খুলনা
নড়াইলে আধিপত্যের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ৪
নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— উপজেলার বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আজ (সোমবার) ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন নিহত হন। এ সময় গুরুতর আহত খায়ের গ্রুপের ওসিবুরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১০২ দিন আগে
ডালডার ভেতর ইঁদুর, চুয়াডাঙ্গায় এক মালিকের দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর মৌসুমী ফুড বেকারিতে অভিযান চালিয়ে ব্যবহৃত ডালডার ভেতর মৃত ইঁদুর পেয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার ও পণ্য পুনরায় প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার অভিযোগে এক মালিকের দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সজীব পাল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সমিতির (ক্যাব) প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশের একটি দল।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়াড়ে মেসার্স মৌসুমী ফুড প্রোডাক্টে অভিযানে গিয়ে বেকারিতে ব্যবহৃত ডালডার ভেতর মৃত ইঁদুর পাওয়া যায়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ফ্লেভার ব্যবহার এবং আগাম বেকারি পণ্য প্রস্তুত করে পরবর্তীতে চলতি তারিখ উল্লেখ করার প্রমাণ মেলে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সাইদুর রহমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, এদিন আরেকটি অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি নতুন মোড়কে পুনরায় প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার দায়ে সাইদুল ইসলামের অপর প্রতিষ্ঠান অনন্যা ফুড প্রোডাক্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মোহাম্মদ মামুনুল হাসান বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে হোটেল, সেমাই ও মসলা মিলেও তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় ব্যবসায়ীদের মানসম্মত পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
১০২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় গভীর রাতে ৩ দোকান আগুনে পুড়ে ছাই
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দোকান পুড়ে গেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একটি আসবাবপত্র, একটি কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান এবং একপল্লী চিকিৎসকের চেম্বার পুড়ে অন্তত ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, আসবাবপত্রের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত আগুন তা জানা যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা হলেন— কাঠ ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিনের ব্যবসায়ী ফয়সাল শেখ এবং দন্ত চিকিৎসক শরিফ উদ্দিন।
স্থানীয়রা জানান, দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে লাহিনীপাড়া এলাকার তিনটি দোকানে দাউ দাউ করে আগুন দেখতে পান তারা। পরে চিৎকার চেঁচামেচি করে সকলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন এবং কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ফোন করা হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। এরপর এলাবাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে সকল মালামালসহ তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পী হোসেন জানান, আগুন দেখে সবাই ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করেন। শেষ মূহুর্তে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে তিনটি দোকান পুড়ে গেছে।
জাকিরের ভাই লালন হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের দোকানে কাঠ, ফার্নিচার, যন্ত্রপাতিসহ ১৫ - ২০ লাখ টাকার মাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, তিনটি দোকানে প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত সমন্ধে কিছু জানা যায়নি।
কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার আলী হোসেন ফোনে বলেন, খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সকলের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও তিনটি দোকান পুড়ে গেছে। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পরে জানা যাবে।
১০২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় ‘হত্যা মামলা তুলে না নেওয়ায়’ সাক্ষীর ওপর হামলা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার সাক্ষী আসমত গাইন (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বুধবার ছাতারপাড়া বাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন আপন দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় আরও দুজন আহত হন। আহতদের মধ্যে আসমত গাইনও ছিলেন।
নিহতরা হলেন— হামিদুল ইসলাম (৪৮) ও তার ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (৪৫)। তারা ছাতারপাড়া এলাকার বেগুনবাড়িয়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে ছিলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গাইন বংশের লোকজন কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়ায় পেয়াদা বংশের লোকজন তাদের ওপর ২০২৪ সালে হামলা চালান। এতে গাইন বংশের আপন দুই ভাই নিহত হন। সেই জোড়া হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে সম্প্রতি বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিপক্ষের লোকজন মামলার সাক্ষী আসমত গাইনের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত আসমতের ভাতিজা সজিব হোসেন বলেন, ‘ইফতারের আগে আমাদের বাড়িতে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে আমার চাচা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর আমাদের গ্রামে আপন দুই ভাইকে হত্যার ঘটনায় তিনি নিজেও আহত হয়েছিলেন। তিনি ওই হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, আগের জোড়া হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
১০২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় গড়াই নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ায় গড়াই নদী থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে শহরতলীর মঙ্গলবাড়ীয়া বাঁধ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এটি উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
ঈশ্বরদী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য এটি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যার রহস্য জানা যাবে।
১০৩ দিন আগে
