স্বাস্থ্য-ও-সুস্থতা
দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে টোটাল ফিটনেস ডে
শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক সব দিক থেকে ফিটনেস অর্জনের আহ্বান নিয়ে দেশব্যাপী প্রথমবারের মতো পালিত হতে যাচ্ছে ‘টোটাল ফিটনেস ডে’। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ‘সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবন’-প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশে দিবসটি উদযাপন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।
২০২৩ সাল থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম শুক্রবার দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে সচেতনতামূলক বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা ও সেমিনার
ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল- যোগ ব্যায়াম, শারীরিক ভারসাম্য পরীক্ষা বা বডি ব্যালান্স টেস্ট, সচেতনতামূলক বুলেটিন-ব্রোশিউর বিতরণসহ রয়েছে আলোচনা, প্রাণায়াম ও মেডিটেশন। শরীর চর্চাকারী ও স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও দিবসটি উদযাপন করে। সারাদেশের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে এ ধরনের শতাধিক সেশন আয়োজিত হয়।
দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য টোটাল ফিটনেস নিয়ে মানুষের ভেতর যথাযথ সচেতনতা তৈরি করা। একজন মানুষের ভালো থাকা মানে সব দিক থেকেই ভালো থাকা। সব দিক মানে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক এই চারটি দিকেই ভালো থাকা। সব দিক থেকে ফিট থাকলেই সার্বিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। তাই চার ক্ষেত্রের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফিটনেস দরকার। দরকার টোটাল ফিটনেস।
আরও পড়ুন: আত্মহত্যার প্রবণতা: কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ
চোখ উঠা রোগের লক্ষণ, কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
১১৫৫ দিন আগে
প্রথমবারের মতো পালিত হবে টোটাল ফিটনেস ডে
শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক সব দিক থেকে ফিটনেস অর্জনের আহ্বান নিয়ে দেশব্যাপী প্রথমবারের মতো পালিত হতে যাচ্ছে ‘টোটাল ফিটনেস ডে’। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) ‘সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবন’-প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা দেশে দিবসটি উদযাপন করবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।
২০২৩ সাল থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম শুক্রবার দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এদিন সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে সচেতনতামূলক বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্ট্রোক চিকিৎসা সেবায় রুপান্তর নিয়ে আন্তর্জাতিক সায়েন্টেফিক সেমিনার
ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে থাকবে- যোগ ব্যায়াম, শারীরিক ভারসাম্য পরীক্ষা বা বডি ব্যালান্স টেস্ট, সচেতনতামূলক বুলেটিন-ব্রোশিউর বিতরণসহ রয়েছে আলোচনা, প্রাণায়াম ও মেডিটেশন। শরীর চর্চাকারী ও স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও দিবসটি উদযাপন করবে। সারাদেশের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে এ ধরনের শতাধিক সেশন আয়োজিত হবে।
দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য টোটাল ফিটনেস নিয়ে মানুষের ভেতর যথাযথ সচেতনতা তৈরি করা। একজন মানুষের ভালো থাকা মানে সব দিক থেকেই ভালো থাকা। সব দিক মানে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক এই চারটি দিকেই ভালো থাকা। সব দিক থেকে ফিট থাকলেই সার্বিকভাবে ভালো থাকা সম্ভব। তাই চার ক্ষেত্রের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফিটনেস দরকার। দরকার টোটাল ফিটনেস।
আরও পড়ুন: স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা ও সেমিনার
আত্মহত্যার প্রবণতা: কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ
১১৫৬ দিন আগে
বিদেশফেরত কর্মীদের এইচআইভি পরীক্ষা করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে প্রবেশের সময় বিদেশফেরত কর্মীদের পুনরায় এইচআইভি পরীক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দেশ ত্যাগের আগে যেভাবে এইডস পরীক্ষা করে এইচআইভি নেগেটিভ হলে তারপর বিদেশে যেতে হয়, একইভাবে দেশে প্রবেশের সময়ও তাদেরকে পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। এতে করে আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসা দেয়া যেমন সহজ হবে, অন্যদিকে, তাদের পরিবারের অন্যান্য নিরাপদ সদস্যরাও এই রোগের হাত থেকে রেহাই পাবেন।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রায় ১৪ হাজার জন এইডস রোগী আছে। এদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার জনকে শনাক্ত করা গেছে। যারা নিয়মিত সরকারি চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই এইডস রোগীদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে এইডস আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে তারা তাদের পরিবারের কাছের সদস্যদের আক্রান্ত করছেন। দেশে ফেরার সময় নিজেরাও জানতে পারেনি যে, তারা এইডস আক্রান্ত হয়ে এসেছেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসময় দেশে এইডস রোগীদের চিকিৎসা দেয়া প্রসঙ্গে জানান, ‘বর্তমানে সরকার বিনামূল্যে এইডস রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। চিকিৎসা নিলে এইডস রোগীরা আরও বেশিদিন সুস্থ থাকতে পারে। তবে সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কথা ভেবে এইডস হলে তারা গোপন রাখে এবং সেকথা কাউকে প্রকাশ না করে অন্যদেরকেও আক্রান্ত করে ফেলে। এতে করে দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।’
