খুলনা
চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় আলোচিত শিশু মরিয়ম খাতুনকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কঠোর পুলিশ প্রহরায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন ওরফে ফটিক জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর বড় মসজিদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের ১০ বছর বয়সী মেয়ে মরিয়ম খাতুনসহ কয়েকটি শিশু হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় আবুল হোসেন শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে মরিয়মকে পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যান এবং অন্য শিশুদের অপেক্ষা করতে বলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মরিয়ম ফিরে না আসায় অন্য শিশুরা গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ভুট্টাখেতে গিয়ে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আবুল হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
বিচার চলাকালে আসামি চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় তার ধর্ষণের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।
মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বুধবার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন হয় এবং আদালত ২০ জুলাই রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল।
৭ ঘণ্টা আগে
মাগুরায় শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
মাগুরায় রাজিয়া খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় হাসান শেখ (২৮) নামে এক আসামিকে আজ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টায় মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসান শেখ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের কুমার নদের তীরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড় থেকে রাজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা মিকিজ শেখ ২০২২ সালের ১৯ মার্চ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন।
মা ছবিরন নেছা জানান, রাজিয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে বাড়ির পাশের একটি জমিতে রসুন দেখতে বের হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পরে এই মামলার রায় হলো।
মামলার রায়ে সন্তুষ্ট হয়ে কিশোরীর মা এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান শেখ দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, রায়টি দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বাবলু জানান, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।
৮ ঘণ্টা আগে
ফুটবল খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য, পরে যুবকের ‘আত্মহত্যা’
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় রাতে ফুটবল খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফেরায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ার পর সকালে নিজ ঘর থেকে সুমন হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমন হোসেন একই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন। তার পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুইটি সন্তান রয়েছে।
জানা গেছে, সুমন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) দিবাগত রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দেখে ভোরে বাড়ি ফেরেন সুমন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে আজ (সোমবার) সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের স্ত্রী জানান, ভোর ৪টার দিকে ফুটবল খেলা দেখে বাড়িতে ফেরেন সুমন। তাকে শুধু বলেছিলাম, ‘এখন তোমার আসার সময় হলো!’ তখনই আবার বাড়ি থেকে মাঠের দিকে বের হয়ে যান তিনি। এরপর আমি মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখতে পাই ‘ঘরের ডাবের’ (ঘরের আড়া) সঙ্গে সুমনের দেহ ঝুলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আব্দুল জলিল বলেন, আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টা হবে। আমি ফজরের নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় হঠাৎ সুমনের বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে ভেতরে গিয়ে দেখি ঘরের ডাবের সঙ্গে সুমন ঝুলছে। তাৎক্ষণিক আমি ও আরেকজন মিলে সুমনকে নামাই। এরপর স্থানীয় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, সুমন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তবে কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জানতে পেরেছি, খেলা দেখে আসার পর স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছিল। আবার ওই যুবক আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকও ছিলেন।
১০ ঘণ্টা আগে
যশোরে ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২
যশোরের শার্শা উপজেলায় ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নাহিদ ইসলাম (৩৫) ও উষা রহমান (৩০) নামে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রুবেল হোসেন নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার গোগা ইউনিয়নের সালামের মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ ইসলাম যশোর সদর উপজেলার সুজলপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভান্ডারীর ছেলে এবং উষা রহমান বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামের জমাত আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ (সোমবার) সকাল ৯টার দিকে তিন যুবক মোটরসাইকেলে চড়ে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা রুদ্রপুর-গোগাগামী সড়কের সালামের মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টরের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাহিদ ও উষা। গুরুতর আহত রুবেল হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, স্থানীয় জনতা ট্রাক্টরটি জব্দ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওসি।