ঝিনাইদহে ট্রাকচাপায় দুই যুবক হতাহত
ঝিনাইদহ শহরে একটি দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে শাহরিয়ার রহমান শান্ত (৩১) নামে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা অপর আরোহী টিটোন (৩২) গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে পৌর শহরের পবহাটী কলারহাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শান্ত শহরের আরাপপুর এলাকার দুঃখি মাহমুদ সড়কের শাহীন রহমানের ছেলে। আহত টিটোন ব্যাপারীপাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পবহাটী কলারহাট এলাকায় একটি ট্রাক একটি মটরসাইকেলকে চাপা দিলে শান্ত ও টিটোন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. তাপস জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শান্ত নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আহত টিটোনকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১০৪ দিন আগে
যশোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে পল্লিচিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা
যশোরের শার্শা উপজেলায় নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক পল্লিচিকিৎসক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারিপোতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিন শার্শা নাভারন এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় পল্লিচিকিৎসক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে নামাজ আদায় শেষে বাড়ি ফিরছিলেন আল আমিন। পথে একদল লোক তার ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আলামত সংগ্রহ শুরু করে।
শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
১০৪ দিন আগে
খুলনা খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির কর্মবিরতি, অচল হয়ে পড়েছে খাদ্য সরবরাহ
ট্রাক মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে খুলনা খাদ্য পরিবহন (সড়ক বিভাগ) ঠিকাদার সমিতির কর্মবিরতিতে খাদ্য সরবরাহ অচল হয়ে পড়ছে। এতে সরকারের জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক। খুলনার মহেশ্বরপাশা, সিএসডি, ৪ নম্বর ও ৭ নম্বর ঘাট অঞ্চলের ট্রাক লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে।
২৭০ জন ঠিকাদার ২০০৫ সালে খাদ্য পরিবহন (সড়ক বিভাগ) ঠিকাদার সমিতিতে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর নানা কারণে আর টেন্ডার না হওয়ায় ২০০৫ সালের রেটে এখনো ব্যবসা করে যাচ্ছেন তারা।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, এ অনির্দিষ্ট কর্মবিরতি প্রত্যাহার না হলে অচল হয়ে পড়বে জরুরি সেবা। কর্মহীন হয়ে পড়বে খুলনার ২ হাজার ৫০০ শ্রমিক। ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
ঠিকাদার সমিতির সভাপতি এস এম আজিজুর রহমান স্বপন বলেন, আমরা যারা খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ঢাকা খাদ্য বিভাগে কাজ করি, সকলের সরকারের লাইসেন্সকৃত পরিবহন আছে। এই পরিবহনের কাছে ট্রাক ভাড়া করার স্বাধীনতা আমাদের আছে। যেকোনো ট্রান্সপোর্ট থেকে আমরা সুবিধামতো গাড়ি নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারি। এক জায়গায় গাড়ি না পেলে, অন্য জায়গা থেকে গাড়ি নিতে পারি। কিন্তু খুলনার মহেশ্বরপাশা, সিএসডি, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটে বিভাগীয় খাদ্য পরিবহন সমিতির গাড়ি ভাড়া করার স্বাধীনতা নেই।
স্বাধীনতা কেন নেই, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কারণ উল্লেখ করে বলেন, খুলনার জয়েন্ট ট্রান্সপোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাদের কাছ থেকে ব্যবসায়ীদের গাড়ি নিতে বাধ্য করা হয়। এখানে একতরফা তাদের সিন্ডিকেট সচল। বিগত সরকারের আমলেও তারা আমাদেরকে বাধ্য করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে কিছুদিন শিথিল ছিল, কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর তা আবার সচল হয়ে উঠেছে। ট্রাক মালিকদের এই সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের পক্ষে এখন ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না।
১০৬ দিন আগে
দস্যুর ভয়ে সুন্দরবনের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ, রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় বন বিভাগ
বনদস্যু আতঙ্কে দুবলারচরের দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। গত দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের। মাছধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় রয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলার আলোরকোল থেকে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলার দশ হাজারের অধিক শুঁটকিকরণ জেলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শেষে এসে কী নিয়ে বাড়ি যাবেন, সে চিন্তায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে ৪ জন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিল। তখন থেকে জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল, ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সাগরে গেলে ডাকাত।’
তিনি বলেন, দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের হাতে এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দুই দিনেও ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে আমাদের স্টেশন অফিস থেকে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। ফলে আমাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সুন্দরবন-সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানি বলেন, জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় আমাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।
১০৬ দিন আগে
নড়াইলে আ.লীগ কার্যালয়ে টাঙানো হলো মুজিব-হাসিনার ছবি ও জাতীয় পতাকা
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের লোহাগড়া উপজেলা শাখা কার্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ও পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটি ছবি টাঙানো ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা জানা যায়নি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শহরের জয়পুর এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কার্যালয়টিতে আগুন ধরিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা। সেই থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) অজিত রায় বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
১০৬ দিন আগে