আরও পড়ুন:আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না বিডিনিউজের সম্পাদক
উল্লেখ্য, দেশে প্রথম এইডস রোগী ধরা পড়ে ১৯৮৯ সালে। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে মাত্র ০ দশমিক ০১ ভাগ এবং পতিতাবৃত্তি কাজের সঙ্গে জড়িতদের ৪ দশমিক ১ ভাগ এইডসে আক্রান্ত রয়েছে। অধিকাংশ সংখ্যক এইডস রোগীই মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলো থেকে দেশে প্রবেশ করে থাকে। ২০২২ সালের তথ্যানুযায়ী, এইডস রোগে নতুন ৯৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ২৩২ জন মারা গেছে।
তথ্যমতে, ১৯৮৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট ৯৭০৮ জন আক্রান্ত ও ১৮২০ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (জনসংখ্যা, পরিবার কল্যাণ ও আইন অনুবিভাগ) ডা. আশরাফী আহমদ, এনডিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি রাজেন্দ্র পোখড়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, লাইন ডাইরেক্টর ডা. খুরশীদ আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: দেশে ডেঙ্গু শনাক্তের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
১১৯১ দিন আগে
দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু প্রায় আড়াইশ’
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন আরও ৫২৩ জন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫১৯
আক্রান্তদের মধ্যে ২৭৭ জন ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বাকি ২৪৬ জন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক হাজার ৯২৯জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর মধ্যে ঢাকার ৫৩টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এক হাজার ১২৯ জন এবং অন্যান্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ৮০০ জন রোগী ভর্তি আছেন।
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৬ হাজার ১৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর মধ্যে ঢাকায় ৩৫ হাজার ৮০৫ জন এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন ২০ হাজার ৩২৫জন ডেঙ্গু রোগী।
অন্যদিকে, চিকিৎসা শেষে ৫৩ হাজার ৯৫৪ জন ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
এদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৫২৬ জন ঢাকার এবং বাকি ১৯ হাজার ৪২৮ জন ঢাকার বাইরের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: দেশে ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৪৬২
দেশে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২২১
১১৯৫ দিন আগে
আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা সম্মেলন ২০২২: ‘হেলথ ও ওয়েলনেস’ সেশনে গুরুত্ব পেয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ-ভারত বিজনেস কাউন্সিল (বিআইবিসি) ও উইমেনস ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র (ডব্লিউআইসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা সম্মেলন ২০২২। ‘হেলথ ও ওয়েলনেস’ সেশনে উঠে এসেছে মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক কুসংস্কার, নারীর বর্তমান অবস্থা শিশুদের স্বাস্থ্যসহ দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন বুধবার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
উদ্বোধনের দিন সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী পরিচালক লোকমান হোসেন মিয়া, বিআইবিসি’র প্রেসিডেন্ট মানতাশা আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মালিহা মান্নান আহমেদসহ অনেকে।
আরও পড়ুন: মানসিক রোগ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৫% শিক্ষার্থী সচেতন: শাবিপ্রবির গবেষণা
ড. মালিহা মান্নান আহমেদের সঞ্চালনায় ‘হেলথ ও ওয়েলনেস’ সেশনে আলোচনা করেন বিডার নির্বাহী পরিচালক লোকমান হোসেন মিয়া, বুশরা আলম, রুনা খান, জাহিদা ফিজ্জা কবির, ড. রুমানা দৌলা, আরিফ মাহমুদ, মৌসুমী ইসলাম।
‘হেলথ ও ওয়েলনেস’ সেশনে আলোচনা শুরু হয় ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট ডা. বুশরা আলমের বক্তব্য দিয়ে। উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য বলতে আমরা শারীরিক অবস্থাকেই সাধারণত বুঝি। কিন্তু আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা কম। সামাজিক কুসংস্কারের কারণে এটাকে আমরা প্রতিনিয়ত লুকাই। তবে করোনার পরবর্তীতে এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ কিছু তৈরি হয়েছে।’
সমাজে নারীদের অবস্থান প্রসঙ্গে ডা. বুশরা আলম বলেন, ‘বর্তমানে নারীরা দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন ভূমিকা রাখছে। আমরা চেষ্টা করছি নারীদের কাজের অগ্রগতিকে কীভাবে আরও সামনে নিয়ে আসতে পারি। এটা শুধুমাত্র উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরির বিষয় নয়। বরং এর চেয়েও বেশি। নারীরা পাবলিক যানবাহনে করে তাদের কর্মস্থলে যাতায়াত করে। কিন্তু সেখানে তাদের অবস্থা কী? সেখানে তারা প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এক্ষেত্রে পুরষদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ সবার সম্মিলত প্রচেষ্টায় পরিবর্তন আসে।’
আরও পড়ুন: কোন দেশে বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার, বেশি মানসিক রোগ?
