবস্থাও থাকবে। নামাজের স্থান, প্রসাধনকক্ষসহ অন্যান্য পরিষেবা অব্যাহত থাকবে।
অমর একুশে বইমেলায় এবার প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুচত্বর। শিশুরা অবাধে বিচরণে শিশুচত্বরে থাকবে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট।
বইমেলার মূল মঞ্চে প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে থাকবে শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান।
বইমেলা উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা এলাকাজুড়ে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহিদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চানখাঁরপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে বলে মেলা আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে রমজান মাসে মেলা শুরু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে শেষ সময়ে এসেও নিজেদের স্টল গুছিয়ে উঠতে পারেনি অনেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। স্টল সাজানো, বই গোছানো ও ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর কাজে সময় পার করছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।
প্রকাশকদের মতে, অনেকে প্রথম দিন মেলায় স্টল সাজানোর কাজ শেষ করতে পারবেন না। মেলার দিনেও অনেক স্টল সাজানোর কাজ চলবে।
৫৮ দিন আগে
পৌষ সংক্রান্তিতে নড়াইলে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়, দর্শনার্থীর ঢল
টগবগিয়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছুটছে গ্রামের একঝাঁক তরুণ। প্রথম পুরস্কার নেওয়ার আশায় অংশগ্রহণকারীদের চেষ্টার যেন কোনো কমতি নেই। যে যেভাবে পারছে তার ঘোড়া নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবেই ঘোড়দৌড়ের মাধ্যমে চলে তাদের প্রতিযোগিতা।
সম্প্রতি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার দেখা মিলেছে নড়াইল সদর উপজেলা বিছালী চাকই গ্রামে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে এই ঘোড়দৌড়ের আয়োজন করেন বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক।
দীর্ঘ ৪০০ বছর ধরে পৌষ সংক্রান্তি উদ্যাপন উপলক্ষে প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ঘৌড়দৌড় উপলক্ষে একপ্রকার মেলা বসে সেখানে। বাহারি জিনিসের পসরা সাজিয়ে দোকান নিয়ে বসেন ক্ষুদ্র দোকানিরা। ঘোড়দৌড় উপভোগ করতে মাঠের দুই পাশে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো নারী-পুরুষ ভিড় করেন। এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি ঘোড়া অংশ নেয়।
যশোরের অভয়নগর থেকে ঘোড়দৌড় দেখতে আসা মুহিম বলেন, আমি প্রতি বছর এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। এ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়।
বিছালী গ্রামের রেজাউল ইসলাম জসিম বলেন, কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম ঐতিহ্য ছিল ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের চাকই এলাকায় এখনও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পৌষমেলা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জারিগান এবং আগামীকাল শুক্রবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষা, বিনোদন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমায়েত হুসাইন ফারুক বলেন, চাকই রুখালী গ্রামের ঘোড়দৌড় প্রায় ৪ থেকে ৫ শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। পৌষ মাসের শেষের দিন প্রতি বছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকে রয়েছে। আমরা যতদিন এই জনপদে আছি ততদিন এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এটিকে আরও বড় করে করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। রাস্তার দৌড়ানোর যে অংশ, সেটিও আমি সংস্কার করেছি যাতে এই অঞ্চলে উৎসবটি টিকে থাকে। লাখো মানুষের পদচারণায় আমাদের উৎসব সফল হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সদস্য মোরাদ হোসেন শেখ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। এ বছর নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সদর বিএনপি সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান আলেক, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. কাজী হাসরাত, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মোল্যা, মো. আমিনুল ইসলাম, মাজাহারুল ইসলাম, পারভিন বেগম, মুরাদ হোসেন প্রমুখ।
১০০ দিন আগে
সিলেটে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হাসনাজি গ্রামের পূর্বের মাঠে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ঘোড়দৌড়কে ঘিরে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সব বয়সী হাজারো দর্শক দৌড় উপভোগ করেন। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে প্রতিটি দৌড় হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। প্রতিযোগিতায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, জামালগঞ্জ, ছাতক ও চুনারুঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক বাহারি নাম ও রঙের ঘোড়া নিয়ে সৌখিন ঘোড়ার মালিকরা অংশ নেন।
দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘মাহিন রাজা’, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে ‘লাল চান’ ও ‘আর্জেন্টিনা’ নামের ঘোড়া।
