খুলনা
কুষ্টিয়ায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আফরান নামে ৮ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
আফরান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।
শিশুটির বাবা আল আমিন বলেন, হঠাৎ ঠান্ডা, জ্বর ও শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা দিলে আফরানকে কুষ্টিয়ায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির মৃত্যুতে তার বাবা অভিযোগ করেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) আফরানের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আজ ভোরের দিকে অবস্থা খুব খারাপ হলে চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকা হয়। কিন্তু নার্সরা সঠিকভাবে সহযোগিতা করেনি। পরে মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে আসি।’
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির দিন থেকেই শিশুটির অবস্থা খারাপ ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রোগীর স্বজনরা যাননি। তবুও আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়েছি। শুক্রবার ভোরের দিকে শিশুটি মারা যায়।
৬২ দিন আগে
মাগুরায় মুদি দোকান থেকে অবৈধ পেট্রোল উদ্ধার
মাগুরায় এক মুদি দোকান থেকে অবৈধভাবে ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে পেট্রোল মজুদ ও বিক্রির দায়ে এক দোকানিকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ অভিযানে মোট ১২ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মহম্মদপুর উপজেলার একটি মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ তেল জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) মহম্মদপুর উপজেলার একটি মুদির দোকানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযোগ ছিল, ওই দোকানে কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দাহ্য পদার্থ মজুদ রাখা এবং তা সাধারণ মানুষের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছিল।
অভিযানের সময় দোকানের মালিক বাকী মোল্লাকে হাতেনাতে ধরা হয় এবং তার কাছ থেকে ১২ লিটার অবৈধ পেট্রোল জব্দ করা হয়। জননিরাপত্তা ঝুঁকি ও আইন অমান্য করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দাহ্য পদার্থ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৬৩ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি তাপপ্রবাহ, মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
চুয়াডাঙ্গায় গরম এবার যেন শুরুই হলো আগুনঝরা রূপে। মৌসুমের শুরুতেই জেলায় রেকর্ড হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। বইছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি আর ক্লান্তি। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এ তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ। এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ দুপুর গড়াতেই শহরের রাস্তাঘাট যেন আগুন ছড়াতে থাকে। খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানো দায় হয়ে যায়। বাতাসও যেন গরম চুল্লির আঁচের মতো মুখে এসে লাগছিল। কয়েকদিন আগেও যেখানে হালকা শীতের আমেজ ছিল, সেখানে হঠাৎ এমন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ছন্দ হারিয়েছে জনজীবন।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভার সামনে সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পিচ গলে উঠে গেছে; কোথাও কোথাও তা জমে গেছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেই পিচ টায়ারে লেপ্টে গিয়ে তৈরি করছে বাড়তি ভোগান্তি।
শহরের এক পথচারী বলেন, এ জেলায় আবহাওয়া সবসময়ই চরম। কিন্তু গরম শুরু হওয়ার আগেই যদি এমন হয়, তাহলে সামনে কী হবে—ভাবতেই ভয় লাগছে!
চৌরাস্তা মোড়ে বসে তরমুজ বিক্রি করছিলেন মোহাম্মদ শাজাহান। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছিল তার।
তিনি বলেন, রোদে বসে থাকতে থাকতে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। তরমুজও ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে না। একটু পরপর পানি না ঢাললে টিকেই থাকা যায় না।
৬৩ দিন আগে
মাগুরায় মধুমতী নদী থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার
মাগুরার সদর উপজেলায় মধুমতী নদী থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে উপজেলার কছুন্দি ইউনিয়নের খোর্দ কছুন্দি গ্রামে সজল মীরের ইটভাটার পাশের মধুমতী নদী থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, মধুমতী নদীতে এক নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
তিনি জানান, অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় পেতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাজ করছে। মরদেহটি মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ হত্যার ঘটনায় মাগুরা থানায় মামলা করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
৬৪ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণে দ্বিতীয় দিনে চালকদের দীর্ঘ লাইন
চুয়াডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন স্বাভাবিক রাখতে দ্বিতীয় দিনের মতো ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ করছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলা পরিষদে এ কার্ড বিতরণের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে আজ (মঙ্গলবার) ভোর থেকেই নিজ নিজ উপজেলা পরিষদের সামনে লাইনে দাঁড়ান অনেকে। ফুয়েল কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষাও করতে হয় তাদের।
এর আগে, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে জানানো হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে যানবাহনের জন্য ফুয়েল কার্ড বিতরণ শুরু হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল থেকে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
কার্ড সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। পহেলা এপ্রিল থেকে শুধু ফুয়েল কার্ডধারী যানবাহনেই জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তেল প্রদান করা হবে এবং প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার ২২টি পাম্পে একযোগে তেল বিক্রি চলবে।
তবে কৃষকদের জন্য এ নিয়ম শিথিল রাখা হয়েছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেল আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (বিএম) তারিক উজ জামান বলেন, ‘ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ শুরু হলে, তেলপাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা রোধ করা যাবে। এমনকি তেল নিয়ে যারা কালোবাজারির চেষ্টা যারা করছেন, তাদেরও নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
৬৫ দিন আগে
নড়াইলে সাড়ে ৭ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার ৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার বারইপাড়া ও কলাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ এ তেল জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই উপজেলার ইউএনও মো. জিন্নাতুল ইসলামের নেতৃত্বে বারইপাড়া ফেরিঘাট সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খুলনা থেকে আসা একটি নসিমন আটক করে ৯ ব্যারেলে ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে তেলের মালিক উপজেলার মাউলী গ্রামের পিন্টু শেখ তেলের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রাবণী বিশ্বাস কলাবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রাক থেকে ২৮ ব্যারেলে ৫ হাজার ৬০০ লিটার তেল জব্দ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার যোগানিয়া গ্রামের খায়রুল শেখ বিক্রির জন্য অবৈধভাবে ট্রাকে করে এই তেল নিয়ে আসছিলেন। তেলের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাকেও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা ৭ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল মেসার্স কালিয়া ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়ের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