আলোচনার দ্বিতীয় বক্তা ফ্রেন্ডশিপ এনজিও’র প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে তার কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ’২০ বছর আগে আমি এমন একটা বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করি যখন দেশে প্রায় ৪০ হাজার এনজিও ছিল। কিন্তু শিশুদের নিয়ে কাজ করার কাউকে তেমন পাইনি। আমি দেখেছি, একজন শিশুর হয়তো ডায়রিয়া হয়েছে, কিন্তু তার মা মাত্র পাঁচ টাকার জন্য শিশুটিকে সেলাইন খাওয়াতে পারছে না। ২০ বছর আগে শিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের কাজটা বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু আমাদের প্রত্যয় ছিল কাজটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেখান থেকে আমরা স্যাটেলাইট হাসপাতাল পর্যন্ত এসেছি।’
সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদা ফিজা কবীর বলেন, ‘সাজেদা ফাউন্ডেশন ব্যতিক্রম একটি উদ্যোগ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রেনাটার অর্থে এটা চলে। রেনাটার মুনাফার ৫১ শতাংশ এই সাজেদা ফাউন্ডেশনে খরচ করা হয়। এটি দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জীবনমান উন্নয়নে কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে আমরা মানসিক স্বস্থ্য নিয়েও কাজ করছি। যেটি আজকের আলোচনার অন্যতম অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় আট বছর আগে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। যখন দেখেছি আমাদের এখানে এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নেই। সেখান থেকেই আমাদের চিন্তা এলো এমন একটি সেবায় বিনিয়োগ করার বিষয়। যেখানে আমরা আন্তর্জাতিক মানে সেবা প্রদান করতে পারব। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা পেয়েছি।’
আরও পড়ুন: মানসিক বিকাশে শিশুর সঙ্গে মা-বাবার টেলিভিশন দেখা হতে পারে উপকারী
বাংলাদেশে প্যালিয়েটিভ অ্যান্ড সাপোর্ট কেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. রুমানা দোলা সেশনে কথা বলেন দেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের অবস্থা প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের দুরারোগ্য ব্যাধিতে প্রতি বছর অনেক মানুষ ভোগে। যার জন্যই প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রয়োজনীয়তা। অনেকেই আছেন দীর্ঘদিন হৃদরোগ, ক্যান্সার, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, এইডস, ডায়াবেটিকে ভুগছেন, এমনকি অনেকে একসময় তীব্র যন্ত্রণায় ভোগেন। প্যালিয়েটিভ কেয়ার এই ধরনের রুগীদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ।’
বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা প্রসঙ্গে নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল সার্ভিসের পরিচালক আরিফ মাহমুদ বলেন, ‘চিকিৎসা সেবা দেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। করোনার সময় আমরা বিষয়টি আরও লক্ষ্য করেছি। তখন বিদেশি যাওয়া বন্ধ ছিল, জনগনকে হয়তো সরকারি বা বেসরকারি চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আর আমরা কিন্তু পেরেছি। তবে বর্ডার খুলে দেয়ার পর আবারও মানুষ চিকিৎসার জন্য বাইরে যাচ্ছে। সেটার দুটি কারণ, প্রথমত বাংলাদেশে যেসব চিকিৎসা সম্ভব। দ্বিতীয়ত অনেকের অভিযোগ আমাদের দেশের অনেক ডাক্তার রোগীর বিষয়ে মনযোগী নন। দুটি বিষয়ের উন্নতির জন্য এরই মধ্যে কাজ হচ্ছে।’
বাংলাদেশে মেডিকেল যন্ত্রাংশ ব্যবসায় নিজের উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রমিস্কো গ্রুপের নির্বাহি পরিচালক মৌসুমী ইসলাম বলেন, ‘একজন নারী উদ্যোক্তার হিসেবে আমার শুরু পথটা বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু আমি সৌভাগ্যবান, এই কাজে আমি অনেককে বন্ধুর মতো পাশে পেয়েছি। যাদের জন্য আমি এগিয়ে যেতে পেরেছি। বাংলাদেশের অত্যাধুনিক মেডিকেল যন্ত্রাংশ আসার সময়টা কিন্তু নতুন। ২০১৫ থেকে আমরা মেডিকেল যন্ত্রাংশ তৈরি করে আসছি। করোনার সময় আমরা প্রমাণ করেছি বাংলাদেশেরও বিশ্বমানে মেডিকেল যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব।’
আরও পড়ুন: উন্নত দেশ গড়তে ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজিনেস’ সূচক উন্নয়নের বিকল্প নেই: বিডা
বিডার নির্বাহী পরিচালক লোকমান হোসেন মিয়া ২০২২ আন্তর্জাতিক নারী উদ্যোক্তা সম্মেলনের আলোচনা সেশনে বলেন, ‘এই সম্মেলন নারী উদ্যোক্তাদের ভালো একটি সুযোগ আমি মনে করি। যারা অংশগ্রহণ করেছেন সবার মনোবল ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বিশ্বাস করি। এ সম্মেলন নারী উদ্যোক্তাদের মনোবল আরও দৃঢ় ও সাহসী করবে। এ সম্মেলনে চার হাজার নারী উদ্যোক্তা ও প্রায় ৪০টি দেশের পেশাজীবী ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ অংশগ্রহণ করছেন।’