১০ ঘণ্টা আগে
লোকলজ্জায় চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল ছাড়লেন সেই সাপুড়িয়া
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সাপের কামড়ে আহত সাপুড়িয়া ইমরান হোসেন (৩৮) লোকলজ্জার কারণে চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
আহত ইমরান হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার হিড়িমাদিয়া গোরস্থান পাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমি এখন সুস্থ আছি। চিকিৎসকের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছি।’
তবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা না নিয়ে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলেন, ‘সাংবাদিকরা খুব জ্বালাচ্ছিল। রাত নেই দিন নেই, এসে সেই এক প্রশ্ন—ওঝা হয়ে সাপের কামড় খেয়ে কেন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কেউ কেউ আবার আমাকে ভণ্ড প্রমাণের চেষ্টাও করছেন। তাই সবকিছু বিবেচনায় হাসপাতাল থেকে বাড়িতে চলে এসেছি। এখন বাড়িতে থেকেই বাকি চিকিৎসা শেষ করব।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, গতকাল (শনিবার) রাতেই ইমরান কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে ছুটির আবেদন করেছিলেন। আজ (রবিবার) আবারও ছাড়পত্র চাইলে প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ডা. ইকবাল হাসান বলেন, বর্তমানে ইমরান শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে হাসপাতাল ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, একজন সাপুড়িয়া হয়ে সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা তার কাছে লজ্জাজনক মনে হয়েছে।
এ সময় সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নিয়ে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ।
গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের বাগগাড়ি পাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়ি থেকে গোখরা সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হন ইমরান হোসেন।
নিজেকে সাপুড়িয়া ও ওঝা পরিচয় দেওয়া ইমরান বিভিন্ন স্থান থেকে সাপ ধরার ভিডিও নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে স্থানীয় আমিরুল ইসলামের বাড়িতে সাপ উদ্ধারের জন্য যান ইমরান। বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে একটি গোখরা সাপ বের করার পর সেটিকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় অসাবধানতাবশত সাপটি তার হাঁটুর ওপর কামড় দেয়। পরে স্থানীয় দুই যুবক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে সাপুড়িয়া ইমরান বলেন, আগের দিন বৃহস্পতিবার আমিরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে সম্রাট সাপের কামড়ে মারা যান। নিহত সম্রাটের দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। পেশায় রাজমিস্ত্রী সম্রাটের বয়স ২২ বছর। তার স্ত্রী বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শুক্রবার সম্রাটের মৃত্যুর পর বাড়িটিতে আবারও সাপ দেখা গেলে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে তাকে খবর দেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির উঠান থেকে প্রথমে তিনটি বাচ্চা সাপ উদ্ধার করি। পরে গর্ত থেকে একটি বড় গোখরা সাপ টেনে বের করার প্রায় দেড় মিনিটের মাথায় অসাবধানতাবশত সেটি আমার হাঁটুর ওপর কামড় বসায়।’
১ দিন আগে
জমে উঠেছে বাগেরহাটের ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথের মেলা
বাগেরহাটের লাউপালায় ঐতিহ্যবাহী রথের মেলা জমে উঠেছে। শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষের ঢল নেমেছে মেলায়। মাসব্যাপী এই মেলায় গ্রামবাংলার নানা ধরনের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে থাকে মেলা প্রাঙ্গণ।
মেলায় শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইডস, নানা ধরনের খেলনা, প্রসাধন সামগ্রী, গৃহস্থালী সামগ্রী, আসবাপত্র, বিনোদনের জন্য সার্কাস, নাগোরদোলাসহ নানা জিনিস এসেছে মেলায়। মেলায় ‘বালিশ মিষ্টি’ নামে পরিচিত বড় বড় মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে একেকটি ৫০০ টাকায়। মেলা ঘিরে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ রীতিমতো উৎসবে মেতে উঠেছে। মেলা প্রাঙ্গন ছড়াচ্ছে উচ্ছাস আর আনন্দ।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত, পূণ্যার্থী আর দর্শনার্থীরা এসেছেন মেলা প্রাঙ্গণে। বাবা-মায়ের কোলে চড়ে শিশুরা যেমন এসেছে, তেমনি বৃদ্ধরা এসেছেন লাঠি ভর করে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ মেলায় এসেছেন। মেলায় বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা ছাড়াও খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল এবং গোপালগঞ্জ থেকে আসা দর্শনার্থীদেরও দেখা মিলেছে।
মেলায় মানুষের ঘোরাঘুরি আর কেনাকাটায় কোনো কমতি নেই। বিক্রি ভালো হওয়ায় দোকানিরা প্রচুর পরিমাণ পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মন্দিরের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে মূল সড়কের দুই পাশজুড়ে দোকানিদের হরেক রকমের পণ্য শোভা পাচ্ছে। মানুষের মধ্যে উৎসাহ আর উদ্দীপনা মেলা প্রাঙ্গণ ছাপিয়ে আশপাশে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