৬৫ দিন আগে
সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকটকে ঘিরে তীব্র বিশৃংখলা, বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা
সাতক্ষীরায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোলসহ তেলবাহী একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে খুলনা থেকে গাড়িটি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার সময় শহর থেকে আটক করে পুলিশে দেয় উত্তেজিত জনতা।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, মেঘনা গ্রুপের একজন ডিলার তেলবাহী ট্যাংকারটি নিয়ে দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়ায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাড়িটি আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। বিষয়টি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শহরের নিউ মার্কেট মোড় এলাকায় ২৪ লিটার ডিজেল, আড়াই লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে বোতলে বিক্রয়কালে এক ব্যক্তিকে দুই মাসের কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আটক করে বিজিবি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এই সাজা দেন। আটক আব্দুল খোকন (৫৫) নিউ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা।
এছাড়া জ্বালানির অভাবে জেলার ২৮টি পাম্পের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেল আসার পর ক্রেতাদের মাঝে সরবরাহ করা হবে। যে তেল নিয়ে আসা হচ্ছে, সবটুকু একবারেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই সংকট তৈরি হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদা প্রচুর বেড়েছে। এত তেল কোথায় যাচ্ছে, প্রশ্ন তোলেন তারা।
শহরের এবিখান ফিলিং স্টেশনে তেল পেতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। হাজারো যানবাহন মালিকরা অপেক্ষা করছেন। তেল পেতে নানা ভোগান্তির অভিযোগ তোলেন তারা। ভোর থেকে অপেক্ষা করেও দুপুর ১টা পর্যন্ত তেল না পাওয়ার অভিযোগও করেন অনেকে।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, আজ (সোমবার) ৩ হাজার লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার লিটার অকটেন ও ৯ হাজার লিটার ডিজেল এসেছে। এই তেল যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ ক্রেতাদের মাঝে সরবরাহ করা হবে। চাহিদার তুলনায় তেল পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন সেখানকার ব্যবস্থাপক।
৬৬ দিন আগে
মধুমতি নদী থেকে চুরি করে বালু উত্তোলন, গ্রেপ্তার ৩
মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি বালুবাহী বলগেট জব্দ করা হয়।
রবিবার (২৯ মার্চ) পৌনে ২টার দিকে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী ইকবাল হোসেনসহ পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন: মো. খলিল ফকির (৬০), মো. ইয়াসিন শেখ (২৫) ও মো. ইয়াসিন হাওলাদার (৪৫)।
এ বিষয়ে ওসি আশরাফুজ্জামান জানান, মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মহম্মদপুর থানা পুলিশ। গতকাল (রবিবার) রাতে বীরেন ঘাট এলাকা থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় একটি বালুবাহী বলগেট জব্দ করা হয়েছে। আসামিদের থানায় রাখা হয়েছে। জব্দ করা বলগেটটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরে ক্ষয় বেড়েছে। পুলিশের এ অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন তারা।
অভিযানের বিষয়ে ওসি আরও বলেন, ‘নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে মহম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন বালু উত্তোলনের ফলে নদীতীরবর্তী এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে এবং ফসলি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৬৬ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেলসহ আটক ৪
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রাতের অন্ধকারে তেল খালাসের সময় প্রায় ৯ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে উপজেলার কয়রাডাঙ্গা-খাদিমপুর সড়কে একটি তেলবাহী ট্যাংকলরি থেকে ড্রামে তেল ভরার সময় অভিযান চালায় থানা পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, খোলা বাজারে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তেলগুলো দেশের অন্য কোনো জেলা থেকে আনা হয়েছিল। তবে এ তেলের মালিক কে—এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল জানান, অভিযানের সময় ৮ ব্যারেল পেট্রোলসহ একটি ট্রাক্টরের ট্রলি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ট্যাংকলরিটিও হেফজতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা ট্যাংকলরি ও ব্যারেলগুলোতে প্রায় ৯ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে।
৬৬ দিন আগে
বেনাপোলে চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ
বেনাপোল পোর্ট থানায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মাছুম হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাইফুল বাহিনী নামের একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রবিবার (২৯ মার্চ) যশোর আদালতে সাইফুল ইসলাম, তার ভাই সুজয়ের উল্লাহ ও বিল্লাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ হামলা চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন অভিযুক্তরা। এভাবেই ‘সন্ত্রাসী’ সাইফুল বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মাছুম ৬.৩৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছিলেন। ওই জমিতে গত ১৮ মার্চ সকালে শ্রমিক দিয়ে তার বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করলে সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তার ভাই সুজয়ের উল্লাহ ও বিল্লাল হোসেনসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার পাইপ, দা ও লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তারা শ্রমিকদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
এ সময় মাছুম বাধা দিলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বলেন, ‘তুই আমাদের অনুমতি ছাড়া বাড়ি করছিস কেন? এখানে বাড়ি করতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে, তা নাহলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলব।’
এ সময় তাদের আক্রমণের মুখে মাছুম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে যান। এরপর সাইফুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা ফের হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী মাছুম জানান, বসতবাড়িতে একটি ভবন নির্মাণ করছি। শ্রমিকরা বাড়ির কলামের কাজ শুরু করলে সাইফুল ইসলামের সন্ত্রাসী বাহিনী শ্রমিকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বারবার হয়রানি করছেন সাইফুল ও তার ভাই সুজয়ের উল্লাহ। সেসব মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন। সন্ত্রাসী সাইফুল বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে আমি প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
চাঁদা চাওয়ার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬৬ দিন আগে