খুলনা
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের পুশব্যাকচেষ্টা মোকাবিলায় রাতভর সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কথিত বাংলাদেশিদের পুশব্যাকের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরা সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বাহিনীটি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) গভীর রাতেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক কথিত পুশব্যাকচেষ্টা ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল বিজিবি সদস্যরা। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় মাইকিংও চালানো হচ্ছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিএসএফের পুশব্যাকচেষ্টা নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সদস্যরা কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন। গভীর রাতেও টহল চলছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি বলেন, সীমান্তে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের পুশব্যাকের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে এখন পর্যন্ত কাউকে পুশব্যাক করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বাদুড়িয়া থানার হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় বেশ কয়েকজন কথিত বাংলাদেশিকে জড়ো করা হয়েছে। ভারতীয় পুলিশের মাধ্যমে তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসব ব্যক্তিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের সামনে নিজেদের বাংলাদেশি পরিচয় দিতে দেখা গেছে। তাদের কেউ দাবি করেছেন, তারা ছয় মাস ধরে ভারতে ছিলেন, আবার কেউ ছয় বছর বা ২০ বছর ধরে সেখানে কাজ করছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
৮ দিন আগে
কুমারখালীতে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধ কারাগারে
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দশ বছর বয়সী একটি ছেলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তারাপুর এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই এলাকার একটি আমবাগানের কেয়ারটেকার (পরিচর্যাকারী)।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে তারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র মাঠে ছাগল চরাতে যায়। এরপর সে মাঠের একটি আমবাগানে আম কুড়াতে গেলে বাগানের কেয়ারটেকার তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে প্যান্ট খুলে ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে বিস্তারিত বললে স্থানীয় মাতব্বররা সালিশে বিষয়টি মিটমাট করার প্রস্তুতি নেন।
এরপর ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসলে শিশুটির বাবা গতকাল (সোমবার) রাতে কুমারখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০৯-এর (১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর ওইদিন রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
মামলার বাদী বলেন, এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে। সেজন্য আসামির উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে থানায় মামলা করেছি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ১০ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ বসানোর কোনো সুযোগ নেই। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সচেতন হয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
৯ দিন আগে
কুমারখালীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, ফাঁকা গুলিবর্ষণ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (২৪ মে) ভোরে উপজেলার উত্তর চাঁদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওই ছাত্রদল নেতার নাম আবু সাহেব প্রান্ত বিশ্বাস। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি।
সকাল ১০টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লাহিনীপাড়া-সান্দিয়ারা জিকে ক্যানেল সড়ক ঘেঁষে যুবদল নেতা প্রান্ত বিশ্বাসের রঙিন টিনশেডের চৌচালা ঘর। ঘরটির দুইটি বেড়া ও টিনের গেটের কয়েকটি স্থানে কাটা ক্ষত। সেখানে উৎসুক কয়েকজন জনতা ও দলীয় নেতারা ছুটে এসেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে পুলিশ।
এ সময় ওই ছাত্রদল নেতার ভাবি সাথী খাতুন বলেন, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। দরজা খুলতে গিয়ে দেখি বাইরে থেকে ছিটকানি লাগানো। ভয়ে চিৎকার চেঁচামিচি করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
প্রতিবেশী রেজাউলের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘গুলির মতো শব্দ শুনে প্রথমে ভাবলাম গরু ডাকাতি করতে আইছে। পরে সবাই এসে দেখি দরজায় ছিটকানি লাগানো। টিনের বেড়ায় কোপের দাগ। তবে কাউকে দেখা যায়নি।’
প্রান্ত বিশ্বাস বলেন, ফজরের আযানের আনুমানিক ২০-২৫ মিনিট আগে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তারপর ঘরের বাইরে থেকে বেশ কয়েকজন বকাবকি করতেছে আর বেড়ায় কোপ দিচ্ছে—এমন শব্দ শোনা যায়। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে কোপাকুপি করে তারা চলে যায়। তবে কাউকে চিনতে পারিনি।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দুই রাউন্ড গুলি ফুটিয়েছে।
