খুলনা
যশোরে নাতনিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় নাতনিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ইমামুল হোসেন (৫৫) নামে এক রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৮ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইমামুল হোসেন ঝিকরগাছা উপজেলার ফারাসতপুর গ্রামের মৃত রহিম সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, কিছুদিন আগে ইমামুল হোসেনের নাতনিকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ইভটিজিং করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে গতকাল (সোমবার) রাতে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে ইমামুল হোসেনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাহুল দেব ঘোষ জানান, ইমামুল হোসেনের পিঠের ডান পাশে গুরুতর আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, রবিউল, হোসাইন, রাকিব, মেহেদী ও রাব্বির নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
১০ ঘণ্টা আগে
কুষ্টিয়ায় দুই ট্রাকের সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৩
কুষ্টিয়ার মিরপুরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে সজীব (২৫) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হেলপার জিহাদসহ (১৫) আরও দুজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর ৪টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের উপজেলার ৯ মাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বরিশালের বাবুগঞ্জ থেকে আম সংগ্রহের উদ্দেশ্যে একটি ট্রাক নিয়ে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিলেন চালক সজীব ও হেলপার জিহাদ। তারা রাজশাহী যাওয়ার পথে ৯ মাইল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে তাদের ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক সজীব নিহত হন। এ সময় হেলপার জিহাদসহ তাদের আরও ২ জন সহযোগী আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত সজীবের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় ট্রাক দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২ ঘণ্টা আগে
কুষ্টিয়ায় অপহৃত তিন শিশুকে ঢাকা থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন থেকে অপহরণের শিকার তিন শিশুকে উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির খান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উদ্ধার হওয়া শিশুরা হচ্ছে মিরপুর উপজেলার উত্তর কাটদহ এলাকার সুমনের ছেলে সিফাত (১০) হাসেমের ছেলে রাজ (১০) এবং একই এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে মোমিন (৯)।
ওসি নাসির খান জানান, গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে পোড়াদহ রেলওয়ে জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সিফাত, মোমিন ও রাজ নামের তিন শিশুকে সুকৌশলে অপহরণ করা হয়। পরে অপহরণকারীরা মহানন্দা লোকাল ট্রেনে করে ওই তিন শিশুকে প্রথমে যশোরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাদের বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সিফাতের মা মোছা. শেফালী আক্তার গত ৬ জুন রাতে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের দুই সদস্য কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকার টুটুলের স্ত্রী ফতে আক্তার (৩৫) ও হৃদয়ের স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে (৪০) গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা তিন শিশুকে অপহরণ করার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) রাতে ঢাকায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
রেলওয়ে পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত শিশুদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবপাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তাররে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১ দিন আগে
ঝিনাইদহে পাঁচ মাসে ২১ মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ
ঝিনাইদহ জেলায় গত পাঁচ মাসে খুনসহ অন্তত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার মরদেহগুলোর মধ্যে ১৩টি হত্যাকাণ্ড বলে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকি ৮টি ঝুলন্ত বা রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা বলে পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত পাঁচ মাসে জেলায় যে ১৩টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের বুলবুলি, পাগলাকানাই এলাকার খুশি খাতুন, মহেশপুর উপজেলার ঘোষপুর গ্রামের জোহরা আক্তার এবং কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের শিশু তাবাসসুমকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলাজুড়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের পেছনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের চরম রূপ দেখা গেছে।
হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হরিশপুর গ্রামে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজানো নিয়ে বিরোধের জেরে দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। শৈলকুপার মাধবপুর গ্রামে সামাজিক বিরোধে নিহত হন মোহন শেখ। মহেশপুরের পলিয়ানপুর এলাকায় ইছামতি নদী থেকে আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদী ও রতিকান্ত জয়ধরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পরে হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এছাড়া হরিণাকুণ্ডুর কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে বিএনপি কর্মী আবুল কাশেম ও সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি নেতা তরু মুন্সিকে হত্যা করা হয়েছে। জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নীরবকে। এ ছাড়াও হরিণাকুণ্ডুর দৌলতপুর গ্রামে ভ্যানচালক জসিম এবং শৈলকুপার জয়ন্তিনগর গ্রামে কেসমত আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
