বরিশাল
পিরোজপুরে কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন
পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান এ রায় দেন।
আসামিরা হলেন: নাজিরপুর উপজেলা চৌঠাই মহল এলাকার মিলন শেখ (২৮), পিরোজপুর সদর উপজেলার অলি গাজী (২৪) এবং নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া এলাকার সাহেব গাজীর পুত্র মারুফ গাজী (২৫) ।
মামলার প্রধান আসামি মিলন শেখকে ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য দুই আসামি অলি গাজী ও মারুফ গাজীকে কিশোরীকে অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
১৩ বছরের কিশোরী ওই ভুক্তভোগী পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কদমতলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সে কদমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নাজিরপুরের চৌঠাই মহল এলাকায় মামাবাড়ি থেকে পিরোজপুর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সুযোগ বুঝে অলি গাজী ও মারুফ গাজী তাকে অপহরণ করে কৃষ্ণনগর এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তারা ভুক্তভোগীকে খুলনায় মিলন শেখের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর মিলন বিয়ের নাটক সাজিয়ে কিশোরীটিকে মুসলিম পরিচয়ে গোপালগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কিশোরীটিকে ২০ থেকে ২২ দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে একপর্যায়ে কিশোরী সুযোগ পেয়ে পাশের বাসা থেকে তার বাবাকে ফোন করলে পুলিশ নিয়ে তার বাবা সেখানে উপস্থিত হয়। পরে তার বাবা বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় একটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার দাবি, তার মেয়েকে অপহরণ করে অলি গাজী ও মারুফ গাজী খুলনায় নিয়ে মিলন শেখের হাতে তুলে দেন। মিলন শেখ বিয়ের নাটক সাজিয়ে তার মেয়েকে আটকে রেখেছিলেন। মিলন শেখসহ বাকি ২ আসামির উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট শাজাহান সরদার বলেন, ‘কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার রায় পেয়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি।’
১ দিন আগে
ঝালকাঠিতে জ্বালানি সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝালকাঠিতে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল ও পেট্রোল পাচ্ছেন না। যার কারণে ট্রাক্টর, সেচযন্ত্র, পাওয়ার পাম্প, পাওয়ার টিলার, কীটনাশক দেওয়ার মেশিন, ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র প্রভৃতি চালাতে পারছেন না।
অনেকে আবার দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনে ব্যবহার করলেও পণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার ভয়ে কেউ কেউ চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন।
প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর ঝালকাঠি। এই জেলার বেশিরভাগ মানুষের পেশা কৃষি ও ব্যবসা। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এ জেলাকে এক সময় দ্বিতীয় কলকাতা বলা হতো। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষিনির্ভর এ জেলায় চাহিদা অনুয়ায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, এ বছর ১৩ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আউশ আবাদ শুরু হয়েছে ১০ হাজার ৪৫ হেক্টরে এবং গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদ করা হয়েছে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। কৃষকরা ইতোমধ্যে জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। ফলে খেত তৈরি করতে তাদের পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। খেতে পানি দিতে সেচপাম্প ব্যবহার করতে হয়। এতে প্রয়োজন হচ্ছে ডিজেল। আগে পেট্রোল পাম্প, ডিলার ও খুচরা দোকান থেকে লিটারপ্রতি ১০০ টাকা দামে পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যেত। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে জনপ্রতি ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল দিচ্ছেন না বিক্রেতারা। এতে চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান এলাকার কৃষক আল আমিন বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকট চলছে। আমরা দোকানে গেলে পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। আমাদের বেশি প্রয়োজন ডিজেল। এখন ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল পাই না। অনেক বিক্রেতার কাছে পেলেও তারা লিটারপ্রতি ১০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছে। এতে পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
নলছিটির মালিপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী বলেন, জমিতে সেচের অভাবে মাটি ফেটে যাচ্ছে। কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। এখান থেকে পেট্রোল পাম্প অনেক দূরে। তাই ডিলার ও দোকানিরা বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। জ্বালানি তেলের দাম না কমলে ধান ও চালের দামও বেড়ে যাবে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। হয়তো খুচরা বাজারে একটু প্রভাব পড়েছে, তারপরও যদি কোনো কৃষক ডিজেলের অভাবে চাষাবাদ করতে না পারেন, তাদের সহযোগিতা করা হবে। কেউ বেশি দামে তেল বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষক বাঁচলে আমাদের দেশ বাঁচবে, তাই কৃষকের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের জন্য প্রতিদিন শহরের পেট্রোল পাম্প এবং ডিলারদের দোকানে ভিড় করছেন যানবাহন চালকরা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না বিক্রেতারা। সুযোগ বুঝে কেউ কেউ আবার তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
ক্রেতা ও পাম্প মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেছেন, একশ্রেণির অসাধু ডিলার বাড়তি লাভের আশায় জ্বালানি তেল মজুদ করে রেখেছেন। এ কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ডিপো থেকে ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের ৬টি জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ লিটার ডিজেল এবং আড়াই লাখ লিটার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়।
২ দিন আগে
বরিশালে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার
বরিশালে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি চরম আকার ধারণ করেছে। নগরী ও জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় পরিবহন খাতসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে নগরীর নতুন বাজার এলাকায় তালুকদার ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ৩০০ টাকার অকটেন দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি মোটরসাইকেলে। আর পেট্রোল নেই বলে সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকদের দাবি, তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তেল বরাদ্দ পাচ্ছে না। ফলে অনেক স্টেশন দিনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তেল বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট বেশি বলে জানা গেছে।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদা অনেক বেশি, কিন্তু সরবরাহ কম তাই আগেভাগেই তেল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এতে করে গাড়িচালকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
পরিবহন চালকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে নিয়মিত ট্রিপ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং ভাড়া বাড়ানোর চাপও তৈরি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা এবং চাহিদা বৃদ্ধিই এই সংকটের প্রধান কারণ। তবে অনেকে মনে করছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন পাইকারি তেল ব্যবসায়ীরা।
রাব্বি ফিলিং স্টেশনের মালিক সুমন খান বলেন, আমাদের পাম্পে প্রতিদিন ১৬ হাজার লিটার ডিজেলের দরকার, সেখানে তিন দিন পরপর ১০ হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পেট্রোল-অকটেনের অবস্থা একই; চাহিদার অর্ধেকেরও কম তেল দিচ্ছে ডিপোগুলো।
৫ দিন আগে
গেটের টাকা নিয়ে সংঘর্ষে ভেস্তে গেল বিয়ের আনন্দ, আহত ৪
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়েবাড়িতে গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আনন্দঘন পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের মল্লিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গেটের টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বরপক্ষের রাসেল মল্লিক (২৫), শফিক হাওলাদার (২৬), শাকিল হোসেন (১৬) এবং কনেপক্ষের জামাল হাওলাদার (৪০) আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাউফলে পাঠানো হয়েছে।
বরপক্ষের দাবি, সংঘর্ষে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক মানুষের জন্য প্রস্তুত খাবার নষ্ট হয়ে যায়, ভাঙচুর করা হয় আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।
কনের বাবা সাগর মিয়া বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে বরপক্ষের সদস্যরা দাবি করেন, তারা হামলার শিকার হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষই বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
দশমিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমাম মেহেদী বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ দিন আগে
লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই ট্রলার ডুবি, পটুয়াখালীতে নিহত ২
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ভোরে উপজেলার লোহালিয়া নদীর বামনিকাঠী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রেজাউল করীম (২৮) ও নাছির ফকির (৪২)। রেজাউল রাঙাবালী উপজেলার চরলাটসাহেব এলাকার ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে এবং নাছির একই উপজেলার চরবিষ্টন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে। তারা দুজনই পেশায় শ্রমিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন তরমুজ চাষি রাঙাবালী থেকে তরমুজ বোঝাই একটি ট্রলার নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। একই সময়ে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি আওলাদ-৭ নামের একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ ভোর প্রায় ৪টার দিকে বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রলারটি মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায়।
ঘটনার সময় ট্রলারের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা রেজাউল ও নাছির বের হতে না পেরে মারা যান। তবে ট্রলারের অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
স্থানীয়দের ধারণা, নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চচালক ট্রলারটি দেখতে না পাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
কালাইয়া বন্দর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
৮ দিন আগে
ভোলায় পরিত্যক্ত পুকুর থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার
ভোলায় একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ভোলা সদর উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের ডাকাতিয়া চৌমুহনী এলাকার বিশ্বরোডের পাশে পরিত্যক্ত পুকুর থেকে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে আলী নগর চৌমুহনী এলাকার একটি মসজিদের পুকুরে মাছ ধরার জন্য সেচ দেওয়া হচ্ছিল। পানি কমে আসলে এলাকার জসিম নামের এক ব্যক্তি হাত দিয়ে মাছ ধরতে ওই পুকুরে নামেন। এ সময় মাছ খুঁজতে গিয়ে একটি শপিং ব্যাগ তার হাতে উঠে আসে। পরে ওই শপিং ব্যাগের ভেতরে হাত দিতেই তিনি বুঝতে পারেন এতে পিস্তল রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পিস্তলটি উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, জসিম একজন দিনমজুর। খেতখামারে কাজ করে তার সংসার চলে। সেই সঙ্গে মাছ শিকারের কাজেও তিনি পারদর্শী।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন জানান, তারা খবর পেয়ে আলী নগর চৌমুহনী এলাকায় যান। এ সময় তাদের উপস্থিতিতে মাছ ধরার জন্য সেচ করা জসিম নামের এক ব্যক্তির পুকুর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
তিনি জানান, অস্ত্রটির গায়ে জাপানের তৈরি লেখা রয়েছে। তবে কে বা কারা অস্ত্রটি ফেলে গেছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে।
১০ দিন আগে
বরিশালে পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা, জড়িত অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে সালিশি বৈঠকে একজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাহাঙ্গীর হাওলাদার নামে এক বিএনপি নেতা দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন।
রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চরহোগলা গ্রামে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতের নাম খোরশেদ সিকদার (৬৫)। পুলিশের সামনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হলেও সংঘর্ষ থামাতে এবং খোরশেদ সিকদারকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটির সদস্যরা।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, খোরশেদ সিকদারকে কয়েকজন মিলে বেদম মারধর করছেন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনেই ঘটছে এ ঘটনা। পুলিশ সদস্যরা হামলা থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। চেয়ার আর লাঠির উপর্যুপরি আঘাতে একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন খোরশেদ সিকদার। পরে তাকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মেহেন্দিগঞ্জ পৌর বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ রিয়াজ শাহিন লিটন ও সদস্যসচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী দিনু মিয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল (রবিবার) রাতেই বিষয়টি জানানো হয়।
মেহেন্দীগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বশির আহম্মেদ জানান, ঘর নির্মাণের পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রবিবার বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশ বসে। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যাক্তির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিল।
১০ দিন আগে
লঞ্চে ‘নেশাদ্রব্য খাইয়ে’ ছিনতাই, ভোলায় যাত্রীর মৃত্যু
স্ত্রীর সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঢাকা থেকে ভোলায় শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে লঞ্চে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫) নামে এক যাত্রীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (২১ মার্চ) সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোস্তাফিজুর কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তিনি ভোলা সদর উপজেলার ঘুইংগার হাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন বেগম জানান, শুক্রবার দুপুরে ঢাকা থেকে ভোলার উদ্দেশে রওনা হন মোস্তাফিজুর। লঞ্চে যাত্রাপথে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে তাকে পানি পান করতে দেন। সেই পানি পান করার পরপরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সময় তার কাছে থাকা টাকাপয়সা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. শামসুল আলম জানান, শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় মোস্তাফিজুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। তবে শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কী ধরনের বিষক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক সমীরণ মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী-আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১২ দিন আগে
ঝালকাঠিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে রিকশা-ভ্যানগাড়ি ঈদ উপহার
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়ায় দরিদ্র ও বেকার মানুষের মাঝে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও রিকশা ও ভ্যানগাড়ি ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. আরিফ হোসেন রিকশা, ভ্যানগাড়িসহ অন্যান্য ঈদ উপহার বিতরণ করেন। এ সময় প্রায় তিন হাজার দরিদ্র নারী-পুরুষের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গিসহ বিভিন্ন ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেইসঙ্গে চারজন দরিদ্রকে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব উপহার বিতরণ করেন মো. আরিফ হোসেন।
তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রিকশা ও ভ্যানগাড়ি পেয়ে উপকারভোগীরা এখন নিজ উদ্যোগে আয়-রোজগারের পথ তৈরি করতে পারবেন।
উপকারভোরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা কর্মসংস্থানের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এই সহায়তা তাদের নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানস্থলে সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ দিন আগে
চাঁদার দাবিতে গলাচিপার খেয়াঘাটে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাটে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপর হুমকি আর ভয়ভীতির কারণে ঘাটের ইজারাদার শিবু লাল দাস এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে গলাচিপা উপজেলার হরিদেবপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার স্পষ্ট সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ প্রশাসনের কাছে ভাইরাল হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একদল দুর্বৃত্ত ঘাটের ভাড়া উত্তোলন কাউন্টার-সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা চালায়। সে সময় তারা ক্যাশবাক্স খুলে টাকাপয়সা লুট করে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ঘাটের বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় খেয়াঘাটে অবস্থানরত কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর ও অস্ত্র দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। দুদিন আগে ওই ঘটনা ঘটলেও এখনও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঘাট এলাকায় চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ দাবি না মানায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি জানান, বিষয়টি প্রশাসনের সব মহলকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, বৈধ ইজারাদার শিবু দাসকে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাজ্জাদুল ইসলাম সজল বলেন, আমরা আবেদন পেলে ঘাট দখলের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মামলা নিতে প্রস্তুত রয়েছি।
এ বিষয়ে ইজারাদার শিবু লাল দাস বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ সুপারকেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হলে ঘাট মুক্ত হবে বলে তিনি জানান। শিবু বলেন, ‘তালেব আকনের নেতৃত্বে খেয়াঘাট দখল করা হয়েছে।’
১৩ দিন আগে