খুলনা
নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউপি মেম্বারসহ আহত ১৫
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লক্ষীপাশা ইউপি মেম্বার জিরু কাজীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বাঁকা গ্রামে জিরু কাজী ও আক্তার মোল্যা গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— জিরু কাজী, লুৎফুন্নাহার, রেখা বেগম, সেলিম বিশ্বাস, হেমায়েত হোসেন, আনোয়ার, আক্তার মোল্যা, লিটন, ফিরোজ, শরিফুল, হাসান মোল্যা, কাদের, মিরাজ মোল্যা। এর মধ্যে জিরু কাজীর লোকজন বেশি আহত হয়েছেন।
এছাড়া বাঁকা গ্রামের রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে যাওয়ার সময় আমাদা গ্রামের তবিবর মৃধাকে আক্তার মোল্যার লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (শুক্রবার) বিকেলে আক্তার মোল্যার লোকজন মসজিদের ভেতরে গিয়ে জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন।
আহতদের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাঁকা গ্রামের জিরু কাজী গ্রুপের সঙ্গে একই গ্রামের আক্তার হোসেন গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিরোধ চলে আসছিল। এরপর গতকাল দুপুরে একটি স্যালোমেশিনের পাম্প চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিকেলে মসজিদের ভেতরে গিয়ে আক্তারের গ্রুপের লোকেরা জিরু কাজীর লোকজনকে মারধর করেন। এর জের ধরেই আজ (শনিবার) সকালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
১৬ মিনিট আগে
তেল পাচার রোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য পাচার প্রতিরোধকল্পে যশোরের বেনাপোল, শার্শা ও চৌগাছাসহ চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে টহল, তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনসহ টহল জোরদার করা হয়েছে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী শনিবার (৭ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল (শুক্রবার) রাত থেকে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন যানবাহন ও মালামাল তল্লাশি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তজুড়ে টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ করে অতীতে যেসব সীমান্ত রুট দিয়ে ডিজেল ও পেট্রোল পাচারের চেষ্টা হয়েছে, সেসব এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর গেটে দেশীয় ও ভারতীয় ট্রাক মালামাল পরিবহনের সময় ভারতে প্রবেশের আগে আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, যশোর সীমান্তবর্তী এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সন্দেহজনক যেকোনো যান চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জ্বালানি সম্পদের সুরক্ষায় সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা দর্শনা আইসিপিসহ জেলার বিভিন্ন সীমান্তে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া দর্শনা আইসিপি গেটেও দেশীয় ও ভারতীয় পণ্য ভারতে প্রবেশের সময় বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সন্দেহভাজন পরিবহনে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তপথে যাতে কোনোভাবেই জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
খুলনায় শ্রমিক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা
খুলনার রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও রূপসা–বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মাসুম বিল্লাহকে (৫৫) প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে মহানগরীর ডাকবাংলোর মোড়ের বাটার শোরুমের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অশোক ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তলসহ আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মৃত মিনহাজ উদ্দীন মুন্সীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ডাকবাংলা মোড়ে মাসুম বিল্লাহ অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর গুলি চালায়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, ৬ থেকে ৭ জন সন্ত্রাসী মাসুমকে ভাড়ায় খুন করতে আসে। কে কত টাকা পাবে, তাদের মধ্যে তা হিসাব করা ছিল। ৭ জন মিলে মাসুমকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক পুলিশের একজন পরিদর্শক অশোক ঘোষকে কোমড়ে পিস্তল রাখতে দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করেন। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এ অপারেশনে ৭ জন জড়িত ছিল। তাদের কাছে নানা ধরনের ধারালো অস্ত্র ও পিস্তল ছিল।
খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খাইরুল ইসলাম জানান, মাসুম বিল্লাহ রূপসা উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে মাসুমের রাজপথে ভূমিকা ছিল।
২ দিন আগে
ঝিনাইদহে ছাত্রলীগ করায় পুত্রকে ত্যাজ্য করলেন পিতা
ঝিনাইদহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় নিজ সন্তানকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন এক পিতা।
সোমবার (২ মার্চ) ঝিনাইদহ জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এক হলফনামার মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন তিনি।
হলফনামা সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটী ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ব্যবসায়ী মো. আবু জাফর (৪৮) তার পুত্র মো. নাহিদ হাসান সবুজকে (২৪) ত্যাজ্যপুত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। সবুজ ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র (কেসি) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
হলফনামায় মো. আবু জাফর উল্লেখ করেন, তার পুত্র দীর্ঘদিন ধরে তার অবাধ্য জীবনযাপন করছেন। তিনি বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন না, আলাদা থাকেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও সবুজ এ সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বিশেষ করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পিতা হিসেবে তিনি বিব্রত বোধ করেন।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, সবুজের কোনো প্রকার আয়-রোজগার, দায়-দেনা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পিতা বা তার পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