১৩টি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ৮টি মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই ৮টি মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদই এসব আত্মহত্যার প্রধান কারণ বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঝিনাইদহের সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি সায়েদুল আলমের মতে, ঝিনাইদহে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে মূলত রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই কাজ করছে। বিশেষ করে শৈলকুপা, হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দলাদলি ও আধিপত্যের জেরে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়া পারিবারিক কলহ ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে বিভিন্ন হত্যার ঘটনা ঘটছে, যার শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।
এ বিষয়ে জেলার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন আজ (সোমবার) দুপুরে জানান, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। দুইটি রাজনৈতিক হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছেন, আবার অনেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
১ দিন আগে
যশোরে আওয়ামী লীগ নেতা টিংকু গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার চালিতাবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি উপজেলার কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন।
তিনি জানান, ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৪টি মামলা রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরে এসে তিনি নাশকতার পরিকল্পনা করছেন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যশোর আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।
১ দিন আগে
খানজাহান আলী মাজারের কুমির ফিরিয়ে আনার দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম
ঐতিহাসিক বাগেরহাট হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির একমাত্র কুমিরটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি সম্বলিত আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দিঘি থেকে কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেইসঙ্গে বাগেরহাটের বাসিন্দারা হতাশ ও মর্মাহত বলে দাবি করা হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, শত শত বছর ধরে এই মাজার, দিঘি ও কুমির বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্য সাংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ঐতিহাসিক এই নির্দশন ও কুমিরটি একনজর দেখার জন্য বাগেরহাটে আসেন। দিঘির এই কুমিরটি শুধুমাত্র একটি প্রাণী নয়, এটি বাগেরহাটের ঐতিহ্যের প্রতীক, মানুষের আবেগের অংশ এবং ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক।
এ সময় দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা নামে ৮ বছরের শিশু নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রশাসন চাইলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পারত। দর্শনার্থীদের জন্য সুরক্ষা বেষ্টনী, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত পাহারার মাধ্যমে কুমিরটিকে দিঘিতে সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় জনগণ, মাজার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। রাতে জরুরি বৈঠক করে ঐতিহাসিক দিঘির একমাত্র কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সম্মেলনে বলা হয়, ঐতিহাসিক এই দিঘির কুমিরটি বাগেরহাটের মানুষের সম্পদ। এটি আমাদের ইতিহাস,ঐতিহ্য ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনতিবিলম্বে কুমিরটিকে পুনরায় দিঘিতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কুমিরটিকে দিঘিতে ফিরিয়ে আনা না হলে নতুন করে কর্মসুচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয় এই সংবাদ সম্মেলনে।
২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিড়ি শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন বিড়ি শ্রমিকরা। এ সময় তারা কুষ্টিয়া-প্রাগপুর মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
রবিবার (৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ সেন্টারপাড়া এলাকায় স্থানীয় আকিজ বিড়ি কারখানার শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রতি হাজার বিড়ি তৈরিতে ৬১ টাকা হারে মজুরি পাচ্ছেন। বর্তমান বাজারদর ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা মজুরি ৮১ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। তবে, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাতে সম্মতি দেননি। এর প্রতিবাদে তারা কর্মবিরতি ভেঙে সড়ক অবরোধে নেমেছেন।
শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম ও টিপু বলেন, সকাল থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চললেও কোনো সমাধান না আসেনি। ফলে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ৬১ টাকার মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। যাত্রী ও পথচারীদের অনেকেই প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন। দুপুরের তীব্র রোদে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে মজুরি নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ায় শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তবে এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
২ দিন আগে
