বরিশাল
ববিতে পদোন্নতির দাবিতে শিক্ষকদের কর্মবিরতি, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
পদোন্নতির দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রেখে কর্মবিরতিতে নেমেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর আগে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় ১০২ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ২৪ জন শিক্ষকের পদোন্নতির সুপারিশ দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে এক শিক্ষক আমরণ অনশনে বসেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকরা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দ্রুত দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
একাধিক শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট অনুমোদিত বিধিবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে যা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট সব বিধি যথাযথ কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ চ্যান্সেলরের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর করতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অ্যাকাডেমিক কাঠামো ও কার্যক্রম আইনি অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
তাদের মতে, চ্যান্সেলরের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি না থাকলে শিক্ষাক্রম নির্ধারণ, পরীক্ষা গ্রহণ এবং ডিগ্রি প্রদানও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
শিক্ষকরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের মধ্যে অধিকাংশ বিভাগেই একাধিক ব্যাচে পাঠদান চলছে, অথচ অনেক বিভাগে মাত্র তিন থেকে চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। একইসঙ্গে ৫১টি শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম চাপের মধ্যে রয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষকদের ভাতা বন্ধ থাকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, যে নিয়মে শিক্ষকেরা পদোন্নতি চাচ্ছেন, তাতে ইউজিসির আপত্তি রয়েছে। ইউজিসি জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন নীতিমালার আওতায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে হবে। ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত পত্র দিয়েছে ইউজিসি।
তিনি আরও বলেন, ‘অভিন্ন নীতিমালা দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোজন করেছে। যে তিনটি করেনি, তার মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরাও অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ করছি। এটা হয়ে গেলে তারা যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি পাবেন। তাছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে আমার মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ের রেজুলেশন হাতে পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব।’
তাই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়, এমন কাজ না করে সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান উপাচার্য।
১ দিন আগে
ভোলায় মেঘনায় কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল জব্দ
ভোলার দৌলতখানে মেঘনা নদীতে আনুমানিক ৪ হাজার লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার চোকিঘাট-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে এই জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন জানান, গতকাল (সোমবার) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এ সময় একটি ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৪ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারে থাকা লোকজন আগেই পালিয়ে যান। ফলে কাউকে আটক করা যায়নি।
পরে দৌলতখান উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাওন মজুমদার সুমনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে উদ্ধার করা অবৈধ তেল বাজারদরে বিক্রি করা হয়। বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
১ দিন আগে
ভোলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ‘মারা যাওয়ার ভান করে’ বাঁচল ছেলে
ভোলার সদর উপজেলায় ঘরে ঢুকে ছেলের সামনে দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী নাসিমা বেগমকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার ৮ বছর বয়সী ছেলে আবির গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ মো. জিহাদ নামে এক যুবককে আটক করেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগর রাতে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আজ (শনিবার) সকালে নিহত নাসিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সরদার বাড়ির দক্ষিণ পাশে বসবাস করতেন দুবাই প্রবাসী আল-আমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমা বেগম। গতকাল (শুক্রবার) রাতে খাওয়া শেষে ছেলে আবিরকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর নাসিমা ও তার ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। একপর্যায়ে নাসিমার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা। পরে নাসিমার ছেলে আবিরের চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে খবর দেন।
আবিরের দাবি, রাতের আঁধারে জিহাদ নামের এক যুবক ঘরে প্রবেশ করে তার মাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় তাকেও আঘাত করেন তিনি। পরে সে মারা যাওয়ার ভান করলে জিহাদ চলে যায়। এরপর সে ঘরের বাইরে এসে চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে আসে।
নিহত নাসিমার চাচাশ্বশুর নাজিম উদ্দীন বলেন, ছেলেটি গুরুতর আহত অবস্থায় ছুটে এসে তার মাকে হত্যার বিষয়টি আমাদের জানায়। পরে আমরা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পাই। এরপর ছেলেটিকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহীম জানান, আহত শিশুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. জিহাদকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে।
৪ দিন আগে
জুলাই সনদ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য দেখি না: স্পিকার