১১৯৫ দিন আগে
বিজয় দিবস উপলক্ষে আবারও ৭ দিনের টিকা ক্যাম্পেইন
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, আসন্ন বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী সাত দিনের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সামনে বিজয় দিবস আসছে, এই উপলক্ষে টিকার ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নিয়েছি। এটি পহেলা ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে, চলবে ডিসেম্বরের ৭ তারিখ পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: দেশেই স্থানীয়ভাবে করোনা টিকা তৈরির প্রচেষ্টার অগ্রগতি হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে আয়োজিত বিশ্ব অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশেষ এই টিকা ক্যাম্পেইনে ৯০ লাখ লোককে টিকা দেয়া হবে। আমরা এর আগে যতগুলো ক্যাম্পেইন করেছি, সবগুলোই সফল হয়েছে। আশা করি এটিও সফল হবে।
এছাড়া আমরা এ পর্যন্ত ১৪ কোটি ৬৯ লাখ মানুষকে প্রথম ডোজ টিকা আমরা দিয়েছি।
১২ কোটিরও বেশি দ্বিতীয় ডোজ দিয়েছি।
আরও পড়ুন: প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকার ক্যাম্পেইন বাড়ল আরও ৩ দিন
১২০০ দিন আগে
স্ট্রোক চিকিৎসা সেবায় রুপান্তর নিয়ে আন্তর্জাতিক সায়েন্টেফিক সেমিনার
দক্ষ, অভিজ্ঞ, মেধাবী বাংলাদেশিরা ছড়িয়ে আছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এদের অনেকেই যে যার ক্ষেত্রে কাজ করছেন সুনামের সঙ্গে। এমনই কিছু বাংলাদেশের চিকিৎসক গেল ২০২০ সালের জুলাই মাসে গড়ে তোলেন প্ল্যানেটরি হেলথ অ্যাকাডেমিয়া- পিএইচ এ নামে একটি সংগঠন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের দেড়শ’র বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক যাদের লক্ষ্য দেশের চিকিৎসক- স্বাস্থ্য গবেষকদের সঙ্গে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের সেতুবন্ধন তৈরি করা। যে সেতুবন্ধনে ভাবনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় করা যাবে- কমিয়ে আনা যাবে জানা-বোঝার দূরত্ব।
একইসঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগও তৈরি হবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পিএইচএ এরইমধ্যে দুই বছরেরও বেশি সময়ে অনেকখানি এগিয়েছে।
সময়ের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির যেমন হচ্ছে তেমনি বাড়ছে নানারকম অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর সংখ্যাও।
গত শুক্রবার গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্ল্যানেটরি হেলথ অ্যাকাডেমিয়া আয়োজন করে সায়েন্টেফিক কনফারেন্সের পিএইচ চেয়ারপার্সন ড. তাসবিরুল ইসলামের উদ্বোধনী বক্তব্য দিয়ে শুরু হওয়া দিনব্যাপী কনফারেন্সে বিভিন্ন বিষয়ে তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুন: স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা ও সেমিনার
জানা গেছে,শুক্রবার, ১১ নভেম্বর গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সায়েন্টেফিক কনফারেন্সে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। বিশেষ অতিথি জাতীয় নিউরোসায়েন্সে হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট এর পরিচালক ও বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস-বিসিপিএস এর সভাপতি ড. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক ড. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ, সোসাইটি অফ নিউরোলজিস্ট এর সভাপতি অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ কোরেশি, এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মইনুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ড. তাসবিরুল ইসলাম বলেন, পিএইচএ সব সময় চায় সমসাময়িক উদ্ভাবন ও অভিজ্ঞতা দেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে আদান- প্রদান করতে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য গবেষণার সঙ্গে তরুণ ও মেধাবীদের সংযোগও ঘটাতে সংগঠনটির নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করোনা মহামারিতে পিএইচএ দূরে বসেও বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতাও বলেন ড. তাসরির।
তিনি বলেন, স্ট্রোকের ভয়াবহ পরিণাম ও বাড়তে থাকা রোগীর সংখ্যা উদ্বেগ জাগাচ্ছে সব মহলে,একইভাবে স্ট্রোক চিকিৎসাতেও রুপান্তর ঘটানোর সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায়।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন- সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন: রোগীর প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম ইংরেজি বড় অক্ষরে লিখতে হবে: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