শৈলকুপায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় বিএনপির দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামে সামাজিক দল গঠন নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহত বিএনপি নেতা মতিয়ার রহমান সমর্থিত বেষ্টপুর গ্রামের মিরাজ জোয়ার্দার, আবু তালেব, উল্লাস, ইমরান, শাহিন মন্ডল, ফজলুর রহমান, সেলিম এবং একই গ্রামের কফিল মেম্বার সমর্থিত মো. লাল্টু বিশ্বাস, মো. আক্তার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম, মফিজুল আলী, মোশারফ হোসেন, আনিস মোল্লা, সাকিব, আব্দুল কাদের, মো. বিল্লাল হোসেন, অক্ষন, সাঞ্জু, আবেদ আলীর পরিচয় মিলেছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় গ্রামের বসিন্দা ইউনুস আলী জানান, সামাজিক দল গঠন নিয়ে মতিয়ার ও কফিল উদ্দীনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উভয় গ্রুপের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজন ভেড়ানো নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে গ্রামটিতে সামাজিক দল ভেঙে যায়।
স্থানীয়রা জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষ্ণুপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে বাকি খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আওয়ামী লীগ ঢুকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় অন্তত ১৫টি বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের মতিয়ার রহমান সমর্থিত আহতরা ঝিনাইদহে ও কফিল মেম্বরের লোকজন শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা বেশ গুরুতর বলে জানান শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাশেদ আল মামুন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সামাজিক বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। এখনও এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন দুপুরে জানান, এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি। আহতরা এখনো তাদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। বিকালে বা রাতে হয়তো মামলা হতে পারে।
৫ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন বিএনপি নেতা শরীফ
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩ দ্বারা জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এ সন্নিবেশিত ধারা ৮২ক (১) অনুযায়ী মো. শরীফুজ্জামানকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতদিন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নতুন নিয়োগের ফলে প্রশাসক হিসেবে শরীফুজ্জামান শরীফ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮২ক (৩) অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।
একই প্রজ্ঞাপনে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মো. সাইফুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগাদেশ জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
৫ দিন আগে
বেনাপোল সীমান্তে জড়ো করা ব্যক্তিদের সরিয়ে নিল বিএসএফ
বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে শূন্যরেখায় জড়ো করা ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী—বিএসএফ।
বুধবার (৩ জুন) সকালে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি।
এদিকে, শূন্যরেখা থেকে ১০-১২ জনকে সরিয়ে নেওয়ার পর সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক টহল কার্যক্রম চলছে।
গত রবিবার (৩১ মে) রাত থেকে সাদিপুর সীমান্ত এলাকায় পুশইনকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিন ধরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় ১০-১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশু আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিল।
বিজিবি জানায়, কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই বিএসএফ এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এরপর তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়ে। সে সময় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা।
আটকে থাকা নারী-পুরুষ ও শিশুরা বাংলাদেশি নাগরিক কিনা, এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে বিজিবি অস্বীকৃতি জানায়। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে তারা।
এর আগে, গত ৩১ মে রাতে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তের ভারতীয় অংশে সেবারও ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে রাখা হয়েছিল।
এরপর পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আজ বুধবার যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গত ৩১ মে থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পুশইনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমাদের বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
তিনি বলেন, ৩১ মে রাতে ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন এলাকার সীমান্ত লাইটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেটি দেখার পর আমাদের আশঙ্কা হয়, ভারত থেকে পুশইনের চেষ্টা হতে পারে। আমরা একপর্যায়ে দেখতে পাই, ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে তারা গাড়ি থেকে নামিয়েছে। এরপর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়। এ সময় মাইকিং ও বাঁশি বাজিয়ে বিএসএফকে সতর্ক করা হয়, যেন কোনোভাবে তারা পুশইনের চেষ্টা করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, তারপরও তারা কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০ থেকে ১২ জনকে বের করে দেয়। সেই ১০-১২ জন মানুষ শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে ১০০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অবস্থান করে। তাদের আমরা কোনোভাবেই আমাদের সীমান্তে আসতে দেইনি। আজ (বুধবার) সকাল থেকে তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। হয়তো বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করতে পারে।
৬ দিন আগে