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে ভোলা সার্কিট হাউস থেকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ দেশবাসীর সম্পদ। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল, যাদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব আছে, তারা সকলে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। আমি মনে করি, বিএনপিও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বদ্বপরিকর। শুধু যেসব বিষয়ে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে, সে বিষয়গুলো ছাড়া বাকিগুলো বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বড় ধরনের তেমন কোনো পার্থক্য দেখি না। সরকার যাতে শান্তিতে থাকতে না পারে, এইজন্য সংসদের বাইরে কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি দেশের মানুষকে প্রভাতিত করার চেষ্টা করছে। তবে সকলে মিলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্বাচনে নামে প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। অনেক দিন পর বাংলাদেশের জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেছে। আশা করব, আগামী দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তাহলে ভালো লোকেরা নির্বাচিত হয়ে আসবেন। একজন ভালো লোক উপরে থাকলে সমাজ অটোমেটিক ঠিক হয়ে যায়।
এ সময় ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে তিনি লালমোহন উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।
৬ দিন আগে
পটুয়াখালীতে লঞ্চে শিশুকে ফেলে রেখে ‘বাবা’ উধাও
পটুয়াখালীর বাউফলে ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ বন্ধন-৫-এ একটি মেয়ে শিশুকে রেখে এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। শিশুটির বয়স ৬ থেকে ৮ মাস বলে ধারণার কথা জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
লঞ্চের একাধিক যাত্রী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেল ৪টার দিকে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাটে নোঙর করলে এক ব্যক্তি ওই শিশুটিকে নিয়ে লঞ্চে ওঠেন। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দিয়ে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে বিছানা বিছিয়ে বসেন। তবে কিছু সময় পর শিশুটিকে রেখে লঞ্চ থেকে নেমে যান তিনি।
মো. সোহেল নামে এক যাত্রী বলেন, ওই ব্যক্তি ধুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে উঠেন। লঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটির মা আসবে বলে তিনি লঞ্চ থেকে নেমে যান। লঞ্চ থেকে নামার সময় পাশের সিটের যাত্রীদের বাচ্চার প্রতি খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে যান।
তবে লঞ্চটি ধুলিয়া ঘাট ত্যাগ করার পরও শিশুটির মা-বাবা কিংবা কোনো স্বজন লঞ্চে আসেননি। একপর্যায়ে বাচ্চাটি চিৎকার করতে থাকে। পরে যাত্রীরা বিষয়টি লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটিকে কয়েকজন নারী যাত্রীর হেফাজতে রাখেন।
এ বিষয়ে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল বলেন, কী কারণে শিশুটিকে রেখে লোকটি উধাও হয়ে গেছে তা বলতে পারছি না। শিশুটি কয়েকজন নারী যাত্রীর কাছে রয়েছে। খোঁজ-খবর নিয়ে শিশুটির পরিবারের সন্ধান করার চেষ্টা চলছে।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জেনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৬ দিন আগে
হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে: বিসিসি প্রশাসক
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রশাসক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন। তিনি বলেছেন, বরিশালে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) নগরীর মল্লিকা কিন্ডারগার্টেনে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিসিসি প্রশাসক বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকা রয়েছে। বর্তমান সরকার হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
দেশের চারটি সিটি করপোরেশনে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বরিশাল ও নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। আগামী ১০ মে পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় কমিউনিটি পর্যায়ে ৩৩ হাজার ৬০০ জন এবং প্রি-স্কুল পর্যায়ে ৮ হাজার ৬০০ জনসহ মোট ৪২ হাজার ২১০ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০টি টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করবে।
টিকাদান অনুষ্ঠানে বরিশালের সিভিল সার্জন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০ দিন আগে
বরিশালে নতুন কমিটির দাবিতে ছাত্রদল কর্মীদের সড়ক অবরোধ
বরিশালে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মহানগর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এ সময় প্রকৃত ছাত্রদের নিয়ে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল সদর হাসপাতালের সামনে থেকে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
বিক্ষোভকারীরা জানান, বরিশাল ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৮/৯ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন করে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। বহুদিন ধরে নতুন কমিটির দাবি উঠলেও তা পূরণ হয়নি। সেই দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলটি জেলখানা মোড়, বিবির পুকুরপাড় হয়ে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় হাতেম আলী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবির বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে ছাত্রদলের জেলা ও মহানগরে কোনো কমিটি নেই। এখন টের পাচ্ছি, যাদের ছাত্রত্ব নেই, তারা নতুন করে কমিটিতে ঢোকার পায়তারা করছে। আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের পাশে পাইনি, তারা যেন এই কমিটিতে ঠাঁই না পায়। এজন্যই আমাদের এই বিক্ষোভ।
বিক্ষোভে উপস্থিত অন্যান্য নেতা-কর্মীরা বলেন, আমরা নতুন কমিটি চাইছি। আমাদের যাদের ছাত্রত্ব আছে, তারাই যেন এই কমিটিতে থাকে। ছাত্রত্ব নেই এমন কেউ যেন এই কমিটিতে না থাকে, এই দাবি জানাচ্ছি।
প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধের পর বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা।
১৩ দিন আগে
বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে বিভাগের ৬ জেলায় মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হলো।