পাওনা টাকা চাওয়ায় নড়াইলে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে আলিনুর ফকির (৩০) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলিনুর ফকির কুমড়ডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলিনুর ফকির রাতে ইতনা ইউনিয়নের কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ওই গ্রামের রাজিব শেখের কাছে পাওনা টাকা চাইলে আলিনুরের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজিব আলিনুরের পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। তবে অভিযুক্ত রাজিব শেখ পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ২
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে
নিহতরা হলেন— একই গ্রামের মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০) ও একই ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (২৫)।
পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ছালিম হোসেন ও মিন্টু চৌকিদার গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরে এই হামলা ও হত্যার ঘটনা। নিহত দুইজন ছালিম হোসেন গ্রুপের সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে দুই গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাতে বিরোধের জের ধরে মিন্টু চৌকিদারের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছালিম হোসেনের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা ছালিমের অনুসারী ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মন্ডলকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকেরা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই ফারুক ও আব্দুল শেখ নিহত হন।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় মুল্লুক মন্ডলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন জানান, স্থানীয় মিন্টু চৌকিদার ও ছালিম হোসেন গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।
২ দিন আগে
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটে সড়ক বিভাগের ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি
টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের কার্পেটিং (বিটুমিন) ধুয়ে গেছে, ধসে গেছে সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) এবং ব্রিজ-কালভার্টের গাইড ওয়াল। একই সঙ্গে চারটি ফেরিঘাটের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ সড়ক) ধসে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৮০ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সড়ক বিভাগ।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
বাগেরহাট-পিরোজপুর ও সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কসহ ফকিরহাট, চিতলমারী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং ধুয়ে ইট ও পাথরের খোয়া বেরিয়ে গেছে। রাস্তার মধ্যে ছোটবড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো খানাখন্দে পানি জমে আছে। এসব এলাকা দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় খানাখন্দে পড়ে যাচ্ছে। গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালকরা ধীরগতিতে যানবাহন চালাচ্ছেন।
এছাড়া বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ঢাল (হ্যাজিং) ধসে যাওয়ায় কোনো কোনো স্থানে সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বাগেরহাট সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৪২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১০১ কিলোমিটার, ১১টি আঞ্চলিক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ১১০ কিলোমিটার এবং ১৪টি জেলা মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ২২৮ কিলোমিটার। টানা বৃষ্টির কারণে এর মধ্যে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৩ দিন আগে
বাগেরহাটে ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাউপালায় জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় পূণ্যার্থীদের ঢল
বাগেরহাটের প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীপাট লাউপালায় শ্রী শ্রী গোপাল জিউর মন্দিরে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশাল কাঠের রথে জগন্নাথদেবের সঙ্গে তার ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রাকে বসিয়ে সুসজ্জিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে পূণ্যার্থীরা রথের দড়ি টেনে সামনের চত্ত্বরে নিয়ে আসেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রথের দড়ি স্পর্শ করলে অসীম পূণ্যলাভ এবং জন্ম জন্মান্তরের সমস্ত পাপ নাশ হয়। এই বিশ্বাস নিয়ে নানা বয়সের শত শত নারী-পুরুষ রথ উৎসবে অংশ নেন। প্রতিবছরের মতো এ বছরও দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য পূণ্যার্থী এই রথযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
লাউপালায় রথযাত্রা উপলক্ষে মাসব্যাপী গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা বসেছে। মেলায় হস্ত ও কুটির শিল্প, মৃৎশিল্পসহ রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
এছাড়া বাগেরহাট শহরের রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বের করা হয়। এরপর পূণ্যার্থীরা রথ টেনে শালতলাস্থ শ্রী শ্রী হরিসভা মন্দিরে নিয়ে আসেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
আগমী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্যে দিয়ে জগন্নাথদেব মন্দিরে ফিরে আসবেন। রথযাত্রা শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে অনুষ্ঠিত হয়, সেজন্য বাগেরহাট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
৪ দিন আগে