বরিশাল
ধর্ষণ মামলায় বরিশাল জেলা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি গ্রেপ্তার
ধর্ষণ অভিযোগের মামলায় বরিশাল জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নয়ন সরকার জয়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে বরিশাল নগরীর কাউনিয়া প্রথম গলির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম।
জয় বরগুনা জেলার বাসিন্দা নারায়ণ সরকারের ছেলে ও বরিশাল জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। তিনি বরিশাল নগরীর কাউনিয়া প্রথম গলিতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং বিএম কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।
ভুক্তভোগী তরুণী মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, জয়ের সঙ্গে ২০২৪ সালে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয় তার। এরপর জয় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে। গত ছয় মাস ধরে বিয়ের কথা বললে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে এখন লাপাত্তা রয়েছে সে। তার মা আমাকে বউ হিসেবে মেনে নেবে না বলে জানায় সে। এ ঘটনার বিচার পেতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তরুণীর অভিযোগ, গ্রেপ্তারের আগে জয় পলাতক অবস্থায় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।
১ দিন আগে
দুই মাস ‘বেতন বন্ধ’, বরিশালে ফরচুন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ
দুই মাসের বকেয়া বেতন, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার (ওভারটাইম) মজুরি পরিশোধ, কাজের নিরাপত্তাসহ আট দফা দাবিতে বরিশালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ফরচুন সুজ লিমিটেডের শ্রমিকরা।
আন্দোলনে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত নতুন বাজার সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের সড়কের একপাশে সরিয়ে দিলে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে নতুন বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকশ শ্রমিক। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টায়ও সড়কের একপাশে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলছিল।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। নিয়মিত ওভারটাইম করানো হলেও সেই কাজের মজুরি পরিশোধ করা হচ্ছে না। শ্রম আইন অনুযায়ী, ওভারটাইমের জন্য মূল মজুরির দ্বিগুণ পাওয়ার কথা থাকলেও তারা এক টাকাও পাননি বলে দাবি করেন।
শ্রমিকরা বলেন, বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানালে উল্টো মানসিক হয়রানি ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়। এমনকি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা। তাই বকেয়া বেতন-ভাতাসহ আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
বরিশাল জেলা শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। দ্রুত তাদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমের মজুরি এবং অন্যান্য দাবি মেনে নিয়ে সংকটের সমাধান করতে হবে। নয়তো আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তবে এ বিষয়ে ফরচুন সুজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ থাকায় নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগর পুলিশ সড়কের এক পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করলেও পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। ধীরগতিতে যান চলাচল করায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে বিক্ষোভকারীদের সড়কের একপাশে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।’
২ দিন আগে
পটুয়াখালীতে গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের অভিযোগে জামায়াত নেতাকে মারধর
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূর সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত প্রেমের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হয়েছেন ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদা।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ফারুক হোসেন দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি।
স্থানীয়রা জানান, এক গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে স্থানীয় কয়েকজন ফারুক হোসেনকে আটক করে মারধর করেন। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির ৪ থেকে ৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার একটি বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হচ্ছে যে এক নারীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ আমাকে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছিল। পরে আমি সরে গেছি। আমাকে কোথাও হাতেনাতে ধরতে পারেনি। এরপরও তারা আমার বিরুদ্ধে গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মারধর করেছে।’
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম দাবি করেন, ফারুক অনেক দিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিরক্ত করতেন। বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখাতেন এবং তিনি আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। আশপাশের লোকজন আগে থেকেই বিষয়টি আমাদের জানিয়েছিল, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনি। পরে ফারুকের ছেলে আমার ছেলেকে কিছু ছবি দেখায়, এরপর আমরা বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও তিনি আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মারামারির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
২ দিন আগে
পটুয়াখালীতে বিধবাকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
পটুয়াখালীতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মো. শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং তার সন্তানকে দেখাশোনার আশ্বাস দেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৪ মার্চ শহিদুল ইসলাম ভুক্তভোগীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তার বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, বারবার শারীরিক মিলনের একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হলে তিনি জ্ঞান হারান। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন যে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনও থানায় আসেনি। সেটি পেলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
৩ দিন আগে
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি তথ্যমন্ত্রীর
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরে সেখানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী।
এ সময় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক।
এ সময় তিনি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পরে অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টুসহ অন্যরা।
৪ দিন আগে
বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