মৃতরা হলো ৫ মাস বয়সী ইমাম, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের পান্না খানের ছেলে, এবং ৯ মাস বয়সী আবু সালেহ, বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা আবু বক্করের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা জানায়, সর্বশেষ মৃত দুই শিশু, ইমাম গত ৬ এপ্রিল এবং আবু সালেহ ৭ এপ্রিল হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে মোট তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মুশিউল মুনির জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ৯১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ২৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত এই হাসপাতালে মোট ৩১০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বিভাগের ছয়টি জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এসব হাসপাতাল ৬২ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৮০ জনের মধ্যে হাম উপসর্গ দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ৮২৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫২ জনের হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।
১৩ দিন আগে
পিরোজপুরে কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এ রায় দেন।
আসামিরা হলেন: নাজিরপুর উপজেলা চৌঠাই মহল এলাকার মিলন শেখ (২৮), পিরোজপুর সদর উপজেলার অলি গাজী (২৪) এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া এলাকার সাহেব গাজীর পুত্র মারুফ গাজী (২৫) ।
মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি অলি গাজী ও মারুফ গাজীকে কিশোরীকে অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১৩ বছরের কিশোরী ওই ভুক্তভোগী পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে কদমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নাজিরপুরের চৌঠাই মহল এলাকায় মামাবাড়ি থেকে পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে অলি গাজী ও মারুফ গাজী তাকে অপহরণ করে কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তারা ভুক্তভোগীকে খুলনায় মিলন শেখের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর মিলন বিয়ের নাটক সাজিয়ে কিশোরীটিকে মুসলিম পরিচয়ে গোপালগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কিশোরীটিকে ২০ থেকে ২২ দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে একপর্যায়ে কিশোরী সুযোগ পেয়ে পাশের বাসা থেকে তার বাবাকে ফোন করলে পুলিশ নিয়ে তার বাবা সেখানে উপস্থিত হয়। পরে তার বাবা বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার দাবি, তার মেয়েকে অপহরণ করে অলি গাজী ও মারুফ গাজী খুলনায় নিয়ে মিলন শেখের হাতে তুলে দেন। মিলন শেখ বিয়ের নাটক সাজিয়ে তার মেয়েকে আটকে রেখেছিলেন। মিলন শেখসহ বাকি ২ আসামির উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শাজাহান সরদার বলেন, ‘কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার রায় পেয়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি।’
২১ দিন আগে
ঝালকাঠিতে জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝালকাঠিতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল ও পেট্রোল পাচ্ছেন না। যার কারণে ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র, পাওয়ার পাম্প, পাওয়ার টিলার, কীটনাশক দেওয়ার মেশিন, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র প্রভৃতি চালাতে পারছেন না।
অনেকে আবার দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে ব্যবহার করলেও পণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার ভয়ে কেউ কেউ চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন।
প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর ঝালকাঠি। এই জেলার বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষি ও ব্যবসা। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এ জেলাকে এক সময় দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষিনির্ভর এ জেলায় চাহিদা অনুয়ায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এ বছর ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আউশ আবাদ শুরু হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টরে এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকরা ইতোমধ্যে জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। ফলে খেত তৈরি করতে তাদের পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। খেতে পানি দিতে সেচপাম্প ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রয়োজন হচ্ছে ডিজেল। আগে পেট্রোল পাম্প, ডিলার ও খুচরা দোকান থেকে লিটারপ্রতি ১০০ টাকা দামে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যেত। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে জনপ্রতি ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল দিচ্ছেন না বিক্রেতারা। এতে চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান এলাকার কৃষক আল আমিন বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট চলছে। আমরা দোকানে গেলে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। আমাদের বেশি প্রয়োজন ডিজেল। এখন ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল পাই না। অনেক বিক্রেতার কাছে পেলেও তারা লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছে। এতে পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
নলছিটির মালিপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, জমিতে সেচের অভাবে মাটি ফেটে যাচ্ছে। কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। এখান থেকে পেট্রোল পাম্প অনেক দূরে। তাই ডিলার ও দোকানিরা বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। জ্বালানি তেলের দাম না কমলে ধান ও চালের দামও বেড়ে যাবে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। হয়তো খুচরা বাজারে একটু প্রভাব পড়েছে, তারপরও যদি কোনো কৃষক ডিজেলের অভাবে চাষাবাদ করতে না পারেন, তাদের সহযোগিতা করা হবে। কেউ বেশি দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক বাঁচলে আমাদের দেশ বাঁচবে, তাই কৃষকের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের জন্য প্রতিদিন শহরের পেট্রোল পাম্প এবং ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন যানবাহন চালকরা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না বিক্রেতারা। সুযোগ বুঝে কেউ কেউ আবার তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
ক্রেতা ও পাম্প মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, একশ্রেণির অসাধু ডিলার বাড়তি লাভের আশায় জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছেন। এ কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ডিপো থেকে ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল এবং আড়াই লাখ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়।
২২ দিন আগে