খুলনা
যশোরের চরমপন্থি নেতা গোফরান ও তার সহযোগী গ্রেপ্তার
যশোরের অভয়নগরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে ওঠা চরমপন্থি নেতা নাসির শেখ গোফরান ও তার সহযোগী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) খুলনার রূপসা উপজেলা থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. নাসির শেখ গোফরান (৪০) বাগেরহাটের রামপাল থানার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। মো. সোহেল রানা (২৮) বাগেরহাটের রূপসা থানার আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গোফরান ‘বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা পরিচয়ে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে যশোর, খুলনা ও নড়াইলজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির রাজত্ব চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল বাশার জানান, গত ১ মার্চ গভীর রাতে অভয়নগরের গোপিনাথপুর গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গোফরান বাহিনী। সে সময় তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গোফরান বাহিনী নগদ ২০ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে চক্রটি। তাদের ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান চালিয়ে গত শনিবার খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন।
১০ ঘণ্টা আগে
চুয়াডাঙ্গায় ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণপিটুনি
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে দুই প্রতারককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের পীচমোড় চিংড়িখালী সেতু এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন— ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার রিজভী সালমান রহমান (২৯) ও একই উপজেলার গাবতলাপাড়া গ্রামের আহাদ আলী (৩৫)।
স্থানীয়রা জানান, আজ (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে কয়েকজন ব্যক্তি চিংড়িখালী সেতু এলাকায় এক নারীর কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করলে দুজন ধরা পড়েন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও চারজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে। আটক দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০ ঘণ্টা আগে
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে রাশিকুল আনাম রাশু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানার কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবক দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা এলাকার বাসিন্দা শরীফুল আনামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রাশু রাজনীতির পাশাপাশি কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের পাশে ইট বালুর ব্যবসা করতেন। সোমবার সকালে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে একটি গুলি মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
ডাকাতি করতে না পেরে দুই লাখ টাকা ‘চাঁদা দাবি’
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় এক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। ওই বাড়িতে ডাকাত দল ঢোকার ৫ মিনিটের মধ্যেই রুখে দাঁড়ায় গ্রামবাসী। এরপর ফিরে যাওয়ার সময় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে গেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের ঈশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জীমুত বিশ্বাস স্থানীয় কলিমহর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বাড়ির অসুস্থ কর্তা জীমুত বাহন নিজের ঘরে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় মুখ বাঁধা ৮ জন ডাকাতের একটি দল তার ঘরে ঢুকে পড়ে। তাদের কারো হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, আবার কারো হাতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ছিল। এই দৃশ্য দেখে জীমুতের স্ত্রী সূচিত্রা বিশ্বাস আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করে উঠলে ডাকাতরা তৎক্ষণাৎ তাকে কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে ডাকাতরা বাড়ির পেছনের মাঠ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে যাবার আগে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঘটনার পরপরই গৃহকর্তার ফোন পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জীমুত বিশ্বাস জানান, ৮ জন ডাকাত তার ঘরে ঢুকেছিল। তাদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা পরিবারের লোকদের এক ঘরে জিম্মি করার চেষ্টা করে। তবে তাদের চিৎকারে পাশের কালীমন্দির এলাকার দোকানে বসা কয়েকজন এগিয়ে এলে ৫ মিনিটের মধ্যেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার আগে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে যায়। কোথায় টাকা পাঠাতে হবে, তা ফোনে জানাবে বলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ঈশ্বরদীসহ আশপাশের গ্রামগুলো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। আগে এসব গ্রামে সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে তার বাড়িতে এমন একটি ঘটনা ঘটায় তিনি আতঙ্কিত হয়েছেন। অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য তিনি থানায় অভিযোগ করবেন। এ সময় দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন তিনি।
জানিপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, তাদের এলাকায় ডাকাত বা সন্ত্রাসীদের উপদ্রব ছিল না। হঠাৎ করে এরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের প্রতিহত করা খুবই জরুরি।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশারফ হোসেন বলেন, তেমন কিছু হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় কিছু লোক ওই বাড়িতে ঢুকে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছে বলে বাড়ির মালিক দাবি করছেন। কিন্তু ওই বাড়ির পাশে কিছু লোক তাস খেলছিল। তারাও জানে না ডাকাতির এই ঘটনা। তবে ওই বাড়িওয়ালারা যা বলছে, বিষয়টি ওরকম নাও হতে পারে।
১ দিন আগে
ঝিনাইদহে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা নিহত, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ নিয়ে ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দলের হাজারো নেতা-কর্মী।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সীসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহন হন। আঘাতজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। বিএনপি এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চায়।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসুচি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাবে।
জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।
পুলিশ জানায়, মরদেহ নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ শেষে সেটি তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে পৌছায়। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শেষে মাধবপুর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জানাজায় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের স্থানীয় শত শত নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
অপরদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তরু মুন্সীর স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। আজ (শনিবার) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আমির ড. মো. হাবিবুর রহমান এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ছিল। সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এ কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। তরু মুন্সী শারিরীকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক করেন। এ মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার ইফতার ও তালিম নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তরু মুন্সীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