কনফারেন্সে নিউরোলজির প্রায় দেড়শ’ চিকিৎসক দেশের ও বিদেশের ১৬ জন বিশেষজ্ঞের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেন। সবকটি সেশন শেষে অতিথি ও প্যানেলিস্টদের মাঝে প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেশনে ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম,এনএইচএস যুক্তরাজ্যের হেমাটোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ড. আমিন ইসলাম স্ট্রোকে দ্রুত চিকিৎসার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। চারটি বাস্তব উদাহরণে তিনি দেখান কিভাবে প্রাথমিক অবস্থাতেই সঠিক চিকিৎসা রোগীর জীবন বাঁচিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম চার ঘন্টা অত্যন্ত নাজুক। যত সময় যেতে থাকে স্ট্রোক রোগীর নিউরন ক্ষতিগ্রস্থ হতে থাকে।
অন্যান্য সেশনে বক্তা হিসেবে ছিলেন, যুক্তরাজ্যের দি রয়্যাল লন্ডন হসপিটাল,বারটস হেলথ এনএইচএস ট্রাস্ট এর কনসালটেন্ট ড. অলিভার স্পুনার, যুক্তরাজ্যের স্ট্রোক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ড. ডেভিড হারগ্রোভ, যুক্তরাজ্যের কেন্টের স্ট্রোককেয়ার বিশেষজ্ঞ ড. সাইদুর রহমানসহ অন্যরা।
প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। প্রতিকারওযোগ্য বটে। স্ট্রোকের রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়া গেলে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা সম্ভব।
বিশেষ অতিথি ড. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক মৃত্যুর অন্যতম কারণ। তাই এর আধুনিক চিকিৎসা জানা থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে।’ ভবিষ্যতের যেন বহু মানুষ স্ট্রোকে পঙ্গুত্ব বরণ করে দেশের জন্য বোঝা না হয় তাই বৈশ্বিক স্ট্রোক চিকিৎসা গাইডলাইন ও প্রটোকল এখানেও প্রয়োগ করার ওপর জোর দেন তিনি।
অধ্যাপক ড.কোরেশী বলেন, ‘গেল কয়েক বছরে স্ট্রোকের চিকিৎসায় অসামান্য অগ্রগতি হয়েছে। উন্নত বিশ্বে রোগীর চিকিৎসা শুরু হয় বাড়িতেই। সেখানে জনসাধারণ স্ট্রোকের লক্ষণগুলো জানেন ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। এতে বহু মানুষ যেমন প্রাণে বেঁচে যান। পঙ্গুত্বের হাত থেকেও রক্ষা পান’।
স্ট্রোক নিয়ে সায়েন্টেফিক কনফারেন্সের সায়েন্টেফিক সহযোগী হিসেবে ছিল ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস ও ইউনাইটেড হাসপাতাল।
আরও পড়ুন: মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত উদ্বেগ মূল্যায়ন করা উচিত: বিশেষজ্ঞ দল
১২০৯ দিন আগে
স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা ও সেমিনার
‘পদ্মা পেরিয়ে দক্ষিণ বাংলায়’- এই স্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ‘স্তন ক্যানসার সচেতনা দিবস’- ২০২২ উপলক্ষে গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা করেছে।
শনিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি রবিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এসে পৌঁছায়। সোমবার (৩১ অক্টোবর) সকালে কালীগঞ্জের সমবায় ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি মেডিকপস্ হাসপাতালের আয়োজনে বলিদাপাড়া গ্রামে সেমিনার, স্তন ক্যান্সার সচেতনা ও স্ক্রিনিং বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও সকাল থেকে স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত ২৩ জন রোগী দেখা হয়।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, নির্ণয়ের প্রক্রিয়া, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন এর নেতৃত্বে চিকিৎসকসহ ২২জনের একটি টিম এই শোভাযাত্রা ও সেমিনারে অংশ নেন।
বক্তব্য রাখেন সেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যান সংস্থা হীল এর জেবুন নেছা, প্রকৃতি মেডিকপস্ হাসপাতালের সহভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত ব্যানার্জী, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের প্রোগ্রাম অফিসার শাহজাহান আলী বিপাশ প্রমুখ।
সেমিনারে প্রিভেনশন অব ক্যান্সার, আর্লি ডায়াগনোসিস, স্ক্রিনিং ইত্যাদির গুরুত্ব তুলে ধরেন চিকিৎসকরা।
এ সময় বক্তরা বলেন, সার্জিক্যাল ক্যান্সারের জন্য স্ক্রিনিংয়ের জন্য সারা দেশে চারশটি ভায়া সেন্টার তৈরি করা হয়েছিল। সেখানেই ব্রেস্ট ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করা যায়। যা অনেকে জানে না।
আরও পড়ুন: রোগীর প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম ইংরেজি বড় অক্ষরে লিখতে হবে: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
আত্মহত্যার প্রবণতা: কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ
১২২২ দিন আগে
রোগীর প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম ইংরেজি বড় অক্ষরে লিখতে হবে: বিএসএমএমইউ উপাচার্য