প্রান্ত বিশ্বাস আরও বলেন, যদুবয়রা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য মরিয়ম খাতুনের স্বামী নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে এক লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারা কয়েকবার প্রকাশ্যে হুমকিও দিয়েছে। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ করা আছে। একাধিকবার তাদের সঙ্গে বসাও হয়েছে। তার দাবি, ওই মেম্বারের স্বামী ও তার লোকজন এ হামলা চালিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংরক্ষিত সদস্য মরিয়ম বলেন, ডাকুয়া নদীতে ইজারা নিয়ে মাছ চাষের ব্যবসা আছে আমাদের। ৫ আগস্টের পর প্রান্ত নদীর ভাগ চেয়েছিলেন কিন্তু ভাগ না দেওয়ায় এক লাখ টাকা পাওনা দাবি করছেন। যদি প্রমাণ থাকে তাহলে টাকা ফেরত দেব। তবে হামলায় আমরা জড়িত নই।
যদুবয়রা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতা প্রান্ত খুব নিরীহ মানুষ। তবুও তার বাড়িতে রাতের আঁধারে কে বা কারা হামলা করেছে তা দুঃখজনক। বিষয়টি প্রশাসনকে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১ দিন আগে
টেন্ডার ছাড়াই ঝিনাইদহে জেলা পরিষদের গাছ সাবাড়
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছের তালিকায় এবার ঠাঁই পেয়েছে সতেজ ও তরতাজা রেইনট্রি গাছ। জেলার কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া নামক স্থানে কোনোপ্রকার টেন্ডার (দরপত্র) ছাড়াই তিনটি কড়ই গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। ‘মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ’ অজুহাতে এভাবে জীবন্ত গাছ কেটে সাবাড় করায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল।
স্থানীয়রা বলেন, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বড় কড়ই গাছ গত কয়েকদিন ধরে কাটা হচ্ছে। গাছগুলো সম্পূর্ণ সতেজ এবং ডালপালায় সবুজ পাতা ছিল। কোনোভাবেই এগুলো মৃত বা সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির মৌখিক আবেদনে জেলা পরিষদ গাছগুলো কাটার অনুমতি দেয় বলে দাবি তাদের।
তাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি সম্পদ বিক্রয় বা কাটার আগে টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি।
আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবলু হোসেন বলেন, আমার বাড়ির সামনের গাছের একটি ডাল তার তিনতলা ভবনের ছাদের অনেক ক্ষতি করছিল। ডালগুলো কাটার জন্য কিছুদিন আগে জেলা পরিষদে আবেদন করি। গত ১৯ মে জেলা পরিষদের কর্মচারি মিল্টন শ্রমিক দিয়ে ডালগুলো কেটে দেন। এ জন্য তিনি তার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকাও নিয়েছেন। কিছু ডাল মিল্টন কালীগঞ্জে বিক্রিও করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আড়পাড়া এলাকার আব্দুর রউফ জানান, এই শতবর্ষী গাছগুলো কালীগঞ্জের ঐতিহ্য। তরতাজা এই গাছগুলো এভাবে কেটে ফেলা চরম অন্যায়। এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তারা এই গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এই গাছ কাটায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় পরিবেশবিদ মিজানুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে যেখানে দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহ চলছে এবং বেশি বেশি গাছ লাগানোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ উল্টো পথে হাঁটছে। মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার দোহাই দিয়ে যেভাবে বিনা টেন্ডারে তরতাজা ও ছায়াঘন কড়ই গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এটি সরকারি সম্পদের অপচয় এবং পরিবেশের ওপর চরম আঘাত।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের কর্মচারী মিল্টন বলেন, ওই এলাকার বাবলু হোসেন নামের একজন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছেন। অফিস আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে এটি দেখভাল করার জন্য। সেখান থেকে কিছু ডাল বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের সিএ শফিউদ্দিন জানান, আড়পাড়া গ্রামের বাবলু হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি ঐ গাছগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত দাবি করে সেগুলো কাটার জন্য জেলা পরিষদে আবেদন করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই গাছগুলো কাটা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম রেজা জানান, বিভিন্ন সড়কে জেলা পরিষদের ডালপালাবিহীন, মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ২৯ মার্চ জেলা পরিষদের সভায় এ সংক্রান্ত অনুমোদন নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেকই আড়পাড়া এলাকার গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গাছ কাটার পরে নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’
১২ দিন আগে
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২২ জনের নামে এবার ছাত্রদলের মামলা
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এবার এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে ছাত্রদল পাল্টা মামলা করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) ঝিনাইদহ সদর থানায় এই মামলাটি করেন ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি মো. এনামুল কবির।
মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী তারেকুল ইসলাম তারেক রেজাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন: মেহেদী হাসান আশিক, সিয়াম উদ্দিন তুর্য, তানাঈম, আসিফ, অয়ন রহমান খান, তাইন, জয়নাল, আলমগীর, শাহরিয়ার অভীক, হৃদয় মাস্টার, লাবাবুল বাশার লাবু, শিহাব শাহ, নয়ন, সুলতান শাহ, হৃদয়, রুবায়েত হাসান তুর্য, শেখ সামি, রিফাত, হাকিম, কাইসার ও ইমরানসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (শুক্রবার) দুপুরে বাদী মো. এনামুল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভাধীন পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে মসজিদ থেকে বের হয়ে তিনি দেখতে পান, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জেলা শাখার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন।
বাদীর অভিযোগ, ওই বক্তব্যে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর সমালোচনা করছিলেন, যাতে ১ নম্বর আসামি তারেক রেজা উস্কানি দেন। এ সময় বাদী ও সাধারণ মুসল্লিরা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ ও অনুরোধ জানালে ১ নম্বর আসামির হুকুমে এনসিপির নেতা-কর্মীরা ছাত্রদল নেতাদের ওপর চড়াও হন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে বাদীকে ঘিরে ধরে এবং মারপিট শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামি তানাঈম বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তার কপাল ফেটে গুরুতর জখম হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি হৃদয় হোসেন এবং জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি নয়ন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পিস্তলের বাট, ধারালো দা ও ইট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান আজ (শনিবার) বিকেলে জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে, ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১৫ জন নেতা-কর্মীর নামে এনসিপির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই পাল্টা মামলা করা হলো।
১২ দিন আগে
কুষ্টিয়ায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে খাদে পড়ে নিহত ৪
কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০-২৫ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার (২১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তানহা পরিবহনের একটি বাস রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে আসছিল। পথিমধ্যে খোকসা শিয়ালডাঙ্গী মসজিদের সামনে পৌঁছালে একটি ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষের উপক্রম হয়। পরে ভ্যানটিকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি খাদে পড়ে যায়।
খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আরিফুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জনের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। এছাড়া আহত ২০ জনকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ইকবাল হাসান জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনা ৪ জনের মধ্যে একজন নারী এবং একজন পুরষ মারা গেছেন। বাকি ২ জন পুরুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১২ দিন আগে
যশোর-খুলনা মহাসড়কে যানবাহনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ৪
যশোর-খুলনা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক কাভার্ড ভ্যানের চালককে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া তেল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— সদর উপজেলার ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া এলাকার সুজন সাহার স্ত্রী বৃষ্টি সাহা (২৪) ও তার চার বছর বয়সী শিশু সৌভিক সাহা, চাউলিয়া এলাকার মৃত কালু শেখের ছেলে আনোর আলী (৭০) এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ঘুনি পূর্বপাড়া এলাকার মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আইয়ুব আলী (৪৩)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরগামী একটি দ্রুতগতির ভারী যান (কাভার্ড ভ্যান) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। পরে সামনে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিলে ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর আইয়ুব আলীর মৃত্যু হয়। মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন (২৮) গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও ভারী যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর-খুলনা মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঘাতক যানটির চালককে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
১২ দিন আগে
সুন্দরবনে দস্যুদের সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ, অপহৃত ২১ জেলে উদ্ধার
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ড সদস্যরা পৃথক অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে দস্যুদের হাতে জিম্মি ২১ জন জেলেকে উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) ভোরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা উপজেলাধীন সুন্দরবনের আন্দারমানিকের টোটা কেওড়াতলা খাল এবং দাকোপ উপজেলাধীন শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় শিবসা নদীর বড় দুদমুখ এলাকায় কোস্টগার্ডের সঙ্গে জাহাঙ্গীর বাহিনীর গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ডাকাত দল পিছু হটলে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দুটি স্থান থেকে অপহৃত ২১ জেলেকে উদ্ধার করেন। এ সময় দস্যুদের ব্যবহৃত ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করে।
কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে সপ্তম বারের মতো ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর আওতায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা মোট ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গহীনে প্রবেশ করলে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ ডাকাত দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ জন জেলেকে উদ্ধার করেন।
সাব্বির আলম সুজন আরও জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে একই সময়ে সেখানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে। আভিযানিক দল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে ডাকাতরা বনের গহীনে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১টি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ও ডাকাতদের নিকট জিম্মি থাকা ১১ জন জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান কোস্ট গার্ডের এ কর্মকর্তা ।
১৩ দিন আগে
মাদরাসা সুপারের ছেলের জন্য পরীক্ষা দিতে গিয়ে র্যাবের জালে তিন শিক্ষক
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চুয়ামল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে তখন চলছে এসএসসি (দাখিল) স্তরের জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। হলের ভেতরে পরীক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নের উত্তর মেলাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হলের বাইরে চলছিল এক অবিশ্বাস্য ও অভিনব জালিয়াতির উৎসব। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। খোদ শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানোর এই সাজানো নাটকটি মাঝপথেই ভেঙে দেয় র্যাবের একটি দল।
বুধবার (২০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন তারা বাইরে বসে খাতা লিখছিলেন, তখনই হাতেনাতে তাদের ধরে ফেলে র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল।
গল্পের মূল চরিত্র মো. নাসিরুল্লাহ (১৬)। সে মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থী। তবে তার আরও একটি পরিচয় রয়েছে, সে ওই মাদরাসারই সুপারিনটেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
বাবার ক্ষমতার দাপট আর অবৈধ অর্থের জোরে পরীক্ষায় পাসের এক অদ্ভুত ছক কষা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাসিরুল্লাহর জীববিজ্ঞান পরীক্ষার খাতা হলের ভেতরে নয়, বরং কেন্দ্রের বাইরে বসে লিখে দিচ্ছিলেন তিন শিক্ষক।
আটক হওয়া শিক্ষকরা হলেন— মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন মায়া (৪০)। এই তিন শিক্ষকের কেউই ওই কেন্দ্রের অফিশিয়াল ডিউটিতে ছিলেন না। তারা কেবল তাদের সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিতেই অবৈধভাবে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে তারা এমন অনৈতিক কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষকদের এই ‘কীর্তি’ফাঁসের পর পরীক্ষা কেন্দ্র ও এর আশেপাশে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রভাবশালীদের একটি মহল তড়িঘড়ি করে এসে অভিযুক্ত শিক্ষকদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস।
তদন্তে নেমে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে জমা দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম এখানে ঘটেছে। বুধবারে র্যাবের হাতে তিন শিক্ষক আটক হওয়ার বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়। তবে শিক্ষকরা কেন্দ্রের বাইরে আটক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না গেলেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, আটকের পর ওই তিন শিক্ষক নিজেদের বাঁচাতে সব দোষ চাপিয়েছেন মাদরাসা সুপারের ঘাড়ে। তাদের দাবি, তারা স্বেচ্ছায় এই জালিয়াতি করেননি; মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই কাজ করতে তাদের বাধ্য করেছিলেন।
নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের জালিয়াতিতে বাধ্য করা এবং ছেলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া সেই ‘সুপার’ বাবা এখন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে আটক তিন শিক্ষক র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১৪ দিন আগে
যশোরে বাঁশবাগান থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
যশোরের ঝিকরগাছার কীর্তিপুরে আবু হুরাইরা মিম (৩৫) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই যুবকের মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোরে বাড়ি থেকে একটু দূরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে একটি বাঁশবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবক ঝিকরগাছার কীর্তিপুর মোড় এলাকার মশিয়ার রহমানের ছেলে ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল (বুধবার) বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সারা রাত নিখোঁজ ছিলেন মিম। আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশের একটি বাঁশবাগান থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্ত্রী নিলা খাতুন জানান, তিনি একই গ্রামে তার বাপের বাড়িতে ছিলেন। গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাতে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও মিম আর সেখানে যাননি। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
তার দাবি, মিমের সঙ্গে তার কয়েকজন বন্ধুর বিরোধ ছিল। আর এই বিরোধের জের ধরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কীর্তিপুরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশ থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১৪ দিন আগে