ঢাকা
শেরপুরে ঝড়ে গাছচাপায় নারী নিহত, বিধ্বস্ত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি
শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলায় আকস্মিক টর্নেডোর আঘাতে গাছের নিচে চাপা পড়ে বেগম বিবি (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সকাল পৌনে ৯টার দিকে নালিতাবাড়ির নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আজ (শনিবার) সকাল থেকেই শেরপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। সকাল পৌনে ৯টার দিকে হঠাৎ করেই নালিতাবাড়ির ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে ঝড় বয়ে যায়। এ সময় প্রবল গতিতে ঝড়টি টর্নেডোয় পরিণত হয়ে নালিতাবাড়ির যোগানিয়া, নন্নী পশ্চিমপাড়া, নন্নী উত্তরবন্দ, ছাইচাকুড়া ও হাতিপাগারসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। মাত্র দেড় মিনিটের এ টর্নেডোর আঘাতে এসব এলাকার বেশকিছু কাঁচা ও টিনশেড ঘরের চাল উড়ে যায় এবং বিধ্বস্ত হয়। এ ছাড়া বেশকিছু গাছও উপড়ে পড়ে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নন্নী পশ্চিমপাড়া গ্রামের নিজ বসতভিটার একটি বড় কাঁঠাল গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরের বারান্দায় রান্না করতে থাকা অবস্থায় বেগম বিবি গাছের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নন্নী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম মাহবুবুর রহমান রিটন জানান, বৃষ্টির সময় তিনি ঘরেই বসা ছিলেন। হঠাৎ করেই টর্নেডো আঘাত হানে। বাতাসের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল, মনে হচ্ছিল যে তার পাকা বাড়িটিই উড়িয়ে নিয়ে যাবে। ঝড় থামার পর বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখেন, আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁচা বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে এবং বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে আছে।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক জানান, আকস্মিক এই ঝড়ে একজন বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার প্রক্রিয়া চলছে।
১২ দিন আগে
যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় সোয়া ৩ কোটি টাকা টোল আদায়
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। সরকারি ছুটির ২ দিন আগে থেকেই যমুনা সেতুতে প্রায় দ্বিগুণ যানবাহনের চাপ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ সেতু দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) বিকেল থেকে সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং সেতুতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ সামলাতে ও দ্রুত টোল আদায়ে আজ শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে আরও ৪টি বুথ বাড়িয়ে ১৮টি টোল বুথ চালু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মহাসড়কে যানজট নিরসনে ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
১২ দিন আগে
নরসিংদীতে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, হত্যাকারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
নরসিংদীর পলাশে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রকাশ্যে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুই যুবক। হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীদের নিয়ে হত্যাকারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আশিক ভূঁইয়া (২০) উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের মনির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ছিলেন। এ সময় একই এলাকার বকুল ভূঁইয়ার ছেলে রুহুল আমিন (২০) ও মান্নান ফকিরের ছেলে ইলিয়াস আহত হন। তাদের মধ্যে রুহুল আমিনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শনিবার (২৩ মে) সকালে হত্যার ঘটনায় নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীদের নিয়ে হত্যাকারীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারুলিয়া গ্রামের সাগরের (২২) ছোট ভাই সোহাগের (২০) সঙ্গে প্রতিবেশী রুহুল আমিনের গত বৃহস্পতিবার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার মীমাংসা করার জন্য গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে পারুলিয়া ভূইয়া বাড়ির পাশে স্থান ও সময় নির্ধারণ করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। গতকাল বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন নির্ধারিত স্থানে বিচারকদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর ও সোহাগসহ প্রায় ১০/১৫ জন লোক আশিকের ওপর হামলায় চালায়। এ সময় তাদের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে আশিককে। তাকে বাঁচাতে রুহুল আমিন ও ইলিয়াস এগিয়ে গেলে তারাও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিককে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রুহুল আমিন ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।
অভিযুক্ত সাগর ও সোহাগ ওই উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
আজ (শনিবার) সকালে আশিকের মৃত্যুর খবরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা সাগর-সোহাগদের বাড়িতে হামলা চালান এবং একপর্যায়ে আগুন লাগিয়ে দেন। আগুনের খবর পেয়ে পলাশ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শী রোমান ভূইয়া জানান, সালিশের নির্ধারিত স্থানে স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হতে থাকে। এ সময় সকলেই যারা সালিশ করবেন তাদের জন্য অপেক্ষা করতে ছিল। কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই সাগর ও তার ভাই সোহাগ আশিকের ওপর হামলা চালিয়ে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে রুহুল আমিন ও ইলিয়াসও গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। আশিকের মৃত্যুর খবরে সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও তাদের স্বজনরা সাগর-সোহাগদের বাড়িঘর আগুন দেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, আশিকের মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালান এবং আগুন দেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