রোগীদের সেবার জন্য অবশ্যই ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্লিপশন) ওষুধের নাম ইংরেজি বড় অক্ষরে লিখতে হবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের অবশ্যই রোগীবান্ধব মানসিকতা নিয়ে সেবা দিতে হবে। রোগীদের সেবার জন্য অবশ্যই ব্যবস্থাপত্রে (প্রেসক্লিপশন) ওষুধের নাম ইংরেজি বড় অক্ষরে লিখতে হবে। যাতে রোগী ও ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতা সহজেই বুঝতে পারেন। এজন্য আমি আরএস ও আরপিকে নির্দেশনা দিয়েছি। তারা এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি।’
বুধবার (২৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্হিবিভাগ-২ বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে অনলাইন রিপোর্টিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রথমবারের মত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল অনলাইনে প্রকাশ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে রোগীর স্বাস্থ্যের প্রায় ১০০ ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়।
বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুম আলমের নেতৃত্বে অনলাইন রিপোর্টিং এ সফটওয়ার নির্মাণ করা হয়। এ অনলাইন রিপোর্টিং এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রোগীর মোবাইল ও ই-মেইল আইডিতে পৌঁছে যাবে।
আরও পড়ুন: বিএসএমএমইউতে এনটি-প্রো বিএনপি পরীক্ষা চালু
এর জন্য রোগীকে পরীক্ষার স্যাম্পল বা নমুনা প্রদানের সময় ছোট একটি ফরমে রোগীর নাম ও ই-মেইল আইডি লিখতে হবে। এ অনলাইন রিপোর্টিং কার্যক্রমের ফলে রোগীকে ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা নিরীক্ষার সেবা প্রদান করা যাবে।
২৪ ঘণ্টার মাঝেই রোগীর স্বাস্থ্য রিপোর্টরে ফল অনলাইনে প্রদান করা সম্ভব হবে।
প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মিলে নয় হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে আট হাজার রোগী প্রতিদিন সেবা নিতে আসত । বর্তমানে আগত রোগীদের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার রোগী বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আসেন। এসব রোগীরা অনলাইনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল গ্রহণের মাধ্যমে যেমন তারা সময় বাঁচাতে পারবে তেমনে যাতায়াত ভাড়াও বাঁচাতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারফুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এ অনলাইন সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের স্বপ্ন যাত্রায় উঠে পড়েছে।
বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন আরেকটি ধাপে উন্নীত হল।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ইতিহাস যোগ হলো।
এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সকল বিভাগে অতি দ্রুত চালু করা হবে।
বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাসুম আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েল বেসিক সাইন্স ও প্যারাক্লিনিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শিরিন তরফদার, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, এনাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আনজুমান বানু, বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. মতিউর রহমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদুল হক মোল্লা বক্তব্য দেন।
এসময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও নার্স, কর্মচারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ৮৮ শতাংশ করোনা রোগী ওমিক্রনে আক্রান্ত: বিএসএমএমইউ’র জরিপ
বিএসএমএমইউতে আগুন
১২২৭ দিন আগে
আত্মহত্যার প্রবণতা: কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ
সাম্প্রতিক কিছু দুঃখজনক আত্মহত্যার ঘটনা পৃথিবীর উচ্চ আত্মহত্যা প্রবণতার দেশগুলোর তালিকায় নিয়ে এসেছে বাংলাদেশকে। ব্যাধিটা যখন মনের তখন স্বাভাবিকভাবেই তা সবার অলক্ষ্যে থেকে যায়। শারীরিক রোগ-বালাইয়ের মত তেমন গুরুত্বের সাথে নেয়া হয় না নিরাশা অথবা ভয়ের মত মানসিক অবস্থাগুলোকে। কিন্তু আত্মহত্যার মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কমাতে হলে এ নিয়ে প্রচুর আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তাই সতর্ক হতে চলুন জেনে নেই আত্মহত্যার কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্বন্ধে।
তরুণ প্রজন্মের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ
নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার ধারণাটা গভীর হয়ে উঠতে পারে, যখন ব্যক্তি মনে করেন, যে তিনি তার চারপাশের অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আর সক্ষম নন। হতে পারে এটি আর্থিক সমস্যা, প্রিয়জনের মৃত্যু, কোন সম্পর্কের অবসান বা কোন জটিল রোগ বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা।