২ দিন আগে
খুলনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার
খুলনায় নিখোঁজের ৩ দিন পর নদীতে ভাসমান অবস্থায় হানিফ শেখ নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৪ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে নগরীর জেলখানা খেয়াঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হানিফ শেখ নগরীর ৪ নম্বর ঘাট এলাকার বাসিন্দা আজিজ শেখের ছেলে। পেশায় তিনি রিকশাচালক ছিলেন।
প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত রিকশা চালিয়ে ভোরে ভৈরব নদে গোসল করে বাড়ি ফিরতেন হানিফ। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভোরে নদীতে নেমে তিনি নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের সদস্যরা নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেন। ওই দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবরি দল ও স্থানীয় ডুবরিরা ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও তাকে না পেয়ে সন্ধ্যায় অভিযান শেষ করেন। তার ৩ দিন পর আজ (শনিবার) সকাল ৬টার দিকে জেলখানা খেয়াঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘাট এলাকার স্থানীয়রা জানান, আজ সেহরির কিছুক্ষণ পর নদীতে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ দেখতে পান তারা। এরপর স্থানীয় থানায় খবর দিলে থানা থেকে নৌপুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নৌপুলিশ খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার বলেন, ভোর ৫টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে হানিফ শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিবারকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি আরও বলেন, মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
২ দিন আগে
রাতের ঝড়ে মাগুরায় প্রাণ গেল দুজনের
মাগুরায় ঝড়ে গাছের মরা ডাল ভেঙে চলন্ত মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত ৮টার দিকে শ্রীপুর-মাগুরা সড়কের সদর উপজেলার কেষ্টপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল গ্রামের সাহাপাড়ার ভজন দত্তের ছেলে প্রান্ত দত্ত (২৫) এবং একই উপজেলার ঘাসিয়াড়া গ্রামের খালদিয়ের পাড়ার দিপুলের ছেলে মাহাফুজ (২৭)।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, মাগুরা শহর থেকে মোটরসাইকেলে করে রাত ৮দিকে বাড়ি ফিরছিলেন ওই দুই যুবক। পথে শ্রীপুর-মাগুরা সড়কের কেষ্টপুর এলাকায় পৌঁছালে ঝড়ো বাতাসে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে তাদের ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই প্রান্ত দত্ত প্রাণ হারান।
আর গুরুতর আহত মাহাফুজকে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে মধুখালী পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মামলা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
২ দিন আগে
পাশাপাশি কবরে শায়িত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৯ জন
খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহত বর সাব্বিরসহ তার পরিবারের ৯ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজ শেষে উপজেলা পরিষদ মাঠে এই জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বাগেরহাট জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে তাদের মোংলা পোর্ট পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও রামপাল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো এনে গোসল শেষে সকাল থেকে একে একে তাদের উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। আর কনে পক্ষের বাড়ি কয়রায় ও রামপালের চালকসহ ৫ জনকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয়রদের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই সেতু এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। মোংলা থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন নিহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাকিরা মারা যান। সব মিলিয়ে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্য।
নিহতরা হলেন— আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে সাব্বির ও আব্দুল্লাহ, এক মেয়ে ঐশী, ৪ নাতনি আরফা, ইরান, ফাহিম ও আলিফ। এছাড়া তার এক পুত্রবধু পুতুল বেগম নিহত হন। কয়রা উপজেলার কনের দাদি, নানী, বোন ও কনে এবং রামপাল উপজেলার মাইক্রোবাস চালক এ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
মোংলায় বর সাব্বির ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের ৯ জনের মরদেহ শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহালাবুনিয়ায় শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আজ জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
মোংলা উপজেলা মাঠে জানাজায় অংশ নেন মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক লোক জানাজায় অংশ নেয়।
মোংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-খুলনা সড়কে যে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে এটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে এখন থেকে কঠোরভাবে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে বিআরটিএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তাদের সকল কাগজ পত্র জমা দিয়ে এ টাকা গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
এর আগে কনে মিতু, তার বোন, নানী ও দাদির মরদেহ খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয় রামপালের তার নিজ বাড়িতে।
৩ দিন আগে
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৪ জনের দাফন সম্পন্ন
বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলার একই পরিবারের চার জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশের মাঠে মিতু, লামিয়া ও রাশিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এছাড়া দাকোপে মিতুর নানী আনোয়ারা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিহতরা হলেন— কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের সালাম মোড়লের মেয়ে নববধু মার্জিয়া মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া (১০), তাদের দাদী মৃত শামছুউদ্দিন মোড়লের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানী আনোয়ারা বেগম মারা গেছেন। মিতু নাকশা আলিম মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই সেতু এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে নাকশা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরযাত্রী নববধু মিতু, তার ছোট বোন লামিয়া, বৃদ্ধা দাদি রাশিদা ও নানী আনোয়ারা বেগমকে নিয়ে মাইক্রোবাসে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি রামপাল বেলাই সেতু এলাকায় পৌঁছালে মোংলা থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা নববধু, বর ও তাদের স্বজনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের গ্রাম নাকশাসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
৩ দিন আগে
নড়াইলে সেহরি খাওয়ার সময় গলায় ভাত আটকে কৃষকের মৃত্যু
নড়াইলের লোহাগড়ায় সেহরি খাওয়ার সময় গলায় ভাত আটকে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের এগারোনলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
কোবাদ হোসেন কাবুল (৫৭) এগারোনলী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মৃত শেখ তসির উদ্দিনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো কাবুল রোজা থাকার উদ্দেশ্যে ভোরে সেহরি (ভাত) খাচ্ছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করে তার খাদ্যনালীতে ভাত আটকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে পথেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জোহরের নামাজের পর লাহুড়িয়ার তৈলক্ষণপাড়া গোরস্থান মাঠে তার জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
৪ দিন আগে