বরিশালের নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহিনের নিয়োগের প্রতিবাদ ও অপসারণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের নির্ধারিত কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ও শাস্তিপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা তানরা মেনে নেবে না। পরে তারা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, আজ ডা. মনিরুজ্জামানের যোগদানের শেষ দিন হলেও তিনি অফিসে যোগ দেননি। এরপর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার নির্ধারিত কক্ষের দরজায় প্রতীকীভাবে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, তাকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, বিতর্কমুক্ত ও সৎ কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।’
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার বলেন, ‘বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে জনস্বার্থে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে। আমাদের এই আন্দোলন জনস্বার্থেই।’
শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুম করেছেন। এমন জুলুমবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে বরিশালের মাটিতে দেখতে চাই না।’
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ডা. মনিরুজ্জামানের অপসারণ এবং একজন যোগ্য ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
৬ দিন আগে
বরিশালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিফিনের রুটিতে মিলল ধারালো ব্লেড
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি টিফিনের রুটির ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড পাওয়া গেছে। তবে রুটি খাওয়ার আগেই এক শিক্ষার্থী ব্লেডটি দেখতে পাওয়ায় তার কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
বুধবার (২২ জুলাই) পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রী টিফিন খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুন নাহারকে জানানো হয়। রুটি খাওয়ার আগেই ব্লেডটি দেখতে পাওয়ায় তার কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুন নাহার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মৃধাকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য টিফিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রতিনিধি আরিফ হোসেনের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম মোবাইল ফোনে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ দিন আগে
পটুয়াখালীতে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে তাবিজ ও চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে (২৭) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে হওয়া মামলায় মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহাবুব মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঠালতলী বাজারে মাহাবুবের একটি ফার্মেসি রয়েছে। ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি তিনি নিজেকে ফকির (কবিরাজ) পরিচয় দিয়ে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও তাবিজ-কবচ দেন। সেই সুবাদে ভুক্তভোগী গৃহবধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং নিয়মিত ফোনে কথা হতো। ভুক্তভোগী তার ভাইয়ের মেয়ের পড়াশোনায় উন্নতির জন্য মাহাবুবের কাছে তদবির চেয়েছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মাহাবুব মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগী গৃহবধূকে তদবির নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে যেতে বলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে মাহাবুবের উত্তর চৈতার বাড়িতে যান ওই নারী। সেখানে মাহাবুব কৌশলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ঘরে অন্য কাউকে না দেখে গৃহবধূ চলে যেতে চাইলে মাহাবুব তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। সেসময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে গৃহবধূর হিজাব ও বোরকা খুলে ফেলা হয় এবং তাকে খাটে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি টের পেয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনার দিন অভিযুক্ত তার স্ত্রী ও সন্তানদের কৌশলে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়িতে একা ছিলেন।
এ ঘটনায় গতকাল (শুক্রবার) ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৪ দিন আগে
পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ২০১৫ সালের একটি হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পিরোজপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মজিবুর রহমান এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি পলাতক ছিলেন। একই মামলায় অন্য আরেক আসামি মো. ইউসুফ আকনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলে— মঠবাড়িয়া উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের মো. ইউনুস আকনের ছেলে মো. কামরুল আকন ও চরকখালী গ্রামের মো. টুকু মিয়া হাওলাদারের ছেলে মো. সোহাগ হাওলাদার।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৭ মে বিকেলে পূর্বশত্রুতার জেরে কামরুল, সোহাগ, ইউসুফসহ আরও ২-৩ জন মঠবাড়িয়া পৌর এলাকার মো. হালিম কাজীর ছেলে রাকিবুলকে বেতমোর বাজারে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ওই দিন মঠবাড়িয়া থানায় কামরুল আকন, সোহাগ হাওলাদার ও ইউসুফ আকনসহ আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করে। এরপর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত কামরুল আকন ও সোহাগ হাওলাদারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল কালাম আকন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল কবির বাদল।
১৭ দিন আগে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আজও বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে ৩০ মিনিটের জন্য বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরে সড়ক ছেড়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবোর্ডের সামনে অবস্থান নেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঠিক মুল্যায়ন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবি নিয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠ ছাড়বেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে আজ দুপুরের পর শিক্ষাবোর্ডের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড গিয়ে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে শুরু হয় তীব্র জানজট ।
সড়ক অবরোধের কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হলে তারা অবরোধ ভেঙে শিক্ষাবোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় শিক্ষারোর্ড এলাকা পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ঘরে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এক দফা দাবিতে অনড় থাকায় আন্দোলনস্থল ত্যাগ করননি তারা।
শিক্ষার্থী আন্দোলন চললেও বরিশাল-ঢাকাসহ সকল রুটের বাস চলাচল করছে। বিকেল ৪টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল।
১৭ দিন আগে