যে কারণগুলো তরুণ প্রজন্মকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে সেগুলো হলো-
· পরিবারের কোন সদস্য/সদস্যদের সাথে মনোমালিন্য
· শারীরিক নির্যাতন, অবহেলা বা মানসিক আঘাত
· জন্ম থেকেই কোন মানসিক সমস্যা
· আত্মহত্যা করেছে এমন কাউকে জানা, এবং তাকে নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করা
· নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের সাথে চলাফেরা করা
· বেপরোয়া বা অতি আবেগপ্রবণ হওয়া
· সার্বক্ষণিক নির্জনতা বা একাকীত্ব অনুভব করা
· মানসিক সমস্যাগুলোর জন্য কারো মনোযোগ না পাওয়া
· কর্ম বা শিক্ষা ক্ষেত্রে ভয়াবহ জটিলতা বা ক্ষতিসাধন
· বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয়জনের বড় কোন ক্ষতিসাধন
· শারীরিক অসুস্থতা বা জন্মগত কোন স্বাস্থ্য সমস্যা
· ভয় বা কলঙ্কের কারণে সাহায্য চাইতে লজ্জাবোধ
· জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম ও বর্ণ বৈষম্যের শিকার হওয়া এবং কুসংস্কারের কারণে দুশ্চিন্তা
· সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধ্বংসের কারণে ঐতিহাসিক ট্রমার মধ্যে থাকা
· মাদকাসক্ত থাকা
· আইনি ঝামেলা বা ঋণগ্রস্ততা
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, নির্ণয়ের প্রক্রিয়া, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তিকে শান্ত করার উপায়
· তাৎক্ষণিকভাবে তার আবেগ ও অনুভূতি সম্পর্কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে হবে। এমন সময় যদিও অনেক ক্ষেত্রে এটা কাজ না করতে পারে। কিন্তু মনপ্রাণ দিয়ে তার যা বলার আছে তা শোনা হলে এবং গুরুত্ব সহকারে নেয়া হলে অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
· তাকে উন্মু্ক্তভাবে যোগাযোগের জন্য একটি আরামদায়ক জায়গা দিতে হবে। তার লজ্জা, অপরাধবোধগুলোকে ইতিবাচক দিক দিয়ে তার কাছে তুলে ধরতে হবে। কারণ আত্মহত্যার চেষ্টা করতে যাওয়া ব্যক্তিরা এমনিতেই ভেতরে ভেতরে অনেক লজ্জিত, অপরাধী বা বিব্রত বোধ করেন। দোষ-ত্রুটি ধরে নয়; সমর্থন দিয়ে সহজ ভাষায় তাকে বোঝাতে হবে। মতামত প্রকাশের সময় তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে। এ সময় যে কোন ধরনের বিতর্কে জড়ানোটা এড়িয়ে যেতে হবে।
· তার আবেগ-অনুভূতির ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তবে অনুভূতিগুলোর মূল্য দিতে যেয়ে তাকে পৃথিবীর একমাত্র দুঃখী মানুষে পরিণত করা যাবে না। বরং আবেগগুলোর গঠনমুলক প্রয়োগের ব্যাপারে কথা বলতে হবে। আর এ সময় সেই প্রায়োগিক কার্যক্রমের সাবলিলতা ফুটিয়ে তুলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, যে আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তি যৌক্তিকভাবে চিন্তা না করলেও, তার আবেগগুলো বাস্তব। সেগুলো কোন ভাবেই মূল্যহীন হিসেবে প্রকাশ করা যাবে না। এতে পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে এবং ব্যক্তিটি নিজেকে নিজের মধ্যে আরো গুটিয়ে নিতে পারে।
আরও পড়ুন: চোখ উঠা রোগের লক্ষণ, কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
· আবেগের মূল্য দিয়ে যেয়ে তার আত্মহত্যার অনুভূতি গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়া যাবে না। কারো জীবন বিপদের মধ্যে থাকলে এমন প্রতিশ্রুতি রাখা অবান্তর। বরং আরো কারো জানার ফলে যদি উপকার হয় তবে তা করাই উত্তম। এ বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। এমনকি এ কাজে তাকেও সহযোগিতা করার অনুরোধ করতে হবে।
· যখন কেউ আত্মহত্যা করতে উদ্যত হয়, তখন তার মনে হয় এ থেকে উত্তরণের সব পথই বন্ধ। এ অবস্থা থেকে তাকে বের করার জন্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সমূহ উপায়ের কথা তাকে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে যারা ইতোমধ্যেই এই অবস্থা থেকে উতড়ে যেতে পেরেছে তাদের জীবনের গল্পকে অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যক্ত করা যেতে পারে। সহজ রাস্তা পাওয়ার ফলে সে আবার জীবন নিয়ে চিন্তা শুরু করতে পারে।
· তাকে মাদক ব্যবহার এড়াতে উৎসাহিত করতে হবে। এ অবস্থায় ড্রাগ বা অ্যালকোহল ব্যবহার করা বেদনাদায়ক অনুভূতিগুলোকে সহজ করে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু দিন শেষে তা সবকিছুকে আরও খারাপ করে তোলে। ফলে তা বেপরোয়া আচরণ বা আরও বিষণ্ন বোধের দিকে ধাবিত করতে পারে। এক্ষেত্রে তাকে তার জীবনের সবথেকে প্রিয় কাজগুলো করার দিকে প্রলুব্ধ করা যেতে পারে। সে কাজগুলো করার সময় ধৈর্য্য ধরে তার সাথে পুরোটা সময় থাকতে হবে। সে যেন কিছুতেই ড্রাগ ব্যবহারের সুযোগ না পায় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে এখানে তার প্রিয়জনদের সাহায্য নেয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে গায়ে আগুন দিয়ে রিকশাচালকের আত্মহত্যা!
