ঢাকা
জাবির নারী শিক্ষার্থীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হলের সামনে থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ভীতিপ্রদর্শন করে বাসায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের (৪৪তম ব্যাচ) এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম (৩২) জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
বিশাববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি তার বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই শিক্ষক জানান, অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর পূর্বে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়। গতকাল (মঙ্গলবার) তারিকুল ইসলাম ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে ‘শেষবারের মতো কথা বলার’ কথা বলে তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করেন।
তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে ইফতার সামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী তার বাসায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তরিকুল ইসলাম তার মুখে টেপ লাগিয়ে বেঁধে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ জানা যায়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পুড়ে যাওয়ার ক্ষতের ওষুধ কিনতে যাওয়ার সময় তরিকুল কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। ওই সুযোগে ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশ প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে। আমাদের কেন্দ্রে এ ধরনের বার্ন ইনজুরির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।’
তিনি বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে জেনেছি। সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এক্ষেত্রে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
সার্বিক বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, গতকাল রাতে ঘটনাটি জানতে পেরে আমাদের ফোর্স গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে জাবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।
৯ দিন আগে
চট্টগ্রাম–কুমিল্লার বিস্ফোরণে দগ্ধদের দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে দুই মন্ত্রী
চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ন্ত্রণে তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছান তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন। পরে তিনি আহতদের বর্তমান অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীদের বিস্তারিত জানান।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে একই পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন, ৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং একজন রোগী ভেন্টিলেশনে আছেন। আমি তাদের দেখে এসেছি। ভর্তিকৃত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে কুমিল্লা থেকে সকালে একই পরিবারের ৪ জন এসেছে। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা এখানে চিকিৎসকদের বলেছি তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্যাস লিকেজ থেকে সারাবছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের হালিশহরে গতকাল একটি ঘটনা ঘটেছে এবং আজকে সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আরো একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিল্প মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় এই তিনটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাই। যাতে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডারকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায়। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে তিন মন্ত্রণালয় বসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব কিভাবে এই দুর্ঘটনাকে কমিয়ে আনা যায়।’
সাংবাদিকদের তিনি আরও জানান, ‘এই ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক শিশু বাচ্চা সহ নারীরা আহত হয়েছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের সাপোর্ট লাগে আমরা সেই ধরনের সাপোর্ট দেব।’
পরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা নাসির উদ্দিন জানান, ‘আজকেও সেহরির পরে শিশু বৃদ্ধসহ বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে। আমরা এই ধরনের ঘটনা আমরা প্রায়ই পাই। আমাদের এখানে চিকিৎসায় তাদের কোন সমস্যা হবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা চিকিৎসার ব্যাপারে সাহায্য পাব। আমাদের চিকিৎসায় কোন সমস্যা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সহযোগিতা পাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম থেকে আগেই বিষয়টি জানানো হয়। সেই অনুযায়ী আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। আমাদের চিকিৎসকরা বিষয়টি জানতেন এবং আমাদের অতিরিক্ত জনবল ডিপ্লয় করা ছিল। চট্টগ্রাম থেকে আনার পথে একজন নারী এখানে মারা যায়। অনেকের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। আইসিইউ ও এইচডিইউতে তাদের চিকিৎসা চলছে। ৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।’
১০ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে কারগার থেকে বের হওয়ার পরই যুবককে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর ইমন নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে ‘সন্ত্রাসীরা’।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট ওয়াজউদ্দিন মিস্ত্রিবাগের শেষ মাথায় সাদেক-বাবুল মিয়ার বাড়ীর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমন মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকার ওমর খৈয়ামের ছেলে।
নিহত ইমনের বাবা বলেন, দীর্ঘ কারাভোগের পর গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে বাসায় আসে ইমন। বাসায় আসার কিছুক্ষণ পর ফেরদৌস মোবাইলে ফোন করে তাকে বাবুল মিয়ার বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে ফেরদৌস, সন্ত্রাসী জাহিদ, চক্ষু হৃদয় ও হৃদয়সহ অপর সন্ত্রাসীদের তাকে হাতে তুলে দেন। পরে জাহিদ ও অপর সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তখন সে দৌড়ে পার্শ্ববর্তী সাদেক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয়ের চেষ্টা করলে সেখানেও তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়।
তিনি বলেন, সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত ইমনকে শহরের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, হত্যাকারীদের মধ্যে চক্ষু হৃদয়ও কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে এসেছেন। নিহত ইমন তার সঙ্গে ইলেক্ট্রিকের কাজ করতেন।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তিনিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১০ দিন আগে
রাজধানীতে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু
রাজধানীর শ্যামপুরে চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার আব্দুর রহিম (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নতুন প্রকল্পের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রহিমকে হাসপাতালে নিয়ে আসা বিআইডব্লিউটিএ প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রকল্পের ভেতরে রড চুরির সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
১১ দিন আগে
মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় সোহান (১৬) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করেছে ছিনতাইকারীরা। সে তুরাগ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে নবীনগর হাউজিংয়ের দুই নম্বর রোডে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোহানের বাবা জামাল হোসেন বলেন, রাত ৯টার দিকে আমার ছেলে তার বন্ধুদের সঙ্গে নবীনগর হাউজিং দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী তার এক বন্ধুর কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার জন্য টানাটানি করে। পরে ছেলেটিকে বাঁচাতে সে বাঁচাতে গেলে ছিনতাইকারী ফোনটি ফেলে দৌড় দেয়। যাওয়ার আগে আমার ছেলের দুই হাঁটুর নিচে কুপিয়ে জখম করে।
তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি, ঢাকা উদ্যানের ছিনতাইকারী শাহিনের পোলাপান আমার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে। বর্তমানে সে ঢামেক হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে আছে।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে এক কিশোরকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, ছিনতাইকারীরা তাকে কুপিয়ে জখম করেছে। আমরা বিষয়টি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
১১ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় নামাজে যাওয়ার পথে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকায় রিপন হোসেন (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার জামায়াত-সমর্থিত কর্মীদের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বড় মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় রিপনকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত রিপন হোসেন ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মান্নানের ছেলে। তিনি দর্শনা পৌর যুবদলের নেতা বলে নিশ্চিত করেছেন দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক মো. হাবিবুর রহমান বুলেট। তিনি বলেন, এ হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একই এলাকার হাসেম (৫৬) ও খায়রুল কামড়িসহ (৪৫) বেশ কয়েকজন জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে প্রচারণার কাজ করেছেন। এ নিয়ে রিপনের সঙ্গে তাদের আগে বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। এ বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি বিএনপি নেতাদের। তবে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহরান হোসেন জানান, রিপনের শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর পৌর বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিচারের দাবিতে তারাবীহ নামাজ শেষে দর্শনা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিপনের ভাই বাদী হয়ে রাতেই দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আওয়ামী লীগপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দর্শনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা বলেন, মামলায় পূর্বশত্রুতার জেরের কথা উল্লেখ রয়েছে। অভিযুক্তদের আটকে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
১১ দিন আগে
কলাবাগানে ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে গুলি
রাজধানীর কলাবাগানে শফিকুর রহমান (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি কলাবাগান ১৬ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাড়ে ৯টার দিকে কলাবাগানের বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীতে জুতার মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
গুলিবিদ্ধ শফিকুর রহমানের বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার সিদলাই গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মৃত মফিদুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি টঙ্গী মধুমিতা রোড এলাকায় বসবাস করছেন।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পাশের দোকানদার শাহ পরান জানান, শফিকুর রহমান ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দোকানের জুতা সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করেন। হঠাৎ তার বাঁ হাতে এসে একটি গুলি লাগে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের নিয়ে এসেছি। কে বা কারা গুলি করেছে সে বিষয়টি বলতে পারছি না।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, কলাবাগান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ব্যবসায়ীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগের তার চিকিৎসা চলছে। আমরা বিষয়টি কলাবাগান থানাকে জানিয়েছি।
১১ দিন আগে
রায়েরবাজারে গ্যাস লিকেজের আগুনে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ
রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন রায়েরবাজার এলাকায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট আগুনে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রায়েরবাজারের ১৪৭ নম্বর জাহানারা ভিলা ভবনের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন— শেখ রোমান (৩৫), তার স্ত্রী পিংকি আক্তার (৩২), তাদের ছেলে মায়ান (৩) এবং রোমানের শ্যালক অপু (২৩)।
শেখ রোমানের বাড়ি নেত্রকোণার খালিয়াজুরী থানার মোহাম্মদপুর এলাকায়। তিনি ওই এলাকার শেখ গোলাম মাওলার ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে পূর্ব রায়েরবাজারের ওই বাসাটিতে ভাড়া থাকেন।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. মামুন জানান, বাসায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। এতে পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের মধ্যে শেখ রোমানের শরীরের ২৫ শতাংশ, পিংকি আক্তারের শরীরের ৭৫ শতাংশ, মায়ানের শরীরের ২৪ শতাংশ এবং অপুর শরীরের ৭ শতাংশ পুড়ে হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জন হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। বর্তমানে সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান এ চিকিৎসক।
১১ দিন আগে
খেজুরে তেল মিশিয়ে বিক্রি, মানিকগঞ্জে ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
মানিকগঞ্জে বাজারে খেজুরে সরিষার তেল মিশিয়ে বিক্রির অপরাধে কার্তিক চন্দ্র নামে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মানিকগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় বাজার মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করেন মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।
এ সময় কার্তিকের দোকানে খেজুরে সরিষার তেল মিশিয়ে বিক্রির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ওই ব্যবসায়ীকে ২০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া রোজায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দোকানেও তদারকি করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মানিকগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, রোজায় নিত্যপণ্যসহ ফলফলাদি, তরকারি ও মাছ-মাংসের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের অভিযান চলবে।
১২ দিন আগে
কামরাঙ্গীরচরে দেড় যুগ আগের ধর্ষণ মামলায় আসামিদের যাবজ্জীবন
প্রায় ১৭ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চার যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। অপর তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সে ওই তরুণী তার বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পাশের নৌকা ঘাটে বেড়িবাঁধে বেড়াতে বের হয়েছিলেন।
একপর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। তার বান্ধবী চলে যাওয়ার পর ঐদিন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোরপূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় ওঠায়। এরপর বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন।
পরে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। তারপর তারা ওই নারীকে ছালাম কন্ট্রাকটারের বাড়ির একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করান।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
১২ দিন আগে