তার কোনো অপকর্মের দায়ভারও পরিবার বহন করবে না। ভবিষ্যতে তার সঙ্গে পরিবারের সকল প্রকার রক্ত সম্পর্কীয় ও আইনি বিচ্ছেদ বজায় থাকবে।
আবু জাফর বলেন, ‘দেশের আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী কোনো কাজ আমার সন্তান করুক, তা আমি চাই না। বারবার সতর্ক করার পরও সে শোধরায়নি, তাই বাধ্য হয়ে আমি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ঝিনাইদহ জেলা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. সাদাতুর রহমান হাদির মাধ্যমে এ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান সবুজের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মুঠোফোনটি খোলা পাওয়া যায়নি।
৩ দিন আগে
যশোরে সাত বছরের শিশু ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্ত নানা পলাতক
যশোরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৭ বছরের এক শিশুকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। শিশুটি যশোর শহরের নাজির শংকরপুর ৩৯ নম্বর হাজারী গেট এলাকায় তার নানি বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। সোমবার রাত ৯টার দিকে শিশুটির নানির আপন ভাই হাফিজুল (৪০) বেড়ানোর কথা বলে শিশুটিকে যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন আফজালের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা জানান, শিশুটির ভ্যাজাইনাল ইনজুরি লক্ষ্য করা গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শারীরিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মেডিকেল প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
অভিযুক্ত হাফিজুল সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে যশোর মেডিকেল কলেজ এলাকায় ভাড়া থাকেন। ঘটনার পর থেকেই হাফিজুল পলাতক রয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাফিজুলকে আটকের চেষ্ট চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৩ দিন আগে
আজ থেকে শুরু লালন স্মরণোৎসব
দোল পূর্ণিমা তিথিতে প্রতি বছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব। সাধুগুরু ও লালনভক্তদের সরব উপস্থিতি, গান ও গ্রামীণ মেলায় জমজমাট হয়ে ওঠে আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ।
তবে এবার রমজানের কারণে সোমবার (২ মার্চ) দুপুর থেকে এক দিনই উদযাপিত হবে লালন স্মরণোৎসব।
আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, এবার থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কেবল আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই মঙ্গলবার দুপুরে শেষ হবে আয়োজন। সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে।
এদিকে, উৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালন ভক্ত বাউল-ফকিররা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তারা দলে দলে ভাগ হয়ে আসন পেতে বসেছেন; করছেন নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়।
শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে আখড়াবাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
এ সময় ঢাকা থেকে উৎসবে আসা ফকির ফাহিম বলেন, সারা বছর এই দিনগুলোর অপেক্ষায় থাকি। দোল উৎসবে দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুরা আখড়াবাড়িতে আসেন। একে অপরের মধ্যে ভাব বিনিময় হয়।
আমেরিকা প্রবাসী মিজানুর রহমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই লালনের গান শুনে আসছি। সেই টান থেকেই প্রথমবারের মতো আখড়াবাড়িতে আসা। এখানে বসে বাস্তবতা অনুভব করলাম। তার ভাষ্য, ফকির লালন সাঁইজি জাতি, বর্ণ, ধর্ম নির্বিশেষে মানব প্রেমের কথা বলে গেছেন।
মানিকগঞ্জ থেকে আগত সাধু তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, সাঁইজির প্রেমের টানে, মায়ার টানে কয়েকদিন আগেই আখড়াবাড়িতে এসেছি। এবার পবিত্র রমজানের কারণে উৎসব একটু কম হবে।
৫ দিন আগে
সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী নিহত: চুয়াডাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, অপরাধীকে গ্রেপ্তারে আলটিমেটাম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।
রবিবার (১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক আইল্যান্ডে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা নিহত হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে জীবননগরে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং এই পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে নেতা-কর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এতে প্রায় ৩০ মিনিট শহরের যান চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান এবং জীবননগর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন।
এদিকে সংঘর্ষে নিহত হাফিজুর রহমানের জানাজা আজ (রবিবার) বিকেল ৩টায় জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও হাসাদাহ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার ছেলে মেহেদী হাসানকে মারধরের অভিযোগ উঠে জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মেহেদি হাসানকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সুটিয়া থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে হাসাদাহ মডেল ফাজিল মাদরাসার সামনে মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ খবর পেয়ে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। তাদেরকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে হাফিজুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে যশোর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।
জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আমির আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এর মধ্যে আমির মফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া মফিজুর রহমানের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।
৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতার ভাই নিহত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে জামায়াতের এক ইউনিয়ন আমিরের বড় ভাই নিহত হয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের ইউনিয়ন আমির ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) হাসাদাহ বাজারের কামিল মাদরাসা ফটকের সামনে ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে দুদফায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত হাফিজুর রহমান (৫৫) জীবননগর শহরের ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক ও একজন স্বনামধন্য জুয়েলারি ব্যবসায়ী ছিলেন। গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও নিহতের ছোট ভাই মফিজুর রহমান। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামায়াতের পক্ষের অন্য আহতরা হলেন— সুটিয়া গ্রামের মফিজুর রহমান (৪০), খায়রুল ইসলাম (৫০) ও সোহাগ (৩৫)। তাদের মধ্যে দুজন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, সংঘর্ষে বিএনপির তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন— বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০), সদ্য বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০) এবং তার বাবা জসীম উদ্দিন (৬৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে গতকাল ইফতারের পর হাসাদাহ বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসরাফিল এবং পার্শ্ববর্তী বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা সুটিয়া গ্রামের সোহাগের সঙ্গে মেহেদী ও তার বাবা জসীম উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
তারা আরও জানান, প্রথমে ইসরাফিল ও সোহাগ মারধর করেন মেহেদী ও তার বাবাকে। পরে মেহেদীর স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের ধাওয়া দিলে তারা সেখান থেকে সরে যান। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বাজারে জড়ো হলে আবারও সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা মফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালালে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান হাফিজুর রহমান। তখন হামলাকারীরা হাফিজুর রহমানকে মারধর করেন। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। হাফিজুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মফিজুর রহমানের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকার আরেকটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, সন্ধ্যায় হাসাদাহ বাজারে বিএনপির দুজন আহত হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জীবননগর থানায় জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে পুলিশের সামনেই তার ওপর হামলা হয়। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান হোসেন ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমাদের নিরীহ নেতা-কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’
ওসি সোলাইমান হোসেন বলেন, হাসাদাহে দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
৬ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৬
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সামাজিক বিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বড়িয়া-ভাদালিয়াপাড়া এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় সেখান থেকে কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে বটতৈল ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল হান্নানের গ্রুপের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার (ইউপি সদস্য) সাইফুলের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গতকাল (শনিবার) রাতে ভাদাদিয়াপাড়া এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ছয়জন আহত হন। এ সময় ২০টির অধিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বরিয়ার হান্নান মেম্বার ও ভাদালিয়া পাড়ার সাইফুল মেম্বারের মধ্যে সামাজিক দ্বন্দ্ব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এর জেরে এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
৬ দিন আগে
নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চাচা-ভাতিজাকে কুপিয়ে জখম
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চাচা মেছের মোল্যা ও ভাইপো ইয়ামিন মোল্যা নামে দুজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ আলাউদ্দিন মোল্যার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে কলাগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অজিত কুমার রায়।
আহত মেছের মোল্যা (৩৫) উপজেলার নওয়াগ্রাম ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের আহম্মেদ মোল্যার ছেলে এবং ইয়ামিন মোল্যা (১৬) কাদের মোল্যার ছেলে। তারা নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মেছের মোল্যা বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে কলাগাছি বাজার থেকে আমি আর আমার ভাইপো ইয়ামিন মোটরসাইকেলে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে কলাগাছির আলাউদ্দিন মোল্যার ছেলে শাকিল মোল্যা (২২), সালাম মোল্যার ছেলে ইনামুল মোল্যা (৩৮), জিল্লু মোল্যার ছেলে তুহিন মোল্যা (৩২) ও হাসিফ মোল্যা (২৭), আব্দুল্লাহ মোল্যার ছেলে আরমান মোল্যা (১৯), আতিয়ার মোল্যার ছেলে রমিন মোল্যা (৩৬), মৃত ইসরাফিল শেখের ছেলে কোবাদ শেখসহ (৩৫) আরও ৩/৪ জন আমাকে ও আমার ভাইপোকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে। আমি ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ইয়ামিনের বাবা কাদের মোল্যা বলেন, আলাউদ্দিন মোল্যার নেতৃত্বে সপ্তাহখানেক আগে ওরা আমাদের ৪/৫ বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছে। পরে স্থানীয় মাতুব্বররা শালিস করে মিটিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কালকে রাতে আবার আমার ছেলে ও ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়েছে ও কুপিয়েছে। আমি এ ঘটনায় মামলা করব। এর যথাযথ বিচার চাই।
মেছের মোল্যার ভাই উদার মোল্যা বলেন, ‘আমার ভাই বাজারে ব্যবসা করে। কাল রাতে বাড়ি আসার সময় আমার ভাই-ভাইপোকে মারপিট করেছে। আমার ভাইয়ের কাছে থাকা কিছু টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। তার মোটরসাইকেলটি ভেঙে তছনছ করে ফেলছে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন মোল্যার মুঠোফোনে ফোন দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি, পেলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
৬ দিন আগে