দর্শকরা জানান, একসময় ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় উৎসব বিরাজ করত। এখন আর আগের মতো এই প্রতিযোগিতা চোখে পড়ে না। এ ধরনের আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ‘লিভারপুল’ নামের ঘোড়ার মালিক আনোয়ার আলী বলেন, ঘোড়ার প্রতি তার ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। শখের ঘোড়া নিয়ে তিনি বিভিন্ন দৌড়ে অংশ নেন। জয়-পরাজয় যাই হোক, প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও সৌহার্দ্যই তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আয়োজক কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন ধন মিয়া বলেন, গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের ইচ্ছা রয়েছে।
১২৪ দিন আগে
গুলশান লেক পার্কে আয়োজিত হয় পৌষ উৎসব
আজ শনিবার সকালে (১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫) গুলশান লেক পার্কে আয়োজিত হয় পৌষ উৎসব। এই উৎসবের আয়োজন করে গুলশান সোসাইটি ও ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এফডিসিবি)।
উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল নৃত্য, লোকগীতি, লালনসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীতের পরিবেশনা। দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দুই পর্বে আয়োজিত দেশীয় বয়নশিল্পের ফ্যাশন শো, যেখানে ১৮ ফ্যাশন ডিজাইনারের তৈরি পোশাক প্রদর্শিত হয়।
ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের (এফডিসিবি) প্রেসিডেন্ট ও স্টুডিও মায়াসিরের স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার মাহিন খান বলেন, ‘পৌষ উৎসব নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা অনেক দিনের। এ সময়টা বাংলার উৎসবমুখর সময়। গ্রামগঞ্জে পৌষকে ঘিরে নানা আনুষ্ঠানিকতা থাকে। গ্রামে গ্রামে পৌষ মেলা হয়। উৎসবটি যেন পরিপূর্ণ মনে হয়, তাই আমাদের কারুশিল্প ও বয়নশিল্পের উপকরণ যেমন আছে, তেমনি সাংস্কৃতিক পর্বে রয়েছে দেশীয় পরিবেশনা।’
আরো পড়ুন: অফিসে কাজের ফাঁকে হালকা ক্ষুধা মেটাতে পুষ্টিকর শুকনো খাবার
পৌষ উৎসবের স্টলগুলোয় ছিল দেশের নানা প্রান্তের লোকজ ঐতিহ্য ও কারুশিল্পের সমাহার।এ ছাড়া ছিল পাট ও কাঁসা–পিতলের সামগ্রী, সোনারগাঁয়ের কাঠের পুতুল, জামদানি ও হাতপাখা, সিরাজগঞ্জের তাঁত, টাঙ্গাইলের শাড়িসহ বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের প্রদর্শনী।
গ্রামবাংলার শীত মানেই পিঠাপুলি—সেই রেওয়াজ ধরে উৎসবে রাখা হয়েছে দুধ–চিতই, নকশি পিঠাসহ নানা পিঠার আয়োজন।
ডিজাইনার শৈবাল সাহা বলেন, ‘নতুন ধান কাটার পর আমাদের গ্রামবাংলায় যে পিঠাপুলির উৎসব হয়, শহরের যান্ত্রিক জীবনে সেই আমেজ আমরা অনেকটাই ভুলতে বসেছি। গ্রামবাংলার সেই উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এই আয়োজন।’
পৌষ উৎসবের স্টলগুলোয় সাজানো ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজ ঐতিহ্য ও কারুশিল্প। সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে কেউ হাতে বোনা শীতলপাটি নিয়ে এসেছেন তো রাজশাহী থেকে শখের হাঁড়ি নিয়ে অংশ নেন কেউ।
বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই উৎসব চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সৌজন্যে আয়োজিত এই আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল রাঁধুনী, বার্জার ও বাটা।
আরো পড়ুন: মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আম কেন এত দামি
১৩১ দিন আগে
ফ্রিদা কাহলো: বিশ্বশিল্প ও নারীবাদী আন্দোলনের এক চিরকালীন প্রতীক
মেক্সিকোর চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো কেবল একটি শিল্পীর নাম নয়; তিনি নারীর স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও আত্মপ্রকাশের এক প্রতীক হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
১৯০৭ সালের ৬ জুলাই মেক্সিকো সিটির কায়োআকান অঞ্চলে জন্ম নেওয়া ফ্রিদা শিশুকাল থেকেই দুর্বল স্বাস্থ্য, পোলিও আক্রান্ত পা ও খেলাধুলায় অস্বাভাবিক আগ্রহের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন।
ফ্রিদার বাবা গুইলার্মো কাহলো একজন জার্মান বংশোদ্ভূত ফটোগ্রাফার এবং মা মাতিল্দে কালদেরন ই গনজালেস আংশিক আমেরিন্ডিয়ান ও স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত। চার বোনের মধ্যে তৃতীয় ফ্রিদার পরিবার ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তার শিল্পচেতনার ভিত্তি গড়ে তোলে।
শিক্ষাজীবনে ফ্রিদা প্রথমে স্থানীয় স্কুলে এবং পরে ন্যাশনাল প্রিপারেটরি স্কুলে ভর্তি হন, যেখানে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৮ বছর বয়সে ঘটে যাওয়া এক মারাত্মক বাস দুর্ঘটনা তার জীবনকে চিরতরে বদলে দেয়। মেরুদণ্ড, পেলভিস ও পায়ে গুরুতর আঘাতের পর দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকতে হয় তাকে। আর সেই সীমাবদ্ধ সময়েই শুরু হয় তার শিল্পচর্চার অবিস্মরণীয় যাত্রা।
ফ্রিদা নিজের ভাঙাচোরা শরীর, তীব্র যন্ত্রণা এবং আবেগকে ক্যানভাসে রূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশের এক অনন্য ভাষা তৈরি করেন। তার কাজগুলোতে মেক্সিকান সংস্কৃতি, নারীর অভিজ্ঞতা, দুঃখ, শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা এবং আত্মপরিচয়ের রাজনৈতিক প্রশ্নই বারবার দেখা যায়। যদিও অনেকে তাকে সুররিয়ালিস্ট বলে অভিহিত করেন, ফ্রিদার নিজের ভাষায়, ‘আমি স্বপ্ন আঁকি না, আমি আঁকি আমার বাস্তবতা।’
১৩৮ দিন আগে