· সম্ভব হলে তার হাতের কাছ থেকে আত্মহত্যার জন্য সম্ভাব্য বিপজ্জনক আইটেমগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। যেমন ছুরি, ক্ষুর, বন্দুক বা মাদক। এমনকি সাধারণ ওষুধও সরিয়ে ফেলতে হবে। তার শারীরিক উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধগুলোর সঠিক ডোজ সরবরাহের জন্য তার সাথে বেশি সময় নিয়ে থাকতে হবে। এর জন্য তার প্রিয়জনদের সাহায্য এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয়
আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করাটাই এর প্রতিরোধের উপায়। এর জন্য সামগ্রিক ভাবে তার চারপাশটা তার জন্য আরামদায়ক করে তোলা জরুরি। এর জন্য যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে তা হলো-
· পরিবার এবং সমাজের সবার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা
· যে কোন সমস্যা সমাধান এবং বিরোধ মোকাবেলা করার উপায়গুলোর সহজলভ্যতা
· এমন বিশ্বাসের ভিত স্থাপন করা, যা আত্মহত্যাকে নিরুৎসাহিত করে এবং নিজেকে ভালবাসার প্রতি উৎসাহিত করে
· আত্মসম্মানবোধ এবং জীবনের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নির্ধারণে সাহায্য করা
· সমাজের অন্যান্যদের প্রতি যত্নশীল হতে শেখানো। এতে সে অন্যান্যদের পক্ষ থেকেও যত্ন পাবে।
· তার চারপাশে এমন পরিবেশ গড়ে তোলা যেন ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে সে কোন রকম দ্বিধা বোধ না করে
· মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাবগুলো ব্যাপারে সচেতন করা
· নিয়মিত ব্যায়াম করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা
· নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রতি অনুপ্রাণিত করা
· প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা ঘুমের জন্য উৎসাহিত করা
· গান শোনা বা ভ্রমণের ব্যাপারে উৎসাহিত করা|
আরও পড়ুন: গলায় ফাঁস দিয়ে চাঁদপুরে শিশুর আত্মহত্যা!
আত্মহত্যা প্রতিরোধে সাংগঠনিক উদ্যোগ
মানুষকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখতে সদা তৎপর ইয়েশিম ইকবালের সংগঠন ‘কান পেতে রই’। বাংলাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকা আত্মহত্যার প্রবণতাকে কমাতে ২০১৩ এর ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা। এদের নির্দিষ্ট কিছু হেল্পলাইনের মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত মানুষের কল গ্রহণ করে শোনা হয় তাদের দুঃখের কথাগুলো। অতঃপর কল রিসিভ করা প্রশিক্ষিত পরিশ্রমী তরুণ স্বেচ্ছাসেবী তাদের কথাগুলো শুনে তাদের নিরাশা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা দূর করতে পরামর্শ দেন। এই কাউন্সেলিং-এর জন্য কোন রকম ফি নেয়া হয় না।
আন্তর্জাতিকভাবে কাউন্সিলিং-এর স্বীকৃত মডেল বিফ্রেন্ডিং-এর মাধ্যমে মানুষের নানা জটিলতার সমাধান দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় কর্মরত স্বেচ্ছাসেবীদের কলকারীদের পরিচয় সম্পর্কিত কোনো তথ্য জিজ্ঞাসা করার কোন নিয়ম নেই। কাজ শুরুর পূর্বে স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তা সংরক্ষণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়।
কলকারি ব্যক্তিটি আবেগের বশে কোন ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে ফেললেও তা নোট না করার জন্য প্রশিক্ষকরা স্পষ্ট নির্দেশনা থাকে। মূল কথা এখানে ব্যক্তি নয়; সমস্যা সমাধানই আসল। তাই কান পেতে রই’য়ের গ্রাহকদের মধ্যে কোন রকম অস্বস্তি নেই। বরং গ্রাহকদের রীতিমত নির্ভরতার জায়গা গড়ে উঠেছে সংগঠনটিকে ঘিরে।
আরও পড়ুন: স্মার্ট ফোন কিনে না দেয়ায় স্কুল ছাত্রের আত্মহত্যা!
পরিশিষ্ট
আত্মহত্যার প্রবণতাই যেখানে গোপন রয়ে যায়, সেখানে গোড়াতেই ধামা চাপা পড়ে যায় আত্মহত্যার কারণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সম্বন্ধে সতর্ক থাকার বিষয়গুলো। প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক অস্থিরতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জনসংখ্যা সংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি পরিবেশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণে জীবন ধারণে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক। তাই অতিরিক্ত আবেগের বিড়ম্বনা ও নিরাশাকে রুখতে পরস্পরের মাঝে নৈতিকতার শিক্ষা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রথা গড়ে তোলা জরুরি।
১২৩৪ দিন আগে