১২ দিন আগে
‘পুলিশ-বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে’ ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, ক্ষোভে কিশোরীর গলায় ফাঁস
নরসিংদীতে পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে ধষর্ণের ঘটনায় সালিশ চলাকালে ক্ষোভে এক কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কিশোরীকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর পাশের শিবপুর উপজেলায় বিয়ে হয়েছিল ওই কিশোরীর। বিয়ের পর থেকেই প্রতিবেশী প্রাইভেটকারচালক এক যুবক তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও বিয়ের প্রলোভন দেখাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে তার স্বামীর সংসার থেকে নিয়ে আসেন যুবকটি। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার ছেলেটিকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু সে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে কিশোরীর পরিবার আইনি সহযোগিতা নিতে চাইলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মীমাংসা করে দেবে বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে ওই কিশোরীর পরিবার উপায়ন্তর না পেয়ে সালিশি বিচারে রাজি হয়। পরে গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খোকা, চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন, ইউনিয়ন যুবদল নেতা জাহাঙ্গীরসহ একাধিক নেতার উপস্থিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সেখানে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইউনুস নামে একজন পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, সালিশ দরবারে উপস্থিত নেতারা বিয়ের পরিবর্তে ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকায় মীমাংসা করার প্রস্তাব উঠান। এ খবর ওই কিশোরী জেনে সালিশ চলাকালেই ঘরের দরজা আটকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এ সময় পরিবারের লোকজন ঘটনা বুঝতে পেরে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে অচেতন অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে সে এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত যুবককে দোষী দাবি করে বলেন, সে আমার মেয়ের সংসার ভেঙেছে। আমার মেয়েকে গত এক বছর ধরে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। আমার মেয়ে বিয়ের কথা বললে সে তালবাহানা করতে থাকে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। মানুষ আমার মেয়েকে নিয়ে বাজে কথা বলায় সে বাইরে যেতে পারত না। আজকের সালিশে বিচারকরা বিয়ের কথা না বলে প্রথমে ২০ হাজার, ৩০ হাজার ও পরে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা বলেন। এ কথা শুনে আমার মেয়ে ক্ষোভে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এখন সে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
তার অভিযোগ, আমি থানায় আগেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু বিচার পাইনি। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আউলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, আমি অল্প সময়ের জন্য দরবারে গিয়েছিলাম। ছেলে ও মেয়ের কথা শোনার পর জরুরি কাজ থাকায় চলে এসেছি। পরে জানতে পেরেছি, দরবারে ১১ জনের একটি বোর্ড বসেছিল। তারা সকলের কথা শুনে ৮ জন বিয়ের পক্ষে ও তিন জন টাকা দিয়ে সমাধানের পক্ষে মতামত দেন। এর মধ্যে কেউ টাকা দিয়ে সমাধানের বিষয়টি জানালে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে দরবার থেকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
ধর্ষণ সালিশযোগ্য কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি উভয়পক্ষের অনুরোধে গিয়েছিলাম। যেখানে এলাকার অনেক মানুষ ছিল।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় ফাঁস নেওয়া এক কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিনিশপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা মো. ইসহাক মিয়া বলেন, সোনাতলা চকপাড়া এলাকায় সালিশে আমি ছিলাম না তবে মো. ইউনুস নামে একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন।
তিনি জানান, আমি ঘটনার খোঁজ খবর নিয়েছি, কিন্তু সালিশে ছিলাম না।
তবে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন ওই শালিসে কোনো পুলিশ সদস্যের উপস্থিত থাকার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সালিশে আমাদের কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না। আমরা শারীরিক সম্পর্কের ঘটনায় একটা মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি।
১২ দিন আগে
সাভারে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানদার গ্রেপ্তার
সাভারে ৫ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহজাহান (৬০) নামে এক মুদি দোকানদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভুক্তভোগী শিশুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে সাভার থানাধীন বনগ্রামের স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ওই ছাত্রী টিফিনের সময় মুদি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানদার শাহজাহান বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে শাহজাহান তার মুখ চেপে ধরেন।
ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেন তিনি। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা তার চাচাকে জানায়। ওই রাতেই সাভার মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করে শিশুটির পরিবার। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহজাহানকে আটক করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) ইমরান হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে সাভারের পাছ বনগ্রাম এলাকায় রাশিদা মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান ঘরে বসবাস করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী শিশুটির চাচা বলেন, ‘আমার ভাতিজি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। দুপুরে স্কুলের টিফিনের সময় সে মুদি দোকানদার শাহজাহানের দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। সেখানে তাকে দোকানের ভেতর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে শাহজাহান।
১৩ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ওসমান গণি নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকার সড়ক অবরোধ করেন।
বুধবার (২০ মে) রাতে স্থানীয় দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার কাউন্দা এলাকার চকে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত ওসমান গণি স্থানীয় ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি স্থানীয় বড় বিনাইর চর এলাকার মৃত আব্দুর রশীদের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে আড়াইহাজার-ভুলতা সড়কের বড় বিনাইর চর এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় অবরোধকারীরা রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, গতকাল (বুধবার) রাতে দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া এলাকার কাউন্দা এলাকার চকে সন্ত্রাসীরা ওসমানকে কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবি ছিল, ওসমান ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নারায়ণগঞ্জ জেলা জিয়া প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক সিফাত মিয়া বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম। সন্ত্রাসীরা প্রথমেই আমাকে এসে হুমকি দেয়। পরে তারা আমার সামনে ওসমান ভাইকে কুপিয়ে নির্মমভাবে খুন করে।
তিনি আরও বলেন, তারা সংখ্যায় অনেক ছিল, তাদের বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমার ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শী মাহফুজ ভূঁইয়া বাবুল বলেন, ‘কাউন্দার চকে একটি জমি কিনে সেখান থেকে শ্রমিকরা মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে ভর্তি করতেছিল, আমি গাড়িতেই বসা ছিলাম। হঠাৎ একদল অস্ত্রধারী মুখোশ পরিহিত লোক ওসমান ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। তারা তাকে এলাপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে একটি চক্র আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছিল, তাতে রাজি না হওয়ায় তারা ওসমান গণিকে নৃসংশভাবে খুন করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃটান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
১৪ দিন আগে
ঈদযাত্রায় ঘাটে দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: নৌ প্রতিমন্ত্রী
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেছেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি ফেরি ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাটগুলোতে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে পাটুরিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. রাজিব আহসান বলেন, কোনো ঘাট এলাকায় অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সকলের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি ঘরমুখো যাত্রীদের উদ্দেশে সরকারি নির্দেশনা মেনে নিরাপদে ঘাট পারাপারের আহ্বান জানান।
১৪ দিন আগে
নারায়ণগঞ্জে অটোচালকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের শিকার এক অটোচালক তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
বুধবার (২০ মে) সকালে সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত মো. মমিন, সোনারগাঁ উপজেলার নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গত রবিবার বিকেলে দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ডে লাইনম্যান শাহিন অটোচালক মমিনের কাছ থেকে ১০ টাকা চাঁদা নেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও টাকা দাবি করেন শাহি । এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শাহিন তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে মমিনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মমিন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ (বুধবার) সকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহিন পলাতক রয়েছে।
এদিকে অটোচালকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তারা। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
১৫ দিন আগে
বনশ্রীতে মাদরাসা শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি মাদরাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
আব্দুল্লাহর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার অনুপনগর গ্রামে। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে গত রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এ সময় বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডের আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে গামছা পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরের কোথাও কোনো জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার পায়ুপথে অস্বাভাবিক ফাঁকা পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
১৫ দিন আগে
ভাটারায় গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কর্মচারী নিহত
রাজধানীর ভাটারার বারিধারা এলাকায় একটি গাড়ির গ্যারেজে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রিয়াজ (২৮) নামে এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গ্যারেজের মালিক জাকির হোসেন জানান, সকালে গ্যারেজ খোলার পর লাইট জ্বালাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে রিয়াজ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
১৫ দিন আগে