খুলনা
মাগুরায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার চরমহেশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জীবন কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী এডহক কমিটির নতুন সভাপতি জিনাত সুলতানার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছেন।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের অনুমোদনে বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. মো. কামরুজ্জামানের সই করা ৩ জুনের প্রজ্ঞাপনে জিনাত সুলতানাকে চরমহেশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক জীবন কুমার মণ্ডল বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে সময়ক্ষেপণ করছেন।
আরও পড়ুন: নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে বিএনপি নেতাকে গাছের সঙ্গে বাঁধল গ্রামবাসী
সভাপতি জিনাত সুলতানা জানান, বোর্ডের আদেশ অনুযায়ী এখনও কোনো সভা আহ্বান করা হয়নি। প্রধান শিক্ষকের পছন্দের ব্যক্তি সভাপতি না হওয়ায় দায়িত্ব হস্তান্তরে বাধা দিচ্ছেন। বরং তিনি নিজের মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায়ও কর্তৃত্ব ধরে রাখতে চাইছেন এবং বিভিন্ন স্থানে লবিং করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে তিনি নিজের অনুগত ব্যক্তিদের কমিটিতে বসিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেন করেছেন। বর্তমানে আমি দায়িত্ব নিলে সে সুযোগ আর থাকবে না বলেই হয়তো বাধা সৃষ্টি করছেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জীবন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘গত ২ জুলাই আমি সভা আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি। তারা বিষয়টি নিজেরা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি শিগগিরই সমাধান হবে।’
তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল গণি বলেন, ‘যেহেতু বোর্ড কর্তৃক সভাপতি মনোনীত হয়েছেন, প্রধান শিক্ষকের উচিত সভা আহ্বান করে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর তাকে তা জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করছেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী।’
এ ঘটনায় বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত বোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
২৩৫ দিন আগে
মাগুরায় বাসের ধাক্কায় ভ্যানচালকসহ নিহত ৩, আহত ১৫
মাগুরায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সাগর হোসেন (৩০) নামে এক ভ্যানচালক ও রেশমা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার আলমখালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মাগুরা ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ভ্যানচালক সাগর মাগুরা সদর উপজেলার গৌরিচরণপুর গ্রামের আওয়াল মোল্ল্যার ছেলে।
নিহত রেশমা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে মারা যান। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের দোড়ামতনা গ্রামের আনিসুর রহমানের স্ত্রী। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আহতদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন— তানিয়া (২০), সোহাগ (২৭), সামসুল (৩৪) এবং সামিহা (৩০)। তাদের মাগুরা সদর হাসপাতাল ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, গতকাল (রবিবার) সকালে মাগুরার আলমখালী বাজার থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান যাত্রী নিয়ে হাটগোপালপুর বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। পথে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের রামনগর এলাকার ঢালব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক সাগর ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মহাসড়কের গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে ভ্যানটি রাস্তার মাঝখানে উঠে যায়, যার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে হাইওয়ে পুলিশ।
আরও পড়ুন: রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
এ বিষয়ে রামনগর হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হোসেন জানান, রবিবার সকালে মেহেরপুর থেকে যাত্রীবাহী গোন্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস ঢাকার উদ্দ্যেশে ছেড়ে আসে। পথে মাগুরা-ঝিনাইদহ সড়কের রামনগর পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস ব্যাটারিচালিত ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে উল্টে যায়। পরে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা ও ঝিনাইদহ হাসপাতালে পাঠান।
তিনি আরও জানান, এ দুর্ঘটনায় বাসটিকে পুলিশ আটক করেছে। তাছাড়া, মাগুরা থানায় একটি মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এসআই মাহবুব।
২৩৬ দিন আগে
নড়াইলে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
নড়াইলের কালিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে শাকিব শেখ (৫) ও মানিক ইসলাম (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১২ জুলাই) রাতে উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের উত্তর খাশিয়াল গ্রামের পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুফাতো ভাই।
স্থানীয় খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম বরকত উল্লাহ দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শিশু শাকিব উত্তর খাশিয়াল গ্রামের জাকাত শেখের ছেলে এবং মানিক তার ভাগ্নে। মানিকের বাবার নাম আরিফুল ইসলাম। তার বাবার বাড়ি বরিশালে হলেও সে তার মায়ের সঙ্গে মামাবাড়ি উত্তর খাশিয়াল গ্রামে বসবাস করত।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য দিনের মত শনিবার বিকালে বাড়ির আঙিনায় একসঙ্গে খেলা করছিল শাকিব ও মানিক। এ সময় পরিবারের লোকজন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খেলতে খেলতে কোনো একসময় বাড়ির পাশে থাকা একটি ছোট পুকুরে পড়ে যায় তারা। সন্ধ্যা হলে বাড়ির লোকজন তাদের দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
আরও পড়ুন: মাগুরায় পানিতে ডুবে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু
একপর্যায়ে ওই পুকুরে একজনের লাশ ভাসতে দেখা যায়। পরে খোঁজ করে পুকুর থেকে আরেকজনের লাশও উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন।
এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘দুই শিশু বাড়ির আঙ্গিনায় খেলা করছিল। পরিবারের সদস্যদের চোখের আড়ালে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে লাশদুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২৩৬ দিন আগে
যশোরে বন্ধুর সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করায় যুবককে খুনের অভিযোগ
যশোর শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় আশরাফুল ইসলাম বিপুল (২৬) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বন্ধুর সাবেক স্ত্রীকে বিয়ে করার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
শনিবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল ইসলাম যশোর শহরতলীর শেখহাটি জামরুলতলা এলাকার আখতার হোসেনের ছেলে। তিনি এসিআই গ্রুপ নামে একটি বেসরকারি কোম্পানির ডিপোর শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের পিতা আখতার হোসেন জানান, হামলাকারী শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকার বাপ্পী ও বিপুল বন্ধু ছিলেন। বাপ্পী মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় তার স্ত্রী সুমাইয়া তাকে তালাক দেন। এরপর সুমাইয়ার সঙ্গে আশরাফুলের সম্পর্ক হয়। পরে তারা বিয়ে করেন। এ কারণে বাপ্পী ক্ষিপ্ত হন। আশরাফুল ও সুমাইয়াকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন বাপ্পী। এরপর বিভিন্ন সময় বাড়ির সামনে বোমাবাজির ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।
বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন আখতার হোসেন।
আরও পড়ুন: যশোরে স্টিলের বাক্সে মিলল গৃহবধূর লাশ, স্বামী আটক
তিনি আরও জানান, শনিবার রাতে কৌশলে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে আশরাফুলকে কুপিয়ে জখম করেন বাপ্পী ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। এর কিছু সময় পর মারা যান আশরাফুল।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ শাকিরুল ইসলাম জানান, আশরাফুলের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে ভর্তি করে ওয়ার্ডে পাঠানোর পর তিনি মারা যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। হামলাকারীদের তথ্য নিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
২৩৭ দিন আগে
পাথর মেরে বর্বরোচিত হত্যার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ
পাথর মেরে বর্বরোচিত হত্যাসহ দেশব্যাপী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
শনিবার(১২ জুলাই) বিকালে কুষ্টিয়া শহরের বড় জামে মসজিদ থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় দেশব্যাপী অব্যাহত চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
সমাবেশে পৌর সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আবু সাঈদের পরিচালনায় বক্তব্য দেন দলটির জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী, সম্পাদক জিএম তাওহীদ আনোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক মুফতি ফরিদ উদ্দিন আবরার, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মুজ্জাম্মিল হক কাসেমী, ইসলামী যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা তাওহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মিটফোর্ডের চাঁদার জন্য ব্যবসায়ী সোহাগকে পাথর মেরে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে যুবদলের নেতাকর্মীরা। হত্যা করে তারা ক্ষান্ত হয়নি, লাশের উপর বর্বর নিত্য করেছে এটা আইয়ামে জাহেলিয়াতের চিত্র। বাংলাদেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
২৩৭ দিন আগে
মাগুরায় পানিতে ডুবে ৩ বছরের শিশুর মৃত্যু
মাগুরার ছোনপুর গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আজমির (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আয়ুব আলী জানান, আজ দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার ছোনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আজমীর ওই গ্রামের কামরিল ইসলামের ছেলে।
পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে পরিবারের সবার অজান্তে আজমীর বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করে পুকুরে ভাসতে দেখে। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে মাগুরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে পানিতে ডুবে দুই শিশু নিহত
২৩৭ দিন আগে
মাগুরায় স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রী নিহত
মাগুরার শালিখায় স্বামী মিজানুর মোল্যা নামের এক ব্যক্তির শাবলের আঘাতে সোনালী বেগম (৩৮) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হরিশপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে শালিখা থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় প্রতিবেশী জুয়েল বলেন, ‘আজ সকালে আমার কাকা মিজানুরকে দেখি বাড়ির সিড়ির ওপর বসে আছে। কাকা ঘরে ঢুকবে, কিন্তু কাকি (সোনালী) ঘর খুলছে না। আমি কাকাকে বললাম, বকাবকির দরকার নেই। তাই বলে কাজে চলে যাচ্ছিলাম, বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তা পর্যন্ত গেলে চিল্লাচিল্লির শব্দ শুনে বাড়ি ফিরে এসে কাকাতো বোন মদিনার কাছে শুনতে পাই, তার আব্বা মাকে মেরে ফেলেছে।’
সোনালী বেগমের মেয়ে মদিনা খাতুন (১১) বলে, ‘চট্রগ্রাম রডের কাজ করে আজ সকালে আব্বা বাড়ি আসে। এরপর তিনি মাকে ঘর খুলতে বললে মা বলে, আমার মাকে খবর দাও; তার সামনে ঘর খুলব, না হলে তুমি আমাকে মারবে। মা ঘর না খুললে আব্বা রান্নাঘরের দেওয়ালের ওপর বাঁশের বেড়া ভেঙে ঘরে ঢুকে শাবল দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে মার মাথায় বাড়ি দেয়।’
শালিখা থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলি মিয়া জানান, আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হরিশপুর গ্রামের মিজানুর মোল্যার স্ত্রীর সোনালী বেগমের নিজ ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মিজানুর মোল্যা শিশুসন্তান মদিনার সামনে সোনালী বেগমকে রড দিয়ে মাথায় বাড়ি দিয়ে মেরে ফেলেছে। এ ঘটনায় শালিখা থানায় মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২৩৭ দিন আগে
কুষ্টিয়ার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বাড়িতে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক স্বেচ্ছাসেবক দলনেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই নেতার ছোট ভাইয়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে হামলাকারীরা ককটেল ফাঁটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়।
শুক্রবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব লাল চাঁদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লাল চাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা লাল চাঁদের ভাই যুবদলকর্মী সুবেল আহম্মেদের বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এরপর তারা নেতার বাড়ির দিকে লক্ষ্য করে ককটেল ফাঁটিয়ে চলে যায়। ঘটনার পরপরই গ্রামবাসী ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর থেকে গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সুবেল আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজনীতিকেন্দ্রিক প্রতিপক্ষের লোকজন এই হামলা চালিয়েছে। তারা ভাঙচুর করে আমার ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া গুলি ছুড়েছে, বোমাও ফাঁটিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতর এই একটা ইউনিয়ন, যেখানে পাঁচ আগস্টের পরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের সঙ্গে কিছু বিএনপির লোকজন যোগ দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানা পবন, কুচিয়ামোড়া এলাকার রতন হাজী ও আলমগীরের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।’
এ বিষয়ে জানার জন্য বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সোহেল রানা পবনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন বলেন, ‘একটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। ঘরটি পুড়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে দুইটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক কাউকে চিনতে না পারলেও ভুক্তভোগী পরিবার অনেকের নাম বলেছেন। সেটা নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ। তবে গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে পিস্তল, ককটেলসহ বিএনপি নেতা আটক
২৩৭ দিন আগে
গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় অটোচালকের লাশ, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ
কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশের একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের মা হালিমা খাতুনের দাবি, তার ছেলেকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের হোমিও কলেজ-সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রফিকুল কুষ্টিয়া শহরতলীর মোল্লাপাড়া আদর্শপাড়া এলাকার দবির উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শহরের আদর্শপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সকাল থেকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। বেলা ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এরপর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মোল্লাতেঘরিয়া থেকে শহরের থানা মোড় পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রাস্তা অবরোধ করে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
নিহতের মা হালিমা খাতুন বলেন, ‘গতকাল রাত ৯টার পর থেকে রফিকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। সারা রাত অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। সকালে জানতে পারি, ওর লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলছে। আমার ছেলেকে হত্যা করে অটো ছিনতাই করা হয়েছে।’
রফিকুলের ছেলে নিলয় বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সকালে বাবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর রাতে ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কুমারখালী থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে জানতে পারি, বাবার লাশ গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ধারণা করছি, বাবাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা অটো ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন: বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে জালে জড়িয়ে প্রাণ হারালেন বৃদ্ধ
নিহতের সহকর্মী পারভেজ তপু জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আজানের সময় রফিকুলের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। কিস্তির টাকা পরিশোধ করে হাসিমুখে চলে যান তিনি। তার মতে, রফিকুল একজন ভালো মানুষ ছিলেন, কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে অটোটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান ওসি।
২৩৮ দিন আগে
সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও খোলা রয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউস
শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও বেনাপোল কাস্টমস হাউস খোলা রয়েছে। তবে কাস্টমস হাউস খোলা থাকলেও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী, বেনাপোল কাস্টমস হাউস শুক্র ও শনিবারও খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার এইচ এম শরিফুল ইসলাম।
গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এনবিআরের প্রথম সচিব (কাস্টমস নীতি) মো. রইচ উদ্দীনের সই করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়, অ্যাসিকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ধীরগতির কারণে গত কয়েকদিন দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে এবং রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১১ ও ১২ জুলাই (শুক্র ও শনিবার) কাস্টমস কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবীর তরফদার জানান, আজ শুক্রবার বন্দর খোলা রয়েছে। কেউ বন্দর থেকে আমদানিসহ মালামাল খালাস নিতে চাইলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া আমদানি করা ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থেকে পণ্য আনলোডও করা হবে।
আরও পড়ুন: বেনাপোল কাস্টমস হাউসে চলছে কর্মকর্তাদের ৫ ঘণ্টা কলম বিরতি
অতিরিক্ত কমিশনার শরিফুল ইসলাম জানান, অ্যাসিকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ধীরগতির কারণে গত কয়েকদিন রাজস্ব আদায় ব্যহত হয়েছে। এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি পণ্য চালান ছাড় প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি পোষাতে এখন সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাস্টমস হাউস রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২৩৮ দিন আগে